এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি


অথর
শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৫ মার্চ ২০২০, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 135 বার
0
এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

উত্তর- গ. অধ্যাপক গাজী সালেহ উদ্দীন তার গবেষণার ঘটনা জরিপ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এক বা একাধিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সাধারণ সূত্রে আসার পদ্ধতিই ঘটনা জরিপ। এ পদ্ধতিতে গবেষক যে বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে চান, তার একটি প্রতিনিধিত্বশীল অংশ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি, দল, গ্রাম, সম্প্রদায় বা পেশাজীবী শ্রেণিকে গবেষণার একক হিসেবে ধরে তার সম্পূরকে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ বৃহৎ সমাজের ক্ষুদ্র অংশের বিশদ তথ্য নিয়ে বৃহৎ সমাজ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা হয়। সংবাদপত্র ও বিভিন্ন অপরাধের ধরন প্রকৃতি জানতে আজকাল এ পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, অধ্যাপক গাজী সালেহ উদ্দীন মাদকাসক্তি নিয়ে

গবেষণা করতে গিয়ে একটি বস্তিকে গবেষণার একক হিসেবে ধরে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। তিনি ওই বস্তির মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সারা দেশের মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। তাই তার গবেষণাপদ্ধতি ঘটনা জরিপ পদ্ধতি। কেননা, এ পদ্ধতিতেই এমনটি করা হয়। উত্তর- ঘ. তিনি এই গবেষণায় একটি বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি যেসব পর্যায় অনুসরণ করেন, তার মধ্যে রয়েছে : সমস্যা নির্বাচন : তিনি প্রথমে যে বিষয় নিয়ে গবেষণা করেতে চান, সে বিষয় নির্বাচন করেছেন। পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ : এ পর্যায়ে তিনি গবেষণার বিষয়টি নিবিড়ভাবে দেখেছেন এবং সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি গৌণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন।


আগের দিনের বই-পত্র, বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ প্রভৃতি থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস : প্রাপ্ত তথ্যকে তিনি লিঙ্গ, বয়স, পেশা প্রভৃতি ভেদে শ্রেণি বিভক্ত করেছেন। কল্পনা প্রণয়ন : এ পর্যায়ে তিনি অনুকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। তার গবেষণা ফলাফল সম্পর্কে একটি আগাম ধারণা তৈরি করেছেন। সত্যতা বা যথার্থতা যাচাই : এখানে তিনি যে কল্পনা প্রণয়ন করেছেন, তা তার প্রাপ্ত তথ্য দ্বারা সমর্থিত হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করে দেখেছেন। ভবিষ্যদ্বাণী : শেষপর্যায়ে এসে তিনি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। ৩। উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : ১৯৫২ সালে বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন হয়। 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা'- পাকিস্তানিদের এমন ঘোষণার পর পূর্ব বাংলায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ভাষার ভিত্তিতে একটি মানসিক ঐক্য গড়ে ওঠে। ভাষার ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদও গড়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে। প্রতিটি সমাজই মূলত এই মানসিক ঐক্য বা বন্ধনের ভিত্তিতে টিকে থাকে। প্রশ্ন : ক. ইবনে খালদুনের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম লেখো। খ. নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা বলতে কী বোঝো? গ. উদ্দীপকের বিষয়টি ইবনে খালদুনের কোন প্রত্যয় দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়? ঘ. ওই প্রত্যয়ের আলোকে বাংলাদেশনামক রাষ্ট্রের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো। উত্তর- ক. ইবনে খালদুনের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম হলো আল মুকাদ্দিমা। উত্তর- খ. সমাজে যখন বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করে, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে তখন আত্মহত্যা বেড়ে যায়। এ ধরনের আত্মহত্যাকে ডুর্খেইম নৈরাজ্যমূলক

আত্মহত্যা বলে অভিহিত করেন। বিশেষ করে সমাজে অর্থনৈতিক মন্দা, সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ ধরনের আত্মহত্যা বেড়ে যায়। যেমন- ২০১০ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময় ইউরোপ-আমেরিকার অনেক লোক আত্মহত্যা করে। সমাজে রাহাজানি ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের আত্মহত্যা বাড়ে। উদ্দীপকে বিষয়টি ইবনে খালদুনের 'আল আসাবিয়া' প্রত্যয়টি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। সহজ অর্থে আল আসাবিয়া বা সামাজিক সংহতি বলতে মানসিক ঐক্যকে বোঝানো হয়, যার দ্বারা মানুষ পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে মানসিক চেতনা বা বন্ধনে মানুষ একে অন্যের সঙ্গে একাত্মতাবোধ করে, একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, তা-ই সামাজিক সংহতি। সামাজিক সংহতি ছাড়া সমাজ গঠন হতে পারে না। সংহতির ওপর ভিত্তি করে মানুষের সামাজিক বন্ধন

গড়ে ওঠে। ইবনে খালদুনের সমাজতাত্ত্বিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়ই হলো- আল আসাবিয়া বা সামাজিক সংহতি। রক্ত, ধর্ম, ভাষা, জাতীয়তা প্রভৃতির মাধ্যমে এ সংহতি গড়ে ওঠে বলেও তিনি মত দেন। এই সংহতিকে তিনি গোষ্ঠী সংহতি (মৎড়ঁঢ় ংড়ষরফধৎরঃু) হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। তার মতে, সমাজের ভিত্তিই হচ্ছে এই গোষ্ঠী সংহতি। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, ভাষার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছে। এ বন্ধনের ভিত্তিতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মূলত, এর ভিত্তিতেই সমাজ টিকে আছে। এটি খালদুন বর্ণিত আল আসাবিয়া বা সামাজিক সংহতি প্রত্যয়েরই নামান্তর। উত্তর- ঘ. সামাজিক সংহতি গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে রক্ত, ধর্ম, ভাষা, জাতীয়তা প্রভৃতি ভূমিকা রাখে বলে ইবনে খালদুন মত দেন। বাংলাদেশ নামক

রাষ্ট্রের উদ্ভবের ক্ষেত্রে ভাষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংহতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ধর্মীয় সংহতির ভিত্তিতে পাকিস্তান গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ভাষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উদ্ভবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে এখানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ গড়ে ওঠে। গড়ে ওঠে বাঙালি সংস্কৃতি। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে এখানকার মানুষ সংগ্রাম করে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানিদের ভাষা বাংলা হলেও তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছিল না। তাই এর জন্য সংগ্রাম শুরু হয়। সেই সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের সংহতি জোরালো হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানিদের ভাষা ছিল উর্দু। ভাষাগত মিল না থাকায় একই ...

No Comments