এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি (অর্থনীতি দ্বিতীয়পত্র)


অথর
শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২২ মে ২০২০, ১:০৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 119 বার
0
এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি (অর্থনীতি দ্বিতীয়পত্র)

আজ তোমাদের জন্য অর্থনীতি দ্বিতীয়পত্র থেকে অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো

 
 

প্রশ্ন : বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে?

উত্তর : বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে ও অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ হিসেবে প্রদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জমা করা অর্থের জন্য কম হারে সঞ্চয়ী সুদ প্রদান করে এবং অধিকতর হারে বিনিয়োগের সুদ ধার্য করে উদ্বৃত্ত মুনাফা হিসেবে লাভ করে। মি. রজারের (গৎ. জড়মবৎ) মতে, 'যে ব্যাংক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থ ও অথেৃর মূল্য নিরূপণযোগ্য পণ্য ও দ্রব্যের লেনদেন

করে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।'

 

অধ্যাপক গিলবার্টের মতে, 'বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো অর্থ ও মূলধনের কারবারি। মধ্যস্থ কারবারি হিসেবে ব্যাংক শর্তসাপেক্ষে একপক্ষ থেকে অর্থ ধার করে অন্য পক্ষকে সে অর্থ ঋণ দেয়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ব্যাংকের গঠন প্রণালি বর্ণনা কর?

উত্তর : বাংলাদেশ ব্যাংক হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে এর কার্যকাল শুরু। একটি পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। পদাধিকার বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। তিন বছরের জন্য তিনি সরকারকর্তৃক মনোনীত হয়ে থাকেন। ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যাবলি পরিচালনার জন্য একটি কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সদস্যরা হলেন গভর্নর, ডেপুটি গভর্নরদ্বয় এবং পরিচালকদের মধ্য থেকে

সরকারকর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য।

এ ছাড়া ব্যাংকের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য ব্যাংককে কয়েকটি বিভাগে সংগঠিত করা হয়েছে। যেমন- নোট ইসু্য বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ, গবেষণা বিভাগ ইত্যাদি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের বিশেষ ঋণদান প্রতিষ্ঠানগুলো কী কী?

উত্তর : উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তথা কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য প্রচুর উন্নয়ন তহবিলের প্রয়োজন হয়। এসব তহবিল জোগানের কাজে কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত থাকে। এগুলোকে বিশেষ ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান বলা হয়। বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প, গৃহনির্মাণ প্রভৃতি খাত উন্নয়ন সাধনে কতগুলো বিশেষ ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঋণদান করে থাকে। বাংলাদেশে বিশেষায়িত ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা, বাংলাদেশ পুঁজি বিনিয়োগ সংস্থা, বাংলাদেশ গৃহনির্মাণ ঋণদান সংস্থা, গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কী?

উত্তর : বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি খাতে ঋণ প্রদানকারী বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশবলে পাকিস্তান কৃষি ব্যাংকের সব দায় সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। কৃষি উন্নয়ন, কৃষি খাতের গতিশীলতাবৃদ্ধি, কৃষি স্বনির্ভরতা অর্জন তথা গ্রাম-বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সৃষ্টি হয়। এটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ হলো ৩৫০ কোটি টাকা এবং বর্তমানে এ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণও ৩৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। এ পর্ষদে একজন সভাপতি, একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নয়জন পরিচালক রয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য ব্যাংক প্রধান কার্যালয়কে পাঁচটি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একজন করে মহাব্যবস্থাপক নিয়োজিত করেছে। বর্তমানে এ ব্যাংকের পাঁচটি জেনারেল অফিস, ১২টি আঞ্চলিক অফিস এবং ১ হাজার ৮০টি শাখা অফিস রয়েছে।

প্রশ্ন : গ্রামীণ ব্যাংক কী?

উত্তর : গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামের ভূমিহীন পুরুষ ও মহিলাদের ঋণদানের জন্য একটি বিশেষ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস হলেন গ্রামীণ ব্যাংকের স্বপ্নদ্রষ্টা। ভূমিহীনদের বিশেষ করে দরিদ্র অসহায় মহিলাদের মালিকানায় দেশের প্রথম এবং একমাত্র প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ব্যাংকটি হলো 'গ্রামীণ ব্যাংক'।

১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রামের জোবরাতে একটি প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প হিসেবে 'গ্রামীণ ব্যাংক' প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলায় এ প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ক্রমাগত সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৮৩ সালে সরকার কর্তৃক 'গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ' জারি করার মাধ্যমে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশেষ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। গ্রামীণ ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ছিল তিন কোটি টাকা। ১৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা পর্ষদ গ্রামীণ ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণ করে থাকে। তাদের মধ্যে নয়জন সদস্য ভূমিহীন শেয়ার মালিক কর্তৃক নির্বাচিত হন। পরিচালকমন্ডলীর সভাপতি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আরো দুজন সদস্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন।

প্রশ্ন : গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যাবলি কী কী?

উত্তর : ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে গ্রামের অবহেলিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবন মান উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক বহুবিধ কার্য সম্পাদন করে থাকে। এর মধ্যে প্রধান কার্যাবলি হলো ভূমিহীন কৃষকদের জামানত ছাড়া ঋণ প্রদান, সুদমুক্ত ঋণ, আয় সৃষ্টিকারী ঋণ, ঋণ তদারকি, পরামর্শ প্রদান, দ্রব্য ঋণ প্রদান, যৌথ ব্যবসা, দরিদ্রের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ঋণ, অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন : বীমা প্রতিষ্ঠান কী?

উত্তর : আধুনিক বিশ্বে যে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বীমা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে অসুখ-বিসুখ এবং বিপদ-আপদে বীমা অকৃত্রিম বন্ধুর ভূমিকা পালন করে থাকে। জাতীয় জীবনেও বীমা শিল্প-বাণিজ্যের রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। বর্তমান যুগে বহুমুখী বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবন আগের তুলনায় অনেক আরামদায়ক, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ হয়েছে। তা সত্ত্বেও মানুষ মৃতু্য, আকস্মিক দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিহত করতে পারে না। এ ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কায় মানুষ সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকে এবং নিরন্তর অনিশ্চয়তায় ভোগে। এ ঝুঁকি দূর করা বা কমানোর একটি পন্থাই হলো বীমা। অধ্যাপক মর্গান বলেন, 'বীমা হলো কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের এমন এক সম্মতি, যার মাধ্যমে সাধারণভাবে এর প্রতিটি সদস্যের কল্যাণ সাধনের বিষয় বিবেচনা করা হয়।'

সুতরাং কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা সংঘটিত হলে এবং ওই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ফলে বীমা গ্রহীতার কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ প্রদানের শর্তে বীমাকারী ও বীমা গ্রহীতার মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়, তাকেই বীমা বলা হয়। বীমাকে প্রধানত জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের, এটি অপেরা নিউজের মতামতকে প্রতিফলিত করে না

No Comments