জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর


অথর
শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২১ মে ২০২০, ২:০৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 114 বার
0
জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

১। 10N বল বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : 1kg ভরের কোনো বস্তুর ওপর যে পরিমাণ বল ক্রিয়া করে 10 ms-2 ত্বরণ সৃষ্টি করে তাকে 10N বল বলে।

 
 

২। বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ বন্ধ করার পর সঙ্গে সঙ্গে পাখা থেমে যায় না কেন?

উত্তর : গতি জড়তার কারণে সুইচ বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে পাখা থেমে যায় না।

 

জড়তার ধারণা অনুসারে প্রত্যেক বস্তু যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকতে চায়। কোনো বস্তু যদি স্থির থাকে, তবে সেটি স্থিরই থাকতে চায়। আবার বস্তু গতিশীল থাকলে এটি গতিশীল থাকতে চায়। সুইচ চালু থাকলে বৈদ্যুতিক পাখার ঘূর্ণন গতি গতিশীল থাকে। সুইচ বন্ধ

করে দিলে জড়তার কারণে পাখা তার ঘূর্ণন গতি বজায় রাখতে চায়। তাই বৈদ্যুতিক পাখা সঙ্গে সঙ্গে না থেমে কিছু সময় ঘুরতে থাকে।

৩। সাম্য ও অসাম্য বলের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

সাম্য বল : সাম্য বলের ক্ষেত্রে একাধিক বলের লব্ধি শূন্য হয়।

অসাম্য বল : অসাম্য বলের ক্ষেত্রে একাধিক বলের লব্ধি শূন্য হয় না।

সাম্য বল : সাম্য বলের ক্ষেত্রে বস্তুর কোনো ত্বরণ থাকে না।

অসাম্য বল : অসাম্য বলের ক্ষেত্রে বস্তুর ত্বরণ থাকে।

৪। প্যারাসুটের মাধ্যমে আরোহী ধীরে ধীরে মাটিতে নিরাপদে নেমে আসে কেন?

উত্তর : প্যারাসুট বায়ুর বাধাকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে। এখানে বায়ুর বাধা হলো এক ধরনের প্রবাহী ঘর্ষণ যা পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের বিপরীতে

ক্রিয়া করে। খোলা অবস্থায় প্যারাসুটের বাইরের তলের ক্ষেত্রফল অনেক বেশি হওয়ায় বায়ুর বাধার পরিমাণও বেশি হয়। ফলে আরোহীর পতনের গতি হ্রাস পায়। ফলে আরোহী ধীরে ধীরে মাটিতে নিরাপদে নেমে আসে।

৫। দেয়ালে পেরেক ঢোকালে আটকে যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : দেয়ালে পেরেক ঢোকালে যদি ঘর্ষণ না থাকত তাহলে পেরেকটি বের হয়ে আসত। অথবা একেবারে ভেতরে ঢুকে যেত। ঘর্ষণের কারণে দেয়াল ও পেরেকের গতির বিপরীতে একটি বলের উদ্ভব হয়, যা পেরেকটিকে আটকে রাখতে সহায়তা করে। সুতরাং বলা যায় যে দেয়ালে পেরেক ঢোকালে তা আটকে থাকার কারণ হলো ঘর্ষণ।

৬। বল ও ত্বরণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : m ভরের কোনো বস্তুর ওপর F বল প্রযুক্ত হলে বস্তুটির ত্বরণ a হলে নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রানুসারে F=ma। কিন্তু বস্তুর ভর m ধ্রুব হওয়ায় F সমানুপাতিক a।

৭। ঘর্ষণ বল কী?

উত্তর : একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তুর ওপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে বা চলতে থাকে তখন ঘর্ষণের কারণে যে বাধা বলের সৃষ্টি হয় তাকে ঘর্ষণ বলে।

৮। জড়তা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : কোনো কিছু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সে অবস্থায় থাকতে চাওয়ার প্রবণতা বা সে অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে জড়তা বলে। অর্থাৎ বস্তু গতিশীল থাকলে এটি গতিশীল থাকতে চায়। আবার বস্তুটি যদি স্থির থাকে, তবে স্থিরই থাকতে চায়। বস্তুর জড়তা এর ভরের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ ভর হচ্ছে জড়তার পরিমাপ। যে বস্তুর ভর বেশি তার জড়তাও বেশি।

৯। ঘর্ষণ একটি প্রয়োজনীয় উপদ্রব—এর পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : ঘর্ষণে অনেক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও ঘর্ষণ ছাড়া আমরা অনেক কিছুই করতে পারি না। ঘর্ষণ না থাকলে কোনো গতিশীল বস্তুর গতি শেষ না হয়ে বিরামহীনভাবে চলতে থাকত। ঘর্ষণ আছে বলেই দেয়ালে পেরেক আটকানো সম্ভব। আমরা রাস্তা দিয়ে অনায়াসে হাঁটতে পারি এবং মাটিতে বাড়ি নির্মাণ করা যাচ্ছে। কাগজে কলম বা পেনসিল দিয়ে লেখাও ঘর্ষণের কারণে সম্ভব। ঘর্ষণের কারণে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে ও প্যারাসুট ব্যবহার করে আকাশ থেকে মাটিতে নামা সম্ভব হচ্ছে। এ জন্য ঘর্ষণকে প্রয়োজনীয় উপদ্রব বলা হয়।

১০। গাড়ির টায়ারের পৃষ্ঠে খাঁজকাটা থাকে কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : টায়ারের পৃষ্ঠে খাঁজকাটা থাকলে টায়ারের পৃষ্ঠ উঁচু-নিচু হয়। পৃষ্ঠ উঁচু-নিচু থাকার কারণে রাস্তা ও টায়ারের মধ্যে ঘর্ষণ বল সর্বোচ্চ হয়। ফলে টায়ার রাস্তাকে ভালোভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে।

১১। চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক কষলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কেন?

উত্তর : চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক কষলে যাত্রীরা গতি জড়তার কারণে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

কারণ বাস যখন চলন্ত অবস্থায় থাকে তখন বাসের যাত্রীরাও বাসের সাথে সাথে একই গতি প্রাপ্ত হয়। চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক কষলে বাসের সাথে সাথে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ স্থির হয়ে যায়। কিন্তু যাত্রীদের শরীরের ওপরের অংশ গতি জড়তার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এ জন্য চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক কষলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

১২। 6 x 105 N বল বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : 6 x 105 N বল হলো, যা ১শম ভরের কোনো বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে 6 x 105 ms-2 ত্বরণ সৃষ্টি করতে পারে। অথবা 6 x 105 N ভরের কোনো বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে 1 ms-2 ত্বরণ সৃষ্টি করতে পারে।

১৩। চলন্ত বাস হতে বাইরের গাছপালাগুলোকে গতিশীল মনে হয় কেন?

উত্তর : চলন্ত বাস হতে বাইরের গাছপালাগুলোকে গতিশীল মনে হয় আপেক্ষিক বেগের কারণে। প্রত্যেক পর্যবেক্ষক তার নিজ কাঠামোকে স্থির দেখে। চলন্ত বাসের যাত্রী বাসটিকে স্থির দেখবে। কিন্তু তার কাছে মনে হবে গাছপালাগুলো বিপরীত দিকে গতিশীল।

১৪। কোন বস্তুর ভরবেগ 500 kg ms-1 বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো বস্তুর ভরবেগ 500 kg ms-1 বলতে বোঝায়—

ক) 1kg ভরের বস্তুর বেগ 500 ms-1 অথবা-

খ) 500 kg ভরের বস্তুর বেগ 1ms-1

১৫। সংজ্ঞা দাও : (১) স্থিতি ঘর্ষণ (২) গতি ঘর্ষণ (৩) আবর্ত ঘর্ষণ (৪) প্রবাহী ঘর্ষণ

উত্তর : স্থিতি ঘর্ষণ : দুটো বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ বল থাকে তাকে স্থিতি ঘর্ষণ বলে।

গতি ঘর্ষণ : একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় তাকে গতি ঘর্ষণ বলে।

আবর্ত ঘষর্ণ : একটি তলের ওপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।

প্রবাহী ঘর্ষণ : যখন কোনো বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।

১৬। বল কাকে বলে?

উত্তর : যা স্থির বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করার চেষ্টা করে বা যা গতিশীল বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে তার গতি পরিবর্তন করে বা করার চেষ্টা করে তাকে বল বলে।

প্রবাহী ঘর্ষণের কারণেই ধীরেসুস্থে নেমে আসে প্যারাসুট

১৭। স্পর্শ বলের সংজ্ঞা দাও?

উত্তর : যে বল সৃষ্টির জন্য দুটি বস্তুর প্রত্যক্ষ সংস্পর্শের প্রয়োজন হয় তাকে স্পর্শ বল বলে।

১৮। অস্পর্শ বল কী?

উত্তর : দুটি বস্তুর প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ ছাড়াই যে বল ক্রিয়া করে তাকে অস্পর্শ বল বলে।

১৯। সাম্য বল কী?

উত্তর : কোনো বস্তুর ওপর একাধিক বল ক্রিয়া করলে যদি বলের লব্ধি শূন্য হয় অর্থাৎ বস্তুটি সাম্যাবস্থায় থাকে, তবে ওই বলগুলোকে সাম্য বল বলে।

২০। অসাম্য বল কী?

উত্তর : কোনো বস্তুর ওপর এক বা একাধিক বল ক্রিয়া করলে যদি লব্ধি বল কাজ করে অর্থাৎ বস্তুর ত্বরণ হয় তখন বস্তুটি সাম্যাবস্থায় থাকে না। যে বল বা বলগুলো এ অসাম্যাবস্থায় সৃষ্টি করে তাকে অসাম্য বল বলে।

২১। মহাকর্ষ বল কী?

উত্তর : এ মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে একটি বল দ্বারা আকর্ষণ করে। মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

২২। অভিকর্ষ বল কী?

উত্তর : কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বলে আকর্ষণ করে তাকে অভিকর্ষ বল বলে।

২৩। ওজন কী?

উত্তর : কোনো বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে টানে তাকে ওজন বলে।

২৪। ঘাত বল কী?

উত্তর : খুব অল্প সময়ের জন্য যে বল প্রযুক্ত হয়, তাকে ঘাত বল বলে।

২৫। তড়িৎ চৌম্বক বল কী?

উত্তর : দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

২৬। সবল নিউক্লীয় বল কাকে বলে?

উত্তর : পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতর দুটি নিউক্লিয়নের মধ্যে যে শক্তিশালী বল কাজ করে তাকে সবল নিউক্লিয় বল বলে।

২৭। দুর্বল নিউক্লীয় বল কী?

উত্তর : যে স্বল্প পাল্লার এবং স্বল্প মানের বল নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরস্থ মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে ক্রিয়া করে তাকে দুর্বল নিউক্লীয় বল বলে।

২৮। বলের ঘাত কী?  

উত্তর : কোন বল ও বলের ক্রিয়াকালের গুণফলকে ওই বলের ঘাত বলে।

২৯। পিছলানো ঘর্ষণ বা বিসর্প ঘর্ষণ কী?

উত্তর : একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তু তথা তলের ওপর দিয়ে পিছলিয়ে বা ঘেঁষে চলতে চেষ্টা করে বা চলে তখন যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে পিছলানো ঘর্ষণ বা বিসর্প ঘর্ষণ বলে।

৩০। ভরবেগ কী?

উত্তর : বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে। বস্তুর ভর m এর বেগ v হলে ভরবেগ P = mv।

৩১। ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রটি কী?

উত্তর : একাধিক বস্তুর মধ্যে শুধু ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো বল কাজ না করলে কোনো নির্দিষ্ট দিকে তাদের মোট ভরবেগের কোনো পরিবর্তন হয় না।

এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের, এটি অপেরা নিউজের মতামতকে প্রতিফলিত করে না

 

No Comments