মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের ঘোষণা চাই


অথর
শিক্ষকের কলাম   খোলা মতামত ডেক্স
প্রকাশিত :১৩ মে ২০২০, ১১:১৪ অপরাহ্ণ | পঠিত : 411 বার
0
মুজিববর্ষেই  জাতীয়করণের ঘোষণা চাই

বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের স্বপ্ন আজও রয়ে গেল স্বপ্নই। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার জন্য। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে দূর্বার গতিতে। শুধু শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়ে গেল চরম বৈষম্য বিরাজমান। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রয়ে গেলাম চরম অবহেলায়। একই কারিকুলামে পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো চরম বৈষম্য বিরাজমান। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও আজও আমরা স্বাধীনতার পূর্ণ সুযোগ সুবিধা পেলাম না। শিক্ষা ব্যবস্থা রয়ে গেল সরকারি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত

শিক্ষা এবং নন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা এই তিন ধারায় বিভক্ত। যেখানে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা একই ধারায় পরিচালিত হওয়ার কথা। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় সবার সুযোগ সুবিধা সমান। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়ে গেল চরম ব্যবধান বিদ্যমান। কেউ পায় পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা আর কেউ পায় অর্ধেক সুযোগ সুবিধা। আবার যারা নন- এমপিওভুক্ত শিক্ষক তারা কিছুই পায় না। তারা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি শিক্ষকরা ১০০ শতাংশ উৎসব ভাতা পায় এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় মূল স্কেলের ২৫ শতাংশ হারে। সরকারি শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা পায় ১৫০০ টাকা এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় মাত্র ৫০০ টাকা। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি

ভাড়া পায় মূল স্কেলের ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আর বেসরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা। সরকারি শিক্ষকরা সন্তানের শিক্ষা ভাতা, স্বল্প সুদে গৃহ ঋণ, পেনশন, বদলি সর্ব প্রকার সুযোগ সুবিধা পায়। কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই মুজিববর্ষেই সকল বৈষম্যের অবসান কামনা করি। প্রতিটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয়ের হিসেব বুঝে নিয়ে যদি সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হয় তাহলে সরকারের বাড়তি অর্থ খচর হবে বলে মনে হয় না। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মনে করি জাতীয়করণ করলে সরকারের লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। তাই আমাদের একটিই দাবি এই মুজিববর্ষেই সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হউক। প্রতিটি মানুষ চাকরি করে অবসর কালীন সময়টুকু নিরাপদে কাটানোর জন্য। হতাশায় নিমজ্জিত থাকার জন্য নয়।বর্তমান অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিরাপদ নয়। চরম হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়। অবসর ও কল্যান তহবিলের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য ২৫ বৎসর চাকরি করতে হবে। তাহলে এককালীন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাবে অবসর ও কল্যান তহবিল মিলে সর্বশেষ স্কেলের ১০০ মাসের বেতনের সমতুল্য টাকা। এর বাইরে কিছু নয়। যারা পঁচিশ বছরের কম চাকরি করবে তারা আনুপাতিক হারে কয়েক মাসের টাকা পাবে। এই অবসর ও কল্যান তহবিলের অর্থ উত্তোলন করতে কয়েক বছর লেগে যায়। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরি শেষে অবসরে যাওয়ার পর কল্যান তহবিলে পান ২৫ মাস এবং অবসর থেকে পান ৭৫ মাসের বেতন বা সর্বমোট ১০০ মাসের বেতন যা সর্বশেষ স্কেলের সমান। এই প্রাচীন প্রথা বহমান থাকার কারণে শিক্ষকরা চরম বৈষম্যের মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। চরম বৈষম্য বিরাজমান থাকলে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য। বর্তমান যুগ যেহেতু ডিজিটাল যুগ। সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষায় ও পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের মূল স্কেলের পরিবর্তন করেছে। কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের সুযোগ সুবিধার এখনো ব্যবস্থা করে নাই। চাকরির শেষে যদি পেনশনের সুযোগ সুবিধা না থাকে তাহলে শিক্ষকরা বৃদ্ধ বয়সে জীবন যাপন করবে কীভাবে? বৈষম্য বিরাজমান থাকার কারণে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখনো রয়ে গেল এনালগ যুগে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু শিক্ষা বান্ধব সেহেতু আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আশা করি সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ হবে ইনশাআল্লাহ। সরকার যেহেতু বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ ঘোষণা করেছে সে ক্ষেত্রে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা কারোর কাম্য হতে পারে না। তাই এনালগ প্রথার অবসান কামনা করি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। এ পুরাতন প্রথা বাতিল চাই। যথাযথ মর্যাদায় বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ সহ পেনশনের ব্যবস্থা চাই। অবসর এবং কল্যান তহবিলের টাকা উত্তোলন করতে অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর। ফাইল পরে থাকে সিরিয়ালে। শুধু একটি কথাই বলে এইতো হচ্ছে হয়ে যাবে। পরে শুধু তারিখ আর তারিখ এ যেন অশুভংকরের ফাঁকি। অবসরে যাওয়ার পর মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় বেসরকারি শিক্ষকদের। নেই বেতন,নেই ইনকাম আছে শুধু সীমাহীন দুর্ভোগ। এই সীমাহীন দুর্ভোগ শেষ হবে কখন তা জানার উপায় নেই। শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা। যেন সোনার হরিণ পাওয়ার সামিল। সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষকরা যেখানে সমান ডিগ্রি ধারী এবং সরকারির চাইতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট অগ্রগামী সেখানে এই রকম বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি ন্যায় তাই বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ সহ পেনশনের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি। চাকরির শেষে বেসরকারি শিক্ষকরা অসহায়ত্ব জীবনযাপন করে এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। অবসর ও কল্যান ট্রাস্ট যেহেতু শিক্ষকদের কল্যানের জন্য সেহেতু অবসর ও কল্যান ট্রাস্টের টাকা উত্তোলন বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। আশা করি অবসর ও কল্যান তহবিলের অর্থ যথাসময়ে উত্তোলনের ব্যবস্থা করবেন যথাযথ কর্তৃপক্ষ। যেহেতু প্রতি মাসে বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। সেহেতু জমাকৃত গচ্ছিত অর্থ সাথে সাথে পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। পূর্বে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল স্কেলের ৬ শতাংশ হারে কর্তন করা হতো। অবসরের জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যান তহবিলের জন্য ২ শতাংশ হারে। বর্তমানে এই কর্তন দাড়িয়েছে অবসরের জন্য ৬ শতাংশ এবং কল্যান তহবিলের জন্য ৪ শতাংশ হারে। এখন সর্বমোট কর্তন করা হচ্ছে ১০ শতাংশ হারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় পূর্বের ৬ শতাংশ হারে যে সুযোগ সুবিধা ছিল বর্তমানে তাই পাওয়া যাবে। এই যে, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে কর্তন করা হচ্ছে তার কোন বাড়তি সুযোগ সুবিধা নেই অবসর ও কল্যান তহবিলে। বর্তমান সরকার বাৎসরিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন যাত্রার মান কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে কর্তন করার ফলে সেই অবদান কিছুটা হলেও ম্লান হচ্ছে। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই কর্তন বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। বর্তমানে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল স্কেলের সিংহভাগ চলে যায় কর্তন করার ফলে। যার জন্য বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষককে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে । সংসারের ভরণপোষণ করা সহ ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যা বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের সমান। সরকারি ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মুজিববর্ষেই সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখবেন চিরকাল।

No Comments