সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা : বাংলা প্রথমপত্র


অথর
শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৫ মার্চ ২০২০, ১:০৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 116 বার
0
সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা : বাংলা প্রথমপত্র

গরবিনী মা জননী সিকান্দার আবু জাফর উদ্দীপক-১ : মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি, তোমার ভয় নেই মা, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। ক) সিকান্দার আবু জাফর রচিত বিখ্যাত নাটকের নাম কী? উত্তর : সিকান্দার আবু জাফর রচিত বিখ্যাত নাটকের নাম সিরাজউদ্দৌলা। খ) বাংলা মাকে পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর। উত্তর : বাংলা মায়ের সন্তানরা যে কোনো দুর্বিপাক থেকে মাকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট থাকে বলে বাংলা মাকে পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী বলা হয়েছে। সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বাংলা মায়ের সন্তানরা মাকে রক্ষা করার জন্য শত কষ্ট-আঘাত সহ্য করে। কোনো অন্যায়-অবিচার-অত্যাচারকে তারা মেনে নিতে পারে না। সন্তানের এই

সাহসিকতা দেশমাতাকে গর্বিত করে। এমন সাহসী সন্তান বুকে ধারণ করার জন্য তাকে পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী বলা হয়েছে। গ) উদ্দীপকটি ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। উত্তর : উদ্দীপকটি ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বাঙালি সন্তানের সাহসিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বাংলা মায়ের কামার, কুমার, জেলে, চাষি, বাউল, মাঝি-এসব পেশাজীবী সন্তান মায়ের কোলজুড়ে থেকে মাকে আগলে রাখে। মাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে তাঁরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। দেশমাতৃকাকে সব দুঃশাসন থেকে রক্ষার জন্য মায়ের সন্তানরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁরা যেকোনো দুঃসময়ে জেল-জুলুম ও ফাঁসির দন্ড মাথায় নিয়ে নিজের সুখ-শান্তি ও আলস্য পরিহার করে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে

দ্বিধা করে না। উদ্দীপকের বাংলা মায়ের শান্তিপ্রিয় ছেলেরাও শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ ও প্রতিবাদ করতে সব সময়ই প্রস্তুত থাকে। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ) সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিতে কী ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দাও উত্তর : বাংলার মাটি যে সাহসী ও সংগ্রামী জনতার ভিত্তিভূমি, ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার এই ভাব উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বাংলা মায়ের গর্বিত হয়ে ওঠার কারণ অন্বেষণে দেখা গেছে, এ দেশের সব পেশাজীবী সন্তান মাকে ভয়ঙ্করের দুর্বিপাক থেকে সব সময় রক্ষা করে। বাংলার মুক্তিকামী বিদ্রোহী তরুণ-যুবকরাই নির্ভয়ে যুদ্ধে-সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে মাকে রক্ষা করেছে। জেল, জুলুম,

ফাঁসির ভয়ে তারা কখনো আদর্শচ্যুত হয়নি। যুগের দাবি ও সময়ের দাবি রক্ষায় বাংলার সাহসী সন্তানরা যে সংগ্রামের পথ বেছে নেয়, তাদের জন্য এ দেশ সত্যিই গর্বিত। বাংলার মাটি প্রকৃতপক্ষে সাহসী ও সংগ্রামী জনতারই ভিত্তিভূমি। উদ্দীপকের বক্তব্যেও বাংলা মায়ের এমন সন্তানের কথা বলা হয়েছে, যারা দেশমাতৃকার বিপদে প্রতিবাদ ও অস্ত্র ধারণ করার সাহস ও মনোবল রাখে। উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাদৃশ্যগত দিকটিতে ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপক-২ : অন্তুর মা অন্তুকে ওর কাজল মামার সংগ্রামী চেতনা ও বীরত্বের কথা বলতে গিয়ে বলেন, জানিস অন্তু, তোর মামা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে তিনি যুদ্ধ করেন। তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছেলেদের

জোগাড় করে ট্রেনিং দিতেন। তোর নানা কত বকতেন, ‘বাবা, এসব করিস নে, বিপদে পড়বি। ’ কিন্তু তোর মামা কিছুই শুনতেন না। তিনি বলতেন, ‘আমাকে বাংলা মায়ের কথাও চিন্তা করতে হবে। ’ ক) সিকান্দার আবু জাফর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর : সিকান্দার আবু জাফর ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। খ) বীর সন্তানরা ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেন? ব্যাখ্যা কর। উত্তর : দেশমাতৃকাকে সব দুঃশাসন থেকে রক্ষা করার জন্য মায়ের সন্তানরা ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার শ্রমজীবী, কৃষিজীবী থেকে শুরু করে সব পেশাজীবী এই বাংলা মায়ের সন্তান। এই মাকে রক্ষা করার জন্য তার সন্তানরা শত কষ্ট সহ্য করে, তবু কোনো

অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার তারা মেনে নেয় না। তাই মাকে রক্ষা করার জন্য তারা ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উত্তর : উদ্দীপকের অন্তুর কাজল মামা বীরত্বের দিক থেকে ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার সন্তানদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বাংলার মুক্তিকামী, বিদ্রোহী তরুণ-যুবকরা দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার জন্য নির্ভয়ে যুুদ্ধে-সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিল। এই সন্তানরা মাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধা করে না। সব দুঃশাসন থেকে দেশমাতৃকাকে রক্ষার জন্য তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা যেকোনো দুঃসময়ে জেল-জুলুম ও ফাঁসির দন্ড মাথায় নিয়ে নিজের সুখ-শান্তি ও আলস্য পরিহার করে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে দ্বিধা করে না। উদ্দীপকেও এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, অন্তুর


কাজল মামা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছাত্র জোগাড় করে তাদের ট্রেনিং দিয়েছেন। অন্তুর নানা বিপদে পড়ার আশঙ্কায় ছেলেকে সাবধান করতে চাইলে তিনি বলতেন যে দেশমাতৃকার মুক্তির কথাও ভাবতে হবে। উদ্দীপকের কাজল মামার ভাবনার এই দিকটি ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ) “উদ্দীপক ও ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বক্তব্য একই ধারায় প্রবাহিত”-বিশ্লেষণ কর। উত্তর : উদ্দীপক ও ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার বক্তব্য স্বদেশ চেতনার প্রকাশ ঘটেছে বলে তা একই ধারায় প্রবাহিত। ‘গরবিনী মা জননী’ কবিতার দেশমাতৃকার পুণ্যবতী, ভাগ্যবতী ও গর্বিত হয়ে ওঠার কারণ হিসেবে তার সন্তানদের অবদানের কথা বলা হয়েছে। শ্রমজীবী, কৃষিজীবী থেকে শুরু করে সব পেশাজীবী সন্তান এই মায়ের কোলজুড়ে থাকে। এই মাকে রক্ষা করার জন্য সন্তানরাই শত কষ্ট সহ্য করে। মাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে তারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয়। যুগের দাবি ও সময়ের দাবি রক্ষায় বাংলা মায়ের সন্তানরা সাহসের সঙ্গে সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। কারণ কোনো অবস্থায়ই তারা অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার মেনে নিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত সুখ-শান্তি ও অলসতা পরিহার করে দেশমাতৃকাকে রক্ষাকল্পে তারা বিশেষ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকের অন্তুর মুক্তিযোদ্ধা কাজল মামাও দেশমাতৃকাকে রক্ষাকল্পে তাঁর বাবার আশঙ্কাকে আমল না দিয়ে ছাত্রদের যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং দিয়ে গেছে। কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি যে একই ভাব উদ্দীপকের কাজল মামার বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে, যা স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।

No Comments