সারাবছরই পাওয়া যাবে উচ্চফলনশীল ‘উফশী লাউ


অথর
কৃষি ও প্রকৃতি সংবাদদাতা   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ মার্চ ২০২০, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 189 বার
0
সারাবছরই পাওয়া যাবে উচ্চফলনশীল ‘উফশী লাউ

বিইউ হাইব্রিড লাউ-১ নামের এই লাউ উদ্ভাবন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। নতুন উদ্ভাবিত এই লাউ অল্প জমিতে চাষ করা যায়। এর রোগ সংক্রমণ কম এবং উৎপাদন বেশি। বিজ্ঞানীদের দাবি, সবজির চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। [৩] ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম ৮ বছর গবেষণার পর বিইউ হাইব্রিড লাউ-১ ও বিইউ লাউ-১ নামের ২টি নতুন জাতের লাউ উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, সুস্বাদু এই লাউ আধুনিক ও বাণিজ্যিক চাষাবাদের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। [৪] উচ্চফলনশীল জাত দু’টির মধ্যে একটি হাইব্রিড এবং অন্যটি উন্মুক্ত পরাগায়িত (ওপি)। তাছাড়া পুং ও স্ত্রী ফুলের অনুপাত কম হওয়ায় গাছে খাদ্যের

যে যোগান দেয়া হয়, তা সরাসরি ফলোৎপাদনে ব্যবহার হয়। এতে অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় অপচয় এবং ঝরে পড়ে কম। [৫] এই লাউয়ের উদ্ভাবক আমিনুল ইসলাম বলেন, হাইব্রিড জাতটি আলোক অসংবেদনশীল হওয়ায় সারাবছরই চাষযোগ্য। এছাড়াও এটি খেতে খুব সুস্বাদু। গ্রীষ্মকালে স্বাদেও খুব একটা হেরফের হয় না। এটি দেশি লাউয়ের মতোই সবুজ বর্ণের। লাউ ধরে প্রতি গিঁটে গিঁটে। গড় ওজন ৩ থেকে ৪ কেজি। তবে বিইউ লাউ-১ ছোট (১.০-১.২ কেজি) আকারের হয়ে থাকে। [৬] বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, কম জায়গায় বেশি ফলন উপযোগী এ জাতের লাউ বাড়ির উঠোনে বা ভবনের ছাদে সফলভাবে চাষ করা যায়। এ জাত ২টি বিএডিসির

মাধ্যমে দ্রæত সারাদশে ছড়িয়ে যাবে। [৭] গবেষক জানান, বিইউ হাইব্রিড লাউ-১ ৪ মাস পর পর বীজ বপন করে সারাবছর চাষ করা যায়। প্রতিটি গাছে ২৫ থেকে ৩০টি লাউ ধরে। তবে বিইউ লাউ-১ জাতের বীজ লাগাতে হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। চারা উৎপাদনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর ফুল দেয়া শুরু হয়। [৮] গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক এলাকার কৃষক কামরুজ্জামান সবুর জানান, ১৭ শতাংশ জমিতে তিনি ওই দুই জাতের লাউ চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমের এ সময়ে তিনি ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। এখন ফলন দিচ্ছে। অল্প জমিতে অল্প খরচে এ লাউয়ের ফলন অনেক বেশি। এ লাউ চাষ করে হতদরিদ্ররা সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন এবং দেশে সবজির ক্রাইসিস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। [৯] গবেষক এ কে এম আমিনুল ইসলাম চেরি টমেটো, বিভিন্ন রঙের ও আকারের উফশী শিম, ভুট্টা, বিভিন্ন আকার ও রঙের মিষ্টিকুমড়ার উন্নত জাতের লাইন নিয়েও কাজ করছেন। এসব নিয়ে বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্লটে চাষাবাদ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাছেন। যায়যায়দিন

No Comments


আরও পড়ুন