হ্যান্ড স্যানিটাইজার: আইনি জটিলতায় উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   জাতীয়
প্রকাশিত :২৬ মার্চ ২০২০, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 152 বার
0
হ্যান্ড স্যানিটাইজার: আইনি জটিলতায় উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

দেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। করোনার প্রভাবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁচামালের অভাবে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে। স্যানিটাইজার বানাতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের আহ্বানে দেশীয় ডিস্টিলারি কোম্পানি স্যানিটাইজারের অন্যতম কাঁচামাল রেক্টিফাইট স্পিরিট সরবরাহে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু স্যানিটাইজার উৎপাদন ও কাঁচামাল সরবরাহে অনুমোদন পেলেও ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা না থাকায় বিষয়টি মাঝপথে থমকে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে সংকট মোকাবেলায় ডিস্টিলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধুবাদ জানানো উচিত সেখানে উল্টো তাদের এখন ভ্যাট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তো এখানে ব্যবসার চিন্তা করছে না, জাতির এ দুর্যোগে তারা সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। জানা গেছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় হ্যান্ড

স্যানিটাইজারসহ ১২ ধরনের সুরক্ষাসামগ্রীর কাঁচামাল আমদানিতে ২২ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে আমদানি পর্যায়ে সব ধরনের শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হয়। অথচ প্রয়োজন ছিল আমদানির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যারা হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন বা কাঁচামাল সরবরাহ করবেন তাদের ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া। কিন্তু সেটি করা হয়নি। এ অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি সুরাহা করা না হলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপগুলো ব্যাহত হবে। বিশেষ করে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জনস্বার্থে জরুরিভিত্তিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন বা কাঁচামাল সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে তা বাধার মুখে পড়বে। এমনকি বিষয়টি নিষ্পত্তি করা না হলে সম্মতি পাওয়া সত্ত্বেও কেউ পরবর্তী পদক্ষেপ


নিতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়বেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট মোকাবেলায় শুধু দেশীয় ডিস্টিলারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্যানিটাইজারের কাঁচামাল সরবরাহ সম্ভব। এজন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিস্টিলারিগুলোর সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহে যোগাযোগ করেছে। ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে উৎপাদন ও সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সমন্বিত পদক্ষেপের কোথাও ঘাটতি থাকায় এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সরবরাহে ভ্যাট ছাড় দেয়ার বিষয়টি বাদ পড়ে গেছে। তারা বলেন, জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে আমদানির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ কথাটি যুক্ত থাকলে এ সমস্যা হতো না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল সরবরাহ করতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছে। কারণ কাঁচামাল সরবরাহে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত আছে।


আমদানিতে যেখানে ভ্যাট-ট্যাক্স নেই, সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে এ ভ্যাট থাকায় কোম্পানিগুলো নিরুৎসাহিত হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে। এদিকে এ বিষয়ে জানতে চইলে বুধবার বিকালে এনবিআরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তারা ওষুধ প্রশাসনের আবেদনের প্রেক্ষিতে করোনাভাইরাসের সুরক্ষা সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দিয়েছে। এক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর দেশীয় উৎস থেকে রেক্টিফাইট স্প্রিরিট সংগ্রহের কথা জানায়নি। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, করোনা এখন জাতীয় দুর্যোগ। তাই এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের চিঠি পাওয়া মাত্র বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

No Comments