মসলার দামে কারসাজির নেপথ্যে পাইকাররা


অথর
অর্থনৈতিক ডেক্স   ব্যবসা বানিজ্য
প্রকাশিত :১০ মে ২০২০, ৪:৪০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 161 বার
0
মসলার দামে কারসাজির নেপথ্যে পাইকাররা

মসলার দামে পাইকাররা কারসাজি করছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। রাজধানীর পাইকারি মসলার বাজারে অভিযান পরিচালনার পর সংস্থাটির পক্ষ থকে বলা হয়েছে, এক কেজি লবঙ্গর আমদানি মূল্য ২২২ টাকা। এর ওপর যাবতীয় ট্যাক্স আরোপের পর দাম দাঁড়ায় ৪১১ টাকা। কিন্তু সেই লবঙ্গ পাইকারিতে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা; যা এক ধরনের কারসাজি। জানতে চাইলে অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা রাজধানীর মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে মিটিং করেছি। এসব পণ্যের মূল্য পর্যালোচনা করে তাদের দেখিয়েছি। আরও দেখিয়েছি যে, কীভাবে বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। তাদের দাম কমানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি নির্দেশনা অমান্য করে পরবর্তীতে তাদের কঠিন

শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এই লবঙ্গ ৪১১ টাকার ওপরে আমদানিকারক ৫ শতাংশ, পাইকারি বিক্রেতা ৭ শতাংশ এবং খুচরা বিক্রেতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করলে সর্বোচ্চ মূল্য দাঁড়ায় ৫৩১ টাকা। অর্থাৎ এ দামে ক্রেতা এক কেজি লবঙ্গ পাওয়ার কথা। অথচ দেখা গেল পাইকারি বিক্রেতা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে, যা ভোক্তাপর্যায়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। তিনি জানান, কারসাজি করতে করতে অসাধুরা কাউকেই আর ভয় পাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, অযৌক্তিভাবে দাম বাড়ানো যাবে না; কিন্তু একশ্রেণির অসাধু বিক্রেতা তা মানছে না। পণ্যের দাম দুই থেকে তিনগুণ এমনকি চারগুণ বাড়িয়ে বিক্রি করছে তারা। তাদের মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।

কঠোর শাস্তিও দেয়া হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থে এ অভিযান চলমান থাকবে। মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এ দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত কারসাজি করছে পাইকারি বিক্রেতারা। পাইকারি পর্যায়ে দামটাও অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতাদের বাড়তি দামে মসলাগুলো কিনতে হচ্ছে। অথচ মসলাগুলো আরও কম দামে পাওয়ার কথা। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার (ঢাকা) ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা যদি মসলার দাম বাড়িয়ে বিক্রি করি, তাহলে অধিদফতরকে ৪১১ টাকা করে লবঙ্গ সাপলাই করতে বলেন। এছাড়া টিসিবিই কেন সাপ্লাই করছে না? আমার পণ্যের দাম আমি জানি না, ওনারা জানেন। তিনি যদি লবঙ্গ আমদানি মূল্য ২২২ টাকা দিয়ে এনে আমাকে যাবতীয় ট্যাক্স আরোপের পর ৪১১ টাকায় সাপ্লাই দিতে পারেন আমি ১০ টন লবঙ্গ নেব। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৪১১ টাকা নয় তাকে ৬০০ টাকা কেজি দরে দাম নির্ধারণ করে দিলাম। তিনি এনে আমার কাছে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করুক। তাহলেও ১০ টনে ১৯ লাখ টাকা তার লাভ হবে। তিনি এনে দেখাক। এসব কথা বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে। তাদের কথা সঠিক না।’ শনিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে ভোক্তা অধিদফতরের পক্ষে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশের বাজারে আসা প্রতি কেজি বিভিন্ন মানের জিরার ট্যাক্স ভ্যাটসহ আমদানি মূল্য দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ২৫৬ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতাদের পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একইভাবে ১৩৫ টাকায় আমদানি করা প্রতি কেজি হলুদ খুচরা বাজারে ২০০-২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ১৭০ টাকায় আমদানি করা প্রতি কেজি শুকনা মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। এছাড়া ৩০৬৭ টাকায় আমদানি করা ছোট এলাচ খুচরা পর্যায়ে ৪২০০-৪৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১৩৮ টাকায় আমদানি করা প্রতি কেজি দারুচিনি খুচরা বাজারে ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের দামের একটি তালিকা তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অভিযানের সময় আমদানি মূল্য পর্যালোচনা করে বিভিন্ন পণ্যের আমদানিকারক, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ের যৌক্তিক বিক্রয় মূল্য মিলিয়ে দেখা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কাজটি করছেন ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। যারা ইতোমধ্যে বাজার অভিযানের মাধ্যমে অস্থির হয়ে ওঠা আদার দাম খুচরা পর্যায়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এবারও তারা মসলার বাজারের অস্থিরতা কমিয়ে আনতে পারবেন বলে অনেকে আশা করছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুম আরেফিন বলেন, আমাদের একটি টিম পাইকারি বাজারে মনিটরিং করছে। তাদের তথ্য ধরে আমরা আবার খুচরা বাজারে দাম মিলিয়ে দেখছি। অতিরিক্ত উল্লম্ফন দেখলে ব্যবসায়ীদের দাম কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি। অনেককে জরিমানাও করছি। এভাবেই বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।

No Comments