বাবেশিকফো’র শিক্ষা বাজেট ভাবনা – ২০২০-২০২১


অথর
শিক্ষকের কলাম   খোলা মতামত ডেক্স
প্রকাশিত :১০ মে ২০২০, ১০:১৭ অপরাহ্ণ | পঠিত : 359 বার
0
বাবেশিকফো’র শিক্ষা বাজেট ভাবনা – ২০২০-২০২১

বৈশ্বিক মহামারি করোনাসহ নানাবিধ কারণে আগামী জাতীয় বাজেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসের শেষ দিকে দেশের অর্থনীতি দুই লক্ষাধিক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই দেশের অর্থনীতি ব্যপক হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছে। হাজার হাজার প্রবাসী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনের কারণে কলকারখানা বন্ধ সহ প্রায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। নিয়মানুযায়ী দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আগামী ১১ জুন সংসদে উত্থাপন করা হবে জাতীয় বাজেট ২০২০/২০২১। এমনি সময়ে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা

বরাদ্দ নিয়ে আলোকপাত করা সত্যি কঠিন ও দুরুহ কাজ। এতদসত্ত্বেও শিক্ষা বাজেট নিয়ে স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করছি। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে বরাদ্দ দেয়া হতে পারে সাড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় পরিচালন ব্যয় প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অপরদিকে এত কম বরাদ্দ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৭৫টি অনুমোদনপ্রাপ্ত ও ২৮টি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে। তাই ঘাটতি পূরণে আগামী অর্থ বছরের

বাজেটে সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। প্রতি বছরই বাজেট নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীদের মতো শিক্ষকদের মধ্যেও আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্ত থাকে না। কিন্তু বিধিবাম বাজেট আসে, বাজেট যায়, শিক্ষকদের বঞ্চনা বৈষম্যের কোন সমাধান হয়না। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও তা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় - অপ্রয়োনীয় প্রকল্পে চলে যায়, বঞ্চিত থেকে যায় শিক্ষকরা। দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচাতে হলে শিক্ষকদের বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে আর্থিক সমস্যার দ্রুত সমাধান করা জরুরি। এক্ষেত্রে দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমপিও প্রতিষ্ঠান ও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল, বাড়িভাড়া, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা,বদলী, চিকিৎসা ভাতার সমস্যাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এখনই সমাধান করা প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় শিক্ষাব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তথাপিও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মানের শিক্ষা স্তরে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর মূলে রয়েছে, যাদের দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা হবে, সেই শিক্ষকদের আর্থিক অসচ্ছলতা। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের ইতিবাচক উন্নয়নগুলো সবার দৃষ্টির আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষার চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই শিক্ষার মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে সরকারিকরণ করা এখন সময়ের দাবি। দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করে শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা দেওয়া হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে যথাশীঘ্র সরকারকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে হবে। বাজেট প্রাক্কলনের পূর্বেই শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসা উচিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষকরা তাঁদের শতভাগ উজাড় করে দিতে তৈরি আছেন। সর্বাগ্রে শিক্ষকদের বঞ্চনা ও বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে। গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। জিডিপির ৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ ব্যয় করার কথা। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ। এতে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের বঞ্চনা বৈষম্য দূরীকরণ ও পরিধি বাড়াতে অর্থের সংকট পরে যায়। আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির নূন্যতম ৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের জোর দাবি জানাচ্ছি। মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম সভাপতি বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম

No Comments