টিউশন ফি জমা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপ


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   শিক্ষা সংবাদ
প্রকাশিত :১৪ মে ২০২০, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 152 বার
0
টিউশন ফি জমা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপ

অনলাইন কোচিং বাণিজ্যের পর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার মেতে উঠেছে সামাজিক দূরত্ব ভাঙার প্রতিযোগিতায়। ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফি জমা দিতে অভিভাবকদের চাপ দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অনলাইনে ও এসএমএসে নোটিশ জারি করেছে। তাতে স্কুলে হাজির হয়ে বা বিকাশ ও রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ফি জমা নিয়েছে। এতে করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে কোথাও অভিভাবককে আবার কোথায় শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি জমা দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি নির্দেশনাকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। এসব নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে উঠেছে

নিন্দার ঝড়। অনেকে গণমাধ্যমে স্কুলের এসএমএস ও নোটিশ সরবরাহ করে প্রতিকার দাবি করেছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি অভিভাবকরা প্রশ্ন রেখেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের আইন-নির্দেশনার বাইরে কিনা। আর প্রতিষ্ঠানগুলোতে বসে থাকা সরকারি কর্মকর্তা কোন সাহসে সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে চলেছেন। যেসব প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ। বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এ এসএমএসে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি অনলাইনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের রকেট ও নেক্সাস-পের মাধ্যমে আদায়ের জন্য গভর্নিং বডি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিস্তারিত জানাবেন। এর আগে এ প্রতিষ্ঠানটির অসাধু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অনলাইনে কোচিংয়ে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাস অন্তর শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ করতে হয়। সেই মোতাবেক এপ্রিল থেকে জুনের বেতন পরিশোধের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, এর আগে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় একইভাবে এসএমএস দিয়ে টিউশন ফি চেয়েছে। ফি চেয়েছিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজও। কয়েকটি ইংলিশ মাধ্যম স্কুলের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে সমালোচনার কাজ করেছে লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও অভিভাবকদের ফোন করে ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। রোববার থেকে এর কার্যক্রম চলছে বলে অভিভাবকরা জানান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ বলেন, রোববার থেকে স্বল্প পরিসরে তাদের অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে। তবে পাঠদান চলছে না। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আদায়ের বিষয়ে কাউকে চাপ দেয়া হচ্ছে না। খুশিমতো অফিসে এসে জমা দিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বেতন স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা। মঙ্গলবার ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এ আবেদন করেন তারা। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করবেন বলেও জানান ওই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সংগঠনের নেতা মো. আবদুল মজিদ সুজন। দেশের শিক্ষার দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, যেখানে অভিভাবকরা বর্তমানে কঠিন উদ্বেগে দিন কাঠাচ্ছেন। অনেকের উপার্জন বন্ধ ও চাকরির বেতন-ভাতা পাননি। কেউ কর্মহীন অবস্থায় আছেন। সেখানে এভাবে চাপ প্রয়োগ অনৈতিক। এ অভিভাবক নেতা আরও বলেন, অভিভাবকদের দুরবস্থা বিবেচনা করে আমরা ৬ মাসের টিউশন ফি মওকুফের আবেদন জানিয়ে আসছি।

No Comments