অপারেশনে দরকার দুই লাখ টাকা: বৃদ্ধা মা ছেলের জন্য হাত পেতেছেন সমাজের বৃত্তবানদের কাছে


একটি সড়ক দূর্ঘটনায় গোলাম রসুলের সব স্বপ্ন ভঙ্গ
অথর
মানুষ ও মানবতা সংবাদদাতা   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৪ মে ২০২০, ৪:০০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 156 বার
0
অপারেশনে দরকার দুই লাখ টাকা: বৃদ্ধা মা ছেলের জন্য হাত পেতেছেন সমাজের বৃত্তবানদের কাছে

যশোরের চৌগাছার সতের বছরের টসবগে যুবক গোলাম রসুল। খুব অল্প বয়সে সে বাসের হেলপারী করে যা রোজগার করত তাই তুলে দিত পিতার হতে। কিন্তু সড়ক দূর্ঘটনায় তার এক পায়ের তিন জায়গা ভেঙ্গে গেছে, মুখের সবগুলো দাঁত গেছে খুলে। জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করতে পারলে সে সুস্থ্য হয়ে উঠবে, অন্যথায় মরণব্যাধী ক্যান্সার তার শরীরে বাসা বাধতে পারে। মাত্র দুই লাখ টাকার জন্য থেমে গেছে অপারেশন। তাই সমাজের বৃত্তবানরাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এমনটিই জানালেন বৃদ্ধ মা মধুমালা বেগম। চৌগাছা উপজেলা সদরের দক্ষিনে বেড়গোবিন্দ বাওড় ঘেষা একটি গ্রাম মন্মতপুর। এই গ্রামের আঃ সালামের ছেলে গোলাম রসুল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সে পড়ালেখা

বাদ দিয়ে রোজগারে নেমে পড়ে। অভাবের সংসারে পিতা মাতাকে কিছুট স্বস্তি দেয়ার জন্যই সে কাজ নেয় বাসের হেলপারের। এখান থেকে যা রোজগার হত তার পুরোটাই তুলে দিত পিতার হাতে। কিন্তু একটি দূর্ঘটনা তার সব কিছুকেই তছনাছ করে দিয়েছে। টিনের ঝুপড়ি ঘরের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে তার দিন যাচ্ছে আর রাত আসছে। এ ভাবেই কেটে গেছে প্রায় ৫ মাস। মর্মান্তিক সেই দূর্ঘটনার স্মৃতিচারন করতে যেয়ে আতকে উঠে গোলাম রসুল। তিনি জানান, যশোর ব-১৪২ নং বাসে সে হেলপারের কাজ করতেন। সেদিন ছিল ১৬ জানুয়ারী ২০২০ বৃহস্পতিবার। সকালে চৌগাছা থেকে যশোরের উদ্যোশে রওনা হয়। পথিমধ্যে সানতলা তেল পাম্পের সামনে পৌছালে চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের পাশে

গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়, সামনের গেটের হেলপার গোলাম রসুলসহ বেশ কিছু যাত্রী আহত হয়। গোলাম রসুলের জ্ঞান ফেরার পর সে দেখে যশোর সদর হাপাতালের মেঝেই সে শুয়ে আছে। বাম পায়ের তিন জায়গায় ভেঙ্গে গেছে, পা নাড়াতে পারে না, মুখের দু’পাটি থেকেই দাঁত গুলো সব খুলে গেছে। অসহনীয় কষ্ট আর যন্ত্রনায় সে ছটফট করছে। সেখানে বশে কিছু দিন চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ডাক্তাররা বলেছেন দাঁত ও পায়ে দ্রæত অপারেশন করতে হবে। ব্যয় হবে প্রায় দুই লাখ টাকা। সমাজের বৃত্তবানদের কাছে এই টাকা তেমন কোন সমস্য না হলেও গোলাম রসুলের পরিবারের কাছে এ যেন পাহাড় সমান টাকা। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার এই টাকা কি ভাবে জোগাড় করবে তা ভেবে ব্যাকুল। গোলাম রসুল বলেন, নানার দেয়া ২ শতক জমিতে তাদের বসবাস। এই জমির উপর ঝুপড়ি ঘরে বাবা মা ভাই বোন মিলে সকলে একসাথে থাকি। বাবা অন্যের জমিতে কাজ করে যা আর করছে তাতেই কোন রকমে তাদের সংসার চলছে। তার উপর প্রতি দিন ওষুধ তো আছেই। তিনি বলেন,দূর্ঘটনার পর বাসের মালিক ৩ হাজার টাকা দিয়েছে চিকিৎসার জন্য, এছাড়া মালিক বা শ্রমিক সমিতির কোন সাহায্য সে পাইনি। সে কার্ডধারী শ্রমিক না হওয়ার কারনে কোন সহযোগীতা পাইনি বলে জানান। বর্তমানে সে যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নিকট চিকিৎসা গ্রহন করছেন। চিকিৎসক বলেছেন দ্রæতই দাঁত এবং পায়ের অপারেশন করতে, অন্যথায় ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। অপারেশনের জন্য দুই লাখ টাকা দরকার। কে দিবে তাকে দুই লাখ টাকা, কে দাঁড়াবে পাশে এই চিন্তায় গোটা পরিবার এখন ব্যাকুল। গোলাম রসুলের বৃদ্ধা মা মধুমালা বেগম তার সন্তানের সুচিকিৎসার জন্য অশ্রæশিক্ত কন্ঠে সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, যোগাযোগের ঠিকানা ঃ ০১৩১৯৪৬৩৯৭৬ (বিকাশ)।

No Comments


আরও পড়ুন