আর দেরি নয় উড়াও নিশান… – ডোনেট বাংলাদেশ

আর দেরি নয় উড়াও নিশান…

মোঃ বেলাল হোসেন
আপডেটঃ ১২ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:১১ 253 ভিউ
আর দেরি নয় উড়াও নিশান...। লাল সবুজের নিশান উড়তে শুরু করেছে। যেখানে উড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেখানে তো সব সময়ই উড়ে, এখন এই বিজয়ের মাসে উড়তে দেখা যাচ্ছে সর্বত্রই। চলছে আরও নানা প্রস্তুতি। ১৬ ডিসেম্বর ঘিরে প্রতি বছরই এমন উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। তবে এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে আবেগটা গাঢ় হয়েছে। আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে উদ্যাপনের বিষয়টি। এরই মাঝে বেসরকারীভাবে উদ্যাপন শুরু হয়ে গেছে। বড়সড় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে সরকারও। একাত্তরের সেই ইতিহাসও ঘুরে ফিরে সামনে আসছে। অখ- পাকিস্তানে দীর্ঘ বঞ্চনার, বৈষম্যের শিকার হয়েছিল বাঙালী। অধিকার হারা মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষে সংগঠিত করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এর পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। স্বাধীনতা ঘোষণা

করেন বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র সংগ্রাম। বাংলা মায়ের বীর সন্তানরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। শক্তিশালী প্রশিক্ষিত পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তুলে শক্ত প্রতিরোধ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করেছিল বর্বর পাকিস্তান বাহিনী। মায়েদের ওপর, মেয়েদের ওপর চালিয়েছিল নির্মম নির্যাতন। গ্রামের পর গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। সারাবাংলা শ্মশানে পরিণত করেছিল হায়েনার দল। বাঙালীকে তবু দাবিয়ে রাখা যায়নি। বিজয়ী হয়ে তবেই স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আনন্দ বেদনার সেই মহা ইতিহাস নানা ভাব ও ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে। একাত্তরের আবেগ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে লাল সবুজের পতাকায়। জাতীয় পতাকার রঙে ক্রমে সেজে উঠছে রাজধানী শহর। এখানে ওখানে

জাতীয় পতাকা উড়ছে। পতাকার এক একটি ঢেউ যেন নতুন করে জেগে ওঠার আহ্বান। বাচ্চারা বুড়োরা পতাকার জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। মৌসুমি বিক্রেতারা কাঁধে বহন করছেন বিভিন্ন আকারের পতাকা। উড়াতে উড়াতেই যাচ্ছেন তারা। দেখে মন আপনি গেয়ে ওঠেÑ বিজয় নিশান উড়ছে ঐ/খুশির হাওয়ায় ঐ উড়ছে/ বাংলার ঘরে ঘরে/ মুক্তির আলো ঐ ঝরছে...। শনিবার মানিক মিয়া এভিনিউতে কথা হচ্ছিল তেমন এক বিক্রেতার সঙ্গে। কাঁধে পতাকা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বলছিলেন, ‘আমি একেক সময় একেক জিনিস বেচি। কেউ কিনে। কেউ কিনে না। কিন্তু পতাকা সবাই নিতে চায়। এই জিনিসটা ভালই লাগে। বড়রা তো কিনেই। ধরেন, পোলাপান যখন কিনতে চায়, বাপ মা কিন্যা দেয়, বেশি

ভাল লাগে।’ অন্য সময় হকারদের বাধা দিলেও, পতাকা নিয়ে কোথাও দাঁড়ালে বা বসলে পুলিশও বাধা দেয় না বলে জানান তিনি। অর্থাৎ সার্বজনীন এ আবেগ। যুদ্ধ জয়ের আনন্দ আবেগ সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হবে ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস সামনে রেখে সে প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরেই। প্রধান প্রধান উৎসব অনুষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন করা হবে। ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে থাকছে বিশেষ কুচকাওয়াজ। সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণিল কুচকাওয়াজে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। চলন্ত যান্ত্রিক সামরিক কন্টিনজেন্টের সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন তিনি। কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও

ভিডিপি এবং কারারক্ষীদের আলাদা আলাদা দল। থাকবে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাই-পাস্ট ও আকর্ষণীয় এ্যারোবেটিক এয়ার শো। সমান আকর্ষণীয় হবে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় হেলিকপ্টার থেকে রজ্জু বেয়ে অবতরণ ও প্যারাস্যুট জাম্প। বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নিতে ঢাকা আসবে ভারত, ভুটান, রাশিয়া ও মেক্সিকোর প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বোচ্চ সহায়তাকারী দেশ হিসেবে ভারত, রাশিয়া এবং বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ হিসেবে ভুটান এবং মেক্সিকোকে এ ঐতিহাসিক কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ। বাংলাদেশের নৌ-প্রধানের ভারত সফরের সময়েই স্থির হয়েছিল, ঢাকায় এবারের বিজয় দিবসের উদ্যাপনে যোগ দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল ও সামরিক ব্যান্ড বাংলাদেশে আসবে। বিজয় দিবসের কর্মসূচীতে

ভারত ও রাশিয়ার ওয়ার ভেটেরানদের (যুদ্ধজয়ী প্রবীণ যোদ্ধা) সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে, ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই যোগ দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের কোন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান অংশ নেননি। এটি এবারই প্রথমবারের মতো ঘটছে। আমন্ত্রিত হয়ে আসছেন ভুটানের সাবেক (চতুর্থ) রাজা জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুকও। এদিকে, এরই মধ্যে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন অঞ্চলের বীর

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শন শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২৬ নবেম্বর দিনাজপুরে উপ-আঞ্চলিক মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচীর সূচনা করা হয়। ‘পথে পথে বিজয়’ শিরোনামে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত্রুমুক্ত হবার দিনে আঞ্চলিক মহাসমাবেশ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ২১টি মহাসমাবেশ আয়োজনের কথা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরাসরি কাজ করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলছেন, এবারের বিজয় দিবসের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীর শুভক্ষণে বিজয় দিবস উদ্যাপন করব আমরা। তাই যতটা সম্ভব বড় ও বর্ণাঢ্য উদ্যাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মতে, উদ্যাপনের পাশাপাশি একাত্তরের বীরগাথা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরী। একই সময় এ

লক্ষ্যটি সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই প্রসঙ্গে কথা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, উৎসব অনুষ্ঠানগুলোর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। এ তো ভাল কথা। তবে সরকারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে বেরসকারীভাবেও যাতে ভাল কিছু করা যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। কারণ সরকারী উদ্যাপনের ফরমেট আর সাধারণ মানুষের উদ্যাপন একটু আলাদা হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে বিজয় দিবস উদ্যাপন করা গেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে নতুন এক জাগরণ ঘটবে বলেও মত দেন তিনি।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘তুফান ঘটক’ আশরাফ সুপ্ত রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করল ইরান চার অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির বিল রাশিয়ার পার্লামেন্টে অনুমোদন রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করল ইরান মোগল আমলে নির্মিত সাত গম্বুজ মসজিদ পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব সবার র‍্যাব সংস্কারের প্রশ্ন: কিছু কথা পরিশ্রমের সময় বুকে ব্যথা, কী করবেন? সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সেতুর রেলিংয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কা,নিহত ৩ সতর্কবার্তা ৬ বছর আগেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হবেন ‘রানঅফ’ ভোটে, এটি কেমন পদ্ধতি? রুশ সেনাদের স্থাপনার তালিকা যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে চায় ইউক্রেন পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রধানকে ছেড়ে দিয়েছে রাশিয়া নপির শাসনামলের ১০০ দিনের আমলনামা তুলে ধরলেন জয় একটাই দাবি এই সরকারকে বিদায় করতে হবে: অলি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন: ওবায়দুল কাদের সুইপারকে হোটেলে নাস্তা খেতে না দেওয়ায় মানববন্ধন ’৭১-এর গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে কানাডায় সমাবেশ আবুধাবিতে নানা আয়োজনে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ: দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি