আস্থা ফিরে আসুক - ডোনেট বাংলাদেশ

বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি এ নির্দেশ দেন। ওই বিচারককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক কামরুন্নাহার বলেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টা পার হলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়। এই রায় ঘোষণার পরই বিভিন্ন মহল থেকে গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই নির্দেশনা সংবিধান ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে কেউ কেউ এমন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ধর্ষণের ঘটনা না কমে যখন বাড়ছে, তখন বিচারকের এ ধরনের নির্দেশনা একদিকে ধর্ষক বা অপরাধীদের এমন অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত করতে পারে, অন্যদিকে ধর্ষণের বিচারকে সংকুচিত করবে।

এমনিতেই দেশে সামাজিক অস্থিরতা ও লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের শিকার নারীরা বিচারের মুখোমুখি হতে চান না। আবার শারীরিক-মানসিক ট্রমা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ভুক্তভোগী অনেক সময় মামলা করতে বিলম্ব করে থাকতে পারেন। তাই ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেওয়া বিচারিক আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত কি না, সে প্রশ্ন সংগত কারণেই উঠেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, বিচারক কামরুন্নাহার যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেওয়া হবে। আগের বিকেলে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর রোববার সকালেই ব্যবস্থা নিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই ব্যবস্থা নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে। তবে কিছু প্রশ্নও উঠবে।

প্রথম প্রশ্ন, আইনমন্ত্রীকে কেন আগে এ বিষয়ে কথা বলতে হলো? তিনি বলার আগে উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এমন একটি আলোচিত ঘটনায় সিদ্ধান্ত নিলে কি ভালো হতো না? আইনমন্ত্রী চিঠি দেওয়ার কথা বলায় এখন কেউ কেউ বিষয়টিকে বিচার বিভাগের ওপর ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখতে পারেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আইনমন্ত্রী চিঠি দেননি।

এর পরের প্রশ্ন হলো, যে বিচারক ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিক’ মন্তব্য করে সমালোচিত হলেন, তাঁর শাস্তি কি কেবল বিচারকের আসনে বসতে না পারার মধ্যেই শেষ হবে? ভবিষ্যতে কোনো বিচারক যাতে এমন আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে মন্তব্য না করেন, তার নিশ্চয়তা বিধানের কোনো ব্যবস্থা কি করা হবে? যাঁদের গাফিলতির কারণে এমন একটি আলোচিত মামলার ৫ আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া হবে? আদালতকে বলা হয় অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয় বা ভরসার জায়গা। কিন্তু নানা কারণে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা আর অটল নেই। আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজটিই এখন করতে হবে।

বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি এ নির্দেশ দেন। ওই বিচারককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক কামরুন্নাহার বলেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টা পার হলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়। এই রায় ঘোষণার পরই বিভিন্ন মহল থেকে গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই নির্দেশনা সংবিধান ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে কেউ কেউ এমন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ধর্ষণের ঘটনা না কমে যখন বাড়ছে, তখন বিচারকের এ ধরনের নির্দেশনা একদিকে ধর্ষক বা অপরাধীদের এমন অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত করতে পারে, অন্যদিকে ধর্ষণের বিচারকে সংকুচিত করবে।

এমনিতেই দেশে সামাজিক অস্থিরতা ও লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের শিকার নারীরা বিচারের মুখোমুখি হতে চান না। আবার শারীরিক-মানসিক ট্রমা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ভুক্তভোগী অনেক সময় মামলা করতে বিলম্ব করে থাকতে পারেন। তাই ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেওয়া বিচারিক আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত কি না, সে প্রশ্ন সংগত কারণেই উঠেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, বিচারক কামরুন্নাহার যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেওয়া হবে। আগের বিকেলে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর রোববার সকালেই ব্যবস্থা নিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই ব্যবস্থা নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে। তবে কিছু প্রশ্নও উঠবে।

প্রথম প্রশ্ন, আইনমন্ত্রীকে কেন আগে এ বিষয়ে কথা বলতে হলো? তিনি বলার আগে উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এমন একটি আলোচিত ঘটনায় সিদ্ধান্ত নিলে কি ভালো হতো না? আইনমন্ত্রী চিঠি দেওয়ার কথা বলায় এখন কেউ কেউ বিষয়টিকে বিচার বিভাগের ওপর ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখতে পারেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আইনমন্ত্রী চিঠি দেননি।

এর পরের প্রশ্ন হলো, যে বিচারক ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিক’ মন্তব্য করে সমালোচিত হলেন, তাঁর শাস্তি কি কেবল বিচারকের আসনে বসতে না পারার মধ্যেই শেষ হবে? ভবিষ্যতে কোনো বিচারক যাতে এমন আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে মন্তব্য না করেন, তার নিশ্চয়তা বিধানের কোনো ব্যবস্থা কি করা হবে? যাঁদের গাফিলতির কারণে এমন একটি আলোচিত মামলার ৫ আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া হবে? আদালতকে বলা হয় অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয় বা ভরসার জায়গা। কিন্তু নানা কারণে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা আর অটল নেই। আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজটিই এখন করতে হবে।

আস্থা ফিরে আসুক

সম্পাদকীয়
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:২৬ 66 ভিউ
বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি এ নির্দেশ দেন। ওই বিচারককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক কামরুন্নাহার বলেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টা পার হলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়। এই রায় ঘোষণার পরই বিভিন্ন মহল থেকে গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই নির্দেশনা সংবিধান ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে কেউ কেউ এমন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ধর্ষণের ঘটনা না কমে যখন বাড়ছে, তখন বিচারকের এ ধরনের নির্দেশনা একদিকে ধর্ষক বা অপরাধীদের এমন অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত করতে পারে, অন্যদিকে ধর্ষণের বিচারকে সংকুচিত করবে। এমনিতেই দেশে সামাজিক অস্থিরতা ও লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের শিকার নারীরা বিচারের মুখোমুখি হতে চান না। আবার শারীরিক-মানসিক ট্রমা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ভুক্তভোগী অনেক সময় মামলা করতে বিলম্ব করে থাকতে পারেন। তাই ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেওয়া বিচারিক আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত কি না, সে প্রশ্ন সংগত কারণেই উঠেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, বিচারক কামরুন্নাহার যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেওয়া হবে। আগের বিকেলে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর রোববার সকালেই ব্যবস্থা নিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই ব্যবস্থা নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে। তবে কিছু প্রশ্নও উঠবে। প্রথম প্রশ্ন, আইনমন্ত্রীকে কেন আগে এ বিষয়ে কথা বলতে হলো? তিনি বলার আগে উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এমন একটি আলোচিত ঘটনায় সিদ্ধান্ত নিলে কি ভালো হতো না? আইনমন্ত্রী চিঠি দেওয়ার কথা বলায় এখন কেউ কেউ বিষয়টিকে বিচার বিভাগের ওপর ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখতে পারেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আইনমন্ত্রী চিঠি দেননি। এর পরের প্রশ্ন হলো, যে বিচারক ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিক’ মন্তব্য করে সমালোচিত হলেন, তাঁর শাস্তি কি কেবল বিচারকের আসনে বসতে না পারার মধ্যেই শেষ হবে? ভবিষ্যতে কোনো বিচারক যাতে এমন আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে মন্তব্য না করেন, তার নিশ্চয়তা বিধানের কোনো ব্যবস্থা কি করা হবে? যাঁদের গাফিলতির কারণে এমন একটি আলোচিত মামলার ৫ আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া হবে? আদালতকে বলা হয় অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয় বা ভরসার জায়গা। কিন্তু নানা কারণে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা আর অটল নেই। আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজটিই এখন করতে হবে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: