উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম – ডোনেট বাংলাদেশ

উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৭:২২ 155 ভিউ
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনসহ দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে অধিকতর দক্ষ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রাপ্য এই পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরও পদোন্নতি না দিয়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এ ধরনের বিস্তর অভিযোগ এনে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ে একাধিক দরখাস্ত জমা দেওয়া হয়। যদিও কাছে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারবিরোধী একটি চক্র এ ধরনের অপপ্রচারে যুক্ত রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে গত ২৫ নভেম্বর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা) পদে ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে (তৃতীয় শ্রেণির পদ) চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়। কিন্তু এটি করতে গিয়ে শত শত সিনিয়র কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে ১১২৩ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতা তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এদিকে এ বিষয়ে গত ২৮ অক্টোবর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি পত্র দেওয়া হয়। এতে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদের আলোকে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের চেকলিস্ট অনুযায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব ১০ নভেম্বরের মধ্যে

মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়। এর জবাবে ১১ নভেম্বর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যুব দিবস ও যুব মেলার ব্যস্ততার কারণে বৃহৎ কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠানোর আগেই জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতির পদে চলতি দায়িত্বে পদায়ন করায় উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য হলো তাদের প্রতি সম্পূর্ণ অন্যায় করে এহেন পদায়ন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যেখানে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য তাদের জ্যেষ্ঠতা তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম চলমান ছিল, সেখানে এ ধরনের বিতর্কিত পদায়ন দুরভিসন্ধিমূলক। তারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ ন্যায়বিচার চান। বিপরীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের

বক্তব্য ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে সরকারের গ্রেড-১ পদমর্যাদার কর্মকর্তা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম খান সোমবার বলেন, ‘প্রথমত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অনেকগুলো পদ শূন্য ছিল। যে কারণে কোথাও একজন কর্মকর্তাকে একাধিক স্টেশনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল। এতে করে কাজের স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু এই পদোন্নতি যেহেতু একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয় ছিল, সে কারণে প্রশাসনিক তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্বে নিয়োগ এক কথা নয়। সরকার প্রয়োজন মনে করলে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চলতি দায়িত্বে এ ধরনের পদায়ন করতে পারে। উপরন্তু এই পদায়নের ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক সরকারের নীতি অনুসরণ করেছে। তৃতীয়ত, আরও যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো-ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায়ের সক্ষমতা ও দক্ষতায় কারা এগিয়ে এবং কারা ঋণখেলাপি। এছাড়া শারীরিক ফিটনেস ও সর্বোপরি বিভাগীয় মামলা পর্যালোচনার বিষয় তো আছেই।’ তিনি মনে করেন, ‘মহল বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।’ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘এই অধিদপ্তর সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এখানে বাস্তব কাজের চেয়ে রাজনীতিই হয়েছে বেশি। যে কারণে দেশের যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়নে যে বিরাট ভূমিকা রাখার কথা ছিল, সেটি থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ অধিদপ্তরটি। মূলত এখানে শতভাগ পেশাদারিত্ব

বজায় রেখে দক্ষ ও যোগ্য লোকদের বাছাই করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর অ্যাকশান প্ল্যান নেওয়া জরুরি। তা না হলে এটি এক সময় সাইনবোর্ডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’ অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারে আওয়ামী লীগ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রহস্যজনক কারণে এক যুগের বেশি সময় ধরে বসে আছেন বিএনপিপন্থি একজন কর্মকর্তা। যিনি শুরু থেকে প্রকারান্তরে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে আসছেন। এসব দরখাস্ত দেওয়ার পেছনে তার হাত রয়েছে। এটিও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রসঙ্গত, এই দপ্তর সৃষ্টির পর থেকে দুটি রাজনৈতিক দলের নিয়োগকৃত প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শুধু আধিপত্যের লড়াই হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গ্রামে গ্রামে যুব সমাজের মধ্যে ঋণ বিতরণ

ও আদায় কাজের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখানে গ্রুপ এনিমেটর পদে তিন শতাধিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়া হয় ৭ শতাধিক জনবল। পদের নাম ছিল ক্রেডিট সুপারভাইজার। পুনরায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে একই প্রকল্পে একই পদে জনবলের পরিসর বাড়ানো হয়। এই বিপুলসংখ্যক জনবলকে পরে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হলেও বাস্তবে দেখা গেছে সেখানে বিএনপিপন্থিদের আধিপত্য বেশি। মূলত এ কারণে সরকার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নীতি অনুসরণ করেছে। কেননা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের সময় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা নির্বাচন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন

করবেন। নির্বাচনের সময় দেশের অনেকগুলো ভোটকেন্দ্র তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সূত্রমতে, চলতি দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘তুফান ঘটক’ আশরাফ সুপ্ত রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করল ইরান চার অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির বিল রাশিয়ার পার্লামেন্টে অনুমোদন রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করল ইরান মোগল আমলে নির্মিত সাত গম্বুজ মসজিদ পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব সবার র‍্যাব সংস্কারের প্রশ্ন: কিছু কথা পরিশ্রমের সময় বুকে ব্যথা, কী করবেন? সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সেতুর রেলিংয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কা,নিহত ৩ সতর্কবার্তা ৬ বছর আগেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হবেন ‘রানঅফ’ ভোটে, এটি কেমন পদ্ধতি? রুশ সেনাদের স্থাপনার তালিকা যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে চায় ইউক্রেন পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রধানকে ছেড়ে দিয়েছে রাশিয়া নপির শাসনামলের ১০০ দিনের আমলনামা তুলে ধরলেন জয় একটাই দাবি এই সরকারকে বিদায় করতে হবে: অলি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন: ওবায়দুল কাদের সুইপারকে হোটেলে নাস্তা খেতে না দেওয়ায় মানববন্ধন ’৭১-এর গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে কানাডায় সমাবেশ আবুধাবিতে নানা আয়োজনে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ: দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি