কন্যাশিশুকে যে ৬ গুণে গড়ে তোলা জরুরি


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   ধর্ম ও জীবন
প্রকাশিত :১১ অক্টোবর ২০২১, ৬:৪০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 127 বার
কন্যাশিশুকে যে ৬ গুণে গড়ে তোলা জরুরি

নারীর জন্য ৬টি গুণ খুবই জরুরি। শিশু বয়স থেকে ধীরে ধীরে এ গুণগুলোর প্রতি আকৃষ্ট করানো বা সুশিক্ষা দেওয়া পরিবারের সদস্যদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ কন্যাশিশুকে ছোট বয়স থেকে বিশ্বনবির উপদেশ মোতাবেক ৬ গুণে গড়ে তুলতে পারলেই তারা আদর্শ নারীতে পরিণত হবে। নারীর আত্ম-মর্যাদাবোধ ও শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন রাখতে ৬টি গুণের ভূমিকা খুব বেশি। যে গুণগুলো অর্জনে উপকৃত হবে পুরো পরিবার। পরিবার থেকে সমাজ। সমাজ থেকে পুরো দেশ ও বিশ্ব। কন্যাশিশু ও নারীদের জন্য অবস্থানগত কারণের এ উপদেশগুলো অর্জন করাও খুব সহজ। সেই গুণগুলো কী? কন্যাশিশুর জন্ম অপমানের নয় বরং সম্মান ও মর্যাদার। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি। তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে নারীর প্রতি সুবিচার করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নারীদের কল্যাণের ব্যাপারে অসিয়ত (নির্দেশ) গ্রহণ করো।’ নারী জাতির জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে বিশেষ নসিহত হলো- ১. তাকওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা তাকওয়া মানে আল্লাহর ভয়। কন্যাশিশু বুঝার বয়সে উপনীত হলে তাকে তাকওয়া বা আল্লাহকে ভয় করার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কন্যাশিশুর অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহর গুণ অর্জিত হলে উপকৃত হবে পুরো পরিবার। তাকওয়ার গুণে কন্যাশিশু থাকবে নিরাপদ। আল্লাহকে ভয় করলেই নারীরা জীবনের যাবতীয় স্খলন ও প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। তাকওয়ার গুণই নারীরা শৃঙ্খলাপূর্ণ আদর্শ জীবনে অনুপ্রাণিত হয়। আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় পাপ-অনাচার, অন্যায়-অবিচার ও মন্দ-নিন্দনীয় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে- হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে আয়েশা! তোমার জন্য আবশ্যক হলো- আল্লাহর ভয় অর্জন করা।’ (তিরমিজি) তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ের ভিত্তিতেই ইসলামে মানুষের গুণ ও মর্যাদা নির্ধারিত হয়। এ সম্পর্কে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন- یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ ذَکَرٍ وَّ اُنۡثٰی وَ جَعَلۡنٰکُمۡ شُعُوۡبًا وَّ قَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوۡا ؕ اِنَّ اَکۡرَمَکُمۡ عِنۡدَ اللّٰهِ اَتۡقٰکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیۡمٌ خَبِیۡرٌ ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি । পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে; যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন; যে আল্লাহকে বেশি ভয় করে। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন। ' (সুরা হুজরাত : আয়াত ১৩) وَ مَا تَفۡعَلُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ یَّعۡلَمۡهُ اللّٰهُ ؕؔ وَ تَزَوَّدُوۡا فَاِنَّ خَیۡرَ الزَّادِ التَّقۡوٰی ۫ وَ اتَّقُوۡنِ یٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ ‘তোমরা যে সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। তোমরা পাথেয় অর্জন করো। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়। তোমরা আমাকে ভয় করো হে জ্ঞানী ব্যক্তিগণ!’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত : ১৯৭) ২. গুনাহ থেকে বিরত রাখা জন্মের পর থকে সব শিশুর পরিচর্যাই করে পরিবার। সময়ের পরিক্রমায় বাবা, ভাই, স্বামী ও পুত্রই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। সব নারীর জন্যই তাদের বাবা, ভাই, স্বামী ও পুত্রের কাছ জিম্মায় থাকা বৈধ। যদি না কোনো কারণে তা নিজ থেকে হারাম করে না নেয়। নারীরা শিশু বয়স থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সময়ের পরিক্রমায় সব সময় হালাল রিজিক খায়। আর তাতে নারীরা নিজে যেমন গুনাহমুক্ত থাকে তেমনি নারীদের মাধ্যমে যারা লালিত-পালিত হয় তারাও গুনাহমুক্ত জীবন পায়। এ কারণেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মুক্তি ও সফলতা সহজ। তাই কন্যাশিশুকে ছোট বয়স থেকেই ছোট ছোট মন্দ স্বভাব ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি গুনাহের কাজের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা জরুরি। নারীদের পরচর্চা, পরশ্রীকাতরতা ও হিংসার প্রবণতা, সময় ও অর্থ অপচয়, টিভি ও সিরিয়ালের মতো অর্থহীন কাজে নারীরা সবচেয়ে বেশি আসক্ত। ছোট বয়স থেকে এই বদগুণ থেকে বিরত রাখতে পারলে পরিণত বয়সে নারীর জন্য গুনাহমুক্ত জীবন কাটানো সহজ। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা ও উপদেশ হলো- যেসব ছোট ছোট মন্দ অভ্যাস ও পাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যেগুলোর পরিণতি খুবই ভয়াবহ। কন্যাশিশুকে ওই বয়স থেকে ছোট ছোট গোনাহগুলো পরিহার অভ্যস্ত করানো জরুরি।’ এসেছে- > হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে আয়েশা, আমল বিনষ্টকারী বিষয় (ছোট গুনাহ) থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আল্লাহ তাআলা তা প্রত্যাশা করেন।’ (ইবনে মাজাহ) > হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আজ তোমরা কোনো কোনো কাজকে চুলের চেয়ে ছোট (তুচ্ছ অর্থে) মনে করো, অথচ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে তাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ মনে করতাম।’ (বুখারি) ৩. নামাজে অভ্যস্ত করা ঘরকে মসজিদে রূপান্তর করার অন্যতম হাতিয়ার নারী। কন্যাশিশুকে তার মা নামাজে অভ্যস্ত করালে বড় হয়ে সে নিজ ঘরকে নামাজের পরিবেশে পরিণত করতে সক্ষম হবে। ঘরকে মসজিদে রূপান্তর করতে পারবে। শুধু প্রয়োজন নারীর ইচ্ছা শক্তি। এ কারণেই ইসলাম নারীকে ঘরে যথা সময়ে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করেছে। হাদিসে এসেছে- ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে, স্বামীর নির্দেশ মান্য করে, তবে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।’ (ইবনে হিব্বান) ৪. সংযত চলাফেরায় অভ্যাস করানো কন্যাশিশুকে ছোটবেলা থেকেই শালীন ও মার্জিত চলাফেরায় অভ্যস্ত করানো খুবই জরুরি। তবেই বড় হলে সে শালিন ও মার্জিতভাবে জীবন পরিচালনা করবে। চলাফেরায় সংযত হবে। এ কারণেই নারীর নিজস্ব ভূবন ছাড়া ঘরের বাইরে নারীসুলভ সৌন্দর্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। ইসলামের নির্দেশনাও এমন। তাই শিশু বয়স থেকে অশ্লীল পোশাক ও চাল-চলন পরিহার করা নারীর জন্য আবশ্যক। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর সব ধর্মই নারীকে শালীন ও সংযত পোশাক পরার নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এ মর্মে আয়াত নাজিল হয়েছে- وَ قَرۡنَ فِیۡ بُیُوۡتِکُنَّ وَ لَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ الۡجَاهِلِیَّۃِ الۡاُوۡلٰی وَ اَقِمۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتِیۡنَ الزَّکٰوۃَ وَ اَطِعۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ ؕ اِنَّمَا یُرِیۡدُ اللّٰهُ لِیُذۡهِبَ عَنۡکُمُ الرِّجۡسَ اَهۡلَ الۡبَیۡتِ وَ یُطَهِّرَکُمۡ تَطۡهِیۡرًا আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের প্রদর্শনীর মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্ৰদান কর এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুগত থাক। হে নবি-পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৩৩) وَ قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِهِنَّ وَ یَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَهُنَّ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ لۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِهِنَّ ۪ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا لِبُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اٰبَآئِهِنَّ اَوۡ اٰبَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآئِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اَخَوٰتِهِنَّ اَوۡ نِسَآئِهِنَّ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُهُنَّ اَوِ التّٰبِعِیۡنَ غَیۡرِ اُولِی الۡاِرۡبَۃِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفۡلِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یَظۡهَرُوۡا عَلٰی عَوۡرٰتِ النِّسَآءِ ۪ وَ لَا یَضۡرِبۡنَ بِاَرۡجُلِهِنَّ لِیُعۡلَمَ مَا یُخۡفِیۡنَ مِنۡ زِیۡنَتِهِنَّ ؕ وَ تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ جَمِیۡعًا اَیُّهَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ‘বিশ্বাসী নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। তারা যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতিত তাদের সৌন্দর্য যেন প্রদর্শন না করে; তারা তাদের বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে,বোনের ছেলে ও তাদের নারীগণ, নিজ অধিকারভুক্ত দাস, যৌনকামনা রহিত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতিত কারও কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমন জোরে চলাফেরা না করে, যাতে তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার ‘ (সুরা নুর : আয়াত ৩১) ৫. অল্পে সন্তুষ্টি ছোটবেলা থেকে অল্পে সন্তুষ্টির গুণ অর্জন করা সবার জন্য জরুরি। আর নারীর অল্পে সন্তুষ্টির অন্যতম একটি দিক হলো, সামর্থ্য ও চেষ্টার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। কোনো কন্যাশিশুর ছোটবেলায় এ গুণ অর্জিত হলে বড় হয়ে মুমিন নারী স্বামীর আন্তরিকতা ও চেষ্টাকে সম্মান করবে। তার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করবে। হাদিসে এসেছে- 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ওই নারীর প্রতি আল্লাহ তাআলা রহমতের দৃষ্টিতে তাকান না, যে নারী স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। অথচ সে তার প্রতি মুখাপেক্ষী।’ (নাসাঈ) বর্তমান সময়ে এমন অনেক ঘটনাও সংঘটিত হয়ে যে, কোনো কোনো নারী সমাজের অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে স্বামীর ব্যাপারে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে। অনেক সময় তাদের অন্যায় চাহিদা পূরণের জন্য স্বামীকে সুদ-ঘুষসহ অন্যায় পথে, পাপ কাজে জড়াতে বাধ্য করা হয়। মনে রাখা জরুরি সুখী জীবনের মূলমন্ত্র অল্পে সন্তুষ্ট থাকা। ইসলাম প্রত্যেককেই অল্পে সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাও এমনই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগতিক বিষয়ে নিম্নস্তরের দিকে, পরকালীন বিষয়ে উচ্চস্তরের দিকে তাকিয়ে অনুপ্রাণিত হতে বলেছেন। তাই এসব ক্ষেত্রে নারীকে সহনশীল, অল্পে সন্তুষ্টি ও ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ দেয় ইসলাম। এ কারণে ইসলামের সোনালী যুগের নারীরা তাদের স্বামীদের বলতেন- ‘তোমরা হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আমরা ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারব; কিন্তু জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারব না।’ (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন) ৬. সুখ-দুঃখের অংশীদারের শিক্ষা সুখ যেমন নারীর জন্য খুব জরুরি তেমনি দুঃখ ছাড়া সুখ প্রকাশ পায় না। ছোটবেলা থেকেই সব শিশুকেই সুখ ও দুঃখের বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক। তবেই পরিণত বয়সে নিজের কিংবা অন্যের সুখ-দুঃখের মূল্যয়ন করতে পারবে। তবে নারীদের জন্য সুখ-দুঃখের শিক্ষা গ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরি। যেন তারা পুরো পরিবারের পরস্পরের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়। স্বামীর সংকটে স্ত্রী, স্ত্রীর সংকটে স্বামী পাশে থাকবে, এটাই ইসলামের নির্দেশনা। এর অনন্য দৃষ্টান্ত প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আম্মাজান খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহা। আম্মাজান হজরত খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বামীর সুখে-দুঃখে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই তাঁর মৃত্যুর পরও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কৃতজ্ঞতাচিত্তে তাঁর কথা বেশি বেশি স্মরণ করতেন। এমনকি তাঁর জীবদ্দশায় কাউকে বিয়েও করেননি। তাঁর মৃত্যুর পরও তিনি তাঁর সন্তানদের প্রতি পরিপূর্ণ মমতা ও ভালোবাসা বজায় রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আম্মাজন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আহা মৃত্যুর পর তাঁর কথা এত বেশি স্মরণ করতেন যে, অন্য স্ত্রীরা ঈর্ষাকাতর হয়ে যেতেন। একবার হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঈর্ষা প্রকাশ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, ‘মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছিল তখন সে আমার প্রতি ঈমান এনেছে, মানুষ যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে তখন সে আমাকে সত্যাবাদী বলেছে, মানুষ যখন আমাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছে তখন সে আমাকে তার সম্পদ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাকে সন্তান দান করেছেন।’ (ফাতহুল বারি) সুতরাং প্রতিটি পরিবারের দায়িত্বশীলদের উচিত, নিজেদের পরিবারের সব শিশুকেই উল্লেখিত ৬টি গুণে অভ্যস্ত করানো। বিশেষ করে এ ৬ গুণ অর্জনে কন্যাশিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। কারণ নারীরাই একটি আদর্শ জাতি গড়ার কারিগর। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব বয়সের নারী-পুরুষকে কোরআন-সুন্নাহর উপদেশ ও গুণগুলো নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।







Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ok