করোনায় খাদ্য সংকটে কুকুর


অথর
মানুষ ও মানবতা সংবাদদাতা   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৬ এপ্রিল ২০২০, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 289 বার
0
করোনায় খাদ্য সংকটে কুকুর

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশ যখন লকডাউন তখন খাদ্য সংকটে পড়া অফিসপাড়ার বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে নিজ উদ্যোগে খাবার দিচ্ছেন কেউ কেউ। ছবিটি গতকাল মতিঝিল থেকে তোলা হ এম খোকন সিকদার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশ। টানা ১৭ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণায় রাজধানীসহ সারা দেশে বাস স্টপিজ, মার্কেটের আশপাশের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শুধু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নয়, করোনার ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে খাবার সংকট পড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনেরও এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। সাধারণ মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে যে প্রাণীগুলো এতদিন ক্ষুধা মেটাতো, এখন সেটিও বন্ধ। এ পশুগুলোর দিকে নজর নেই কারো, এতে করে

অভুক্তই থাকছে কুকুরগুলো। সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর রাস্তা-ঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ায় বেওয়ারিশ কুকুরগুলো আশপাশে ছুটাছুটি করেও পাচ্ছে না খাবার। অভুক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে কিংবা কোনো বন্ধ দোকানের সামনে কিছু খাবারের আশায় ঘুমিয়ে আছে। এছাড়াও রাজধানীর প্রায় অর্ধেক মানুষ গ্রামে চলে যাওয়ায় বিভিন্ন রাস্তা ও মহল্লার ডাস্টবিনগুলোতে তেমন উচ্ছিষ্ট খাবার পড়ে থাকছে না। এতে করে খাবারের মহাসংকটে পড়েছে এসব বেওয়ারিশ কুকুরগুলো। তবে পশুপ্রেমীরা বলেছেন, সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। সংকটময় এই মুহূর্তে অভুক্ত প্রাণীগুলোকে নিজের খাবারের কিছু উচ্ছিষ্ট দেয়া দরকার। তারা আরও বলেছেন, অন্তত সারাদিনে এক-দুবার কিছু খাবার পেলেও বেঁচে যাবে কুকুরগুলো। এই সংকটময় মুহূর্তে বেওয়ারিশ কুকুরদের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সমাজ

কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার আমার সংবাদকে বলেন, বর্তমানে কুকুরদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশন কিছু করছে না। তিনি বলেন, সমাজের পশুপ্রেমী ভলান্টিয়ার যারা আছেন এ মুহূর্তে তাদের এগিয়ে আসা দরকার। এখন বাসাবাড়ি থেকে কেউ বেরুতে পারছে না। আবার ঢাকা সিটি থেকে প্রায় দেড় কোটি লোক গ্রামে চলে গেছে। ফলে উচ্ছিষ্ট খাবারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, পশুগুলো খাবার সংকটে আছে। তাজিনা সরোয়ার আরও বলেন, আমরা সবাই যে যার দিক থেকে স্লেফ প্রোটেকশন নিয়ে কুকুরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি। আজিমপুরের পশুপ্রেমী সিফাত রানা বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সমস্ত পৃথিবী স্থবির হয়ে পড়েছে। আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মানুষের ও পশু-পাখির ভারসাম্য জরুরি। তিনি বলেন, সবকিছু বন্ধ

থাকায় এখন কুকুরদের খাদ্যের জোগানও বন্ধ হয়ে গেছে। ওরা তো নিজেরা একা খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারে না। তাই ওদের খাবারের ব্যবস্থা করা দরকার। মানবিক হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব। সিফাত এ সময় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে বেশকিছু আশার খবর দেখা গেছে কয়েকদিনে। করোনার এ সংকটময় দিনগুলোতে খাদ্য সংকটে থাকা রাস্তার অভুক্ত কুকুরদের খাওয়াচ্ছেন তারকা অভিনেত্রী জয়া আহসান। করোনা সংকটের মধ্যে গত বেশ কয়েকদিন ধরে প্রায় ৩০টি কুকুরকে নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন রাজধানীর ইস্কাটন এলাকার এ বাসিন্দা। অভিনয়ের বাইরে পশুপ্রেমী হিসেবেও পরিচিত এ অভিনেত্রী নিজেও একটি কুকুর পোষেণ। এ সংকটকালে নিজের কুকুরকে দেখভালের পাশাপাশি ঢাকার জনশূন্য রাস্তায় অভুক্ত অবস্থায়

থাকা কুকুরের জন্য মুরগির মাংসের সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানির বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন জয়ার ভাই অদিত মাসউদ। খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা বেওয়ারিশ কুকুরসহ অন্য প্রাণীদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন অদিত। এছাড়াও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কর্মসূচিতে দিনভর ব্যস্ত থাকার পর রাতে ক্ষুধার্ত কুকুরদের খাবার দিয়েছেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পিরোজপুর ইউথ সোসাইটির তরুণদের নিয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে ক্ষুধার্ত কুকুরদের নিজ হাতেই খাবার দেন তিনি। জেলা প্রশাসক জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশের মতো পিরোজপুরও সাধারণ ছুটিতে। শহরের

হোটেল ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় কুকুরদের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাই স্থানীয় এ তরুণদের সাথে নিয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় থাকা ক্ষুধার্ত কুকুরদের খাবার দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কুকুরদের খাবার দেয়ার ছবি ইতোমধ্যে সোস্যাল মিডিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

No Comments

ADD: 1762020


আরও পড়ুন