কুরবানীর মহত্ত্ব ও কিছু করণীয়


অথর
পাঠকের কলাম   খোলা মতামত ডেক্স
প্রকাশিত :২৯ জুলাই ২০২০, ৩:৩০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 176 বার
0
কুরবানীর মহত্ত্ব ও কিছু করণীয়

কুরবানী একটি মহান ইবাদতের নাম। সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম আ. থেকে সকল নবীদের যুগে কুরবানীর প্রচলন ছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় স্বীয় শরীয়ত অনুসারে মহান আল্লাহর দরবারে নিজেদের প্রিয় বস্তু কুরবানী দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি যাতে আমি তাদেরকে জীবনোপকরন স্বরূপ যে সকল জন্তু দিয়েছি, সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম‌ স্মরণ করে।(সুরা হাজ্জ) হযরত আদম আ. এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের মাঝে আকলিমাকে বিয়ে সংক্রান্ত মতভেদের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহর নামে কুরবানী করার নির্দেশ দেন এবং বলেন যার কুরবানি কবুল হবে তার সঙ্গেই আকলিমাকে বিবাহ দেওয়া হবে। হাবিলের কুরবানী

সেখানে কবুল হয় এবং কাবিলের কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে-আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তাদের শোনান, যখন তারা উভয়েই কুরবানী করেছিল। তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো আর অন্যজনের কুরবানী কবুল হলো না।(সুরা মায়িদা) পরবর্তীতে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম আ. তার পুত্র সন্তান হযরত ইসমাইল আ. কে কুরবানী দেওয়ার ঘটনা স্মরণীয় রাখতে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য কুরবানী ওয়াজিব করা হয়েছে। নিজ পুত্র সন্তান জবেহের মতো কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন-অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন তার পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম আ. বলল: হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবেহ

করছি, এখন তোমার অভিমত কি বলো? সে বলল,হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয়েই আনুগত্য স্বীকার করলো এবং ইব্রাহীম তার সন্তানকে কাত করে শায়িত করল তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম,হে ইব্রাহীম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় এ ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে। আমি ইহা পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।(সুরা সাফ্ফাত) কাফির-মুশরিকরা তাদের দেব-দেবী ও মূর্তির উদ্দেশ্যে কুরবানী করে থাকে। তার প্রতিবাদে মুসলমানদের মহান আল্লাহর জন্য সালাত আদায় ও তাঁর উদ্দেশ্যে কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে

এসেছে- তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্য সালাত আদায় কর এবং কুরবানী দাও।(সুরা কাওছার), হাদিস শরিফে বর্ণিত যে, রাসুল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করে না সে যেন আমার ইদগাহে না আসে।(সুনানু ইবনে মাজাহ) রাসূলূল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘কুরবানীর দিন রক্ত প্রবাহিত করা (যবেহ করা) অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় মানুষের কোনো আমল হয় না।’ (সুনানু তিরমিযি) কুরবানীর আবশ্যকতা যেহেতু সকল সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর নিহীত। সেক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোন ভূলের কারণে যেন কুরবানীর হাকিকত বিনষ্ট না হয়। এজন্য কুরবানীর পশুর গঠন প্রকৃতি, বয়সসীমা,গোশত বন্টন নীতি, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কুরবানী,জবেহ পদ্ধতি, চামড়া ও মজুরি প্রদানসহ ইত্যাদি বিষয়ে জানা প্রয়োজন। কুরবানীর পশু ক্রয়ের

ক্ষেত্রে উট,গরু,ছাগল, দুম্বা,ভেড়া ও মহিষ এই ৬ প্রকারের পশু দ্বারা কুরবানীর বিধান রয়েছে। এবং তাদের বয়সসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উটের পূর্ণ ৫ বছর,গরু ও মহিষ পূর্ণ ২ বছর, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া পূর্ণ ১বছরের হতে হবে। অবশ্য ভেড়া ও মোটাতাজা হলে দেখতে একবছরের মনে হলে তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। তবে পশুর চোখ,কান ও লেজ এক-তৃতীয়াংশের বেশি কেটে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা দিয়ে কুরবানী হবে না। গোশত বন্টনের ক্ষেত্রে তিন ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ নিজে ও পরিবারের জন্য,অন্যদুই ভাগ আত্নীয় স্বজন ও গরীব-মিসকিনের মাঝে বন্টন মুস্তাহাব। অংশীদারি ভিত্তিতে সাতজনে মিলে কুরবানী করলে তা দ্বারা কুরবানীর হাকিকত আদায় হয়ে যাবে

তাতে সবার একনিষ্ঠ নিয়ত গ্রাহ্য বিষয়। জবেহ করার সময় পশুর মুখ কিবলামুখী করে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে ধারালো ছুরি দ্বারা কুরবানী সিদ্ধ। তার চামড়া গরীব-মিসকীনদের মাঝে দান করতে এবং চামড়ার মূল্য দিয়ে মসজিদের মেরামত, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন দেয়া জায়েয নেই। করোনা মহামারীর বিপর্যস্ত মুহুর্তে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পশুর রক্ত ও বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে বা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। পরিষ্কার করার পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। সর্বোপরি কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য হলো একনিষ্ঠ নিয়তে তাক্বওয়ার সাথে কুরবানী করা যাতে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়।মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কুরবানী কবুল করুন। আজিজুল ইসলাম রিয়াদ সাংবাদিক,

লেখক ও কলামিস্ট।

No Comments

ADD: 1762020