খাদ্যের চাপ সামলাতে কৃষিজমি রক্ষায় মহাপরিকল্পনা - ডোনেট বাংলাদেশ

প্রতি বছর কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরদিকে বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাপ সামলাতে এবার কৃষিজমি রক্ষায় মহাপরিকল্পনার পথে হাঁটছে কৃষি মন্ত্রণালয়। নানা ছকে সাজানো হয়েছে এ পরিকল্পনা।

এতে কৃষিজমিকে বিভিন্ন ভাগে চিহ্নিত করে কৃষককে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিকে বাণিজ্যকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পক্ষ থেকে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাবনা কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাবনাটি তুলে ধরার পর কৃষিজমি রক্ষায় কার্যক্রম শুরু হবে।

শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে সংকটে পড়তে পারে দেশ। এসব জমি রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে অনেক উর্বর জমিও হারাতে হতে পারে।

বিএআরসির শস্য বিভাগের সদস্য পরিচালক ড. মো. আজিজ জিলানী চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের এক ফসলি, দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমি চিহ্নিত করে তা রক্ষার জন্যে সমন্বিত প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা জানায়, প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পর যে নির্দেশনা আসে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাসিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভায় বিএআরসিকে প্রস্তাবনাটি পাঠাতে বলা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।
প্রস্তাবনায় কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ড. মো. আজিজ জিলানী চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, উচ্চ ফলনশীল জাত সম্প্রসারণ, উচ্চ মূল্যের ফসল চাষে কৃষককে আগ্রহী করে তোলা, কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য দাম পান, বাজারজাত পরিস্থিতি উন্নত করা, ফসল চাষ করে কৃষক যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন এসব বিষয়কে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এ কৃষি বিজ্ঞানী বলেন, অনেক সময় কৃষক ফসল বিক্রি করতে পারেন না, তারা হতাশ হয়ে পড়েন। এসব কারণে কৃষক ফসলের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। কৃষককে যদি আমরা লাভবান করতে পারি তাহলে ওই কৃষক কৃষিজমি বিক্রি করতে চাইবেন না।

তিনি জানান, এছাড়া আইনি কিছু বিষয় প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে। কৃষিজমি অন্য খাতে ব্যবহার ও বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কৃষিজমি বিক্রি বা অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে। কোনোভাবেই যেন কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে, কৃষককে যদি আমরা লাভবান করতে পারি তাহলে তারা কৃষিজমি বিক্রি করবে না।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সম্প্রসারণ শাখা) অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা এখন কৃষিকে বাণিজ্যকরণের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কেননা কৃষিজমি রক্ষায় কৃষিকে বাণিজ্যকরণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নানাভাবে কৃষিজমি অন্য খাতে চলে যাচ্ছে। আমরা যদি নির্দিষ্ট করতে পারি কোনটা এক, দুই ও তিন ফসলি জমি, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারব। কোন এলাকায় কী আবাদ করা যাবে সেই কাজটাও সহজ হবে। ক্রপ জোনিংয়ের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের আবাদ বৃদ্ধিতে এ মহা পরিকল্পনা কাজ করবে।কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে এক ফসলি জমির পরিমাণ ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫ হেক্টর ও তিন ফসলি জমি রয়েছে ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯১ হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক উপপরিচালক ও শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ ড. মো. দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাস্তাঘাট, মিল-কারখানা, অপরিকল্পিত বাড়িঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরিতে দেশের চাষযোগ্য জমি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮৯ হেক্টর জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এ হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৭৯ হাজার হেক্টর কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। অপরদিকে জনসংখ্যার চাপ সামলাতে পাল্লা দিয়ে নিবিড়ভাবে ধান চাষ করা হচ্ছে।

বর্তমানে এসআইএমইসি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কনসালটেন্ট (ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন) হিসেবে কর্মরত ড. দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই কৃষিজমি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে কৃষিজমির সংকট হতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অবশ্যই সঠিক পরিমাণের কৃষিজমি দরকার। এ ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা খুবই ভালো উদ্যোগ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৮ সালের হিসাব মতে, দেশে মোট পরিবার/খানা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৩টি, মোট কৃষি পরিবার/খানা ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৩টি, কৃষি বহির্ভূত পরিবার/খানা ১ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৫৮০টি। দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ দশমিক ৭৭ লাখ হেক্টর, মোট সেচকৃত জমি ৭৪ দশমিক ৪৮ লাখ হেক্টর, আবাদযোগ্য পতিত ২ দশমিক ২৩ লাখ হেক্টর, ফসলের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ, আর মোট ফসলি জমির পরিমাণ ১৫৪ দশমিক ৩৮ লাখ হেক্টর।

প্রতি বছর কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরদিকে বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাপ সামলাতে এবার কৃষিজমি রক্ষায় মহাপরিকল্পনার পথে হাঁটছে কৃষি মন্ত্রণালয়। নানা ছকে সাজানো হয়েছে এ পরিকল্পনা।

এতে কৃষিজমিকে বিভিন্ন ভাগে চিহ্নিত করে কৃষককে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিকে বাণিজ্যকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পক্ষ থেকে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাবনা কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাবনাটি তুলে ধরার পর কৃষিজমি রক্ষায় কার্যক্রম শুরু হবে।

শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে সংকটে পড়তে পারে দেশ। এসব জমি রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে অনেক উর্বর জমিও হারাতে হতে পারে।

বিএআরসির শস্য বিভাগের সদস্য পরিচালক ড. মো. আজিজ জিলানী চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের এক ফসলি, দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমি চিহ্নিত করে তা রক্ষার জন্যে সমন্বিত প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা জানায়, প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পর যে নির্দেশনা আসে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাসিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভায় বিএআরসিকে প্রস্তাবনাটি পাঠাতে বলা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।
প্রস্তাবনায় কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ড. মো. আজিজ জিলানী চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, উচ্চ ফলনশীল জাত সম্প্রসারণ, উচ্চ মূল্যের ফসল চাষে কৃষককে আগ্রহী করে তোলা, কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য দাম পান, বাজারজাত পরিস্থিতি উন্নত করা, ফসল চাষ করে কৃষক যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন এসব বিষয়কে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এ কৃষি বিজ্ঞানী বলেন, অনেক সময় কৃষক ফসল বিক্রি করতে পারেন না, তারা হতাশ হয়ে পড়েন। এসব কারণে কৃষক ফসলের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। কৃষককে যদি আমরা লাভবান করতে পারি তাহলে ওই কৃষক কৃষিজমি বিক্রি করতে চাইবেন না।

তিনি জানান, এছাড়া আইনি কিছু বিষয় প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে। কৃষিজমি অন্য খাতে ব্যবহার ও বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কৃষিজমি বিক্রি বা অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে। কোনোভাবেই যেন কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে, কৃষককে যদি আমরা লাভবান করতে পারি তাহলে তারা কৃষিজমি বিক্রি করবে না।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সম্প্রসারণ শাখা) অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা এখন কৃষিকে বাণিজ্যকরণের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কেননা কৃষিজমি রক্ষায় কৃষিকে বাণিজ্যকরণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নানাভাবে কৃষিজমি অন্য খাতে চলে যাচ্ছে। আমরা যদি নির্দিষ্ট করতে পারি কোনটা এক, দুই ও তিন ফসলি জমি, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারব। কোন এলাকায় কী আবাদ করা যাবে সেই কাজটাও সহজ হবে। ক্রপ জোনিংয়ের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের আবাদ বৃদ্ধিতে এ মহা পরিকল্পনা কাজ করবে।কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে এক ফসলি জমির পরিমাণ ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫ হেক্টর ও তিন ফসলি জমি রয়েছে ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯১ হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক উপপরিচালক ও শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ ড. মো. দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাস্তাঘাট, মিল-কারখানা, অপরিকল্পিত বাড়িঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরিতে দেশের চাষযোগ্য জমি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮৯ হেক্টর জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এ হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৭৯ হাজার হেক্টর কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। অপরদিকে জনসংখ্যার চাপ সামলাতে পাল্লা দিয়ে নিবিড়ভাবে ধান চাষ করা হচ্ছে।

বর্তমানে এসআইএমইসি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কনসালটেন্ট (ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন) হিসেবে কর্মরত ড. দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই কৃষিজমি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে কৃষিজমির সংকট হতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অবশ্যই সঠিক পরিমাণের কৃষিজমি দরকার। এ ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা খুবই ভালো উদ্যোগ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৮ সালের হিসাব মতে, দেশে মোট পরিবার/খানা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৩টি, মোট কৃষি পরিবার/খানা ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৩টি, কৃষি বহির্ভূত পরিবার/খানা ১ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৫৮০টি। দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ দশমিক ৭৭ লাখ হেক্টর, মোট সেচকৃত জমি ৭৪ দশমিক ৪৮ লাখ হেক্টর, আবাদযোগ্য পতিত ২ দশমিক ২৩ লাখ হেক্টর, ফসলের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ, আর মোট ফসলি জমির পরিমাণ ১৫৪ দশমিক ৩৮ লাখ হেক্টর।

খাদ্যের চাপ সামলাতে কৃষিজমি রক্ষায় মহাপরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ নভেম্বর, ২০২১ | ৬:৫৮ 66 ভিউ
প্রতি বছর কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরদিকে বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাপ সামলাতে এবার কৃষিজমি রক্ষায় মহাপরিকল্পনার পথে হাঁটছে কৃষি মন্ত্রণালয়। নানা ছকে সাজানো হয়েছে এ পরিকল্পনা। এতে কৃষিজমিকে বিভিন্ন ভাগে চিহ্নিত করে কৃষককে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিকে বাণিজ্যকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পক্ষ থেকে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাবনা কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাবনাটি তুলে ধরার পর কৃষিজমি রক্ষায় কার্যক্রম শুরু হবে। শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে সংকটে পড়তে পারে দেশ। এসব জমি রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে অনেক উর্বর জমিও হারাতে হতে পারে। বিএআরসির শস্য বিভাগের সদস্য পরিচালক ড. মো. আজিজ জিলানী চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের এক ফসলি, দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমি চিহ্নিত করে তা রক্ষার জন্যে সমন্বিত প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা জানায়, প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পর যে নির্দেশনা আসে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাসিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভায় বিএআরসিকে প্রস্তাবনাটি পাঠাতে বলা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। প্রস্তাবনায় কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ড. মো. আজিজ জিলানী চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, উচ্চ ফলনশীল জাত সম্প্রসারণ, উচ্চ মূল্যের ফসল চাষে কৃষককে আগ্রহী করে তোলা, কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য দাম পান, বাজারজাত পরিস্থিতি উন্নত করা, ফসল চাষ করে কৃষক যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন এসব বিষয়কে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ কৃষি বিজ্ঞানী বলেন, অনেক সময় কৃষক ফসল বিক্রি করতে পারেন না, তারা হতাশ হয়ে পড়েন। এসব কারণে কৃষক ফসলের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। কৃষককে যদি আমরা লাভবান করতে পারি তাহলে ওই কৃষক কৃষিজমি বিক্রি করতে চাইবেন না। তিনি জানান, এছাড়া আইনি কিছু বিষয় প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে। কৃষিজমি অন্য খাতে ব্যবহার ও বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কৃষিজমি বিক্রি বা অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে। কোনোভাবেই যেন কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে, কৃষককে যদি আমরা লাভবান করতে পারি তাহলে তারা কৃষিজমি বিক্রি করবে না। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সম্প্রসারণ শাখা) অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা এখন কৃষিকে বাণিজ্যকরণের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কেননা কৃষিজমি রক্ষায় কৃষিকে বাণিজ্যকরণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নানাভাবে কৃষিজমি অন্য খাতে চলে যাচ্ছে। আমরা যদি নির্দিষ্ট করতে পারি কোনটা এক, দুই ও তিন ফসলি জমি, তাহলে আমরা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারব। কোন এলাকায় কী আবাদ করা যাবে সেই কাজটাও সহজ হবে। ক্রপ জোনিংয়ের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের আবাদ বৃদ্ধিতে এ মহা পরিকল্পনা কাজ করবে।কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে এক ফসলি জমির পরিমাণ ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫ হেক্টর ও তিন ফসলি জমি রয়েছে ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯১ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক উপপরিচালক ও শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ ড. মো. দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাস্তাঘাট, মিল-কারখানা, অপরিকল্পিত বাড়িঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরিতে দেশের চাষযোগ্য জমি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮৯ হেক্টর জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এ হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৭৯ হাজার হেক্টর কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। অপরদিকে জনসংখ্যার চাপ সামলাতে পাল্লা দিয়ে নিবিড়ভাবে ধান চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে এসআইএমইসি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কনসালটেন্ট (ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন) হিসেবে কর্মরত ড. দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই কৃষিজমি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে কৃষিজমির সংকট হতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অবশ্যই সঠিক পরিমাণের কৃষিজমি দরকার। এ ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা খুবই ভালো উদ্যোগ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৮ সালের হিসাব মতে, দেশে মোট পরিবার/খানা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৩টি, মোট কৃষি পরিবার/খানা ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৩টি, কৃষি বহির্ভূত পরিবার/খানা ১ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৫৮০টি। দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ দশমিক ৭৭ লাখ হেক্টর, মোট সেচকৃত জমি ৭৪ দশমিক ৪৮ লাখ হেক্টর, আবাদযোগ্য পতিত ২ দশমিক ২৩ লাখ হেক্টর, ফসলের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ, আর মোট ফসলি জমির পরিমাণ ১৫৪ দশমিক ৩৮ লাখ হেক্টর।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: