খামারিদের কারসাজিতে নাগালের বাইরে ডিমের দাম


অথর
অর্থনৈতিক ডেক্স   দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯:২৯ অপরাহ্ণ | পঠিত : 124 বার
খামারিদের কারসাজিতে নাগালের বাইরে ডিমের দাম

মাত্র পনের দিনের ব্যবধানে ১২ টাকা বেড়ে ফার্মের লাল মুরগির প্রতিহালী ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। আমিষের প্রধান উৎস ডিমের দাম এখন নাগালের বাইরে। গত কয়েক বছর ধরে পোল্ট্রি খামারিদের সবচেয়ে বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। মুরগির বাচ্চা আমদানি, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধসহ অন্যান্য সামগ্রী আমদানিতে জাতীয় বাজেটে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে থাকে সরকার। মূলত ব্রয়লার মুরগির দাম কমানো এবং ডিমের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে মধ্যে রাখতে এই ভর্তুকি দেয়া হয়। কিন্তু খামার মালিকদের মনোপলি ব্যবসা এবং সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর কৌশল নেয়ায় অস্থির হয়ে পড়ছে ডিমের বাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত ডিমের দাম কমানোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ডিমের দাম যখন লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে ঠিক তখন কমেছে চাল, পেঁয়াজ ও মসলাপাতির দাম। আটা ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজার। ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দেশী মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফার্মগেট কাঁচা বাজার মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, নিউমার্কেট কাঁচা বাজার, রায়ের বাজার সিটি কর্পোরেশন মার্কেট, মিরপুর-১ সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবিও বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়া এবং কমার খবর তথ্য জানিয়েছে। এদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে ডিমের দাম। ডিমের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি কষ্ট বাড়বে। পাতে ডিম ছাড়া অনেক পরিবারের সকালের নাস্তা হয় না। এমনকি খাবারের রেষ্টুরেন্টগুলোতে সকালের নাস্তায় ডিমের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। ভেজে খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করে খাওয়া হয় এই ডিম। সহজলভ্য ও আমিষের প্রধান উৎস এই ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা খামার মালিকদের জন্য প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু এরপরও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ডিমের দাম। খামার মালিকরা বিভিন্ন অজুহাতে ডিমের দাম বাড়ান। কখনো বলছেন, পোল্ট্রি ফিডের দাম বেশি, আবার কখনো বলছেন উৎপাদন নেই। মূলত ডিমের দাম বাড়াতে সব ধরনের অপকৌশল নিচ্ছেন খামার মালিকরা। এতে করে ডিমের বাজার অস্থির হয়ে পড়ছে। ফার্মের ডিমের পাশাপাশি দেশী মুরগি ও হাঁসের ডিমের দাম বেড়ে গেছে। দেশী মুরগির ডিম আকারভেদে ৬০-৭০, হাঁসের ডিম ৫০-৬০ এবং ফার্মের মুরগির সাদা ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। ডিম বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত আগস্ট মাস থেকে ডিমের দাম অব্যাহত গতিতে বাড়তে থাকে। তখন এক সপ্তাহে কুড়ি প্রতি ডিমের মূল্য বেড়ে যায় ৪০ টাকা। সেই থেকে ডিমের দাম বেড়ে চলছে। খামারিরা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ১টি ডিমের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা। অথচ পনের-বিশ দিন আগেও ৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে একটি ডিম। দাম বাড়ার কারণে নি¤œ আয়ের পরিবারগুলো ডিম খাওয়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদেরকে দৈনিক একটি করে ডিম খাওয়ানো পরামর্শ দেন ডাক্তররা। কিন্তু অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে লাখ লাখ গরিব শিশু প্রতিদিন ডিম খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঢাকার পাশ্ববর্তী গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে এখন মুরগির খামার রয়েছে। শুধু নরসিংদীতে ডিম উৎপাদন খামার রয়েছে কমবেশি ৮০০-৯০০টি। গাজীপুরে এই সংখ্যা আরও বেশি। এসব খামারগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ চালু রয়েছে এবং ডিম উৎপাদন হচ্ছে। এরপরও ডিমের মূল্য বৃদ্ধির যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ নেই। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারে কমেছে চালের দাম। সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৬০-৭২, মাঝারিমানের পাইজাম ও লতা চাল ৫০-৫৫ এবং মোটা মানের স্বর্ণা ও চায়না ইরি চাল ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। দাম বেড়ে প্রতিকেজি আটা ৩২-৪০, ভোজ্যতেল প্রতিলিটার ১২৯-১৩৬, সয়াবিন তেল পাঁচ লিটারের বোতল ৬৮০-৭০০, প্রতিকেজি মসুর ডাল ৮৫-১২০ এবং দাম কমে প্রতিকেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৮-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। বেশির ভাগ মসলাপতির দাম কমেছে। দাম কমে প্রতিকেজি আদা ৯০-১২০, রসুন দেশী ৬০-৭০ আমদানি রসুন ১৫০-১৮০ ও জিরা প্রতিকেজি ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া বাজারে বেশিরভাগ সবজি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি (গোল) বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, সিম ১২০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা। প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ইলিশ মাছের সরররাহ কিছুটা বাড়ায় স্থিতিশীল রয়েছে দেশী মাছের দাম।







Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ok