চলমান সংকট মোকাবিলায় ৬ মাসের প্যাকেজ গ্রহণের প্রস্তাব জাসদের – ডোনেট বাংলাদেশ

চলমান সংকট মোকাবিলায় ৬ মাসের প্যাকেজ গ্রহণের প্রস্তাব জাসদের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ আগস্ট, ২০২২ | ৮:২১ 30 ভিউ
দেশে চলমান সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ ছয় মাসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে শুক্রবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. রবিউল আলম, আফরোজা হক রীনা, আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম, শওকত রায়হান, রোকনুজ্জামান রোকন ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু। সংকট মোকাবিলায় জাসদের ৬ প্রস্তাব: বৈশ্বিক এ সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি সচল, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল, বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা, সাধারণ মানুষের

আয় ও জীবিকা ধরে রাখাই বাংলাদেশ সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা মোকাবিলায় এবং ভবিষ্যতের যে কোনো সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের জন্য সরকারকে বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ গ্রহণ করতে হবে। ১. সরকারকে অস্থিরতা ও দিশেহারাভাব ঝেরে ফেলে বর্তমান সংকটের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ, সমীক্ষা, চিত্র এবং এগুলোর সমাধানের বাস্তব ও যৌক্তিক পথ এবং উপায় সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের সামনে সুস্পষ্ট, স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা। ২. আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য উঠানামায় অস্থির হয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত কৃষি ও শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জনপরিবহণ ও পণ্যপরিবহণসহ সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক

প্রভাব তৈরি করেছে। ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে রাজস্ব আয় সামান্য বাড়লেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে সেই রাজস্ব আয়ের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেশি। তাই আগামী ছয় মাসের জন্য জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। জ্বালানি তেলের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনে বাজেটের বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ সমন্বয় করে জ্বালানি খাত, কৃষি খাত, সারের দাম কমাতে ভর্তুকি দিতে হবে। ৩. জ্বালানি খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর আত্মঘাতী পথ থেকে বেড়িয়ে আসার পাশাপাশি রাজস্ব বাড়ানোর জন্য সম্পদের উপর সরাসরি কর বৃদ্ধি, কর-ভ্যাট আদায়ে অটোমেশন চালু, জাতীয় পরিচয়পত্র ও গণশুমারীর তথ্য ধরে করের আওতায় বহির্ভূত কর ফাঁকিদাতাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় আনা,

দেশের নয় লক্ষ হাট-বাজারের করের আওতাভুক্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনতে হবে। ৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তব চিত্র স্বচ্ছ ও সুস্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরে এ খাতে নীতি-কৌশলগত ভুলত্রুটি, সমন্বয়হীনতা, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অলাভজনক ব্যয়, পদ্ধতিগত লোকসান, দুর্নীতি, লুটপাটের যত অভিযোগ সামনে এসেছে সেগুলোর যৌক্তিক জবাব দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে। ৫. ‘বিলাস দ্রব্য’, ‘অপ্রয়োজনীয় আমদানির সংজ্ঞা’ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ঘোষণা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় ও বিক্রয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক বাজারে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে তা কঠোরভাবে দূর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের

ওপর চাপ কমাতে হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে রেমিট্যান্সের ওপর প্রদত্ত প্রণোদনা ২% থেকে ৩% -এ উন্নীত করতে হবে। ডলারের মূল্য নির্ধারণ খোলা বাজারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে হবে। প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প হিসেবে দেশীয়/স্থানীয়/গ্রহণযোগ্য মুদ্রা ব্যবহারের বিকল্প পথ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংকের সুদহার পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। ৬. নিরুপায় ও অসহায়, আয়হীন, কর্মহীন মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাত ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রসারিত করতে হবে। নিম্ন আয়, স্বল্প আয়, সীমিত আয়ের মানুষদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে ‘খোলা বিক্রয়’ ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। কল-কারখানা-শ্রমিকদের জন্য রেশনিং

ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘তুফান ঘটক’ আশরাফ সুপ্ত রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করল ইরান চার অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির বিল রাশিয়ার পার্লামেন্টে অনুমোদন রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করল ইরান মোগল আমলে নির্মিত সাত গম্বুজ মসজিদ পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব সবার র‍্যাব সংস্কারের প্রশ্ন: কিছু কথা পরিশ্রমের সময় বুকে ব্যথা, কী করবেন? সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সেতুর রেলিংয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কা,নিহত ৩ সতর্কবার্তা ৬ বছর আগেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হবেন ‘রানঅফ’ ভোটে, এটি কেমন পদ্ধতি? রুশ সেনাদের স্থাপনার তালিকা যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে চায় ইউক্রেন পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রধানকে ছেড়ে দিয়েছে রাশিয়া নপির শাসনামলের ১০০ দিনের আমলনামা তুলে ধরলেন জয় একটাই দাবি এই সরকারকে বিদায় করতে হবে: অলি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন: ওবায়দুল কাদের সুইপারকে হোটেলে নাস্তা খেতে না দেওয়ায় মানববন্ধন ’৭১-এর গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে কানাডায় সমাবেশ আবুধাবিতে নানা আয়োজনে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ: দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি