চিকিৎসার মাধ্যমে আর্থ্রাইটিস ভালো করা সম্ভব: বিএসএমএমইউ উপাচার্য


অথর
স্বাস্থ্য কথন ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ অক্টোবর ২০২১, ৬:১০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 128 বার
চিকিৎসার মাধ্যমে আর্থ্রাইটিস ভালো করা সম্ভব: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ভালো করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মানুষের শরীরের জয়েন্টে ব্যাথা এখন সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হচ্ছে। এটি একটি ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ। পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। এসব বিষয়ে চিকিৎসা ও গবেষণা বাড়াতে হবে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ‘বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস-২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আর নয় দেরি, সম্পৃক্ত হই আজই’। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগ ও ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। রিউমাটোলজি বিভাগ কর্তৃক বিএসএমএমইউ হাসপাতালের এ ব্লক অডিটোরিয়াম ও ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও শহীদ ডা. মিলন হলে এক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উভয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সাইন্স অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ। দুই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিনহাজ রহিম চৌধুরী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. এ কে এম সালেক। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমগ্র বিশ্বে প্রায় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ (৫৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ১৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। অন্য সাধারণ রোগের মতো শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে এর ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব নয়। এটা শুধু শারীরিকভাবেই পঙ্গুত্ব তৈরি করে না বরং মানসিকভাবে ও সামাজিকভাবেও রোগীকে হীনমন্যতায় ফেলে দেয়। প্রসঙ্গত, বাত রোগের ভয়াবহতা মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জীবনযাত্রার সঙ্গে অভিযোজনের জন্য রিউম্যাটোলজি রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিক পরিচালনা করা হয়। বিএসএমএমইউ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মশিউর রহমান খসরুর তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়। প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৯টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে বাত রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এই ক্লিনিকে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয় এবং এ পর্যন্ত তিন হাজার রোগীকে সেবাদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ক্লিনিক থেকে এখন পর্যন্ত ৬টি গবেষণা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আরও ৬টি চলমান আছে। বাত রোগের চিকিৎসা ও জটিলতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে বাত রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে পঙ্গুত্ব প্রতিরোধে ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দিবসটি পালন করা হয়।







Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ok