তুলির চোখে শরৎ – ডোনেট বাংলাদেশ

তুলির চোখে শরৎ

শাম্মী তুলতুল
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:৪৮ 297 ভিউ
বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টি শেষ হতেই শরৎ প্রকৃতিতে ঢুকে পড়েছে। আকাশ গাঢ় নীল, তাতে শুভ্র সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। এ সময় শিউলি ফোটে, তাল পাকে আর নদীর ধারে ফোটে কাশফুল। রোদ, হাওয়া, নীল আকাশ, কাশফুল ইত্যাদি প্রকৃতিকে আরও সুন্দর করে তোলে। এ এক অপরূপ দৃশ্য। শরৎকালে পাখিরা নতুন জীবন পায়। বাসা বানায়। ঘর বাঁধে। কিচিরমিচির শব্দে গান গায়। দাদার বাড়িতে নারকেল গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখে তুলি অবাক হয়ে যায়। কত সুন্দর করে তারা বাসা বেঁধেছে। তুলির সাথে গল্প করতে করতে দাদু বলেন, জোনাকি পোকা ধরে রাতে ওরা বাসা আলোকিত করে। তাদের চিকচিক আলোতে চারপাশ আলোকিত হয়ে যায়। ঝিঁ ঝিঁ শব্দে মনে হয় ছন্দ

মিলিয়ে নাচছে তারা। গ্রামে গাছে গাছে এখন তাল, জাম্বুরা, আমড়া আর চালতা ফল। বাড়ির উঠান, মাচা সবজিতে ভরা। মাঠে মাঠে কচি ধানের ছড়া। তুলি যতই দেখে ততই মুগ্ধ হয়। দাদুর গল্প শেষ হলেই তুলি মায়ের কাছে আসে। শরতের সঙ্গে তারুণ্যের সম্পর্কটা একটু অন্য রকম। এ সময়ের পোশাকের নীলের আধিক্যই যেন একটু বেশি চোখে পড়ে। তেমনই তুলি তার মাকে নীল শাড়ি পরতে দেখে বলে, আম্মু কোথায় যাবে? এই তো একটু কাশফুল বনে হারিয়ে যাব। এ মা, আমাকে নেবে না? তা কি হয়, আমার মা আমার সাথেই যাবে। তবে আমায় নীল জামা পরিয়ে দাও। তুলির মা হাতে সাদা চুড়ি আর কপালে লাল টিপ পরে নিল। আর মেয়েকে নীল

জামা পরিয়ে মাথায় সাদা ফুল গুঁজে দিল। তুলির মা বলে, জানো তো এখন শরৎকাল। তাই নীলে নীল আমরা। ইস, তোমার আগে জানি আমি। তাই বুঝি? দাদু বলেছে। সত্যিই এই ঋতুর তুলনা হয় না তুলি। স্বচ্ছতা আর শুভ্রতা মেশানো ঋতু শরৎ। এ ঋতুতে যেন সবই রয়েছে। শরৎ রোদের তেজ কমায়, বৃষ্টির আসা-যাওয়া কমে। হিমেল বাতাসের স্পর্শ ঘিরে থাকে এ ঋতু। তাই তো শরৎকে ঋতুর রানি বলে। ওমা রানি? হুম। এ কথা বলেই তুলির মা রবীন্দ্রসংগীত জুড়ে দেয়। ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলা/ নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলারে ভাই লুকোচুরি খেলা’— জনপ্রিয় এই রবীন্দ্রসংগীতই শরতের রূপ বর্ণনায় যথেষ্ট। কবিগুরুর ভাষায়, ‘তুলি মেঘভার

আকাশে তোমার করেছ সুনীল বরণী/ শিশির ছিটায়ে করেছ শীতল/ তোমার শ্যামল ধরণী।’ শরৎকালে অনেক ফুল ফোটে, তার মধ্যে কী কী রয়েছে জানো? কী কী? শেফালি, হিমঝুরি, গগনশিরীষ, ছাতিম, পাখিফুল, পান্থপাদপ, বকফুল, মিনজিরি। কেবল তা-ই নয়, শরতের রূপের অংশ হয় শাপলা, শালুক, পদ্ম, জুঁই, কেয়া, ছাতিম ফুল, বড়ই ফুল, দোলনচাঁপা, বেলি, জারুল, সহ নানা রকমের ফুল। ফুলের সুবাস আর পাখির কুজনে মুখর হয় গ্রামের মাঠ-ঘাট-জনপদ। বাহ! আম্মু কী আনন্দ; আমরা খুব সুন্দর একটি ঋতুতে গ্রামে বেড়াতে এসেছি আর কত কিছু জানতে পারছি। একদম ঠিক বলেছ। মা-মেয়ে আবারও একসাথে সেই রবীন্দ্রসংগীত গুনগুন করে কাশফুলের বনে হারিয়ে যায়।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিবিসি বাংলা রেডিওর জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের সেই দিন এই দিন বিদ্যুতের দাম এবার বাড়ছে উৎসবের আবহে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু যে কারণে হ্রাস পেয়েছে ফল বিক্রি ও আমদানি আইফেল টাওয়ার বন্ধ ফাইভ জি যুগে ভারত নয়া ব্রিটিশ মুদ্রার ছবি প্রকাশ ডিমের হালি ফের ৫০-৫৫ টাকা আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন বাংলাদেশের লাইমান ছেড়ে চলে গেছে রুশ সেনারা, জানাল রাশিয়াই ‘ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হবে না’ পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রধানকে আটক করেছে রাশিয়া ইসরাইলিদের হামলায় এ বছর ১০০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু ছাত্রলীগ নেতার পা কেটে নেওয়ার হুমকি সাবেক এমপির বেলারুশে নতুন করে সেনা অস্ত্র পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুরোধ রমজান কাদিরভের রাজশাহীতে এক ছিনতাইকারী আটক সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মা ও দুই ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রামে ফেসবুকে প্রেম করে তরুণীকে ধর্ষণ ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ শালিখায় প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালি