দুর্ভিক্ষ হবে না দেশে – ডোনেট বাংলাদেশ

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিতঃ ১৯ নভেম্বর, ২০২২
১০:০১ পূর্বাহ্ণ
15 ভিউ

দুর্ভিক্ষ হবে না দেশে

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আপডেটঃ ১৯ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:০১ 15 ভিউ
মহান স্রষ্টার অপরিসীম কৃপায় মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম-মহান মুক্তিযুদ্ধ-যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নানামুখী বৈশ্বিক ও দেশীয় চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র-বিরূপ কটূক্তি সংহার করে বাঙালী জাতি ও জাতিরাষ্ট্রকে সংকটমুক্ত রেখেছিলেন। প্রবল আত্মবিশ্বাস-আত্মপ্রত্যয়ের ভিত্তিতে দৃঢ়চেতা বঙ্গবন্ধু প্রগাঢ় মেধা-প্রজ্ঞার উৎকর্ষতায় মানব ও প্রকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপনে সার্থক হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মহামন্দার পূর্বাভাসে টালমাটাল বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দেশবাসীর জীবন-জীবিকার সচলতা নিশ্চিতকল্পে আশাজাগানিয়া বক্তব্য প্রদান করে শুধু হতাশামুক্ত নয়, কর্মমুখী মানুষকে অধিকতর কর্মযোগী হওয়ার অত্যধিক উৎসাহ-উদ্দীপনা নির্মাণ করে চলেছেন। এটি সর্বত্রই গ্রহণযোগ্য যে, হতাশাগ্রস্ত জাতি কখনোই অন্ধকারকে নিধন করে আলো প্রজ্বালনের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না।

‘ইনশাআল্লাহ দেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না’ বক্তব্য দিয়ে তিনি আপামর জনগণের মনোবলকে জাগ্রত রাখার যে পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন তা প্রকৃত অর্থেই তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে জোরালো খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ তথা- ইথিওপিয়া, নাইজিরিয়া, সোমালিয়া এবং সাউথ সুদানে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রবল। শুধু এশিয়া-আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকা নয়, ইউরোপেও বাড়ছে সংকট। সংস্থাগুলো যুদ্ধ ও নানা ধরনের সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে বন্যা-খরা-অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিতে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস, সার-ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে

বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এফএওসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার প্রক্ষেপণে পুরো বিশ্বে চলতি বছর খাদ্যশস্য উৎপাদন কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়া বিশ্বের বাকি সব মহাদেশ-অঞ্চলেই খাদ্যশস্য উৎপাদন কম-বেশিহারে কমবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাপী ধানের উৎপাদন কম হবে। তন্মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ প্রধান প্রধান খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। জাতিসংঘের সমীক্ষাতেও বিশ্বময় খাদ্য সংকটের ভয়াবহ চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। সমীক্ষামতে বিশ্বের সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। শুধু না খেতে পেয়ে বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে একজনের

মৃত্যু হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ দিনানিপাত করছে অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরিপেও খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি কেবল খাদ্য ঘাটতি থেকে খাদ্য সংকট তৈরি হয় না, এর জন্য খাদ্য বণ্টনের অসামঞ্জস্যতাসহ নানা সমস্যাই দায়ী। ৫ নভেম্বর ২০২২ গণমাধ্যম সূত্রমতে সংকট সমাধানে ইতোমধ্যে ২৫টি দেশ নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে ৬৪টি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পণ্যগুলোর মধ্যে ডাল, গম, ময়দা, সার, সবজি, ফল, চিকিৎসাসামগ্রী, মিনারেল ওয়াটার, ভোজ্যতেল, মাংস, মাছ ইত্যাদি অন্যতম। অনেক দেশের নিষেধাজ্ঞা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও কোনো কোনো দেশ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের মতানুসারে বিশ্বমন্দার আগেই

বর্তমানে বিশ্বে ৪৮টি দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে, যার মধ্যে কোস্টারিকা, বসনিয়া ও রুয়ান্ডার অবস্থা সবচেয়ে কঠিন। বৈশ্বিক মন্দার কবলে বিশ্বের ৩৫ কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে। এফএও’র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা ৪৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু সংকটে অসময়ের বন্যা-খরা দেশের খাদ্য উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটালে বড় রকমের সমস্যায় পড়তে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্ততরের পরিসংখ্যান অনুসারে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টন চাল ও গম আমদানি করা হলেও বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম বাড়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার টনে। আশাব্যঞ্জক চিত্র হচ্ছে ১৩ নভেম্বর ২০২২

পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চাল ও গমের মজুতের পরিমাণ যথাক্রমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫৩ ও ২ লাখ ২৮ হাজার ২১১ মেঃ টন। সচেতন মহলসহ দেশের আপামর জনগণ সম্যক অবগত আছেন প্রাচীন বাংলার এই জনপদ বহুবার দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘটেছিল বাংলা সন ১১৭৬-এ (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) যেটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে বহুল পরিচিত। মূলত আঠারো শতকের চলমান চরম অর্থনৈতিক মন্দার ঐ বছরে অতিবৃষ্টি-বন্যায় ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি-ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা-খাদ্যবাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের ফলে সার্বিক অবস্থার অপরিমেয় অবনতি ঘটে। ব্রিটিশ রাজের কোম্পানি শাসকরা এটিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দাবি করলেও কোম্পানি শাসনের সহযোগিতায় খাদ্যশস্যের বাজার থেকে মুনাফা লুট এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে জনমানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে

পৌঁছে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়। এই দুর্ভিক্ষে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ১০ মিলিয়ন লোক মারা যায়। ১৭৮৩-১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ-ভারতে সংঘটিত দুর্ভিক্ষ থেকে সৌভাগ্যক্রমে বাংলা মুক্ত ছিল। তবে ১৮৮৬ সালে বাংলার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকার কৃষি শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি বহুলাংশে হ্রাস পায়। ঐ সময় প্রথমবারের মতো দুর্ভিক্ষের কারণ এবং সমাধানসূচক পরামর্শের জন্য গঠিত হয় ফেমিন কমিশন। ১৮৯৬-৯৮ সময়ে আক্রান্ত হয় বাংলাসহ বিহার, বোম্বে, অযোধ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাব। বাংলায় এর প্রাথমিক কারণ হিসেবে অনাবৃষ্টিকে দায়ী করা হয়। এছাড়া বাজারে খাদ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় তা ছিল সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১৯৪৩ সালে বাংলা আরেকটি

বৃহৎ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। ১৯৩৮ সাল থেকে লাগাতার ফসলহানি-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও আরও কিছু ধ্বংসাত্মক ঘটনা বাংলাকে দুর্ভিক্ষে নিপতিত করে। জাপানিদের দ্বারা বার্মার পতন ঘটায় সেখান থেকে খাদ্যশস্যের আমদানি বন্ধ, যুদ্ধাবস্থার কারণে পূর্বাঞ্চলে খাদ্যশস্যের বাণিজ্য ও চলাচলে বিঘ্ন, প্রাদেশিক-জেলাভিত্তিক কর্ডন প্রথার কারণে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চলাচল বন্ধ, সেনাবাহিনীর জন্য খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং শরণার্থী আগমন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষকে বেগবান করে। যুদ্ধের শুরুতে মনুষ্যসৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের দূরদৃষ্টিহীনতা দুর্ভিক্ষকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। প্রায় সমগ্র বাংলায় এ দুর্ভিক্ষ আঘাত হেনে মোট ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটায়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭০ দশকের প্রথমে বাংলাদেশকে ঘূর্ণিঝড়-খরা-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য-সার-তেল সংকটের মোকাবিলা করতে হয়েছে। সর্র্বোপরি মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও সামাজিক বিপর্যয়ে দেশের ব্যাপক সংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী হয়। সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পিছিয়ে পড়ে। এ চরম অবস্থার শিকার হয়েছিল শিল্প শ্রমিক, ক্ষুদ্র কৃষক, কৃষি শ্রমিক এবং নিম্ন বেতনভুক মানুষ। ১৯৭৩ সালে তেল সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিতে সরকারের পক্ষে খাদ্য আমদানি দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। অধিকন্তু পরাজিত শক্তির দেশীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তে যথাসময়ে খাদ্যশস্যের সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে বাজারে চালের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য, স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণে সমস্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী বিশ্ব সম্প্রদায়ের অসহযোগিতা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা আরও জটিল করে তোলে। ১১ নভেম্বর ২০২২ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের মহাসমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না। তার জন্য আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী। বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করলেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ দেশের আর্থিক পরিস্থিতির বর্ণনায় তিনি জানান, রিজার্ভ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে। দেশের টাকা দেশেই থাকছে। যারা বলেছিল দেশ শ্রীলঙ্কা হবে তাদের মুখে ছাই পড়েছে। দেশের রিজার্ভ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আজ রিজার্ভ আমাদের কাজে লাগছে, কারণ আমরা করোনার টিকা দিয়েছি। আমাদের খাবার-তেল সবকিছু বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। তারপর দুই বছর পর যখন বিশ্ব উন্মুক্ত হয়েছে তখন ক্যাপিটাল মেশিনারিজ এসেছে। আমাদের রিজার্ভ তো ব্যবহার করতেই হবে। আট বিলিয়ন আমরা আলাদাভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছি। রিজার্ভ জমিয়ে রাখলে তো হবে না। সে টাকা কাজে লাগাতে হবে।’ ১৪ নভেম্বর ২০২২ মন্ত্রী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং চীনের পণ্য আসা কমে যাওয়ার কারণে ২০২৩ সালে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ, রেমিটেন্স বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা, খাদ্য মজুত ঠিক রাখা এবং খাদ্য আমদানিতে উৎসে কর বাদ দিয়ে আমদানিকারকদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ। তিনি বিভিন্ন শস্যের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং থার্ড পার্টির কাছে না গিয়ে সরাসরি বিদেশ থেকে খাদ্যপণ্য কেনার পরামর্শ দেন। এছাড়া কয়েক মাস আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর সীমিতকরণ, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য হ্রাসকরণ, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্সে নগদ সহায়তা প্রদান, বিলাসবহুল পণ্যে করারোপ করা, পতিত জমি ন্যূনতম অনাবাদি না রেখে সকল প্রকার খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ-নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে সর্বত্রই সমধিক প্রশংসিত হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরাও অর্থনৈতিক মহামন্দা-খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষ এড়াতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য আমদানি কমালে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট থেকে দেশের স্বল্প আয়ের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে চলমান কর্মসংস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পকে চাঙা রাখার পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সার, চাল, গম সংগ্রহ করার সুপারিশ করেছেন। প্রাসঙ্গিকতায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্যের খুব বেশি সংকট হবে না। কৃষি উৎপাদনে জোর এবং দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যের বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলে বড় ধরনের ধাক্কা বাংলাদেশে আসবে না। কেননা শীতে দেশে সবজি, ধান, গমের উৎপাদন বেশি হয় বলে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার খাদ্য নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে। এপ্রিল মাসে ইরি আসলে তখনও সরবরাহ বাড়বে। সংকটটা হতে পারে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। এর জন্য আমদানি বা মজুত প্রয়োজন।’ সামগ্রিক বিবেচনায় এটুকু দাবি করতে কোনো সংশয় নেই যে, অতীতের মতো দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে কথিত পুঁজিবাদী বিশ্বের কতিপয় রাষ্ট্রের কদর্য এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত দেশীয় বর্ণচোরাদের নানা অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ হবেই। তুলনামূলক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দেশের প্রাণস্পন্দন হিসেবে বিবেচ্য কৃষকসমাজ অনেক বেশি আধুনিক চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ এবং তারা সচেতনভাবেই সম্ভাব্য সকল সংকট মোকাবিলায় যথাসময়ে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেই।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নাগেশ্বরীরতে ম্যাগনেট পিলার দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে খেলনা পিস্তলসহ এক নারী আটক। নোয়াখালীতে তিন মামলায় জামিন পেলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খোকন কুড়িগ্রামে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্যার না বলে ভাইয়া বলে সম্বোধন করায় সাংবাদিকের উপর চড়াও তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা নোয়াখালীতে ইটভাটা আইন সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে গৃহবধূ হত্যা:স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বাগমারায় জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন স্থল পরিদর্শন চাতরার দোলায় দিনব্যাপী মাছ ধরা বাওয়া উৎসবে মানুষের ঢল নাটোরে ইটভাটা মলিকদের মানববন্ধন বেনাপোলে ৯৪ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার বেনাপোলে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চটপটি বিক্রেতা গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহাম্মদকে বিদায়ী সংবর্ধনা সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় আগুনে পুড়লো ৪ দোকান, ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতি মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে মাগুরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময় ধানক্ষেত থেকে মুয়াজ্জিনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার আপনারা ধরছেন চুনোপুঁটি, রাঘববোয়ালদের ধরবে কে: দুদককে হাইকোর্ট জ্যাকুলিনের জবানবন্দি ‘ফখরুল সাহেব, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না’ ইউক্রেন বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা দিয়ে যাবে: জেলেনস্কি যে কারণে হচ্ছে না পদ্মা-মেঘনা বিভাগ