ধর্ষণের মামলা প্রমাণের দায়িত্ব কার? - ডোনেট বাংলাদেশ

উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে বহুল আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে শাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই রায় নিয়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। কেউ কেউ একে বিচারের নামে প্রহসন বলছেন। অনেকে আবার আদালতের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বলছেন, তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত আর কী করবে?

ধর্ষিত হয়ে মামলা করে বিচার না পাওয়ার মতো দুঃসহ কিছু আর হতে পারে না। ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েও যদি অভিযুক্তরা ‘তথ্য-প্রমাণের’ অভাবে খালাস পেয়ে যায়, তাহলে কিসের আইন, কিসের বিচার? ওই দুই ভুক্তভোগী নারীর কাছে দেশের আইন-আদালত-বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী জবাব দেবেন?

হ্যাঁ, একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রমাণ লাগবে। বেশ ভালো কথা। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি কি তাঁর শরীরে প্রমাণ নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন? ধর্ষিত মেয়েটিকে কীভাবে তিনি ধর্ষিত হয়েছিলেন, সেই বর্ণনাটি বারবার দিতে হবে? একবার চিকিৎসকের কাছে দিতে হবে, একবার পুলিশের কাছে দিতে হবে, একবার আদালতে দিতে হবে, তারপর শুরু হবে উকিলের অসভ্য ও অশ্লীল জেরা! হায় সমাজ, হায় বিচারব্যবস্থা, যে মেয়েটি ধর্ষিত হয়ে শারীরিক নির্যাতন ও চরম অপমানের শিকার হয়েছেন, সেই ঘটনার দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করার চেয়ে ধর্ষিত মেয়েটিকে আরও বেশি হয়রানি ও মানসিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতেই কি সমাজ ও বিচারব্যবস্থার সব আয়োজন?

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, ধর্ষণ মামলা প্রমাণ করতে হলে মেডিকেল প্রতিবেদন খুব জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিহিত বস্ত্রের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলায় দুটি প্রতিবেদনেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

রায়ে আরও বলা হয়, ধর্ষণের মামলায় যদি মেডিকেল প্রতিবেদন না থাকে, সে ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য খুব জরুরি। মেডিকেল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দুজনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি; বরং আগে থেকে তাঁরা সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেছেন, সেদিন ওই দুই ভুক্তভোগী রেইনট্রি হোটেলে যান, সেটি প্রমাণ করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। প্রকৃত কারণ ছাড়াই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। হোটেলের কোনো সাক্ষী বলেননি, সেদিন ওই দুই নারী হোটেলে ছিলেন। এমনকি হোটেলের রেজিস্টার খাতায় ওই দুই ভুক্তভোগীর নাম নেই।

ভবিষ্যতে সঠিক তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ যেন মামলা গ্রহণ না করে, সে ব্যাপারেও রায়ে বলা হয়।

আদালত অনেক কথা বলেছেন, অনেক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাতে কি ভুক্তভোগী দুই নারী সান্ত্বনা পাবেন? তাঁরা তো দোষীদের শাস্তির জন্য মামলা করেছিলেন। কিন্তু শাস্তি কি হলো? নাকি ভুক্তভোগীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়া হলো? তাহলে কি রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি?

আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইন যে মোটেও নারীবান্ধব নয়, উল্লিখিত মামলার রায়ে আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নীতি অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণের জন্য আলামত চাই। অকাট্য প্রমাণের জন্য চিকিৎসকের সার্টিফিকেট চাই, দোষী ব্যক্তিদের ব্যাপারে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন চাই। আর ধর্ষণের ঘটনাটি প্রমাণ করতে হবে স্বয়ং অভিযোগকারীকেই। আমরা কি ধর্ষণের ব্যাপারে নারীবান্ধব নীতিমালা বানাতে পারি না, তৈরি করতে পারি না নতুন ও কার্যকর একটি আইন? ওই নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তাহলে প্রাথমিকভাবেই ধরে নেওয়া হবে যে ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা দোষী। ওই ব্যক্তি এবং ব্যক্তিদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বা তাঁরা নির্দোষ, অর্থাৎ ওই ধর্ষণের সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন এবং এ ধর্ষণের অভিযোগ হবে অজামিনযোগ্য। প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের দিতে হবে মৃত্যুদণ্ড।

আমাদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের কার্যধারা এবং নীতিমালাগুলো ব্রিটিশ কমন ল-এর কার্যধারা ও নীতিমালা দ্বারা প্রভাবিত এবং ওই প্রধান বিশ্ব আইনব্যবস্থার অনুগামী। ব্রিটিশ কমন ল-ব্যবস্থার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম বা ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার একটি প্রধান নীতি হচ্ছে যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে অভিযোগ করবেন, তাঁকে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা আদালতে তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেই কেবল তাঁকে শাস্তি প্রদান করা যাবে। ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার এই শতাব্দীপ্রাচীন নীতির কারণে ধর্ষণের শিকার নারীকে সীমাহীন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের নীতির কারণে ধর্ষিত নারীকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ধর্ষণকারীদের শাস্তি প্রদান করার জন্য ধর্ষণের শিকার নারীকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয় যে কারা তাঁকে ধর্ষণ করেছিল এবং কীভাবে ধর্ষণ করেছিল।

বাংলাদেশের সমাজে ধর্ষণ যেভাবে মহামারির আকার ধারণ করেছে, তাতে কবে ধর্ষণের ‘প্রমাণের দায়’ বা ‘বার্ডেন অব প্রুফ’, বিচার-প্রক্রিয়া ও ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার নীতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। পৃথিবীর অনেক সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে ওই নীতিমালা ও বিচার-প্রক্রিয়া বিদ্যমান। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্রে যে আইনব্যবস্থাটি প্রচলিত, তাকে বলে সিভিল ল সিস্টেম, এটি অন্যতম প্রধান বিশ্ব আইনব্যবস্থাও বটে। ওই সিভিল ল-ব্যবস্থার অনেক দেশে কোনো নারী ধর্ষিত হলে, যে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদেরই প্রমাণ করতে হয় যে তারা নির্দোষ। ধর্ষণের ক্ষেত্রে এ নীতিকে আমরাও গ্রহণ করতে পারি। এ নীতি গ্রহণ করা হলে ধর্ষণের শিকার নারীর হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন অনেকটা কমে যাবে। আর ধর্ষণের ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত, তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান, বিচার-প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রতিটি থানায় ‘রেপ ভিকটিম সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ওই সেন্টারে চিকিৎসক, নারী পুলিশ কর্মকর্তা, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা থাকবেন, যাঁরা হবেন জেন্ডার সংবেদনশীল এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবেন। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীবান্ধব নীতিমালা, আইন ও বিচার-প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে সমাজের শিকড় থেকে সমস্যাটিকে নির্মূলকরণের ব্যাপারে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান জরুরি, তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে আত্মসম্মান ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। এমন একটি সমাজ নির্মাণ করতে হবে, যেখানে আমাদের নারী, শিশু ও প্রবীণেরা হবেন সুরক্ষিত ও সম্মানিত। যেখানে প্রতিটি পরিবার থেকে নারীদের সম্মান করতে শেখানো হবে, যে সমাজে ধর্ষণ হয়ে উঠবে একটি অসম্ভব ঘটনা। আর যদি ঘটনাটি ঘটেই যায়, তাহলে ধর্ষককেই মাথা হেঁট করে চলতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে লুপ্ত করে দিতে হবে তার জীবনের অধিকার।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন সমাজ নির্মাণের অঙ্গীকার কোথায়?

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে বহুল আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে শাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই রায় নিয়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। কেউ কেউ একে বিচারের নামে প্রহসন বলছেন। অনেকে আবার আদালতের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বলছেন, তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত আর কী করবে?

ধর্ষিত হয়ে মামলা করে বিচার না পাওয়ার মতো দুঃসহ কিছু আর হতে পারে না। ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েও যদি অভিযুক্তরা ‘তথ্য-প্রমাণের’ অভাবে খালাস পেয়ে যায়, তাহলে কিসের আইন, কিসের বিচার? ওই দুই ভুক্তভোগী নারীর কাছে দেশের আইন-আদালত-বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী জবাব দেবেন?

হ্যাঁ, একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রমাণ লাগবে। বেশ ভালো কথা। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি কি তাঁর শরীরে প্রমাণ নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন? ধর্ষিত মেয়েটিকে কীভাবে তিনি ধর্ষিত হয়েছিলেন, সেই বর্ণনাটি বারবার দিতে হবে? একবার চিকিৎসকের কাছে দিতে হবে, একবার পুলিশের কাছে দিতে হবে, একবার আদালতে দিতে হবে, তারপর শুরু হবে উকিলের অসভ্য ও অশ্লীল জেরা! হায় সমাজ, হায় বিচারব্যবস্থা, যে মেয়েটি ধর্ষিত হয়ে শারীরিক নির্যাতন ও চরম অপমানের শিকার হয়েছেন, সেই ঘটনার দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করার চেয়ে ধর্ষিত মেয়েটিকে আরও বেশি হয়রানি ও মানসিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতেই কি সমাজ ও বিচারব্যবস্থার সব আয়োজন?

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, ধর্ষণ মামলা প্রমাণ করতে হলে মেডিকেল প্রতিবেদন খুব জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিহিত বস্ত্রের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলায় দুটি প্রতিবেদনেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

রায়ে আরও বলা হয়, ধর্ষণের মামলায় যদি মেডিকেল প্রতিবেদন না থাকে, সে ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য খুব জরুরি। মেডিকেল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দুজনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি; বরং আগে থেকে তাঁরা সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেছেন, সেদিন ওই দুই ভুক্তভোগী রেইনট্রি হোটেলে যান, সেটি প্রমাণ করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। প্রকৃত কারণ ছাড়াই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। হোটেলের কোনো সাক্ষী বলেননি, সেদিন ওই দুই নারী হোটেলে ছিলেন। এমনকি হোটেলের রেজিস্টার খাতায় ওই দুই ভুক্তভোগীর নাম নেই।

ভবিষ্যতে সঠিক তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ যেন মামলা গ্রহণ না করে, সে ব্যাপারেও রায়ে বলা হয়।

আদালত অনেক কথা বলেছেন, অনেক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাতে কি ভুক্তভোগী দুই নারী সান্ত্বনা পাবেন? তাঁরা তো দোষীদের শাস্তির জন্য মামলা করেছিলেন। কিন্তু শাস্তি কি হলো? নাকি ভুক্তভোগীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়া হলো? তাহলে কি রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি?

আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইন যে মোটেও নারীবান্ধব নয়, উল্লিখিত মামলার রায়ে আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নীতি অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণের জন্য আলামত চাই। অকাট্য প্রমাণের জন্য চিকিৎসকের সার্টিফিকেট চাই, দোষী ব্যক্তিদের ব্যাপারে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন চাই। আর ধর্ষণের ঘটনাটি প্রমাণ করতে হবে স্বয়ং অভিযোগকারীকেই। আমরা কি ধর্ষণের ব্যাপারে নারীবান্ধব নীতিমালা বানাতে পারি না, তৈরি করতে পারি না নতুন ও কার্যকর একটি আইন? ওই নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তাহলে প্রাথমিকভাবেই ধরে নেওয়া হবে যে ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা দোষী। ওই ব্যক্তি এবং ব্যক্তিদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বা তাঁরা নির্দোষ, অর্থাৎ ওই ধর্ষণের সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন এবং এ ধর্ষণের অভিযোগ হবে অজামিনযোগ্য। প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের দিতে হবে মৃত্যুদণ্ড।

আমাদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের কার্যধারা এবং নীতিমালাগুলো ব্রিটিশ কমন ল-এর কার্যধারা ও নীতিমালা দ্বারা প্রভাবিত এবং ওই প্রধান বিশ্ব আইনব্যবস্থার অনুগামী। ব্রিটিশ কমন ল-ব্যবস্থার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম বা ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার একটি প্রধান নীতি হচ্ছে যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে অভিযোগ করবেন, তাঁকে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা আদালতে তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেই কেবল তাঁকে শাস্তি প্রদান করা যাবে। ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার এই শতাব্দীপ্রাচীন নীতির কারণে ধর্ষণের শিকার নারীকে সীমাহীন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের নীতির কারণে ধর্ষিত নারীকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ধর্ষণকারীদের শাস্তি প্রদান করার জন্য ধর্ষণের শিকার নারীকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয় যে কারা তাঁকে ধর্ষণ করেছিল এবং কীভাবে ধর্ষণ করেছিল।

বাংলাদেশের সমাজে ধর্ষণ যেভাবে মহামারির আকার ধারণ করেছে, তাতে কবে ধর্ষণের ‘প্রমাণের দায়’ বা ‘বার্ডেন অব প্রুফ’, বিচার-প্রক্রিয়া ও ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার নীতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। পৃথিবীর অনেক সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে ওই নীতিমালা ও বিচার-প্রক্রিয়া বিদ্যমান। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্রে যে আইনব্যবস্থাটি প্রচলিত, তাকে বলে সিভিল ল সিস্টেম, এটি অন্যতম প্রধান বিশ্ব আইনব্যবস্থাও বটে। ওই সিভিল ল-ব্যবস্থার অনেক দেশে কোনো নারী ধর্ষিত হলে, যে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদেরই প্রমাণ করতে হয় যে তারা নির্দোষ। ধর্ষণের ক্ষেত্রে এ নীতিকে আমরাও গ্রহণ করতে পারি। এ নীতি গ্রহণ করা হলে ধর্ষণের শিকার নারীর হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন অনেকটা কমে যাবে। আর ধর্ষণের ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত, তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান, বিচার-প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রতিটি থানায় ‘রেপ ভিকটিম সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ওই সেন্টারে চিকিৎসক, নারী পুলিশ কর্মকর্তা, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা থাকবেন, যাঁরা হবেন জেন্ডার সংবেদনশীল এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবেন। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীবান্ধব নীতিমালা, আইন ও বিচার-প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে সমাজের শিকড় থেকে সমস্যাটিকে নির্মূলকরণের ব্যাপারে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান জরুরি, তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে আত্মসম্মান ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। এমন একটি সমাজ নির্মাণ করতে হবে, যেখানে আমাদের নারী, শিশু ও প্রবীণেরা হবেন সুরক্ষিত ও সম্মানিত। যেখানে প্রতিটি পরিবার থেকে নারীদের সম্মান করতে শেখানো হবে, যে সমাজে ধর্ষণ হয়ে উঠবে একটি অসম্ভব ঘটনা। আর যদি ঘটনাটি ঘটেই যায়, তাহলে ধর্ষককেই মাথা হেঁট করে চলতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে লুপ্ত করে দিতে হবে তার জীবনের অধিকার।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন সমাজ নির্মাণের অঙ্গীকার কোথায়?

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

ধর্ষণের মামলা প্রমাণের দায়িত্ব কার?

চিররঞ্জন সরকার
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:২২ 99 ভিউ
উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে বহুল আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে শাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই রায় নিয়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। কেউ কেউ একে বিচারের নামে প্রহসন বলছেন। অনেকে আবার আদালতের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বলছেন, তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত আর কী করবে? ধর্ষিত হয়ে মামলা করে বিচার না পাওয়ার মতো দুঃসহ কিছু আর হতে পারে না। ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েও যদি অভিযুক্তরা ‘তথ্য-প্রমাণের’ অভাবে খালাস পেয়ে যায়, তাহলে কিসের আইন, কিসের বিচার? ওই দুই ভুক্তভোগী নারীর কাছে দেশের আইন-আদালত-বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী জবাব দেবেন? হ্যাঁ, একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রমাণ লাগবে। বেশ ভালো কথা। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি কি তাঁর শরীরে প্রমাণ নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন? ধর্ষিত মেয়েটিকে কীভাবে তিনি ধর্ষিত হয়েছিলেন, সেই বর্ণনাটি বারবার দিতে হবে? একবার চিকিৎসকের কাছে দিতে হবে, একবার পুলিশের কাছে দিতে হবে, একবার আদালতে দিতে হবে, তারপর শুরু হবে উকিলের অসভ্য ও অশ্লীল জেরা! হায় সমাজ, হায় বিচারব্যবস্থা, যে মেয়েটি ধর্ষিত হয়ে শারীরিক নির্যাতন ও চরম অপমানের শিকার হয়েছেন, সেই ঘটনার দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করার চেয়ে ধর্ষিত মেয়েটিকে আরও বেশি হয়রানি ও মানসিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতেই কি সমাজ ও বিচারব্যবস্থার সব আয়োজন? আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, ধর্ষণ মামলা প্রমাণ করতে হলে মেডিকেল প্রতিবেদন খুব জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিহিত বস্ত্রের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ। এই মামলায় দুটি প্রতিবেদনেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। রায়ে আরও বলা হয়, ধর্ষণের মামলায় যদি মেডিকেল প্রতিবেদন না থাকে, সে ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য খুব জরুরি। মেডিকেল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দুজনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি; বরং আগে থেকে তাঁরা সম্পর্কে জড়িয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেছেন, সেদিন ওই দুই ভুক্তভোগী রেইনট্রি হোটেলে যান, সেটি প্রমাণ করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। প্রকৃত কারণ ছাড়াই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। হোটেলের কোনো সাক্ষী বলেননি, সেদিন ওই দুই নারী হোটেলে ছিলেন। এমনকি হোটেলের রেজিস্টার খাতায় ওই দুই ভুক্তভোগীর নাম নেই। ভবিষ্যতে সঠিক তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ যেন মামলা গ্রহণ না করে, সে ব্যাপারেও রায়ে বলা হয়। আদালত অনেক কথা বলেছেন, অনেক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাতে কি ভুক্তভোগী দুই নারী সান্ত্বনা পাবেন? তাঁরা তো দোষীদের শাস্তির জন্য মামলা করেছিলেন। কিন্তু শাস্তি কি হলো? নাকি ভুক্তভোগীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়া হলো? তাহলে কি রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি? আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইন যে মোটেও নারীবান্ধব নয়, উল্লিখিত মামলার রায়ে আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নীতি অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণের জন্য আলামত চাই। অকাট্য প্রমাণের জন্য চিকিৎসকের সার্টিফিকেট চাই, দোষী ব্যক্তিদের ব্যাপারে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন চাই। আর ধর্ষণের ঘটনাটি প্রমাণ করতে হবে স্বয়ং অভিযোগকারীকেই। আমরা কি ধর্ষণের ব্যাপারে নারীবান্ধব নীতিমালা বানাতে পারি না, তৈরি করতে পারি না নতুন ও কার্যকর একটি আইন? ওই নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তাহলে প্রাথমিকভাবেই ধরে নেওয়া হবে যে ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা দোষী। ওই ব্যক্তি এবং ব্যক্তিদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বা তাঁরা নির্দোষ, অর্থাৎ ওই ধর্ষণের সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন এবং এ ধর্ষণের অভিযোগ হবে অজামিনযোগ্য। প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের দিতে হবে মৃত্যুদণ্ড। আমাদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের কার্যধারা এবং নীতিমালাগুলো ব্রিটিশ কমন ল-এর কার্যধারা ও নীতিমালা দ্বারা প্রভাবিত এবং ওই প্রধান বিশ্ব আইনব্যবস্থার অনুগামী। ব্রিটিশ কমন ল-ব্যবস্থার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম বা ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার একটি প্রধান নীতি হচ্ছে যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে অভিযোগ করবেন, তাঁকে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা আদালতে তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেই কেবল তাঁকে শাস্তি প্রদান করা যাবে। ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার এই শতাব্দীপ্রাচীন নীতির কারণে ধর্ষণের শিকার নারীকে সীমাহীন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের নীতির কারণে ধর্ষিত নারীকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ধর্ষণকারীদের শাস্তি প্রদান করার জন্য ধর্ষণের শিকার নারীকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয় যে কারা তাঁকে ধর্ষণ করেছিল এবং কীভাবে ধর্ষণ করেছিল। বাংলাদেশের সমাজে ধর্ষণ যেভাবে মহামারির আকার ধারণ করেছে, তাতে কবে ধর্ষণের ‘প্রমাণের দায়’ বা ‘বার্ডেন অব প্রুফ’, বিচার-প্রক্রিয়া ও ফৌজদারি ন্যায়বিচারব্যবস্থার নীতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। পৃথিবীর অনেক সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে ওই নীতিমালা ও বিচার-প্রক্রিয়া বিদ্যমান। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্রে যে আইনব্যবস্থাটি প্রচলিত, তাকে বলে সিভিল ল সিস্টেম, এটি অন্যতম প্রধান বিশ্ব আইনব্যবস্থাও বটে। ওই সিভিল ল-ব্যবস্থার অনেক দেশে কোনো নারী ধর্ষিত হলে, যে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদেরই প্রমাণ করতে হয় যে তারা নির্দোষ। ধর্ষণের ক্ষেত্রে এ নীতিকে আমরাও গ্রহণ করতে পারি। এ নীতি গ্রহণ করা হলে ধর্ষণের শিকার নারীর হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন অনেকটা কমে যাবে। আর ধর্ষণের ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত, তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান, বিচার-প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রতিটি থানায় ‘রেপ ভিকটিম সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ওই সেন্টারে চিকিৎসক, নারী পুলিশ কর্মকর্তা, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা থাকবেন, যাঁরা হবেন জেন্ডার সংবেদনশীল এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবেন। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীবান্ধব নীতিমালা, আইন ও বিচার-প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে সমাজের শিকড় থেকে সমস্যাটিকে নির্মূলকরণের ব্যাপারে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান জরুরি, তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে আত্মসম্মান ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। এমন একটি সমাজ নির্মাণ করতে হবে, যেখানে আমাদের নারী, শিশু ও প্রবীণেরা হবেন সুরক্ষিত ও সম্মানিত। যেখানে প্রতিটি পরিবার থেকে নারীদের সম্মান করতে শেখানো হবে, যে সমাজে ধর্ষণ হয়ে উঠবে একটি অসম্ভব ঘটনা। আর যদি ঘটনাটি ঘটেই যায়, তাহলে ধর্ষককেই মাথা হেঁট করে চলতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে লুপ্ত করে দিতে হবে তার জীবনের অধিকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন সমাজ নির্মাণের অঙ্গীকার কোথায়? লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: