ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইডিআরএ’র তদন্তে অপরাধীদের দায়মুক্তি


অথর
অর্থনৈতিক ডেক্স   দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 115 বার
ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইডিআরএ’র তদন্তে অপরাধীদের দায়মুক্তি

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে লুটপাটের ঘটনায় এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধীদের প্রশংসা করে দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ এই তদন্তের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির দুই পক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান-মো. নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেক পরিবার মিলে যে লুটপাট করেছে, তার সত্যতা মিলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন সাম্রাজ্য। এসব কাজে সহায়তা করেছেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হেমায়েত উল্লাহ। কিন্তু আইডিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে খালেককে পূর্ণাঙ্গ, হেমায়েতকে আংশিক অভিযুক্ত করে নজরুলকে পুরোপুরি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আইডিআরের তদন্ত কমিটির প্রধান ড. রেজাউল ইসলামের প্রতিবেদনে নজরুলকে সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নজরুলের বিদেশে টাকা নেওয়ার ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যা বিএসইসি ও বিএফআইইউ এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়াও লুটপাটের কারণে সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বিএসইসি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে পুরো বিমা খাতে তোলপাড় শুরু হয়। লুটপাটের ঘটনার সময় আইডিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান এম ড. মোশাররফ হোসেন কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রধান ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-ওই সময় দুই পক্ষের কাছ থেকেই নানা সুবিধা নিয়েছেন ড. মোশাররফ। বর্তমানে মোশাররফ হোসেন ছোট বোন ফেরদৌসি আক্তার ফারইস্টের আন্ডার রাইটিং বিভাগের প্রধান। গত ৬ বছর এই কোম্পানিতে প্রমোশন বন্ধ। কিন্তু আড়াই বছরে ৩টি প্রমোশন পেয়েছেন সৌভাগ্যবান এই নারী। এছাড়াও বিমা খাতের আলোচিত কোম্পানি ডেল্টা লাইফের কাছে ঘুস চেয়ে এ খাতে ব্যাপক সমালোচিত আইডিআরের চেয়ারম্যান। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কারণে আগামী ৩১ অক্টোবর লন্ডনে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ক রোডশো থেকে তার নাম বাদ দিয়েছে সরকার। জানতে চাইলে ড. মোশাররফ হোসেন সোমবার বলেন, আমি ফারইস্টের স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রধান ছিলাম। কিন্তু আর্থিক বিষয়গুলো ওইভাবে আমাদের কাছে আসেনি। এগুলো বোর্ড দেখে। আরেকটি বিষয় হলো- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কোনো অনিয়ম করলে স্বতন্ত্র পরিচালকদের কিছু করার থাকে না। কারণ স্বতন্ত্র পরিচালকদের ওইভাবে ক্ষমতায়ন করা হয়নি। মূল পরিচালকদের হাতে সব ক্ষমতা। এ কারণে আমি পদত্যাগ করে চলে এসেছি। বোনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার বোন ফারইস্টে চাকরি করে। প্রমোশনের জন্য আমি কোনো চাপ দেইনি। আমি এমডিকে বলেছি, কাজ শেখা যায় এমন জায়গায় তাকে দেবেন। এরপর কেউ অতি উৎসাহিত হয়ে প্রমোশন দিলে আমার কিছু করার থাকে না। এটি ওই কোম্পানির ব্যাপার। এখানে আমাকে জড়ানো হলে আমার প্রতি অবিচার হবে। লন্ডনে রোডশোতে অংশগ্রহণকারীর তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এই রোডশোতে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। সেখানে আমার নাম ছিল। কিন্তু আমি না থাকলে আইডিআরএ কোরাম সংকট হবে। সে কারণে রোডশোতে যোগ দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে। জানা গেছে, গত দশ বছরে ফারইস্ট লাইফে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএসইসিসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে মূল লুটপাট হয় ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। এ সময়ে কোম্পানির লাইফ ফান্ড ও এফডিআর ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল সম্রাজ্য গড়েছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। নিজের ও স্ত্রীর নামে প্রাসাদ সম বাড়ি ও তিনটি ব্যবসা খুলেছেন। দুটি জমি ক্রয় দেখিয়ে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু বিমার টাকা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার গ্রাহক নিয়ন্ত্রকসংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কোম্পানিটির যত অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক এমএ খালেকের আমলে। তিনি এই কোম্পানি থেকে বিভিন্নভাবে ৪শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে পরবর্তীকালে ৩৭৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। ওই সময়ে অর্থাৎ ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে অডিট কমিটির প্রধান ছিলেন আইডিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন। এরপর এমএ খালেকের মালিকানাধীন প্রাইম ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল আইডিআরের সদস্য হিসাবে নিয়োগ পান। আর ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। এদিকে ফারইস্টের জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরের কাছে গোপনে তথ্য তুলে ধরা হয়। আর এই তথ্যের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সংস্থাটি। যার প্রধান ছিলেন আইডিআরের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক বর্তমানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল ইসলাম। আইডিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মো. নজরুল ইসলাম অনেক কষ্ট করে নিজের জ্ঞান, বুদ্ধি এবং মেধা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জাপানে কাজ করে নগদ অর্থ অর্জন করেছেন। নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন। এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে নজরুল ইসলামের জমি ক্রয়সহ সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। নামে-বেনামে দেশের বাইরে টাকা পাঠানো, আমেরিকা ও ব্যাংককে বাড়ি থাকার বিষয়টির সত্যতা আছে বলে মনে হয় না। আইডিআরের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটি মনে করে, তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। কোম্পানি থেকে নজরুলের ৫শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এলেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বোর্ডের কাছে নজরুল ইসলাম অসহায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এমএ খালেকের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে পুরো খালেক পরিবার বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে এই কোম্পানিতে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। এক্ষেত্রে খালেকের স্ত্রী সাবিহা খালেক, দুই ছেলে শাহরিয়ার খালেদ ও রুবাইয়াত খালেদ, মেয়ে শারোয়াত খালেদ সিমিন, জামাতা মো. তানভীরুল হক, শ্যালক মো. ডিকোনসহ বোর্ডের সদস্য ছিল। তাছাড়া কোম্পানির ডিএমডি ও প্রশাসন প্রধান (বর্তমান এমডি) হেমায়েত উদ্দিন তার ছোট ভাই এবং একান্ত ঘনিষ্ঠ। ডিএমডি ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আবদুল আজিজ, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা আব্দুল খালেকও এই এমএ খালেকের এলাকার লোক। ফলে বোর্ডে ও খালেক পরিবারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলা সাহস পায়নি। জানতে চাইলে আইডিআরের তদন্ত কমিটির প্রধান ড. রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তার ভিত্তিতে রিপোর্ট করেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আমরা তথ্য চেয়েছি, কিন্তু দেয়নি। তার মতে, মূলত দুর্নীতির মূল নায়ক এমএ খালেক। কিন্তু ওই সময়ের বোর্ড তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এরপরও আমরা বোর্ডকে অব্যাহতি দেইনি। তাদেরকে সতর্ক করার জন্য বলেছি। তিনি বলেন, এমএ খালেক ৩৭৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। এখনও কোম্পানি তার কাছে টাকা পাবে। হেমায়েত উল্লাহর ব্যাপারে ড. রেজাউল বলেন, তার কথা তদন্ত রিপোর্টে এসেছে। বিভিন্ন জালিয়াতিতে খালেক সাহেবকে সহায়তা করেছেন হেমায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, তার ভিত্তিতে এই রিপোর্ট করা। এর বাইরে আমাদের কিছু করার ছিল না। জানা গেছে, শুধু ফারইস্টই নয় অন্য কোম্পানিতেও আইনের তোয়াক্কা করেননি এম এ খালেক পরিবার। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রি করে দেয় সাবিহা খালেক। কোনো উদ্যোক্তার এ ধরনের শেয়ার বিক্রি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্সের লঙ্ঘন। কারণ উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করতে হলে ৩০ কার্যদিবস আগে ঘোষণা দিতে হয়। এ কারণে গত ৭ অক্টোবর তাকে ৪ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। এর আগে পূর্ব ঘোষনা ছাড়া ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের শেয়ার বিক্রির অপরাধে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর এমএ খালেককে ১০ লাখ টাকা এবং রুবাইয়াত খালেদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন। আইডিআরের চেয়ারম্যান ড. মোশাররফের আপন বোন ফেরদৌসি আক্তার বর্তমানে ফারইস্টের জয়েন ভাইস প্রেসিডেন্ট বা (জেভিপি)। কোম্পানির আন্ডার রাইটিং অ্যান্ড রিইন্স্যুরেন্স বিভাগের প্রধান তিনি। ২০১৭ সালের ২ জুলাই পদ্মা লাইফ থেকে এই কোম্পানিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসইও) পদে যোগদান করেন ফেরদৌসি আক্তার। মাত্র আড়াই বছরে তিনটি প্রমোশন পেয়েছেন তিনি। প্রথম বছরে ফার্স্ট অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, এরপর অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সর্বশেষ গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর জেভিপি হিসাবে পদোন্নতি পান এই কর্মকর্তা। স্বাভাবিক নিয়মে এই তিনটি প্রমোশনের জন্য ৯ বছর সময় লাগে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তিতে লাফিয়ে লাফিয়ে পদন্নোতি পান সৌভাগ্যবান এই নারী। অন্যদিকে আর্থিক সংকটের কারণে গত ৬ বছর কোম্পানির কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি এবং পদোন্নতি বন্ধ। সেখানে কোনো প্রতিবন্ধকতাই এই কর্মকর্তাকে আটকাতে পারেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেরদৌসি আক্তার বলেন, কোম্পানিতে প্রমোশন বন্ধ আছে, এটি ঠিক। কিন্তু আমাকে কেন এতগুলো প্রমোশন দেওয়া হলো তা কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। এতটুকু বলতে পারি, জোর করে বা চাপ দিয়ে আমি কোনো প্রমোশন নেইনি। জানা গেছে, স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়াও ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ফারইস্ট লাইফের এমডি ছিলেন ড. মো. মোশাররফ হোসেন। ওই সময়ে ইনহাউজ বিজনেস নামে একটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। এ কারণে ওই সময়ে এমডির পদ থেকে চাকরিচ্যুত হন তিনি। ওই বছরের ১ জুন পর্যন্ত ১ মাস ২৪ দিন ভারপ্রাপ্ত এমডি ছিলেন জেনিথ লাইফের বর্তমান এমডি নুরুজ্জামান। ২ জুন থেকে যোগদান করেন মো. হেমায়েত উল্লাহ। এরপর থেকে এমডি সহায়তায় কোম্পানিটিতে লুটপাট শুরু হয়। এদিকে বিএসইসি থেকে বিমা কোম্পানিটির পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর এখনও বহাল তবিয়তে আছেন হেমায়েত উল্লাহ। সম্প্রতি একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দেখা করে তাকে পদ থেকে না সরানোর অনুরোধ করেছেন। এক্ষেত্রে কোম্পানির সাবেক পরিচালকদের জালিয়াতি উদঘাটনে বর্তমান বিএসইসির গঠন করা বর্তমান পর্ষদকে সহায়তা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব বিষয়ে জানতে সোমবার বিকালে হেমায়েত উল্লাহকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রতিবেদনের বিষয়টি জানানো হলেও সাড়া মেলেনি।







Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ok