বিদায়ী বছরে অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়নি - ডোনেট বাংলাদেশ

বিদায়ী বছরে সারা পদশে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার বিষয়টিও ছিল। নৃশংস হত্যাকান্ড সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়, যার রেশ এখনো রয়েছে। অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনিরা ধরা না পড়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সব হত্যাকান্ডের ক্লু উদ্ধার বা এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সময়ের প্রয়োজন হয়। এ জন্য ২০২১ সালে দেশে সংঘটিত অনেক হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার বা শনাক্ত করা সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন

ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকান্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে সারা দেশে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘গুলিবিনিময়’ বা ‘এনকাউন্টার’-এ নিহত হন ৩৪ জন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নয়জন এবং নির্যাতনে মারা যান চারজন। এছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী) একজনের মৃত্যু হয়। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেন আট নারী। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১০ নারী এবং হত্যার শিকার হন ৩ নারী। এছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন চার পুরুষ। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা

করা হয় ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১২ নারী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাজধানীর কলাবাগানের ৫০/১, প্রথম লেনের ভাড়াবাসা থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাবিরা রহমান লিপির দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মেলে। আলামত সংগ্রহের পর সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট জানায়, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। খুনের নেপথ্যে কারণ কী সে সম্পর্কে কোনো ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ। নানা প্রশ্নের ঘুরপাকেও খুলছে না তদন্তের জট। ডা. সাবিরা হত্যার ঘটনায় অন্তত দুই ডজন

পরিচিত বন্ধু, স্বজন, আত্মীয় ও বাসার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে মেলেনি আমলযোগ্য তথ্য, গোলকধাঁধায় আটকা তদন্ত!
পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলী বলেন, আমরা মূলত দুটি ডাইমেনশন (মাত্রা) বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি। ডিফারেন্ট (ভিন্ন) কিছু খুঁজছি। খুন করার পর আলামত নষ্ট করা হয়েছে নাকি খুনের আগে আগুন দেয়া হয়েছে, প্রিপ্লান (পূর্বপরিকল্পনা) নাকি ইন্সট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) খুন বিষয়গুলো আগে তদন্ত করে দেখছি। আমরা দুই ধরনেরই তথ্য পাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত খুনি কে, সেটা স্পষ্ট নয় বলে তিনি জানান।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল দুর্বৃত্ত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা

করে। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন মুহিবুল্লাহ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের। অন্যদিকে, মুহিবুল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পশ্চিমা ক‚টনীতিকরা। তীব্র নিন্দা জানায় জাতিসংঘও। আলোচিত ওই হত্যাকান্ডের পরদিন রাতেই নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সরাসরি জড়িত সন্দেহে অন্তত দুই ডজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে হত্যাকান্ডের প্রকৃত জড়িতদের এখনো শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট্র কর্মকর্তারা।

এপিবিএন-১৪ এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাইমুল হক জানান, রোহিঙ্গানেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার দেখানো হয় ১৫০ জনকে। মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৬ মে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দীন নামের এক যুবককে রাজধানীর পল্লবী থানার ডি বøকের একটি গ্যারেজের ভেতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে রোমহর্ষক ওই হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। চাঞ্চল্য ছড়ায় হত্যাকান্ডের বীভৎসতা। পরে মায়ের করা মামলায় অন্তত ১৫ জনকে গ্রেফতার

করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। গ্রেফতারদের মধ্যে ল²ীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালও রয়েছেন।
রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান। ভুক্তভোগী আজহারুল ও তার ছেলেকে আরবি পড়াতেন তিনি। বাসায় যাওয়া-আসার একপর্যায়ে আজহারুলের স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমামের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ইমামকে বাসায় আসতে নিষেধ করেন আজহারুল। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আজহারুলের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। আজহারুলকে সরিয়ে দিতে রহমানের সঙ্গে আসমা হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে এশার নামাজের পর রহমান মসজিদের দোতলায় তার ঘরে আজহারুলকে ডেকে নেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে

প্রথমে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর তার দুই হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়া হয়। পরবর্তীতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ২৫ মে স্থানীয়রা র‌্যাবকে খবর দেন। র‌্যাব সদস্যরা মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেন এবং তার দেখানো সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের মরদেহের খন্ডিত অংশ উদ্ধার করেন। পরে আজহারের স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডর খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার ও ইমাম আব্দুর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বনানীর স্বামীর বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। ইলমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনই পুলিশকে ফোন দেন। তারা দাবি করেন, মেঘলা আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় ইলমাকে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ইলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে।
গত ১৩ জুলাই আশুলিয়ার নরসিংহপুরে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু বর্মণকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন তারই বন্ধুরা। হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে স্কুলের আঙিনায় পুতে রাখেন তারা। র‌্যাবের তদন্তে লাশের পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনা থেকে এবং বিচ্ছিন্ন মাথা ঢাকার আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। র‌্যাব জানায়, সাভারের আশুলিয়ায় প্রাইভেট পড়া নিয়ে দ্ব›েদ্ব মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে হত্যা করা হয়। আদালতে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের দিন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যানপ্রার্থী মারুফ হোসেনের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য নায়েক রুবেল হোসেন নিহত হন। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারকে অনুরোধ করেও রাজি করতে না পেরে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তা জেনে ভোট বন্ধ রাখেন। বিকেলের পর ভোট গণনা শুরু হলে মারুফের লোকজন আবারও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রে বিজিবির টহল টিম আসে। এ সময় হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেনকে। ওই ঘটনায় গত ১৩ ডিসেম্বর সাভারের আশুলিয়া থেকে মূল অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। গ্রেফতার মারুফ কিশোরগঞ্জ উপজেলার গড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত চেয়ারম্যানপ্রার্থী ছিলেন। তার বাবা মোসাদ্দেক হোসেন একই ইউনিয়নে ১৯ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে তার মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে জয়ী হন মারুফ হোসেন।

বিদায়ী বছরে সারা পদশে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার বিষয়টিও ছিল। নৃশংস হত্যাকান্ড সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়, যার রেশ এখনো রয়েছে। অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনিরা ধরা না পড়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সব হত্যাকান্ডের ক্লু উদ্ধার বা এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সময়ের প্রয়োজন হয়। এ জন্য ২০২১ সালে দেশে সংঘটিত অনেক হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার বা শনাক্ত করা সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন

ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকান্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে সারা দেশে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘গুলিবিনিময়’ বা ‘এনকাউন্টার’-এ নিহত হন ৩৪ জন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নয়জন এবং নির্যাতনে মারা যান চারজন। এছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী) একজনের মৃত্যু হয়। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেন আট নারী। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১০ নারী এবং হত্যার শিকার হন ৩ নারী। এছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন চার পুরুষ। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা

করা হয় ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১২ নারী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাজধানীর কলাবাগানের ৫০/১, প্রথম লেনের ভাড়াবাসা থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাবিরা রহমান লিপির দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মেলে। আলামত সংগ্রহের পর সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট জানায়, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। খুনের নেপথ্যে কারণ কী সে সম্পর্কে কোনো ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ। নানা প্রশ্নের ঘুরপাকেও খুলছে না তদন্তের জট। ডা. সাবিরা হত্যার ঘটনায় অন্তত দুই ডজন

পরিচিত বন্ধু, স্বজন, আত্মীয় ও বাসার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে মেলেনি আমলযোগ্য তথ্য, গোলকধাঁধায় আটকা তদন্ত!
পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলী বলেন, আমরা মূলত দুটি ডাইমেনশন (মাত্রা) বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি। ডিফারেন্ট (ভিন্ন) কিছু খুঁজছি। খুন করার পর আলামত নষ্ট করা হয়েছে নাকি খুনের আগে আগুন দেয়া হয়েছে, প্রিপ্লান (পূর্বপরিকল্পনা) নাকি ইন্সট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) খুন বিষয়গুলো আগে তদন্ত করে দেখছি। আমরা দুই ধরনেরই তথ্য পাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত খুনি কে, সেটা স্পষ্ট নয় বলে তিনি জানান।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল দুর্বৃত্ত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা

করে। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন মুহিবুল্লাহ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের। অন্যদিকে, মুহিবুল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পশ্চিমা ক‚টনীতিকরা। তীব্র নিন্দা জানায় জাতিসংঘও। আলোচিত ওই হত্যাকান্ডের পরদিন রাতেই নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সরাসরি জড়িত সন্দেহে অন্তত দুই ডজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে হত্যাকান্ডের প্রকৃত জড়িতদের এখনো শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট্র কর্মকর্তারা।

এপিবিএন-১৪ এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাইমুল হক জানান, রোহিঙ্গানেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার দেখানো হয় ১৫০ জনকে। মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৬ মে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দীন নামের এক যুবককে রাজধানীর পল্লবী থানার ডি বøকের একটি গ্যারেজের ভেতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে রোমহর্ষক ওই হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। চাঞ্চল্য ছড়ায় হত্যাকান্ডের বীভৎসতা। পরে মায়ের করা মামলায় অন্তত ১৫ জনকে গ্রেফতার

করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। গ্রেফতারদের মধ্যে ল²ীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালও রয়েছেন।
রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান। ভুক্তভোগী আজহারুল ও তার ছেলেকে আরবি পড়াতেন তিনি। বাসায় যাওয়া-আসার একপর্যায়ে আজহারুলের স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমামের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ইমামকে বাসায় আসতে নিষেধ করেন আজহারুল। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আজহারুলের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। আজহারুলকে সরিয়ে দিতে রহমানের সঙ্গে আসমা হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে এশার নামাজের পর রহমান মসজিদের দোতলায় তার ঘরে আজহারুলকে ডেকে নেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে

প্রথমে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর তার দুই হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়া হয়। পরবর্তীতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ২৫ মে স্থানীয়রা র‌্যাবকে খবর দেন। র‌্যাব সদস্যরা মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেন এবং তার দেখানো সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের মরদেহের খন্ডিত অংশ উদ্ধার করেন। পরে আজহারের স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডর খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার ও ইমাম আব্দুর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বনানীর স্বামীর বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। ইলমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনই পুলিশকে ফোন দেন। তারা দাবি করেন, মেঘলা আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় ইলমাকে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ইলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে।
গত ১৩ জুলাই আশুলিয়ার নরসিংহপুরে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু বর্মণকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন তারই বন্ধুরা। হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে স্কুলের আঙিনায় পুতে রাখেন তারা। র‌্যাবের তদন্তে লাশের পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনা থেকে এবং বিচ্ছিন্ন মাথা ঢাকার আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। র‌্যাব জানায়, সাভারের আশুলিয়ায় প্রাইভেট পড়া নিয়ে দ্ব›েদ্ব মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে হত্যা করা হয়। আদালতে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের দিন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যানপ্রার্থী মারুফ হোসেনের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য নায়েক রুবেল হোসেন নিহত হন। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারকে অনুরোধ করেও রাজি করতে না পেরে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তা জেনে ভোট বন্ধ রাখেন। বিকেলের পর ভোট গণনা শুরু হলে মারুফের লোকজন আবারও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রে বিজিবির টহল টিম আসে। এ সময় হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেনকে। ওই ঘটনায় গত ১৩ ডিসেম্বর সাভারের আশুলিয়া থেকে মূল অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। গ্রেফতার মারুফ কিশোরগঞ্জ উপজেলার গড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত চেয়ারম্যানপ্রার্থী ছিলেন। তার বাবা মোসাদ্দেক হোসেন একই ইউনিয়নে ১৯ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে তার মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে জয়ী হন মারুফ হোসেন।

বিদায়ী বছরে অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়নি

ডা. সাবিরা-মুহিবুল্লাহ হত্যায় অস্বস্তি

সাখাওয়াত হোসেন
আপডেটঃ ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৯:০০ 70 ভিউ
বিদায়ী বছরে সারা পদশে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার বিষয়টিও ছিল। নৃশংস হত্যাকান্ড সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়, যার রেশ এখনো রয়েছে। অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনিরা ধরা না পড়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সব হত্যাকান্ডের ক্লু উদ্ধার বা এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সময়ের প্রয়োজন হয়। এ জন্য ২০২১ সালে দেশে সংঘটিত অনেক হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার বা শনাক্ত করা সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও

সালিশ কেন্দ্র (আসক) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকান্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে সারা দেশে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘গুলিবিনিময়’ বা ‘এনকাউন্টার’-এ নিহত হন ৩৪ জন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নয়জন এবং নির্যাতনে মারা যান চারজন। এছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী) একজনের মৃত্যু হয়। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেন আট নারী। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১০ নারী এবং হত্যার শিকার হন ৩ নারী। এছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন চার পুরুষ। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা

হয় ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন ১২ নারী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাজধানীর কলাবাগানের ৫০/১, প্রথম লেনের ভাড়াবাসা থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাবিরা রহমান লিপির দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মেলে। আলামত সংগ্রহের পর সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট জানায়, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। খুনের নেপথ্যে কারণ কী সে সম্পর্কে কোনো ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ। নানা প্রশ্নের ঘুরপাকেও খুলছে না তদন্তের জট। ডা. সাবিরা হত্যার ঘটনায় অন্তত দুই ডজন পরিচিত বন্ধু,

স্বজন, আত্মীয় ও বাসার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে মেলেনি আমলযোগ্য তথ্য, গোলকধাঁধায় আটকা তদন্ত! পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলী বলেন, আমরা মূলত দুটি ডাইমেনশন (মাত্রা) বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি। ডিফারেন্ট (ভিন্ন) কিছু খুঁজছি। খুন করার পর আলামত নষ্ট করা হয়েছে নাকি খুনের আগে আগুন দেয়া হয়েছে, প্রিপ্লান (পূর্বপরিকল্পনা) নাকি ইন্সট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) খুন বিষয়গুলো আগে তদন্ত করে দেখছি। আমরা দুই ধরনেরই তথ্য পাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত খুনি কে, সেটা স্পষ্ট নয় বলে তিনি জানান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল দুর্বৃত্ত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা

সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন মুহিবুল্লাহ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের। অন্যদিকে, মুহিবুল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পশ্চিমা ক‚টনীতিকরা। তীব্র নিন্দা জানায় জাতিসংঘও। আলোচিত ওই হত্যাকান্ডের পরদিন রাতেই নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সরাসরি জড়িত সন্দেহে অন্তত দুই ডজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে হত্যাকান্ডের প্রকৃত জড়িতদের এখনো শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট্র কর্মকর্তারা। এপিবিএন-১৪ এর অধিনায়ক পুলিশ

সুপার নাইমুল হক জানান, রোহিঙ্গানেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার দেখানো হয় ১৫০ জনকে। মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ মে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দীন নামের এক যুবককে রাজধানীর পল্লবী থানার ডি বøকের একটি গ্যারেজের ভেতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে রোমহর্ষক ওই হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। চাঞ্চল্য ছড়ায় হত্যাকান্ডের বীভৎসতা। পরে মায়ের করা মামলায় অন্তত ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। গ্রেফতারদের মধ্যে ল²ীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালও রয়েছেন। রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান। ভুক্তভোগী আজহারুল ও তার ছেলেকে আরবি পড়াতেন তিনি। বাসায় যাওয়া-আসার একপর্যায়ে আজহারুলের স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমামের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ইমামকে বাসায় আসতে নিষেধ করেন আজহারুল। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আজহারুলের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। আজহারুলকে সরিয়ে দিতে রহমানের সঙ্গে আসমা হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে এশার নামাজের পর রহমান মসজিদের দোতলায় তার ঘরে আজহারুলকে ডেকে নেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে তার গলা কেটে হত্যা করা

হয়। এরপর তার দুই হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়া হয়। পরবর্তীতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ২৫ মে স্থানীয়রা র‌্যাবকে খবর দেন। র‌্যাব সদস্যরা মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেন এবং তার দেখানো সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের মরদেহের খন্ডিত অংশ উদ্ধার করেন। পরে আজহারের স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডর খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার ও ইমাম আব্দুর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বনানীর স্বামীর বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। ইলমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনই পুলিশকে ফোন দেন। তারা দাবি করেন, মেঘলা আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় ইলমাকে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ইলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে। গত ১৩ জুলাই আশুলিয়ার নরসিংহপুরে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু বর্মণকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন তারই বন্ধুরা। হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে স্কুলের আঙিনায় পুতে রাখেন তারা। র‌্যাবের তদন্তে লাশের পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনা থেকে এবং বিচ্ছিন্ন মাথা ঢাকার আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। র‌্যাব জানায়, সাভারের আশুলিয়ায় প্রাইভেট পড়া নিয়ে দ্ব›েদ্ব মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে হত্যা করা হয়। আদালতে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের দিন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যানপ্রার্থী মারুফ হোসেনের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য নায়েক রুবেল হোসেন নিহত হন। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারকে অনুরোধ করেও রাজি করতে না পেরে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তা জেনে ভোট বন্ধ রাখেন। বিকেলের পর ভোট গণনা শুরু হলে মারুফের লোকজন আবারও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রে বিজিবির টহল টিম আসে। এ সময় হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেনকে। ওই ঘটনায় গত ১৩ ডিসেম্বর সাভারের আশুলিয়া থেকে মূল অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। গ্রেফতার মারুফ কিশোরগঞ্জ উপজেলার গড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত চেয়ারম্যানপ্রার্থী ছিলেন। তার বাবা মোসাদ্দেক হোসেন একই ইউনিয়নে ১৯ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালে তার মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে জয়ী হন মারুফ হোসেন।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
এবার প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনে শাবি শিক্ষকরা আগামী ১৫ দিন তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী কাল থেকে উপজেলায় যাচ্ছে ওএমএসের চাল-আটা টেনিসকে বিদায় জানাচ্ছেন সানিয়া মির্জা বাংলাদেশের বোলিং কোচ হতে আগ্রহী শন টেইট দল বহিষ্কার করলেও কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব: তৈমুর বিজেপিতে যোগ দিয়ে আলোচনায় অপর্ণা ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিদ্ধিরগঞ্জে সেনাসদস্য হত্যায় ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার ডাব পাড়া নিয়ে মান্নানকে পিটিয়ে হত্যায় বাবা-ছেলের যাবজ্জীবন তালেবানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে: চীন দোষ থাকলে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাই মেনে নেব: উপাচার্য মধুখালীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক মধুখালীতে কোভিড পরবর্তী করনীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ রাজশাহীতে অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ডুয়ানি’র এডহক কমিটি ঘোষণা CU Chhatra League clash,wounded 5 leader একদিনে আরও ৩০ লাখ করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৮ হাজার ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ