বিদায় লিসবন – ডোনেট বাংলাদেশ

বিদায় লিসবন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ জুন, ২০২২ | ৭:০৮ 32 ভিউ
আঠারোশ শতকের একটা গ্রামোফোন উলটে-পালটে দেখছিলাম, পাশেই বেশ কিছু দুর্লভ রেকর্ডস, মাইকেল জ্যাকসন থেকে ম্যাডোনা, গানস অ্যান্ড রোজেস থেকে নুসরাত ফতেহ আলি খাঁ, কে নেই সেখানে। আসলে এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি তাগুস নদীর পার ঘেষে ক্যাথেড্রালের পিছনে চোর বাজার বা ফ্লি মার্কেটে যার কেতাবি নাম ফিয়েরা দ্যা লাডারা। গতকাল ঘুরে এসেছি লিসবন থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী শহর সিন্ত্রা থেকে, সেই সাথে উপরি পাওনা হিসেবে ইউরোপের সর্বপশ্চিমের বিন্দু কাবো দ্য রোকা আর সমুদ্রপাড়ের ভ্যাকেশন সেন্টার কাসকাইস থেকে। সেই সৌন্দর্যের রেশ নিয়ে ঘুম ভেঙেছিল বেশ দেরিতেই। যথারীতি কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট সেরে ব্যাগ গুছিয়ে মামা আর খালুর জন্য ওয়েট করতে লাগলাম। আজ এ হোটেল থেকে

চেকআউট করে আমি বাঙালিপাড়ার কাছে একটা পেনসিওতে উঠবো। যথারীতি তাদের আসতে দেরি হয়ে গেল। তাদের সহায়াতয়ায় লাগেজ স্থানান্তর করে পাশের এক ক্যাফেতে নাতা আর কফি খেয়ে নিলাম। খালুকে জিজ্ঞেস করলাম আজকে কী প্ল্যান। খালু জানালো আমার জন্য একটা চমক আছে। খালুর ওপর আস্থা আছে, আর খালুও আমার টেস্টটা জানেন, তাই আর বেশি ব্যাক্যব্যায় না করে খালুকে ফলো করতে লাগলাম। কালকে বেশ অনেকটা হাটতে হয়েছে, পাহাড় বেয়েও উঠতে হয়েছে, তাই শুরুতেই খালু নিশ্চিত হয়ে নিলেন আজ হাঁটার মতো অবস্থা আছে কিনা। তাকে আশ্বস্ত করলাম। লিসবনের সিগনেচার কিছু সিঁড়ি পাড়ি দিয়ে কাই সো দ্রে আর আলফামাকে পেছনে রেখে পাথর বিছানো পথ ধরে এগিয়ে চললাম।

সামনেই দেখা যাচ্ছিল সোউ জর্জ ক্যাসেল আর সি ক্যাথেড্রাল। তবে খালু দেখি সেদিকে না গিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। সামনে এগিয়ে গিয়ে তো আমি লা জওয়াব। চলে এসছি চোর বাজার, ইয়ে মানে ফ্লি মার্কেট। চোর বাজার বললে কেমন কেমন শোনালেও আদতে এটি পুরাতন জিনিসপত্র বেচাকেনার স্থান। দিল্লির জামে মসজিদের পেছনে প্রতি শুক্রবারে বসে এই ধরনের বাজার যার নাম চোর বাজারি। তাই দুনিয়ার যেখানেই এই ধরনের পুরাতন জিনিসের বিকিকিনি হয়- তাই অনেকে চোর বাজার নাম দিয়ে ফেলে। আপনারা আবার আমাদের অনলাইন পুরাতন জিনিস বেচা কেনার হাট “রিসাইকেল বিন”কে চোর বাজার নাম দিয়ে ফেলেন না। সাও ভিনসেন্টে দ্যা ফোরা নামক চার্চের পেছনে

ক্যাম্পো দ্য সান্টা ক্লারাতে প্রতি শনি আর মঙ্গলবারে বসে এই ফ্লি মার্কেট। এই মার্কেটের আদি ইতিহাস কিন্তু অনেক পুরানো। সেই ১২১২ সাল থেকে লিসবন নগরীর বিভিন্ন স্থানজুড়ে ছড়িয়ে ছিল এই ফ্লি মার্কেট। পরে এক জায়গায় করা হয়। “ফিয়েরা দ্য লাদরা”র বাংলায় অনুবাদ করলে বলা যাবে “মহিলা চোরদের বাজার”। ঐতিহাসিকদেরমতে এই বাজার বহু পুরানো। ১২শ খ্রিস্টাব্দে এটার সূচনা। তবে “ফিয়েরা দ্য লাদরা” নামকরণ হয় ১৭শ খ্রিস্টাব্দে। কথিত আছে যে বছরের শেষ রাতে অন্তত কিছু একটা চুরি করতে না পারলে, সারা বছর রোজগারপাতি খারাপ যাবে- মহিলা চোরেদের জগতে এমন একটি প্রবাদ সেসময় খুবই চালু ছিল ।৩১ ডিসেম্বর রাত ছিল লিসবনের সব ধরনের চোরেদের

হালখাতা করার রাত। মানে এই রাতটিতে কোথাও না কোথাও চুরি করে চোরেরা তাদের নতুন ‘চৌর্যাব্দ’ শুরু করতো । ডিসেম্বর জুড়ে সন্ধে থেকেই হরেক রকমের বাতির আলোয় ভেসে যায় লিসবন। সুতরাং সেই আলো আর জেগে থাকা অত মানুষের চোখ এড়িয়ে যে-চোর কোনও গেরস্তবাড়ি থেকে কিছু চুরি করে আনতে পারে, বোঝা যায়, সত্যিই সে ভাল বংশের চোর । আর এই ধারণাটি থেকেই সম্ভবত এই রাতে কিছু না কিছু চুরি করে মহিলা চোরেরা নতুন বছরের কর্মজীবন শুরু করতো। পরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসতো এই খোলা বাজারে।কালের পরিক্রমায় এটা আজ পরিণত হয়েছে সাপ্তাহিক পুরোনো জিনিসের খোলা হাটে। হোক না যতই বিশ্বায়ন, খোলাবাজার, সুপার মার্কেট, অনলাইন

শপিং, ব্রেন্ডেড জিনিসের দিন। তবুও মানুষের পুরাতন জিনিসের প্রতি খুব আকর্ষণ। পুরোনো বইয়ের সোঁদা গন্ধে, কিংবা কোন এক পুরানো ছবির রঙের পোঁচে ডুবে যেতে সবারই মনে হয় খুব ভালো লাগে। এখানে মানুষের কাছে যেন অঢেল সময়। লন্ডনের মতো সময়ের আগে আগে অহেতুক দৌড়নোর চেষ্টা দেখি না। এক ধীর স্থির শান্তি বিরাজমান এই শহরের প্রানে, ছন্দে।শনিবার এখানে বাচ্চাদের ও চাকরিজীবীদের ছুটি থাকে। শুধু লিসবনে না গোটা ইউরোপজুড়ে শনিবার বা রোববার জায়গায় জায়গায় সারাদিনের হাট বসে। দিনটা যদি রৌদ্রদীপ্ত উজ্জ্বল হয়, ইউরোপিয়ান হাটের এই শান্ত বেচা কেনা, লেনদেন এক সুন্দর নিশিন্তির ছবি তুলে ধরে। আদতে ব্যাবহৃত জিনিসপত্রের বেচাকেনার স্থান হলেও জহুরীর চোখ

থাকলে মিলে যেতে পারে অমূল্য রতন। ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম, বই, ম্যাগাজিন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টিভি, সাইকেল, ফার্নিচার কি নেই সেখানে। আফ্রিকান মুখোশ, ছবি থেকে শুরু করে মরোক্কান নক্সা কাঁটা মাটির বাসন, ভারতবর্ষের শাড়ি, টুপি, ব্যাগ, জুতো, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী সবই দেখি নিজের জায়গা করে নিয়েছে এই হাটে। এক দোকানে কয়েকটা ম্যাগাজিনে চোখ আটকে গেল। প্লে বয় ম্যাগাজিনের নাম শুধু শুনেছি কিন্তু হাতে নিয়ে দেখা হয়নি। এখানে দেখি এক দোকানি পুরাতন প্লে বয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছে। কিন্তু বিধি বাম, সাথে মুরব্বি থাকায় মনের দুঃখ মনেই চাপা দিয়ে সযতনে দোকানটা পাশ কাটিয়ে গেলাম। একটু সামনেই দেখি একটা দোকানে আর্মির জওয়ানদের ভিড়। উঁকি মেরে দেখি সেনাবাহিনীর

ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিস বিক্রি হচ্ছে সেখানে। এগুলো অবশ্য আনকোরা। একটা ব্যাগপ্যাক বেশ পছন্দ হয়ে যাওয়ায় আর দামের দিকে তাকালাম না। নিজের জন্য তো কিছুই কেনা হয় না। একটা ব্যাকপ্যাক অন্তত কিনি, এটলিস্ট ট্যুরের সময় কাজে দিবে। সে ক্যাথেড্রালফ্লি মার্কেটের খুব কাছেই সে ক্যাথেড্রাল। তিন দিন আগে রাতের বেলায় ঘুরে গিয়েছিলাম। তবে আজ দিনের আলোয় আরেকবার ঘুরে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। ইউরোপের অন্যতম পুরাতন আর বিখ্যাত চার্চ বলে কথা। সেই খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ সাল থেকে, ফিনিশিয়ান, কার্থেজিয়ান, ভিসিগথ, আরব, ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের হাত ধরে তাগুস নদীর ধারে গড়ে উঠেছিল যে শহর তার মূল ভিত্তি ছিল ক্যাসেল আর তার আশেপাশে নদীর কিনারা পর্যন্ত গড়ে উঠা ঘড়বাড়ি আর টেমপল। কালে কালে শহর আরো বিস্তৃত হয়েছে, কিন্তু শহরের মূল কেন্দ্র কিন্তু একই রকমই রয়ে গেছে। ১১৩৯ সালে যখন লিসবন প্রতিষ্ঠিত হয় তখনও কিন্তু আলফামা আর তার ক্যাসেলই ছিল এই শহরের প্রাণ। সেই সময় লিসবন ছিল একটি আরব শহর। আরবদের শক্তিশালী দুর্গ আর তাকে ঘিরে গড়ে উঠা গোলকধাঁধাই ছিল আল-হাম-মা যা অপভ্রংশ হয়ে রূপ নিয়েছে আলফামায়। ১১৪৭ সালে যখন পর্তুগালের প্রথম রাজা ডম আলফানসো মুরিশ তথা মুসলমদের হটিয়ে দুর্গ জয় করেন, তখনি তিনি এখানে একটি মনুমেন্টাল ক্যাথেড্রাল নির্মানের আদেশ দেন। এই ক্যাথেড্রালের সামনেই আমরা এখন দাঁড়িয়ে, স্থানীয়দের কাছে যা সে ক্যাথেড্রাল নামে পরিচিত। পদুয়ায় স্থানতরের আগে এখানেই সেইন্ট এন্থনি অব লিসবনের ব্যাপটাইজেশন করা হয়েছিল ১১৯৫ সালে। ক্যাথেড্রালের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এঁকে যতটা না ক্যাথেড্রালের মত মনে হচ্ছিল, তার চাইতে বেশি মনে হচ্ছিল কোন দুর্ভেদ্য দুর্গের মত। দুইপাশে দুই বিশাল খিলানের মাঝে আর্চওয়ে আর তার উপরে গোলাকার বেলজিয়ান গ্লাসের নকশা করা রঙিন জানালা। ইচ্ছে ছিল ভিতরে ঢুকে একটু ঘুরে দেখার, কিন্তু বিধি বাম, বড্ড অসময়ে চলে এসেছি, এ সময় পার্থনার কারনে ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। কি আর করা আমার মনের দুঃখ বুঝতে পেরে খালু প্রস্তাব দিলেন পার্কা দ্য কমাওর্সিওতে আরেকটা চার্চ ঘুরে দেখার- যার নাম চার্চ অব দ্য লেডি অফ কন্সেপশন। চার্চ অব দ্য লেডি অফ কন্সেপশন সে ক্যাথেড্রালে ঢুকতে না পেরে আলফামার গলিপথ পেরিয়ে দ্রুতই নিচের দিকে নামতে লাগলাম। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবারই এই পথে উপরে উঠেছি, তাই রস্তাও বেশ চেনা হয়েছে। মূলত ঢাকার পর দিল্লি বাদে কোন শহরেই এতটা সময় কাটানো হয়নি। খুব দ্রুতই পাহাড়ের উপর থেকে নিচে নেমে এলাম। পার্ক দ্য কমার্সিওতে পৌঁছার ঠিক আগেই পেয়ে গেলাম এই অনিন্দ্য সুন্দর চার্চটা। গত কয়েক দিনে এখান দিয়ে বেশ কয়েকবারই অতিক্রম করে গেছি, এমনকি লিসবনে আসার প্রথম দিনে রাতের বেলায় ঢুঁও মেরেছিলাম। বন্ধ থাকায় রাতের বেলায় সেইভাবে লক্ষ্য করা হয়নি। চার্চে ঢোকার মুখটাই অসাধারণ কারুকাজ করা। নানা ধরনের পৌরাণিক চরিত্র খোদাই করা আছে গেটের পেটিওজুড়ে। ভারি কাঠের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লাম। ভিতরে খুব কম মানুষ রয়েছে। বেশিরভাগই প্রার্থনায় ব্যাস্ত। তাদের পার্থনায় ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। সামনে দুই সারিতে বেঞ্চি পাতা, তার মাঝ দিয়ে ওয়াকওয়ে। দুই পাশে বেশ উঁচু বেদিতে মোমবাতি জ্বলছে। আর মাতা মেরি আর যিশুর বিভিন্ন মুর্তি অন্যরকম দ্যোতনা সৃষ্টি করেছে। ১০৮ কাসটম স্ট্রিত বা রুয়া দ্যা আলফানডেগায় অবস্থিত এই চার্চের আরেক নাম ইগ্রেজা দ্যা নসা সেনহরা দ্য কন্সিকাও ভেলহা। উচ্চারন করতেই তো দাত কপাটি লেগে যাবার জোগাড়। লিসবনের বিখ্যাত ভূকম্পের পর ১৭৫৫ সালে এই চার্চ পুনঃনির্মান করা হয়। চার্চে ঢোকার মুখে যে প্রবেশদ্বার তা কিন্তু এই চার্চের চাইতেও পুরানো। এই প্রবেশমুখ আসলে ভূমিকম্পের আগে এখানে যে চার্চ ছিল তারই ভগ্নাবশেষ। সেই চার্চের নাম ছিল আওয়ার লেডি অব মার্সি। চার্চের ভিতরের চ্যাপেল সোনালি রঙ্গে গিলটি করা আর তাকে আরো সুষমামন্ডিত করেছে আঠারোশ শতকের কিছু টাইলস আর ষোড়শ শতকের কিছু তৈলচিত্র। ঘুরে ঘুরে দেখে এখান থেকে বের হয়ে এলাম। সবেমাত্র দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে সূর্য হেলে পড়েছে। হাতে অনেক সময় বাকি। কার্যত আমাদের আজকে আর কোন ঘোরাঘুরির প্ল্যান নেই। তবে আগে পেট শান্ত করতে হবে। এখান থেকে বাঙালিপাড়া যেহেতু খুব একটা দূরে নয়, তাই হাঁটতে হাঁটতে সেদিকেই রওনা দিলাম। পরিচিত এক দোকানে ইলিশ মাছ আর ছোট মাছের ঝোল সাথে করল্লা ভাজি আর ঘন ডাল দিয়ে পেট ভরে ভাত খেলাম। আহ কতদিন পর এমন তৃপ্তি করে ভাত খেলাম। দোকানের মালিক কাল সকালে নেহারি খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। ভেবে দেখুন তো সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে লিসবনের মতো শহরে নেহারি দিয়ে তন্দুল রুটি খাচ্ছেন। ভাবতেও সুখ। তবে খাওয়া দাওয়ার পর একটু পাওয়ার ন্যাপ না নিলেই নয়। আজকে হেঁটেছিও অনেকটা পথ। তাই এ যাত্রা খালুকে ছুটি দিয়ে হোটেলর পানে রওনা দিতে চাইওলাম। যতই খালুকে বোঝাই আমি একলাই হোটেলে ফিরতে পারব, কিন্তু তিনি কিছুতেই ছাড়বেন না। একেবারে ছোট বাচ্চার মতো হাত ধরে হোটেলের রূমে পৌঁছে দিয়ে তারপর বিদায় নিলেন। কথা হলো সন্ধ্যার দিকে শুভ মামা এসে আমাকে নিয়ে আবার বের হবেন। সন্ধ্যায় খালুর একটা বিজনেস মিটিং আছে তাই তিনি আসতে পারবেন না, তবে কথা দিলেন ডিনার একসঙ্গেই করবেন। রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়েই সোজা বিছানায়। কতক্ষণ ঘুমালাম তা জানি না। ২৫ শে এপ্রিল ব্রিজ ঘুম ভাঙলো শুভ মামার ডাকাডাকিতে। দ্রুতই রেডি হয়ে বের হয়ে এলাম। মামাকে জিজ্ঞেস করায় জানালো আমাদের এখনকার গন্তব্য পন্তে ২৫ দ্য এব্রিল। নামটা পরিচিত ঠেকছিল। একটু চিন্তা করতেই মনে পড়লো বেলেমে সিটি ট্যুরের সময় আমাদের গাইডের মুখে শুনেছিলাম এই নাম। পন্তে মানে হচ্ছে ব্রিজ। তার মানে আমরা দেখতে যাচ্ছি ২৫ শে এপ্রিল ব্রিজ। আমার হোটেলের নিচেই মেট্রো স্টেশন। আর আমাদের যেহেতু ফ্রি পাস আছে তাই অন্য ট্রান্সপোর্ট ইউস করার চিন্তাও করি না। কয়েকটা ষ্টেশন পার হয়ে আমরা মেট্রো ত্যাগ করলাম। বাকিটা পথ হেঁটেই উঠলাম একটা ভিউ পয়েন্টে। এখান থেকে ২৫ শে এপ্রিল সেতু খুব ভালোভাবে দেখা যায়। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ব্রিজে লাইটও জ্বলে উঠেছে। তাগুস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখা এই ব্রিজের স্মৃতি আজীবনের মতো মনের খাতায় দাগ রেখে গেল। অনেকে সান ফ্রান্সিসকো-ওকল্যান্ড বে ব্রিজের সাথে লিসবন সাসপেনশন সেতুর তুলনা করে থাকে। তবে আমার কাছে গোল্ডেন গেট ব্রিজের সাথেই অনেক মিল রয়েছে বলে মনে হলো। ২০১৯ সালে আমেরিকায় ভ্রমণের সময় সানফ্রানসিসকোতে সুযোগ হয়েছে এই ব্রিজ চাক্ষুস দেখার। তাই তখনই তুলনাটা ভালো করতে পেরেছি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি দুইটি সেতুই একই কন্সট্রাকশন হাউস থেকে তৈরি। তাই স্ট্রাকচারে এত মিল। প্রায় ২.২ কিমি দীর্ঘ এই ২৫ শে এপ্রিল সাসপেনশন সেতুটি বিশ্বের অন্যতম লম্বা ব্রিজের মধ্যে একটি। ১৯৬৬ সালে নির্মিত, তার লালচে-কমলা রঙটি এটি সানফ্রান্সিসকোসের গোল্ডেন গেট ব্রিজের মতো দেখাচ্ছে। ২৫ এপ্রিল সেতুটি মূলত প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল পর্তুগালের ডানপন্থি স্বৈরশাসক, এন্টোনিও ডি অলিভিয়ার সালাজার এর নামে, যিনি ১৯৩২ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত শাসন করতেন। পর্তুগালের ১৯৭৪ সালের বিপ্লবের পর, বিপ্লবের সমর্থকের এই ব্রিজের নাম পরিবর্ত করে বর্তমান নামে রাখে। সালাজারের দলের প্রতি অনুগতরা এখনো সেতুটিকে সালাজর সেতু নামেই ডেকে থাকে এবং যারা তাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চায় তার শুধু ব্রিজ অন দ্য রিভার বলেই খালাস। বেশ কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে আবার ফিরতি পথ ধরলাম। খালুর সাথে রাতে এক তার্কিশ রেস্টুরেন্টে ডিনার করার কথা। তাই আর কালক্ষেপণ না করে মেট্রো স্টেশনের দিকে পা বাড়ালাম।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
টেক্সাসে লরি থেকে ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার ফিলিপাইনে নোবেল জয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসার নিউজ সাইট বন্ধের নির্দেশ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বহুদূর বন্যা : বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে ফের শঙ্কা তবু থামছে না দামের ঘোড়া সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে সমর্থন দেবে তুরস্ক ক্ষোভে ফুঁসছে সারাদেশ শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যা আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে চাচ্ছে সরকার বুস্টার ডোজে গতি নেই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী জাতিসংঘের মহাসাগর সম্মেলনে বাংলাদেশ করোনার সামাজিক সংক্রমণের শঙ্কা পুতিনকে জিততে দেবে না জি-৭ রাশিয়ার হামলায় সেভেরোদনেৎস্কের পর এবার পতনের মুখে লিসিচানস্ক সেন্সরে যাচ্ছে ‘পদ্মার বুকে স্বপ্নের সেতু’ ‘কীর্তিনাশার বুকে অমর কীর্তি’ সিলেটে বন্যার্তদের পাশে বিজিবি সদস্যরা স্বামীকে ছক্কা মারলেন পাকিস্তানের তারকা চরমপন্থা ঠেকাতে বাংলাদেশে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক যেসব কারণে পেপটিক আলসার হয়, চিকিৎসা কলারোয়া পৌর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনঃ সভাপতি ইমরান, সম্পাদক জুলফিকার নির্বাচিত রাণীশংকৈলে​​​​​​​ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত