বি এড স্কেলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেডের দাবি জানাচ্ছি।


অথর
শিক্ষকের কলাম   খোলা মতামত ডেক্স
প্রকাশিত :২২ জুলাই ২০২০, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ | পঠিত : 445 বার
0
বি এড স্কেলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেডের দাবি জানাচ্ছি।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জীবনে দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাবে তাও যদি আবার আইনের মারপ্যাচে পরে পিছিয়ে যায় অর্থাৎ যাদের চাকরির বয়স এমপিওভুক্তির হিসেবে ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে তাঁরাও এখন উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত হবেন দীর্ঘদিন। এমন আদেশ দেওয়ার ফলে আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ সত্যিই হতাশ।পূর্বে টাইমস্কেল দেওয়া হতো আট বছর পূর্ণ হলে। এখন তা উচ্চতর গ্রেড নামকরণ করা হয়েছে। আর এই উচ্চতর গ্রেড পাবেন শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে নয় বরং বি এড স্কেল থেকে। এমন আদেশ দেওয়ার ফলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আরও পিছিয়ে গেলাম এনালগ যুগে । ডিজিটাল যুগে এসে এমন আদেশ কারোর কাম্য হতে পারে না। এমনিতেই বেসরকারি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নেই পদন্নোতি। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জোর দাবি জানাচ্ছি বি এড স্কেলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার আদেশ হউক। আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এমনিতেই বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়ে চাকরি জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে।
২০১৫ সালে ৮ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার আগে যাদের চাকরির সময় সীমা আট বছর হয়েছিল শুধু মাত্র তারাই টাইমস্কেল পাবার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ৮ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পূর্বে যারা টাইমস্কেল পাবার জন্য আবেদন করেছিল শুধু মাত্র তারাই পর্যায়ক্রমে বর্তমানে উচ্চতর গ্রেড পেয়ে আসছে । পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পর্যন্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের টাইমস্কেল বা বর্তমানে উচ্চতর গ্রেড বন্ধ ছিল । সাম্প্রতিক সময়ে

উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উচ্চতর গ্রেড পাবে বি এড স্কেল থেকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে উচ্চতর গ্রেড যদি বি এড স্কেল থেকে দেওয়া হয় সেটা হবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকের ওপর একটা ঝুলুম। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার জন্য কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ব্যবস্থা চাই । কারণ বি এড স্কেল থেকে উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়ন করা হলে অনেক শিক্ষককে আরও অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘদিন। বর্তমান নিয়মে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরি জীবনে দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবে। একটি পাবে চাকরির ১০ বছর অতিবাহিত

হওয়ার পর এবং অন্যটি পাবে ১৬ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর। দীর্ঘদিন উচ্চতর গ্রেড বন্ধ থাকার কারণে অনেক বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা (৬০০০ - ৭০০০) টাকার আর্থিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান নিয়মে যদি উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হয় তাহলে শর্ত পূরণ করতে অনেক শিক্ষককে (৬০০০-৭০০০) টাকার আর্থিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে দীর্ঘদিন ।দীর্ঘদিন পর এবার চালু করা হচ্ছে উচ্চতর গ্রেড কিন্তু বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে গেল বেশিক জীবন। বেশ কয়েক বছর লুকোচুরি করার পর উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও দেখা যাচ্ছে তাতেও আবার সীমাহীন বৈষম্য বিরাজমান।আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন চাই। বি এড স্কেল নয় বরং এমপিওভুক্তির

তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেডের দাবি জানাচ্ছি । বি এড স্কেল যেহেতু শিক্ষকতার মানদন্ড সেহেতু এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড নয় কেন?
বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চরম বৈষম্যের শিকার। ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পায় । নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা, স্বল্প সুদে গৃহঋণ, নেই বদলি প্রথা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জীবনে যে দুটি সুযোগ সুবিধা ছিল তাও আইনের মারপ্যাচে বৈষম্যের শিকার হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে । উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় উচ্চতর গ্রেড নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সত্যিই হতাশাজনক। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আশা করি দায়িত্ব প্রাপ্ত

কর্মকর্তা বৃন্দ বি এড স্কেল নয় বরং এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেড প্রদান করলে শিক্ষক সমাজ চিরকাল স্মরণে রাখবে আপনাদের সেই অবদানের কথা।

ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
কুকুটিয়া কে, কে, ইনস্টিটিউশন
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
০১৯১৬২৯২৪৮৩

No Comments

ADD: 1762020