ভাঙাচোরা আড়াই হাজার কিমি. সড়ক-মহাসড়ক – ডোনেট বাংলাদেশ

ভাঙাচোরা আড়াই হাজার কিমি. সড়ক-মহাসড়ক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ জুলাই, ২০২২ | ৯:৫০ 47 ভিউ
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন সারা দেশে আড়াই হাজার কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় ১০টি জেলার ৪৭২ কিলোমিটার সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। অনেক এলাকার সড়কের অবস্থা এতই শোচনীয় যে গাড়ি চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। বাকি দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি রাস্তা আগ থেকেই খারাপ অবস্থায় ছিল। সওজের পৃথক দুই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে সওজের কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ বন্যায় যেসব সড়ক নষ্ট হয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে সার্বিকভাবে সড়কের অবস্থা বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক ভালো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান বলেন, আমাদের আওতাধীন

মোট সড়কের ৮০ শতাংশ ভালো আছে। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো শেষ হলে এ হার বেড়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে। এছাড়া বন্যায় যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো ছয় মাসের মধ্যে মেরামত শেষ করা হবে। তবে যেসব স্থানে ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজন হবে, সেক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে। সড়কের কারণে আসন্ন ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব জায়গায় মেরামত কাজ চলছে। গত ঈদের চেয়ে এবার আরও বেশি কাজ করা হচ্ছে। উত্তরের পথে চন্দ্রায় যানজট হয়। সেখানে রাস্তার ওপর থাকা বাস কাউন্টার সরানোর জন্য বলা হয়েছে। এদিকে পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানান, ৭ জুলাই অফিস শেষে মূলত শুরু হবে ঈদযাত্রা। ঈদুলফিতরের মতো এবারের

ঈদে বাড়তি ছুটি নেই। ফলে ৭ জুলাই থেকেই সড়কে যাত্রী ও গাড়ি-দুইয়ের চাপ পড়বে। পদ্মা সেতু চালুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় এবার ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তবে সড়ক খারাপ থাকায় সিলেট অঞ্চল ও উত্তরবঙ্গে যাতায়াতে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী সভাপতি আবুল কালাম বলেন, দেশের অনেক জেলায় রাস্তা ভাঙাচোরা। তবে তা চলার মতো অবস্থায় আছে। ঢাকা থেকে বের হতেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গাজীপুরের টঙ্গী ব্রিজ থেকে কলেজগেট পর্যন্ত সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে ওই পথেই যানজটে পড়তে হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে রাস্তার কাজ হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সড়কেও কাজ হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা আছে। তবে

ভারি বর্ষণ না হলে রাস্তায় খুব একটা যানজট তৈরি হবে না বলে মনে হচ্ছে। সওজ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সওজের আওতাধীন দুই হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা ভালো নয়। এর মধ্যে ৪৫৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা এতই খারাপ যে ওই রাস্তা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। বাকি ৪৯৩ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা খারাপ এবং ১১২৮ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা দুর্বল। অপরদিকে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ২৩ জুন ১০টি জেলার ৪১টি সড়কের ৪৭২ কিলোমিটার পানির নিচে তলিয়ে যায়। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ফেনী ও কুড়িগ্রামের

একটি জাতীয় মহাসড়ক, ৭টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ৩৩টি জেলা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির তোড়ে সড়কের অনেক অংশে ধুয়ে (ওয়াশ আউট) গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক-বাঁধ ধসে গেছে। ওইসব সড়ক এখন মেরামত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সওজ। আরও জানা যায়, সওজের আওতায় সারা দেশে ২২ হাজার ৪৭৬ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে থাকা রাস্তা বাদ দিয়ে ২০ হাজার ৭২ কিলোমিটার সড়কের ওপর গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি মার্চ পর্যন্ত সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ হাজার ৭২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ হাজার ৩০৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই ভালো, যা এ সংস্থার সড়কের ৭৬.২৫ শতাংশ।

এছাড়া ২৬৯০ কিলোমিটার (১৩.৪০ শতাংশ) সড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। বাকি ২০৭৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা ভালো নয়। এর মধ্যে ১১২৮ কিমি. সড়কের অবস্থা দুর্বল। বাকি রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল ও খারাপ রাস্তা মেরামতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে টাকার প্রয়োজন হবে ৬২৯৫ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এ টাকার জোগান পাওয়া গেলে খুব খারাপ ক্যাটাগরিতে থাকা ৪৫৬ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। বাকি সড়ক ভালোভাবে মেরামত করা হবে। এতে সড়কের আয়ুষ্কাল বাড়বে। আগামী পাঁচ বছর মেরামত খাতের ব্যয় অনেক কমে যাবে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, তখন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৬২২ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের চেয়ে সড়কের অবস্থা

এখন আরও ভালো। গত বছর সওজের আওতাধীন সড়কের খুবই ভালো মানের ছিল মোট সড়কের ৬৫ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৭৫.৮৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ভালো মানের ক্যাটাগরিতে এক বছরের ব্যবধানে ১৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮.৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে খারাপ ও দুর্বল ক্যাটাগরিতে থাকা রাস্তার পরিমাণ কমেছে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
অর্থ পাচার দুর্নীতি লুটপাটে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি সারা দেশে ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে ডলার লেনদেনের সুযোগ ব্রয়লার মুরগি ২শ টাকা কেজি পেঁয়াজের হাফ সেঞ্চুরি এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ, ১৪ লাখে বিক্রি তিন সেকেন্ডেই পালটে দেয় মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর সন্তানকে বিক্রির জন্য বাজারে তুললেন মা! বিদেশি চাপে সরকার বিক্ষোভ সমাবেশে ঝামেলা করছে না: মির্জা ফখরুল রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন সোহেল তাজ চলমান সংকট মোকাবিলায় ৬ মাসের প্যাকেজ গ্রহণের প্রস্তাব জাসদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার চিন্তা বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে, বেহেশতে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণ সাগরে কমে গেছে রাশিয়ার বিমান বহরের ক্ষমতা সরকার হটাতে সব দলকে এক হয়ে আন্দোলন করতে হবে: মান্না আ.লীগ মাঠে নামলে বিএনপি অলিগলিও খুঁজে পাবে না: কাদের ‘জন্মদিন পালনের কথা বলে হোটেলে এনে নারী চিকিৎসককে খুন’ নির্বাচিত হয়েও ফখরুলের সংসদে না যাওয়া নিয়ে যা বললেন কাদের ইরানে ড্রোন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে রাশিয়া: যুক্তরাষ্ট্র নাটোরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাঁধায় পন্ড মাগুরায় জেলা পরিষদের তৈরি স্থাপনা ভেঙ্গে দিল সড়ক বিভাগ শহরে আরও বাড়বে সংসদীয় আসন!