মহানগরীর উন্নয়ন নিয়ে দুই মেয়র প্রার্থীর নানা প্রতিশ্রুতি


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   রাজনীতি
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০২১, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 111 বার
মহানগরীর উন্নয়ন নিয়ে দুই মেয়র প্রার্থীর নানা প্রতিশ্রুতি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার ক্রমেই জমজমাট রূপ লাভ করছে। বড় দু’দলের ঝিমিয়ে পড়া কর্মী সমর্থকরা যেন জেগে উঠেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে। প্রার্থীদের গণসংযোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রতিদিনই বাড়ছে। পাড়া মহল্লায় কোন প্রার্থী প্রবেশ করলে তা অনেকটা মিছিলের রূপ ধারণ করছে। নৌকা-ধানের শীষসহ বিভিন্ন প্রতীকের স্লোগানে সরগরম অলিগলি। প্রার্থীরা চট্টগ্রামকে একটি স্মার্টসিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। প্রচারকালে বিক্ষিপ্ত কিছু হামলার অভিযোগ পাল্টা অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী মঙ্গলবার গণসংযোগ চালান পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড, শুলকবহর ওয়ার্ড এবং চকবাজার ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায়। গণসংযোগকালে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে সন্ত্রাস,

চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ব্যবসাবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলব। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজপথে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। মেয়র হয়ে রাজপথের পাশাপাশি প্রশাসনিক শক্তি নিয়ে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা অসম্ভব কিছু না। এদিন তিনি বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণসমিতির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রেজাউল করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের মানুষের সেবার জন্য তিনি আমার ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করতে আমাকে নৌকা প্রতীক নিয়ে

আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন। ভোটে নৌকা জয়ী হলে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বক্তব্যে তিনি মহানগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা আহমুদুর রহমান সিদ্দিকী, মোঃ শাহজাহান সুফী, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতা দেলোয়ার হোসেন লিটন, আবুল মনসুর, আবুল কাশেম, মোঃ এখতেয়ার হোসেন প্রমুখ। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন মঙ্গলবার পাহাড়তলী আমবাগান এলাকা থেকে তার গণসংযোগ শুরু করেন। এদিন তিনি ফ্লোরাপাস রোড, সরদার নগর, ঝাউতলা বাজার, ঝাউতলা কলোনি এবং ওয়ার্লেস মোড় হয়ে বড় এলাকা নিয়ে প্রচার

চালান। ওইসব এলাকায় তিনি কয়েকটি পথসভায়ও বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি হিসেবে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র পদে নিজের জন্য এবং কাউন্সিলর পদে বিএনপি প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে নগর উন্নয়নের পাশাপাশি এ খাদের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করবেন। তিনি বলেন, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্পন্ন একটি শহরের জন্য আমরা জনগণের দল হিসেবে জনগণের পাশেই আছি এবং থাকব। বক্তব্যে তিনি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক বিশেষায়িত করোনা মহামারী হাসপাতাল এবং একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। চসিকের অধীনে পরিচালিত ৫৬টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৫টি হাসপাতালে উন্নত

সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও সংস্কার করার পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে মা ও শিশু এবং বয়স্কদের জন্য রোগ নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, শিশুদের জন্য ৬-৭ বেডের এনআইসিইউ চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে আইসোলেশন সেন্টার করে সেগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার এবং হাইফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারলে কোন এক সময় করোনা চলে গেলেও এসব সেন্টারে অন্যান্য মহামারীর চিকিৎসা করা যাবে। এ সময় ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি নেতা এসকে খোদা তোতন, সফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মনজুর আলম চৌধুরী, কামরুল ইসলাম, জাহিদ মাস্টার, এসএম আজাদ, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী সখিনা বেগম প্রমুখ। এদিকে, ভোটের প্রচারে ভোটারদের অংশগ্রহণ

বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঘটছে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘাতের ঘটনাও। বিএনপির পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। নগরীর কয়েকটি জায়গায় ধানের শীষ প্রতীক এবং বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা বাদ দিলে ভোটের পরিবেশ এখনও যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়। চসিক নির্বাচন যেন প্রভাবিত না হয় সে জন্য রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী এমপিদের ভোটের প্রচারে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে আছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। মন্ত্রী এমপিরা কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামতে পারবেন না এমনকি প্রকাশ্য কোন ভূমিকায় থাকতে পারবেন না। যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে তাদের

উপস্থিতি থাকবে মূলত ভোট দানের মধ্যেই সীমিত। এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ইসি। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা চসিক নির্বাচন নিয়ে একাধিক ঘরোয়া বৈঠক করায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে বিএনপি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা যেন আর যেন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।







No Comments