লেখালেখি ও রবীন্দ্রনাথ - ডোনেট বাংলাদেশ

সৈয়দ মুজতবা আলী বিশ্বভারতীর প্রথম মুসলিম ছাত্র। তিনি সিলেট সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। সরস্বতী পূজার সময় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জে কে ডসনের বাড়ি থেকে ফুল চুরি নিয়ে দারুণ গন্ডগোল হয়। ডসনের আদেশে বাড়ির মালি ফুল চুরির অপরাধে মুজতবার বন্ধুদের বেদম প্রহার করেন। বহিষ্কার করা হয় কয়েকজন ছাত্রকে। ফলে স্কুলে হয় ধর্মঘট। মুজতবা ধর্মঘটে শামিল হন। ক্লাসে ফার্স্ট বয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ফুল যাঁরা চুরি করেছিলেন, তাঁদের তিনজন বহিষ্কৃত হিন্দু ছাত্র ক্ষমা চেয়ে স্কুলে ঢোকার অনুমতি পান। কিন্তু সৈয়দ মুজতবা আলীর বাবা সৈয়দ সিকান্দার আলী সরকারি চাকরিজীবী হয়েও নিজের সন্তানকে ক্ষমা চাইতে পাঠাননি; বরং স্কুল বাদ দিয়ে তাঁকে এক কারখানায় কাজে লাগিয়ে দিলেন।

১৯১৯ সালে মহারাজ গোবিন্দনারায়ণের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ দুদিনের জন্য এসেছিলেন সিলেটে। ছাত্রদের সামনে তিনি যে বক্তৃতা দিলেন, তাতে মোহিত হলেন মুজতবা আলী। বক্তৃতার বিষয় ছিল আকাঙ্ক্ষা। সেই বক্তৃতার কিছু ব্যাখ্যা চেয়ে মুজতবা আলী কবিকে আগরতলায় চিঠি লেখেন। কবি উত্তর দেন। তখনই মুজতবা আলী ঠিক করলেন, তিনি শান্তিনিকেতনে পড়তে যাবেন।

১৯২২ সালে মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনের শালবীথিতলে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সভায় পড়েন তাঁর প্রথম গল্প ‘নেড়ে’। শান্তিনিকেতনে থাকতেই তাঁর লেখার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের কানে আসে সে কথা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় ছাত্র সিতুর (এটাই মুজতবা আলীর ডাক নাম) লেখাগুলো পড়তেন। তাঁর বয়স যখন উনিশ, তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ডেকে বলেছিলেন, ‘এবার থেকে তুই লেখা ছাপতে আরম্ভ কর। লেখাগুলি আমাকে দিয়ে যাস। আমি ব্যবস্থা করব।’

১৯২৬ সালে যখন মুজতবা আলী শান্তিনিকেতন ছাড়েন, তখন তিনি রবীন্দ্রনাথকে প্রণাম করতে এলে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই তোর লেখা ছাপাচ্ছিস না কেন?’

সূত্র: সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, মানুষ মুজতবা আলী, লেখক মুজতবা আলী, জন্মশতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯-১১

সৈয়দ মুজতবা আলী বিশ্বভারতীর প্রথম মুসলিম ছাত্র। তিনি সিলেট সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। সরস্বতী পূজার সময় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জে কে ডসনের বাড়ি থেকে ফুল চুরি নিয়ে দারুণ গন্ডগোল হয়। ডসনের আদেশে বাড়ির মালি ফুল চুরির অপরাধে মুজতবার বন্ধুদের বেদম প্রহার করেন। বহিষ্কার করা হয় কয়েকজন ছাত্রকে। ফলে স্কুলে হয় ধর্মঘট। মুজতবা ধর্মঘটে শামিল হন। ক্লাসে ফার্স্ট বয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ফুল যাঁরা চুরি করেছিলেন, তাঁদের তিনজন বহিষ্কৃত হিন্দু ছাত্র ক্ষমা চেয়ে স্কুলে ঢোকার অনুমতি পান। কিন্তু সৈয়দ মুজতবা আলীর বাবা সৈয়দ সিকান্দার আলী সরকারি চাকরিজীবী হয়েও নিজের সন্তানকে ক্ষমা চাইতে পাঠাননি; বরং স্কুল বাদ দিয়ে তাঁকে এক কারখানায় কাজে লাগিয়ে দিলেন।

১৯১৯ সালে মহারাজ গোবিন্দনারায়ণের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ দুদিনের জন্য এসেছিলেন সিলেটে। ছাত্রদের সামনে তিনি যে বক্তৃতা দিলেন, তাতে মোহিত হলেন মুজতবা আলী। বক্তৃতার বিষয় ছিল আকাঙ্ক্ষা। সেই বক্তৃতার কিছু ব্যাখ্যা চেয়ে মুজতবা আলী কবিকে আগরতলায় চিঠি লেখেন। কবি উত্তর দেন। তখনই মুজতবা আলী ঠিক করলেন, তিনি শান্তিনিকেতনে পড়তে যাবেন।

১৯২২ সালে মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনের শালবীথিতলে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সভায় পড়েন তাঁর প্রথম গল্প ‘নেড়ে’। শান্তিনিকেতনে থাকতেই তাঁর লেখার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের কানে আসে সে কথা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় ছাত্র সিতুর (এটাই মুজতবা আলীর ডাক নাম) লেখাগুলো পড়তেন। তাঁর বয়স যখন উনিশ, তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ডেকে বলেছিলেন, ‘এবার থেকে তুই লেখা ছাপতে আরম্ভ কর। লেখাগুলি আমাকে দিয়ে যাস। আমি ব্যবস্থা করব।’

১৯২৬ সালে যখন মুজতবা আলী শান্তিনিকেতন ছাড়েন, তখন তিনি রবীন্দ্রনাথকে প্রণাম করতে এলে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই তোর লেখা ছাপাচ্ছিস না কেন?’

সূত্র: সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, মানুষ মুজতবা আলী, লেখক মুজতবা আলী, জন্মশতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯-১১

জীবন অগাধ

লেখালেখি ও রবীন্দ্রনাথ

সৈয়দ মুজতবা আলী
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:২৮ 64 ভিউ
সৈয়দ মুজতবা আলী বিশ্বভারতীর প্রথম মুসলিম ছাত্র। তিনি সিলেট সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। সরস্বতী পূজার সময় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জে কে ডসনের বাড়ি থেকে ফুল চুরি নিয়ে দারুণ গন্ডগোল হয়। ডসনের আদেশে বাড়ির মালি ফুল চুরির অপরাধে মুজতবার বন্ধুদের বেদম প্রহার করেন। বহিষ্কার করা হয় কয়েকজন ছাত্রকে। ফলে স্কুলে হয় ধর্মঘট। মুজতবা ধর্মঘটে শামিল হন। ক্লাসে ফার্স্ট বয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ফুল যাঁরা চুরি করেছিলেন, তাঁদের তিনজন বহিষ্কৃত হিন্দু ছাত্র ক্ষমা চেয়ে স্কুলে ঢোকার অনুমতি পান। কিন্তু সৈয়দ মুজতবা আলীর বাবা সৈয়দ সিকান্দার আলী সরকারি চাকরিজীবী হয়েও নিজের সন্তানকে ক্ষমা চাইতে পাঠাননি; বরং স্কুল বাদ দিয়ে তাঁকে এক কারখানায় কাজে লাগিয়ে দিলেন। ১৯১৯ সালে মহারাজ গোবিন্দনারায়ণের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ দুদিনের জন্য এসেছিলেন সিলেটে। ছাত্রদের সামনে তিনি যে বক্তৃতা দিলেন, তাতে মোহিত হলেন মুজতবা আলী। বক্তৃতার বিষয় ছিল আকাঙ্ক্ষা। সেই বক্তৃতার কিছু ব্যাখ্যা চেয়ে মুজতবা আলী কবিকে আগরতলায় চিঠি লেখেন। কবি উত্তর দেন। তখনই মুজতবা আলী ঠিক করলেন, তিনি শান্তিনিকেতনে পড়তে যাবেন। ১৯২২ সালে মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনের শালবীথিতলে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সভায় পড়েন তাঁর প্রথম গল্প ‘নেড়ে’। শান্তিনিকেতনে থাকতেই তাঁর লেখার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের কানে আসে সে কথা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় ছাত্র সিতুর (এটাই মুজতবা আলীর ডাক নাম) লেখাগুলো পড়তেন। তাঁর বয়স যখন উনিশ, তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ডেকে বলেছিলেন, ‘এবার থেকে তুই লেখা ছাপতে আরম্ভ কর। লেখাগুলি আমাকে দিয়ে যাস। আমি ব্যবস্থা করব।’ ১৯২৬ সালে যখন মুজতবা আলী শান্তিনিকেতন ছাড়েন, তখন তিনি রবীন্দ্রনাথকে প্রণাম করতে এলে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই তোর লেখা ছাপাচ্ছিস না কেন?’ সূত্র: সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, মানুষ মুজতবা আলী, লেখক মুজতবা আলী, জন্মশতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯-১১

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: