শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আর কান্না আজও বহমান – ডোনেট বাংলাদেশ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আর কান্না আজও বহমান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৯:১৬ 168 ভিউ
মাত্র আর দুই দিন বাকি। এরপরই জাতির সামনে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি দিবস। বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগে জাতি স্মরণ করবে সূর্যসন্তানদের। আজ বাংলাদেশের মানুষের বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস মিলিতভাবে পরিকল্পনা করে বাংলার শ্রেষ্ঠসন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এ মাটির প্রিয় সেসব সন্তানের লাশের গন্ধ যেন আজও বাতাসে ভাসে। সন্তানহারা মা, স্বামীহারা স্ত্রী, পিতাহারা সন্তানের করুণ হৃদয়ের কান্না আর রক্তক্ষরণ আজও বহমান। আজকের দিনে এদেশের জনসাধারণের আরেকবার উপলব্ধি-‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা/কারোর দানে পাওয়া নয়।/দাম দিছি প্রাণ লক্ষ কোটি/জানা আছে জগৎময়।’ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের

মানুষ আজ শ্রেষ্ঠসন্তানদের স্মরণ করবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষের ওপর পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। নির্বিচারে বাঙালি হত্যা, মাইলের পর মাইল ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, ভৌত অবকাঠামো ধ্বংস করা, নারীদের সম্ভ্রমহানি-সবকিছুই করেছে তারা। কিন্তু বাঙালির রণকৌশলের কাছে তারা টিকতে পারছিল না। তাই বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্যরা বাংলার শ্রেষ্ঠসন্তানদের নিধনে মাঠে নামে। রাতের অন্ধকারে বাসা অথবা কর্মস্থল থেকে শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে তারা হত্যা

করে। এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। দেশের নানা জায়গায় হত্যাযজ্ঞ চললেও মূল হত্যাযজ্ঞ চলে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রাখা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পরপরই বুদ্ধিজীবীদের নিকটাত্মীয়রা বধ্যভূমিতে অনেকের লাশ খুঁজে পান। তাদের নিথর দেহজুড়েই ছিল আঘাতের চিহ্ন, চোখ, হাত-পা বাঁধা। কারও কারও শরীরে একাধিক গুলিও ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে অনেককে হত্যা করা হয়েছিল। ক্ষতচিহ্নের কারণে অনেকের লাশ আবার তাদের প্রিয়জনরা শনাক্তও করতে পারেননি। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন-অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী,

ডা. মোহাম্মদ মুর্তজা, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য, ডা. মোহাম্মদ শফি, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামুদ্দীন আহমদ, খোন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, সৈয়দ নাজমুল হক, জহির রায়হান, আলতাফ মাহমুদ, ড. আবদুল খায়ের, ড. সিরাজুল হক খান, ড. ফয়জল মহী, ডা. আবদুল আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভিন, কবি মেহেরুন্নেসা, গিয়াস উদ্দীন আহমদ প্রমুখ। চার দশক পর ঘাতকদের বিচার শুরু হয়। ইতোমধ্যে মিরপুরের কসাই নামে খ্যাত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে। আলবদর নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের

চৌধুরীসহ অন্যদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার এখনো শেষ হয়নি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্য ঘাতকদের বিচার চলছে। এবারের বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতিকে পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত করার শপথ নেবে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ। যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২১ পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে থেকে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দেশের সব

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যসব বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোরে মিরপুর ও রায়েরবাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া অনেক দল ও সংগঠন আলোচনাসভার আয়োজন করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৮টায় মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টা

৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ৯টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
সমাবেশের জন্য কমলাপুর স্টেডিয়াম চেয়েছে বিএনপি বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে তালা, রাস্তায় ব্যারিকেড মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই র‌্যাব সদস্যসহ নিহত ৩ বাসা থেকে ফখরুলের জন্য নাস্তা নিয়ে গেছে ডিবি কার্যালয়ে গভীর রাতে মির্জা ফখরুলকে তুলে নেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিলেন স্ত্রী ঠাণ্ডা মাথায় যা করার, সেটাই করছি: নুসরাত ‘সেখানে থাকবে, খিচুড়ি পাক হবে, দেশ পাল্টে দেবে’ অস্ত্রগুলিসহ কলারোয়ার হৃদয় হোসেন নড়াইলে আটক বিএনপি ও জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল নওগাঁয় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন। তারাকান্দায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ: ৩৬ নেতাকর্মির নামে মামলা গাঁজাসহ রাবি ছাত্রলীগের চার নেতা আটক মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযো বিএনপির সমাবেশস্থল নিয়ে দ্বন্দ্ব, যা বললেন পুলিশ কর্মকর্তা হারুন বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুক্তির বিষয়ে পুলিশের আশ্বাস ডলার সংকটে কাঁচামাল আমদানি আরও নিম্নমুখী মার্কিনিদের জন্য সতর্কতা জারির পরিস্থিতি হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অযুত সম্ভাবনা বিপদাপন্ন করে তোলা হয়েছে অবশেষে নয়াপল্টন থেকে সরে এলো বিএনপি রোকেয়া দিবস আজও তিনি নারীসমাজের পথপ্রদর্শক