শহীদ বুদ্ধিজীবী কামিনীকুমার ঘোষ - ডোনেট বাংলাদেশ

মানুষ মানুষের জন্য। এই লাইনটি অনেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।তারা মানুষের জন্য কাজ করেন, তারা দেশের জন্য কাজ করেন। এই আলোকিত মানুষগুলো দেশের জন্য কাজ করেই আনন্দ পান। প্রতিক্ষণ সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। তাদের কাছে কোনো ভেদাভেদ থাকেনা। মানুষকে ভালোবাসতে পারলেই তারা আনন্দ লাভ করেন। আমৃত্যু যিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন এই রকম একজন মানুষ হচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলার কামিনীকুমার ঘোষ। যিনি রায় সাহেব নামে পরিচিত, একজন বাঙালি সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা, চট্টগ্রামের শিক্ষা বিস্তারে যার অবদান চির স্মরণীয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি কামিনীকুমার ঘোষ ১৮৮৮ সালের ১লা জানুয়ারি চট্টগ্রামের

সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯০৬ সালে এন্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯০৮ এ উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯১০ সালে গণিতে অনার্স পাশ করেন। ১৯১২ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইন বিষয়ে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯১৩ সালে কলকাতা থেকে ফিরে তিনি তার চাচা বঙ্গচন্দ্র ঘোষের সাথে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি বিয়ে করেছিলেন বাশখালী উপজেলার পালেগ্রাম চৌধুরীবাড়ীর কন্যা শৈলবালাকে। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ১১ সন্তানের জনক ছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এই মহান ব্যাক্তি সম্পর্কে জানেননা। বৃটিশ বাহিনী দীর্ঘ ২০০ বছর আমাদের শাসন এবং শোষণ করেছিলেন। দেশের মানুষ শোষিত হোক এটা তিনি চাননি। স্বাধীনতাপ্রেমী

কামিনী কুমার ঘোষ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। ১৯২১ সালে তিনি মহাত্মা গান্ধীর ভারত শাসন আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে আইন পেশা ছেড়ে দেন এবং আন্দোলনে সর্বাত্মক ভাবে জড়িয়ে যান। অনেকের মনে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের আন্দোলনের অন্যতম নায়ক।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে সাতকানিয়াতে ছিল মাত্র হাতে গোনা কত গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার এই শূন্যতা অনুধাবন করে তিনি উদ্যোগ নেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার। তিনি শুরু করেন এস বি ঘোষ ইনস্টিটিউট (উচ্চবিদ্যালয়) এবং এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি হাসপাতাল। সাতকানিয়া-বাশঁখালী এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে তিনি গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ১৯২৯ সালে সঙ্গীদের সহযোগীতায় তিনি স্থাপন করেছিলেন আমিলাইষ-কাঞ্চনা বঙ্গচন্দ্র ঘোষ নামে একটি ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয়। পরে এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। যে প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র ছাত্রী বের হয়েছেন। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতকানিয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন কামিনীকুমার। যা এখন চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কামিনীকুমার ঘোষ এর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও শিক্ষা প্রসারণমূলক কর্মকান্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে রায় সাহেব খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলে।তিনি ২৮ বছর চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাত

বছর সভাপতি ছিলেন। ১৬ বছর তিনি চট্টগ্রাম জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য, কাঞ্চানার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বেঞ্চ কোর্টের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশপ্রেমিক এই মহান ব্যক্তিকে পাকিস্তানি হায়েনারা বাচঁতে দেয়নি। ১৯৭১ সালের ২৪ই এপ্রিল শনিবার বেলা ১২টায় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী দোহাজারী ক্যাম্প থেকে কাঞ্চনায় আক্রমণ চালায়। কাঞ্চনা গ্রামের অনেক বাড়িয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেক হিন্দু রমণীর ইজ্জত নষ্ট করেছিল। অনেক নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল। জনশ্রুতি আছে এবং বাংলা উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি হানাদার বাহিনী কামিনীকুমারের বাড়িতে আক্রমণ করলে বাড়ীর লোকজন বৃদ্ধ কামিনীকুমারকে বাড়ীর শৌচাগারে লুকিয়ে রাখে, পরবর্তীতে কামিনীকুমার শৌচাগার থেকে বেড়িয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পথে এক রাজাকার তাকে সনাক্ত করে এবং

হানাদার বাহিনী গুলি করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। যে রাজাকারের নেতৃত্বে সাতকানিয়া সরকারী কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং কাঞ্চনা হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ বুদ্ধিজীবি কামিনীকুমার ঘোষ সহ অসংখ্য মানুষকে পাকিস্তানি হায়েনারা হত্যা করেছিল সেই রাজাকারের বিচার কি হয়েছিল? সেই রাজাকারের নাম আমার মত অনেকেই জানেননা। আমি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানাব এই ঘৃণিত ব্যাক্তির নাম প্রচার করার জন্য যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারেন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে কার হাত ছিল। রূপম চক্রবর্ত্তী
প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

মানুষ মানুষের জন্য। এই লাইনটি অনেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।তারা মানুষের জন্য কাজ করেন, তারা দেশের জন্য কাজ করেন। এই আলোকিত মানুষগুলো দেশের জন্য কাজ করেই আনন্দ পান। প্রতিক্ষণ সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। তাদের কাছে কোনো ভেদাভেদ থাকেনা। মানুষকে ভালোবাসতে পারলেই তারা আনন্দ লাভ করেন। আমৃত্যু যিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন এই রকম একজন মানুষ হচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলার কামিনীকুমার ঘোষ। যিনি রায় সাহেব নামে পরিচিত, একজন বাঙালি সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা, চট্টগ্রামের শিক্ষা বিস্তারে যার অবদান চির স্মরণীয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি কামিনীকুমার ঘোষ ১৮৮৮ সালের ১লা জানুয়ারি চট্টগ্রামের

সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯০৬ সালে এন্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯০৮ এ উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯১০ সালে গণিতে অনার্স পাশ করেন। ১৯১২ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইন বিষয়ে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯১৩ সালে কলকাতা থেকে ফিরে তিনি তার চাচা বঙ্গচন্দ্র ঘোষের সাথে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি বিয়ে করেছিলেন বাশখালী উপজেলার পালেগ্রাম চৌধুরীবাড়ীর কন্যা শৈলবালাকে। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ১১ সন্তানের জনক ছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এই মহান ব্যাক্তি সম্পর্কে জানেননা। বৃটিশ বাহিনী দীর্ঘ ২০০ বছর আমাদের শাসন এবং শোষণ করেছিলেন। দেশের মানুষ শোষিত হোক এটা তিনি চাননি। স্বাধীনতাপ্রেমী

কামিনী কুমার ঘোষ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। ১৯২১ সালে তিনি মহাত্মা গান্ধীর ভারত শাসন আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে আইন পেশা ছেড়ে দেন এবং আন্দোলনে সর্বাত্মক ভাবে জড়িয়ে যান। অনেকের মনে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের আন্দোলনের অন্যতম নায়ক।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে সাতকানিয়াতে ছিল মাত্র হাতে গোনা কত গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার এই শূন্যতা অনুধাবন করে তিনি উদ্যোগ নেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার। তিনি শুরু করেন এস বি ঘোষ ইনস্টিটিউট (উচ্চবিদ্যালয়) এবং এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি হাসপাতাল। সাতকানিয়া-বাশঁখালী এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে তিনি গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ১৯২৯ সালে সঙ্গীদের সহযোগীতায় তিনি স্থাপন করেছিলেন আমিলাইষ-কাঞ্চনা বঙ্গচন্দ্র ঘোষ নামে একটি ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয়। পরে এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। যে প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র ছাত্রী বের হয়েছেন। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতকানিয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন কামিনীকুমার। যা এখন চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কামিনীকুমার ঘোষ এর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও শিক্ষা প্রসারণমূলক কর্মকান্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে রায় সাহেব খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলে।তিনি ২৮ বছর চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাত

বছর সভাপতি ছিলেন। ১৬ বছর তিনি চট্টগ্রাম জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য, কাঞ্চানার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বেঞ্চ কোর্টের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশপ্রেমিক এই মহান ব্যক্তিকে পাকিস্তানি হায়েনারা বাচঁতে দেয়নি। ১৯৭১ সালের ২৪ই এপ্রিল শনিবার বেলা ১২টায় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী দোহাজারী ক্যাম্প থেকে কাঞ্চনায় আক্রমণ চালায়। কাঞ্চনা গ্রামের অনেক বাড়িয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেক হিন্দু রমণীর ইজ্জত নষ্ট করেছিল। অনেক নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল। জনশ্রুতি আছে এবং বাংলা উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি হানাদার বাহিনী কামিনীকুমারের বাড়িতে আক্রমণ করলে বাড়ীর লোকজন বৃদ্ধ কামিনীকুমারকে বাড়ীর শৌচাগারে লুকিয়ে রাখে, পরবর্তীতে কামিনীকুমার শৌচাগার থেকে বেড়িয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পথে এক রাজাকার তাকে সনাক্ত করে এবং

হানাদার বাহিনী গুলি করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। যে রাজাকারের নেতৃত্বে সাতকানিয়া সরকারী কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং কাঞ্চনা হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ বুদ্ধিজীবি কামিনীকুমার ঘোষ সহ অসংখ্য মানুষকে পাকিস্তানি হায়েনারা হত্যা করেছিল সেই রাজাকারের বিচার কি হয়েছিল? সেই রাজাকারের নাম আমার মত অনেকেই জানেননা। আমি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানাব এই ঘৃণিত ব্যাক্তির নাম প্রচার করার জন্য যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারেন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে কার হাত ছিল। রূপম চক্রবর্ত্তী
প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

শহীদ বুদ্ধিজীবী কামিনীকুমার ঘোষ

রূপম চক্রবর্ত্তী
আপডেটঃ ৩ জানুয়ারি, ২০২২ | ৫:৫২ 52 ভিউ
মানুষ মানুষের জন্য। এই লাইনটি অনেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।তারা মানুষের জন্য কাজ করেন, তারা দেশের জন্য কাজ করেন। এই আলোকিত মানুষগুলো দেশের জন্য কাজ করেই আনন্দ পান। প্রতিক্ষণ সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। তাদের কাছে কোনো ভেদাভেদ থাকেনা। মানুষকে ভালোবাসতে পারলেই তারা আনন্দ লাভ করেন। আমৃত্যু যিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন এই রকম একজন মানুষ হচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলার কামিনীকুমার ঘোষ। যিনি রায় সাহেব নামে পরিচিত, একজন বাঙালি সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা, চট্টগ্রামের শিক্ষা বিস্তারে যার অবদান চির স্মরণীয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি কামিনীকুমার ঘোষ ১৮৮৮ সালের ১লা জানুয়ারি চট্টগ্রামের

সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯০৬ সালে এন্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯০৮ এ উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯১০ সালে গণিতে অনার্স পাশ করেন। ১৯১২ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইন বিষয়ে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯১৩ সালে কলকাতা থেকে ফিরে তিনি তার চাচা বঙ্গচন্দ্র ঘোষের সাথে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি বিয়ে করেছিলেন বাশখালী উপজেলার পালেগ্রাম চৌধুরীবাড়ীর কন্যা শৈলবালাকে। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ১১ সন্তানের জনক ছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এই মহান ব্যাক্তি সম্পর্কে জানেননা। বৃটিশ বাহিনী দীর্ঘ ২০০ বছর আমাদের শাসন এবং শোষণ করেছিলেন। দেশের মানুষ শোষিত হোক এটা তিনি চাননি। স্বাধীনতাপ্রেমী

কামিনী কুমার ঘোষ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। ১৯২১ সালে তিনি মহাত্মা গান্ধীর ভারত শাসন আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে আইন পেশা ছেড়ে দেন এবং আন্দোলনে সর্বাত্মক ভাবে জড়িয়ে যান। অনেকের মনে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের আন্দোলনের অন্যতম নায়ক। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে সাতকানিয়াতে ছিল মাত্র হাতে গোনা কত গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার এই শূন্যতা অনুধাবন করে তিনি উদ্যোগ নেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার। তিনি শুরু করেন এস বি ঘোষ ইনস্টিটিউট (উচ্চবিদ্যালয়) এবং এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি হাসপাতাল। সাতকানিয়া-বাশঁখালী এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে তিনি গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের

উদ্যোগ নেন। ১৯২৯ সালে সঙ্গীদের সহযোগীতায় তিনি স্থাপন করেছিলেন আমিলাইষ-কাঞ্চনা বঙ্গচন্দ্র ঘোষ নামে একটি ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয়। পরে এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। যে প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র ছাত্রী বের হয়েছেন। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতকানিয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন কামিনীকুমার। যা এখন চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কামিনীকুমার ঘোষ এর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও শিক্ষা প্রসারণমূলক কর্মকান্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে রায় সাহেব খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলে।তিনি ২৮ বছর চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাত বছর

সভাপতি ছিলেন। ১৬ বছর তিনি চট্টগ্রাম জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য, কাঞ্চানার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বেঞ্চ কোর্টের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। দেশপ্রেমিক এই মহান ব্যক্তিকে পাকিস্তানি হায়েনারা বাচঁতে দেয়নি। ১৯৭১ সালের ২৪ই এপ্রিল শনিবার বেলা ১২টায় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী দোহাজারী ক্যাম্প থেকে কাঞ্চনায় আক্রমণ চালায়। কাঞ্চনা গ্রামের অনেক বাড়িয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেক হিন্দু রমণীর ইজ্জত নষ্ট করেছিল। অনেক নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল। জনশ্রুতি আছে এবং বাংলা উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি হানাদার বাহিনী কামিনীকুমারের বাড়িতে আক্রমণ করলে বাড়ীর লোকজন বৃদ্ধ কামিনীকুমারকে বাড়ীর শৌচাগারে লুকিয়ে রাখে, পরবর্তীতে কামিনীকুমার শৌচাগার থেকে বেড়িয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পথে এক রাজাকার তাকে সনাক্ত করে এবং হানাদার বাহিনী

গুলি করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। যে রাজাকারের নেতৃত্বে সাতকানিয়া সরকারী কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং কাঞ্চনা হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ বুদ্ধিজীবি কামিনীকুমার ঘোষ সহ অসংখ্য মানুষকে পাকিস্তানি হায়েনারা হত্যা করেছিল সেই রাজাকারের বিচার কি হয়েছিল? সেই রাজাকারের নাম আমার মত অনেকেই জানেননা। আমি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানাব এই ঘৃণিত ব্যাক্তির নাম প্রচার করার জন্য যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারেন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে কার হাত ছিল। রূপম চক্রবর্ত্তী প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
এবার প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনে শাবি শিক্ষকরা আগামী ১৫ দিন তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী কাল থেকে উপজেলায় যাচ্ছে ওএমএসের চাল-আটা টেনিসকে বিদায় জানাচ্ছেন সানিয়া মির্জা বাংলাদেশের বোলিং কোচ হতে আগ্রহী শন টেইট দল বহিষ্কার করলেও কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব: তৈমুর বিজেপিতে যোগ দিয়ে আলোচনায় অপর্ণা ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিদ্ধিরগঞ্জে সেনাসদস্য হত্যায় ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার ডাব পাড়া নিয়ে মান্নানকে পিটিয়ে হত্যায় বাবা-ছেলের যাবজ্জীবন তালেবানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে: চীন দোষ থাকলে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাই মেনে নেব: উপাচার্য মধুখালীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক মধুখালীতে কোভিড পরবর্তী করনীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ রাজশাহীতে অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ডুয়ানি’র এডহক কমিটি ঘোষণা CU Chhatra League clash,wounded 5 leader একদিনে আরও ৩০ লাখ করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৮ হাজার ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ