শ্রমিক সংকট: পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক


অথর
কৃষি ও প্রকৃতি সংবাদদাতা   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২২ এপ্রিল ২০২০, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 233 বার
0
শ্রমিক সংকট: পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় চিন্তার ভাঁজ পড়ছে কৃষকের কপালে। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাই প্রশাসন অন্য জায়গা থেকে শ্রমিক আনতে উদ্যোগ নিয়েছে। জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে মাঠের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষকরা জানান, গত ৪ দিন ধরে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। অনেক স্থানে জমির পাকা ধান ঝরে গেছে। নলুয়া হাওরপাড়ের ভূরাখালি গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি শ্রমিক না আসায় তারা পাকা ফসল কাটতে পারছেন না। নলুয়া হাওরের পূর্ব পাড়ের হিজলা গ্রামের দুদু মিয়া জানান, ১২ কেদার জমি

করেছি (৩০ শতকে ১ কেদার)। জমির অধিকাংশ ধান পেকে গেলেও এবার নাইয়া (ধান কাটার শ্রমিক) না আসায় ধান কাটতে পারছি না। উপজেলার মইহাওরের পাড়ের বাগময়না নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক নুরুল হক জানান, তিনি এবার ২৪ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। কিন্তু শ্রমিক না থাকায় ধান কাটতে পারছেন না। তবে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি সিলেটের কানাইঘাট থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা করছেন। মইহাওরের পূর্ব পাড়ের কৃষক হারুন মিয়া তালুকদার জানান, এবার তিনি ৫২ কেদার জমিতে বোরো ফসল চাষাবাদ করেছেন। ফসল ভালো হয়েছে এবং অধিকাংশ জমির ধানই পেকে গেছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সিলেটের কানাইঘাট থেকে ধান কাটার শ্রমিক এনেছেন। ইতোমধ্যে তার জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

শ্রমিকদের আলাদা ঘরে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার উপজেলার নলুয়া ও মইসহ ছোটবড় ১৫টি হাওরে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়। সব থেকে বেশি ধান আবাদ করা হয়েছে নলুয়া ও মইহাওরে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, আবহাওয়া অধিদফতরের বন্যার আশংকার পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে দ্রুত ধান কেটে ফেলতে মাইকিং করে কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বাহির থেকে শ্রমিক আনা যাবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাকা ও আধা পাকা ধানের শীষ দুলছে বাতাসে। শ্রমিক সংকট থাকায় কৃষক-কৃষাণি তাদের

পরিবার-পরিজন এবং স্বজনদের নিয়ে ফসল তোলার কাজে মাঠে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বালাগঞ্জ (সিলেট) : বালাগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা। এরই মধ্যে ১৬ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর ঢলের কারণে হাওরগুলো ডুবে যাচ্ছে। তানোর (রাজশাহী) : তানোরে ইরি-বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। ওই ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছেন কৃষক। তবে করোনার কারণে অঘোষিত লকডাউন যত দীর্ঘ হচ্ছে ততই কৃষকদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। কারণ ধান কাটা ও ঘরে তোলার শ্রমিক তারা পাচ্ছেন না। তানোর পৌর এলাকার জিওল-চাঁদপুর গ্রামের কৃষক চৈত্যা, আলতাব, রবিউল জানান, ধান

ক্ষেত দেখলে মন ভরে যায়। মাত্র ৮-১০ দিনের মধ্যে বোরো ধান কাটা ও মাড়া পুরোদমে শুরু হবে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় তাদের ঘুম নেই। প্রতি বছর ধান কাটতে অন্য জেলা থেকে শ্রমিকরা আসেন। তবে এবার অন্য জেলা থেকে শ্রমিকরা আসতে পারছেন না। বাস ও ট্রাকসহ সকল যানবাহন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক না এলে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক ঘরে ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪৮ হাজার ১শ’ ৪৮ মেট্রিক টন চাল। চলতি বছর

ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হলেও করোনাভাইরাসের কারণে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ জেলা-উপজেলার ধানকাটা শ্রমিকরা আসছেন না। ফলে আগৈলঝাড়ার কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপদে। শুরু থেকে আবহাওয়া অনকূলে থাকায় ধান বেশ ভালো হয়েছে। কৃষকরা জানান, ধান কাটা মৌসুমে বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক এসে ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। কিন্তু করোনাভাইরাস রোধে উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তাই শ্রমিকরা আসতে পারছেন না। নাটোর : প্রতিবছর রাজশাহী, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ ১৬ জেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক ধান কাটাতে আসেন চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। এবার করোনার কারণে শ্রমিক আসতে পারছেন না। তাই ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। এদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায়

৫০ ভাগ ভর্তুকি মূল্যে সিংড়ার জন্য ৬টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিনের ব্যবস্থা করেছে কৃষি বিভাগ। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে হার্ভেস্টার মেশিন দ্বারা ধান কাটা শুরু হয়েছে সিংড়ায়। তবে বিপুল পরিমাণ ধান মেশিনে কেটে সময়মতো ঘরে তোলা সম্ভব নয়। ডাহিয়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘বছরের এই সময় হাজার হাজার শ্রমিক এসে ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়ে যান। কিন্তু এবার তারা নাই। কীভাবে ধান ঘরে উঠবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, বাইরে থেকে আগত ধান কাটা শ্রমিকদের জেলায় প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে করোনার কারণে এখানে শ্রমিক সংকট

দেখা দিয়েছে। বেশি টাকা দিয়েও মেলানো যাচ্ছে না শ্রমিক। এ কারণে কৃষকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। উপজেলার বাগদহ গ্রামের কৃষক রাসেল শেখ জানান, প্রতিবছর ধান কাটার সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারও শ্রমিক এই উপজেলায় আসেন। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন থাকায় এ বার ধানকাটা শ্রমিক আসতে পারছেন না। রানাগাতী গ্রামের কৃষক বাবু মল্লিক জানান, তিনশ’ টাকার স্থলে চারশ’ টাকা দিয়েও মিলছে না ধানকাটা শ্রমিক। রংপুর : রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষি শ্রমিককে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটতে নেয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে ৮০ জন কৃষি শ্রমিককে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।

সরকারি খরচে বাসযোগে তাদের সেখানে পাঠানো হচ্ছে বলে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ আলী জানিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম চলবে। কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক রংপুর থেকে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি শ্রমিক সরকারি খরচে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

No Comments

ADD: 1762020


আরও পড়ুন