সাংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন – ডোনেট বাংলাদেশ

সাংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

হাফিজ সরকার
আপডেটঃ ২৫ অক্টোবর, ২০২২ | ৬:০০ 56 ভিউ
সাংস্কৃতিক কি?
সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল culture যা ল্যাটিন colere থেকে এসেছে। যা অর্থ কৃষিকাজ বা চাষাবাদ। বাংলা সংস্কৃতি শব্দটি সংস্কার থেকে এসেছে, যার অর্থ কোন জিনিসের দোষ ত্রুটি ময়লা আবজনা দূর করে তাকে ঠিকঠাক করে পরিশুদ্ধ করা। মানুষের চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ, জীবনযাত্রা, পোশাক, ভাষা, সাহিত্য, মূল্যবোধ, নৈতিকশিক্ষা, খাদ্যাভাস, ইতিহাস, রাজনীতি,অর্থনীতি সবই তার সংস্কৃতি। মানুষ তা ধারণ ও চর্চা করে তাই তার সংস্কৃতি। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি থাকে। দেশভেদে সময়ভেদে সংস্কৃতির পার্থক্য ঘটে।
আগ্রাসন কি ?
আগ্রাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল aggression যার অর্থ বিনা উস্কানি ছাড়া আক্রমন। কোন কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া দেওয়া অথবা কর্তৃত্বভাবাপন্ন বা অন্যায়ভাবে কোন কিছু গ্রাস

বা দখল করকে আগ্রাসন বলে।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন কি?
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে বোঝায় কোন সংস্কৃতিকে জোর করে গ্রাস, নিয়ন্ত্রন বা ধ্বংস করা। কোন একটি দেশের একক সংস্কৃতি যখন অন্যান্য সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এবং অন্য সংস্কৃতির স্থান যখন সেই সংস্কৃতি নিয়ে নেয় তখন আমরা একে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে পারি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে বলা হয় সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ইতিহাস:
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনটা হঠাৎ করে আসে নাই। এ ধরণটা আসে পুজিবাদের ধারণা থেকে। সমান্তবাদী সমাজ থেকে যখন মানুষ পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। তখন পুজিবাদীরা চিন্তা করল, পুজির বিকাশ হবে না যদি তাদের সংস্কৃতিকে সবাই অনুসরণ না করে। কারণ তাদের মত চিন্তা করতে

হবে, তাদের মত ভোগবাদী হতে হতে। বিভিন্ন উৎসবকে পণ্যের উৎসব বানাতে হবে, বাজার বৃদ্ধির জন্য সব কিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। নিজস্ব সংস্কৃতিকে ঘৃনা করে পুজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের সংস্কৃতি শ্রেষ্ঠ মনে করে তার চর্চা করতে হবে। মূলত পণ্যের ক্রেতা বৃদ্ধি করার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসনটা শুরু হয়। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জন্য গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, ফ্যাশনশো, সাহিত্য, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, সংগীতকে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর এসব ছাড়িয়ে দেবার জন্য তারা তথ্য প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বিস্তারের নামে নানা ধরণের জন্য তাদের তাবেদারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা এনজিও, বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিকে ব্যবহার করেছে। প্রতিটি দেশ তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসণের স্বীকার হয়েছে

তাদের স্বাধীনতার পরবতী সময়ে দেশ গঠনে বিদেশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরণের সাহায্য বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাহায্য ও ঋণ গ্রহন করে। ফলে যেটা হয়েছে এসব দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে ঠিকই তবে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সংস্কৃতিক মুক্তি পায়নি। কারণ তারা যেহেতু দেশ গঠনে এসব দেশকে সাহায্য করছে তাই তাদের সিদ্ধান্ত ও সংস্কৃতিকে এসব রাষ্ট্রে অনুসরণ করতে হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, সোমালিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিন আমেরিকার বিভিন্ন অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো আজ সাম্রাজ্যবাদীদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের স্বীকার।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণটা কি?
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মূল কারণ হল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা। তবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করাও আরেকটি কারণ। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দ্বারা নব্য উপনিবেশ স্থাপন করা।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দ্বারা সাম্রাজ্যবাদকে টিকিয়ে রাখাও এর বড় কারণ। কারণ সবাই তাদের মত চিন্তা করলে, আচারণ করলে, ভোগবাদী হলে সাম্রাজ্যবাদ টিকিয়ে রাখা সহজ হবে। আর একটি দেশকে অর্থনীতি ও রাজনীতি দ্বারা দীঘমেয়াদী প্রভাবিত করা যায় না। সংস্কৃতি দ্বারা দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাবিত করা যায়। অনেক সময় প্রভাবিত করতে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয় না। কারণ তাদের দেশীয় প্রতিনিধিরা তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে। দেশের মানুষ বেশি বেশি করে তাদের বিদেশী সংস্কৃতিকে চর্চা করে তাদের মত হতে চায়; এটাকেই সভ্যতা, আধুনিকতা মনে করে। নিজস্ব চিন্তা চেতনা, রীতি নীতি আর ভাল লাগে না। মানুষ তখন চিন্তা করে বিদেশী সংস্কৃতি দ্বারা। বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ

করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এদেশের নাগরিক হলেও চর্চা করতে চায় পশ্চিমা বিশ্বে সংস্কৃতি। তাদের মনকে পরিচালিত করে আমেরিকা আর সেই মনকে টিকিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের জিনিস ব্যবহার করে। বাংলাদেশে জন্ম; বেড়ে ওঠা, মায়ের ভাষা বাংলা, জাতি হিসেবে বাঙ্গালী তারপরও তারা দেশকে ভালবাসতে পারে না ভালবাসে পশ্চিমা সংস্কৃতিকে। মানুষের চিন্তা চেতনা, আদর্শকে নিয়ন্ত্রন করার জন্যই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব: যে কোন আগ্রাসন হোক তার প্রভাব কখনই ভাল নয়। আর তা যদি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হয় তবে তা হয় আরও ভয়াবহ। কারণ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনটা বার বার প্রয়োগ করতে হয় না। একবার কোন সমাজ বা দেশকে সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত করতে পারলে রাজনৈতিক

ও অথনৈতিক আগ্রাসন ক্ষেত্রে তা সহজ হয়। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন খুবই কঠিন ও সূক্ষ্ম বিষয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালান হয় আর এধরণের আগ্রাসন মোকবেলা করতে যে সচেতনতা ও শিক্ষা দরকার এসব তাদের থাকে না। ফলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে এসব দেশগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর সংস্কৃতি সকল কিছুর সাথে যুক্ত থাকায় এসব দেশের রাজনীতি অর্থনীতি ও সামাজিক সকল ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে এসব দেশ কখনই আত্মনির্ভর রাষ্ট্র হতে পারে না। এসব দেশগুলোর রাজনীতি অর্থনীতির ব্যর্থতার জন্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বিশাল ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনটা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তারা রাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে। দেশ বিরোধী

সিদ্ধান্ত নিতে তারা সরকারকে বাধ্য করে। আর সাম্রাজ্যবাদীদের সমর্থন দেওয়ার জন্য তাদের তৈরি একটি দেশীয় একটি শ্রেণী আছে। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করতে দ্বিধা করে না আর এসব সংস্কৃতি তারা শিখেছে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছ থেকে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন সমাজে বিভক্তি তৈরি করে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে পুজিবাদীরা শিক্ষাকে ব্যবসায়ী পণ্যে পরিণত করে। তারা সমাজে কয়েক ধরণের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে আর তার মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে দেয়। সংস্কৃতির আদান-প্রদানের নামে, তারা শিক্ষার মান উন্নয়নের নামে তারা তাদের তৈরি গোলাম তৈরি করছে। তাদের মনস্ক মানুষ তৈরি করার জন্য ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় চালু করছে। শুধু তাই নয় তাদেরকে তাদের সংস্কৃতি নির্ভর করে গড়ে তোলা যায় এমন শিক্ষা দেয়। দেশের কল্যানে শিক্ষা দেওয়া হয় না। এতে একদিকে ভাল ব্যবসা করা গেল অপর দিকে তাদের সংস্কৃতির ব্যক্তি তৈরি করা গেল। আজকে যদি জাতীয় স্বার্থে বা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় কোন আন্দোলনের কথা বলা হয় পশ্চিমা মনস্ক এসব শিক্ষাথীদের পাওয়া যাবে না। আবার যদি বিদেশে শিক্ষা লাভের জন্য কোন সেমিনারের কথা বললে এসব শিক্ষাথীদের অভাব হয় না। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হওয়া প্রতিটি দেশেই একই অবস্থা।
আমাদের ভাবা দরকার কেন এমন হল?
এর উত্তর হল বিদেশী সংস্কৃতি প্রীতি মানুষকে ঐ পর্যায়ে নিয়ে গেছে তারা বিদেশি সব কিছুকে ভাল, শ্রেষ্ঠ ও মান সম্মত বলে মনে করে। দেশের স্বার্থর চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী চিন্তা করে। এসব মিডিয়ার সাহায্যে তারা মানুষের ভিতর ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে দেশের মধ্যে দেশপ্রেমিক তৈরি না হয়ে দেশদ্রোহী তৈরি হয়েছে যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশের ক্ষতি করতে দ্বিধা করে না। দেশের প্রতি তাদের কোন ভালবাসা নাই, দেশের জন্য তাদের চিন্তা ভাবনা নাই। বিদেশী রাষ্ট্রকে ভালবাসে তার সাহিত্য, ভাষা, থেকে শুরু করে খাদ্যাভাস, পোশাক, রীতিনীতি, প্রথা, নৈতিকতা, মূলবোধ বলতে গেলে সব কিছুকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করে দেশীয় সাহিত্য, ভাষা, রীতিনীতি, প্রথা, পোশাককে বাদ দিয়ে। এখন আমাদের শিশুরা ভারতের কাটুন ডোরেমন দেখেই হিন্দি ভাষার প্রতি তাদের ভালবাসা জন্মে যায়। ভারতের টিভি সিরিয়ালে দেখান রাশি নাটকে দেখানো পাখি ড্রেস দেখে আমরা ফ্যাশন পছন্দ করছে। আমরা ক্যাটরিনা ড্রেসের কথা জানি, আমরা ধুম-২ প্যান্টের কথা জানি। কোন সংস্কৃতির প্রতি আমার বিদ্বেষ নাই। এভাবেই বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক হামলার শিকার হচ্ছে। আজকে মাতৃভাষার প্রতি মানুষের কোন মমতা নেই, শ্রদ্ধা নেই, কোন আগ্রহ নেই। বিশ্বে এখন ইংরেজি ভাষার আগ্রসন চলছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখন সরকারি বেসরকারি কর্মকান্ডে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজি ভাষায় কারণে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন সহজ হয়েছে। আর এর মাধ্যমে মানুষকে সহজেই প্রভাবিত করা যায়। ইংরেজি ভাষা এখন ভাষা না হয়ে হয়েছে সাম্রাজ্যবাদীদের শোষণের জন্য বড় হাতিয়ার ও যোগাযোগ মাধ্যম হয়েছে। ইংরেজি ভাষার আগ্রাসন শুধু উন্নয়নশীল দেশের জন্য নয় অনেক ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার ভাষা আজ ইংরেজির দাপটে বিলুপ্ত হতে চলছে। ইংরেজি ভাষার আগ্রাসনের শিকার ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোও। দক্ষিন আমেরিকায় ইংরেজি ভাষা প্রভাব বাড়তেছে। আর এশিয়া ও আফ্রিকার ইংরেজি ভাষার একক আধিপত্য। সামাজিক সমস্যা সৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনটা বৃহৎ ভূমিকা রাখে। বিবাহ বিচ্ছেদ, পরিবারে বিশ্বাস না করা, অবাধ সেক্স, সমকামী এসব সমস্যা পশ্চিমা দেশ থেকেই এসেছে। তারা বিশ্বে এসব সমস্যা তৈরি করেছে। সহিংসতাকে মিডিয়া ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখিয়ে অস্ত্র ব্যবসাকে জমজমাট করছে। তারা যুদ্ধ ও অ্যাকশন মুভি দেখিয়ে মূলত অস্ত্রের প্রচার বা বিজ্ঞাপন দেয়। মদের বিক্রি বাড়াতে তারা মুভিকে বেচে নেয় মুভির সাহায্যে মদের বাজার বৃদ্ধি করা হয়। সারা বিশ্বে মদের বাজার বৃদ্ধিতে মুভির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সেক্সকে পন্য হিসেবে মুভিতে বা বিভিন্ন সাহিত্যে দেখান হয়। সেক্স বানিজ্যও সাড়া বিশ্বে সংস্কৃতির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতির আদান প্রদানের নামে চলে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন। আজ বিভিন্ন কানসাটের উদ্ভাবন হয়েছে তাদের হাত ধরে। বিভিন্ন দিবসের প্রচলন ঘটিয়েছে তাদের পণ্যের বিক্রি বাড়ানো জন্য। ভালবাসা দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস তারা চালু করেছে। এগুলোর নাম শুনে খুশি হবার কারণ নেই। কারণ এসব দিসবের উদ্দেশ্য পণ্যের বিক্রি বাড়ানো। সংস্কৃতির আদান প্রদানের নামে মানব আমদানি করা হয়। দুই ধরণের মানুষ তারা আমদানি করে ১. সর্বোচ্চ মেধাবী ও ২. শ্রমিক শ্রেণী। তারা সংস্কৃতির আদান প্রদানে মাধ্যমে নিজেদের সুবিধা নিয়ে নেয় আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন করে অন্য দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিকে ধ্বংশ করে তারা সুবিধা অর্জন করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বর্তমান সময়ে উন্নত দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির সমৃদ্ধি অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর উন্নয়নশীল ‍ও অনুন্নত দেশের জন্য শোষনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি, অথনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। তবে সে সমস্যার শিকার হচ্ছে গবীর দেশগুলোই। গরিব দেশগুলোর পক্ষে থেকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবেলা করার কথা বলা হয় আর ধনী দেশগুলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নামে সাম্রাজ্যবাদ তার আধিপত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য একে ব্যবহার করে। এভাবেই গবীর ও ধনী উভয় দেশগুলোর জন্যই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সভ্যতার সংঘাত বা Class Of Civilization বহু প্রাচীনকালের। এ সংঘাতের মূলে রয়েছে সংস্কৃতির আধিপত্যের লড়াই। ইতিহাসের বলছে, সংস্কৃতির আগ্রাসনের বলি হয়ে অনেক দেশ ও সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে। সংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তার রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশও চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনই যদি এ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধ করা না যায়, তবে লাল-সবুজ পতাকার স্বাধীনভাবে ওড়ার শক্তি হ্রাস পাবে। নিজের ঘরে বসে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কালো থাবা বিস্তারই যথেষ্ট।
করণীয়
এ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট মিডিয়া এ কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছে। প্রযুক্তির এই অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে কোনো কিছুই বন্ধ করে রাখা সম্ভব না বা ঘরে হাত গুটিয়ে বসে থাকাটাও সমীচীন হবে না; বিজাতীয় সংস্কৃতিকে ছুড়ে ফেলে সুস্থ দেশীয় সাংস্কৃতিক চর্চা করতে হবে। যদি নিজেদের সাংস্কৃতিক ভিত মজবুত ও উন্নত হয় এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়, তাহলে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করা খুব কঠিন কাজ নয়। প্রয়োজন শুধু দৃঢ় মানসিকতা আর সংঘবদ্ধ শক্তিমত্তা। এই সর্বগ্রাসী আগ্রাসন রোধে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। সেই সঙ্গে সামাজিক অনুশাসনের অনুশীলন, পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাসহ সর্বক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে শুধু বর্জনই নয়; সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করা আজ আমাদের সবার দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। যার শুরুটা হতে হবে পরিবার ও সমাজের অভ্যন্তর থেকেই। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে, সেই সাথে সামাজির ভাবে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সবারই মনে রাখা উচিত, সামাজিক সমস্যা দূর করতে রাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু মূল দায়িত্বটি সমাজ, পরিবার তথা আমাদেরকেই নিতে হবে। এ জন্য আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে মানসম্মত অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের শিশুদের উত্তম শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রনয়ন করতে হবে, তাহলেই কেবল সাংস্কৃতিক আগ্রাসনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নাগেশ্বরীরতে ম্যাগনেট পিলার দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে খেলনা পিস্তলসহ এক নারী আটক। নোয়াখালীতে তিন মামলায় জামিন পেলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খোকন কুড়িগ্রামে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্যার না বলে ভাইয়া বলে সম্বোধন করায় সাংবাদিকের উপর চড়াও তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা নোয়াখালীতে ইটভাটা আইন সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে গৃহবধূ হত্যা:স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বাগমারায় জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন স্থল পরিদর্শন চাতরার দোলায় দিনব্যাপী মাছ ধরা বাওয়া উৎসবে মানুষের ঢল নাটোরে ইটভাটা মলিকদের মানববন্ধন বেনাপোলে ৯৪ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার বেনাপোলে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চটপটি বিক্রেতা গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহাম্মদকে বিদায়ী সংবর্ধনা সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় আগুনে পুড়লো ৪ দোকান, ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতি মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে মাগুরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময় ধানক্ষেত থেকে মুয়াজ্জিনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার আপনারা ধরছেন চুনোপুঁটি, রাঘববোয়ালদের ধরবে কে: দুদককে হাইকোর্ট জ্যাকুলিনের জবানবন্দি ‘ফখরুল সাহেব, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না’ ইউক্রেন বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা দিয়ে যাবে: জেলেনস্কি যে কারণে হচ্ছে না পদ্মা-মেঘনা বিভাগ