সাতভাগ সড়কে শতভাগ গাড়ি - ডোনেট বাংলাদেশ

পরিকল্পিত শহরের মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শহরের সড়ক থাকার কথা ২৫ ভাগ। ঢাকায় সড়ক রয়েছে মাত্র ৭ ভাগ। এ পরিমাণ সড়কে চার লাখের কিছু বেশি গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে।

কিন্তু সেখানে চলছে ১৭ লাখ ৩৩ হাজার যানবাহন। এর মধ্যে আছে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব এবং অ্যাম্বুলেন্স। কম সড়কে বেশি যানবাহন চলায় গতিবেগ হ্রাস পাচ্ছে। নানা কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সড়কের বিশৃঙ্খলায় ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ।

সরকার যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউলুপ ও ইউটার্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনার সুপারিশ উপেক্ষিত হচ্ছে। এসব কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নেও যানজট কমছে না। তবে মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে যানজটের অনেকাংশে সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যানজটের অন্যতম কারণই হচ্ছে সড়ক কম গাড়ি বেশি। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সড়ক বাড়াতে হবে, না হয় যানবাহন কমাতে হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৯৩টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৪। আর ব্যক্তিগত গাড়ি ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৭৭। বাস আছে ৩৭ হাজার ৫১টি।

এর বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ৫ হাজার ৫৭টি। গত ১০ বছরে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার। অটোরিকশা রয়েছে ২০ হাজার ৬২৯টি। মাইক্রোবাস রয়েছে ৮২ হাজার ৮৮৭টি। ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে ৩ হাজার ১৩৬টি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা মহানগরের সড়কের মোট আয়তনের প্রায় ৫০ শতাংশজুড়েই চলাচল করে ব্যক্তিগত গাড়ি। অথচ এগুলো বহন করে মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী। বাকি ৫০ শতাংশে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। এতে প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রী আসা-যাওয়া করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বড় বাসই এ পরিমাণ যাত্রী নিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে উন্নত মানের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালু করতে হবে। এতে অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে। তাদের মতে এটা সর্বোত্তম বিকল্প হতে পারে।

এছাড়া একটি সড়কে একসঙ্গে সব ধরনের (যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক) যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে সড়কের দুপাশে যানবাহন পার্কিং। এর পাশাপাশি ফুটপাতগুলো হেঁটে চলার উপযোগী করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকার যানজটের নানাবিধ কারণ রয়েছে। সহসাই এ সমস্যার সমাধান মিলবে সেটা বলা যায় না। তবে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও মেট্রোরেল প্রকল্প চালু হলে রাজধানী ঢাকার যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে।

তিনি বলেন, যে কোনো শহরে চলাচলের জন্য বড় গাড়ি দরকার। আমাদের শহরের বড় গাড়ি বা বাসগুলো চলাচলের অনুপযোগী। ফলে ছোট গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। মেট্রোরেল-৬ ও বাস রুট কাছাকাছি সময়ে চালু হলে ছোট গাড়ির সংখ্যা কমবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে যানজট অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউটার্ন, বিআরটি, মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারের যানজট নিরসনের এ উদ্যোগগুলোকে সাধুবাদ দেওয়া যায়। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এক সংস্থার প্রকল্পের সঙ্গে অন্য সংস্থার কোনো সমন্বয় নেই। যখন যেটা বাস্তবায়ন করা দরকার, সেটা করা হচ্ছে না। কম টাকায় যে সমস্যার সমাধান করা দরকার, সরকার সেদিকে না হেঁটে বেশি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় ৫টি মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করবে। এটা হলে মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ ভাগ মানুষ মেট্রোতে চলাচল করবে। আর বাকি প্রায় ৮০ ভাগ মানুষকে বিদ্যমান যানবাহনে চলাচল করতে হবে। সেজন্য বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি আরও বলেন, সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ (আরএসটিপি) পরিকল্পনায় যানজট নিরসন ও গণপরিবহণে শৃঙ্খলা আনতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার সেগুলো অনুসরণ না করে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। আগে যেটা করা দরকার, সেটা না করে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

সড়কের বিশৃঙ্খলা থামছে না : ঢাকায় দিন দিন যান চলাচলের রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে আসছে । যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মালবাহী ভ্যান, কাভার্ডভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও ট্রাক একই সময়ে একই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। এদের জন্য নেই আলাদা লেন ব্যবস্থা। একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অবাধ চলাচলে ঢাকার রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত যানজটের ধকল পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম।

অন্যদিকে একই রাস্তায় দ্রুতগতির ও ধীরগতির পরিবহণ চলাচল করছে। এছাড়া শহরের মধ্যে রেল ক্রসিং, ভিআইপি মুভমেন্ট, পার্কিং, ট্রাফিক সিস্টেম ও সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণেও ঢাকার যানজট ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সেই সঙ্গে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতায় সড়কে অব্যাহত খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা : বর্তমানে ঢাকায় দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, পিক আওয়ারে ঢাকার গাড়ির গতিবেগ থাকে ৯ কিলোমিটার।

এ গতিবেগের কারণে প্রতিবার যাতায়াতে একজন যাত্রীর যে সময় নষ্ট হয়, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৩ টাকা। আর বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের হিসাব বলছে, ঢাকার যানজটের কারণে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।

যানজট নিরসন প্রকল্পে আশা : ঢাকার গাড়ির গতিবেগ বাড়ানো এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলমান। আগামী বছরের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলমান।

প্রকল্পটি আগামী বছরের ডিসেম্বরে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বাকি অংশ ২০২৪ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। শহরের ৮০ ভাগের বেশি মানুষের চলাচলের মাধ্যম ‘বাস’ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে বাসের রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল এর কাজ।

বর্তমানে এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আগামী মাসের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রুটে বাস চলাচল শুরু হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পিত শহরের মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শহরের সড়ক থাকার কথা ২৫ ভাগ। ঢাকায় সড়ক রয়েছে মাত্র ৭ ভাগ। এ পরিমাণ সড়কে চার লাখের কিছু বেশি গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে।

কিন্তু সেখানে চলছে ১৭ লাখ ৩৩ হাজার যানবাহন। এর মধ্যে আছে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব এবং অ্যাম্বুলেন্স। কম সড়কে বেশি যানবাহন চলায় গতিবেগ হ্রাস পাচ্ছে। নানা কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সড়কের বিশৃঙ্খলায় ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ।

সরকার যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউলুপ ও ইউটার্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনার সুপারিশ উপেক্ষিত হচ্ছে। এসব কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নেও যানজট কমছে না। তবে মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে যানজটের অনেকাংশে সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যানজটের অন্যতম কারণই হচ্ছে সড়ক কম গাড়ি বেশি। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সড়ক বাড়াতে হবে, না হয় যানবাহন কমাতে হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৯৩টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৪। আর ব্যক্তিগত গাড়ি ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৭৭। বাস আছে ৩৭ হাজার ৫১টি।

এর বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ৫ হাজার ৫৭টি। গত ১০ বছরে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার। অটোরিকশা রয়েছে ২০ হাজার ৬২৯টি। মাইক্রোবাস রয়েছে ৮২ হাজার ৮৮৭টি। ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে ৩ হাজার ১৩৬টি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা মহানগরের সড়কের মোট আয়তনের প্রায় ৫০ শতাংশজুড়েই চলাচল করে ব্যক্তিগত গাড়ি। অথচ এগুলো বহন করে মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী। বাকি ৫০ শতাংশে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। এতে প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রী আসা-যাওয়া করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বড় বাসই এ পরিমাণ যাত্রী নিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে উন্নত মানের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালু করতে হবে। এতে অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে। তাদের মতে এটা সর্বোত্তম বিকল্প হতে পারে।

এছাড়া একটি সড়কে একসঙ্গে সব ধরনের (যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক) যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে সড়কের দুপাশে যানবাহন পার্কিং। এর পাশাপাশি ফুটপাতগুলো হেঁটে চলার উপযোগী করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকার যানজটের নানাবিধ কারণ রয়েছে। সহসাই এ সমস্যার সমাধান মিলবে সেটা বলা যায় না। তবে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও মেট্রোরেল প্রকল্প চালু হলে রাজধানী ঢাকার যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে।

তিনি বলেন, যে কোনো শহরে চলাচলের জন্য বড় গাড়ি দরকার। আমাদের শহরের বড় গাড়ি বা বাসগুলো চলাচলের অনুপযোগী। ফলে ছোট গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। মেট্রোরেল-৬ ও বাস রুট কাছাকাছি সময়ে চালু হলে ছোট গাড়ির সংখ্যা কমবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে যানজট অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউটার্ন, বিআরটি, মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারের যানজট নিরসনের এ উদ্যোগগুলোকে সাধুবাদ দেওয়া যায়। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এক সংস্থার প্রকল্পের সঙ্গে অন্য সংস্থার কোনো সমন্বয় নেই। যখন যেটা বাস্তবায়ন করা দরকার, সেটা করা হচ্ছে না। কম টাকায় যে সমস্যার সমাধান করা দরকার, সরকার সেদিকে না হেঁটে বেশি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় ৫টি মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করবে। এটা হলে মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ ভাগ মানুষ মেট্রোতে চলাচল করবে। আর বাকি প্রায় ৮০ ভাগ মানুষকে বিদ্যমান যানবাহনে চলাচল করতে হবে। সেজন্য বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি আরও বলেন, সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ (আরএসটিপি) পরিকল্পনায় যানজট নিরসন ও গণপরিবহণে শৃঙ্খলা আনতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার সেগুলো অনুসরণ না করে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। আগে যেটা করা দরকার, সেটা না করে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

সড়কের বিশৃঙ্খলা থামছে না : ঢাকায় দিন দিন যান চলাচলের রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে আসছে । যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মালবাহী ভ্যান, কাভার্ডভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও ট্রাক একই সময়ে একই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। এদের জন্য নেই আলাদা লেন ব্যবস্থা। একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অবাধ চলাচলে ঢাকার রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত যানজটের ধকল পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম।

অন্যদিকে একই রাস্তায় দ্রুতগতির ও ধীরগতির পরিবহণ চলাচল করছে। এছাড়া শহরের মধ্যে রেল ক্রসিং, ভিআইপি মুভমেন্ট, পার্কিং, ট্রাফিক সিস্টেম ও সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণেও ঢাকার যানজট ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সেই সঙ্গে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতায় সড়কে অব্যাহত খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা : বর্তমানে ঢাকায় দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, পিক আওয়ারে ঢাকার গাড়ির গতিবেগ থাকে ৯ কিলোমিটার।

এ গতিবেগের কারণে প্রতিবার যাতায়াতে একজন যাত্রীর যে সময় নষ্ট হয়, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৩ টাকা। আর বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের হিসাব বলছে, ঢাকার যানজটের কারণে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।

যানজট নিরসন প্রকল্পে আশা : ঢাকার গাড়ির গতিবেগ বাড়ানো এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলমান। আগামী বছরের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলমান।

প্রকল্পটি আগামী বছরের ডিসেম্বরে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বাকি অংশ ২০২৪ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। শহরের ৮০ ভাগের বেশি মানুষের চলাচলের মাধ্যম ‘বাস’ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে বাসের রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল এর কাজ।

বর্তমানে এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আগামী মাসের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রুটে বাস চলাচল শুরু হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকায় যানজট বেড়েই চলেছে

সাতভাগ সড়কে শতভাগ গাড়ি

বিদ্যমান সড়কে চলার কথা চার লাখ, চলছে ১৭ লাখের বেশি * যানজট নিরসন প্রকল্পগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই * মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশনে কমবে যানজট

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ নভেম্বর, ২০২১ | ৭:৩৩ 40 ভিউ
পরিকল্পিত শহরের মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শহরের সড়ক থাকার কথা ২৫ ভাগ। ঢাকায় সড়ক রয়েছে মাত্র ৭ ভাগ। এ পরিমাণ সড়কে চার লাখের কিছু বেশি গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে। কিন্তু সেখানে চলছে ১৭ লাখ ৩৩ হাজার যানবাহন। এর মধ্যে আছে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব এবং অ্যাম্বুলেন্স। কম সড়কে বেশি যানবাহন চলায় গতিবেগ হ্রাস পাচ্ছে। নানা কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সড়কের বিশৃঙ্খলায় ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ। সরকার যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউলুপ ও ইউটার্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনার সুপারিশ উপেক্ষিত হচ্ছে। এসব কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নেও যানজট কমছে না। তবে মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে যানজটের অনেকাংশে সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যানজটের অন্যতম কারণই হচ্ছে সড়ক কম গাড়ি বেশি। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সড়ক বাড়াতে হবে, না হয় যানবাহন কমাতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৯৩টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৪। আর ব্যক্তিগত গাড়ি ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৭৭। বাস আছে ৩৭ হাজার ৫১টি। এর বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ৫ হাজার ৫৭টি। গত ১০ বছরে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার। অটোরিকশা রয়েছে ২০ হাজার ৬২৯টি। মাইক্রোবাস রয়েছে ৮২ হাজার ৮৮৭টি। ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে ৩ হাজার ১৩৬টি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা মহানগরের সড়কের মোট আয়তনের প্রায় ৫০ শতাংশজুড়েই চলাচল করে ব্যক্তিগত গাড়ি। অথচ এগুলো বহন করে মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী। বাকি ৫০ শতাংশে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। এতে প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রী আসা-যাওয়া করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বড় বাসই এ পরিমাণ যাত্রী নিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে উন্নত মানের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালু করতে হবে। এতে অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে। তাদের মতে এটা সর্বোত্তম বিকল্প হতে পারে। এছাড়া একটি সড়কে একসঙ্গে সব ধরনের (যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক) যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে সড়কের দুপাশে যানবাহন পার্কিং। এর পাশাপাশি ফুটপাতগুলো হেঁটে চলার উপযোগী করতে হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকার যানজটের নানাবিধ কারণ রয়েছে। সহসাই এ সমস্যার সমাধান মিলবে সেটা বলা যায় না। তবে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও মেট্রোরেল প্রকল্প চালু হলে রাজধানী ঢাকার যানজট অনেকাংশে নিরসন হবে। তিনি বলেন, যে কোনো শহরে চলাচলের জন্য বড় গাড়ি দরকার। আমাদের শহরের বড় গাড়ি বা বাসগুলো চলাচলের অনুপযোগী। ফলে ছোট গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। মেট্রোরেল-৬ ও বাস রুট কাছাকাছি সময়ে চালু হলে ছোট গাড়ির সংখ্যা কমবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে যানজট অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউটার্ন, বিআরটি, মেট্রোরেল ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারের যানজট নিরসনের এ উদ্যোগগুলোকে সাধুবাদ দেওয়া যায়। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এক সংস্থার প্রকল্পের সঙ্গে অন্য সংস্থার কোনো সমন্বয় নেই। যখন যেটা বাস্তবায়ন করা দরকার, সেটা করা হচ্ছে না। কম টাকায় যে সমস্যার সমাধান করা দরকার, সরকার সেদিকে না হেঁটে বেশি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় ৫টি মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করবে। এটা হলে মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ ভাগ মানুষ মেট্রোতে চলাচল করবে। আর বাকি প্রায় ৮০ ভাগ মানুষকে বিদ্যমান যানবাহনে চলাচল করতে হবে। সেজন্য বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি আরও বলেন, সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ (আরএসটিপি) পরিকল্পনায় যানজট নিরসন ও গণপরিবহণে শৃঙ্খলা আনতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার সেগুলো অনুসরণ না করে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। আগে যেটা করা দরকার, সেটা না করে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সড়কের বিশৃঙ্খলা থামছে না : ঢাকায় দিন দিন যান চলাচলের রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে আসছে । যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মালবাহী ভ্যান, কাভার্ডভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও ট্রাক একই সময়ে একই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। এদের জন্য নেই আলাদা লেন ব্যবস্থা। একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অবাধ চলাচলে ঢাকার রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত যানজটের ধকল পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম। অন্যদিকে একই রাস্তায় দ্রুতগতির ও ধীরগতির পরিবহণ চলাচল করছে। এছাড়া শহরের মধ্যে রেল ক্রসিং, ভিআইপি মুভমেন্ট, পার্কিং, ট্রাফিক সিস্টেম ও সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণেও ঢাকার যানজট ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সেই সঙ্গে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতায় সড়কে অব্যাহত খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগে নতুন মাত্রা যোগ করছে। নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা : বর্তমানে ঢাকায় দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, পিক আওয়ারে ঢাকার গাড়ির গতিবেগ থাকে ৯ কিলোমিটার। এ গতিবেগের কারণে প্রতিবার যাতায়াতে একজন যাত্রীর যে সময় নষ্ট হয়, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৩ টাকা। আর বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের হিসাব বলছে, ঢাকার যানজটের কারণে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত। যানজট নিরসন প্রকল্পে আশা : ঢাকার গাড়ির গতিবেগ বাড়ানো এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলমান। আগামী বছরের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। উত্তরা দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলমান। প্রকল্পটি আগামী বছরের ডিসেম্বরে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বাকি অংশ ২০২৪ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। শহরের ৮০ ভাগের বেশি মানুষের চলাচলের মাধ্যম ‘বাস’ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে বাসের রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল এর কাজ। বর্তমানে এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আগামী মাসের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রুটে বাস চলাচল শুরু হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: