সাফল্য সংগ্রামে আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রা – ডোনেট বাংলাদেশ

সাফল্য সংগ্রামে আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রা

আমির হোসেন আমু সংসদ সদস্য
আপডেটঃ ২৩ জুন, ২০২২ | ৯:৩৩ 20 ভিউ
জনগণের সংগ্রামই ইতিহাস নির্মাণ করে, সেই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাহন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। জনগণের চিন্তা-চেতনা, আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন দিয়ে তৈরি যে রাজনৈতিক দল, তার ভাষা আপামর জনসাধারণেরই কণ্ঠের ভাষা। আমরা ভাগ্যবান, আমরা তেমনই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের উত্তরাধিকার। আমাদের দল আওয়ামী লীগ, আমাদের নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবোধ সব একাকার এ মাটির ঐতিহ্যে, সাংস্কৃতিতে, কৃষ্টিতে এবং স্বাধীনতায়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আওয়ামী লীগ একটি সংগ্রামী রাজনৈতিক গণসংগঠন। আর তাই এই দলটি জন্মলগ্ন থেকেই জনগণনির্ভর জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক, নির্ভীক, ত্যাগী, উদার অসাম্প্রদায়িক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধাবমান। সাতচল্লিশের দেশ বিভাগের আগের অনেক বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু আমি আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের কথাই আপনাদের সামনে

তুলে ধরার চেষ্টা করব। চেষ্টা করব এ কারণে যে, এ দেশের মানুষের জন্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে প্রথমে এই একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়, যা বাংলার মূল শিকড়কে আশ্রয় করেই ক্রমে মহিরুহ আকার ধারণ করেছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, মুসলিম লীগের মধ্যে মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল পূর্ববঙ্গ, বিশেষ করে ঢাকা। ওই সময়ই শেখ মুজিবুর রহমান মুসলিম লীগের বিশাল কর্মী বাহিনীর মধ্যে অনন্যসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন। জনপদের সাধারণের মধ্যে অনায়াসে বিচরণ, বাস্তব অভিজ্ঞান, স্মরণশক্তি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুণ ছিল তাঁর। অর্থাৎ ঊনপঞ্চাশে যে আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছিল, সেই সংগঠনের হাল তৈরি হচ্ছিল আগে থেকেই। দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক রীতির প্রাধান্য,

নেতৃত্বের মূল্যবোধ ও তার বিকাশ, সময়োচিত কর্মসূচি প্রণয়ন, জনগনের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন- এসব কিছুই মুজিব ধাতস্থ করেছিলেন রাজনীতির শুরু থেকেই। ঢাকার ১৫০ নম্বর মোগলটুলিতে মুসলিম লীগের একটি শাখা অফিস ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এই শাখা অফিসকে কেন্দ্র করেই- অফিসটি ঢাকায় হলেও সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের নাজিমুদ্দীনবিরোধী তরুণরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। মুসলিম লীগকে নতুন করে সংগঠিত করার জন্য 'ওয়ার্কার্স ক্যাম্প' কর্মী সম্মেলন আহ্বান করেন। শামসুল হক ও শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুসলিম লীগ সভাপতি আকরম খাঁ সদস্য সংগ্রহ বই দিতে অস্বীকার করলে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। এমন সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকা হাইকোর্টে দবিরুল ইসলামের হেবিয়াস কার্পাস মামলাটি পরিচালনা করার জন্য ঢাকা আসেন।

তখন বিরোধী বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এরই মধ্যে তিনি মুসলিম লীগের বিপরীতে পশ্চিম পাকিস্তানে গণতন্ত্রের পক্ষে নতুন দল গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তিনি ঢাকার নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, মুসলিম লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে, যাতে করে পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং একমাত্র গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেই জনগণের ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব। আওয়ামী মুসলিম লীগ নামটিও তাঁর দেওয়া। এই পরিস্থিতিতে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন সকাল ১০টায় কে এম দাশ লেনের বশির সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে মুসলিম লীগ কর্মী, নেতা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্মেলন হয়। সম্মেলনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ

সম্পাদক হন এবং যুগ্ম সম্পাদক হন একজনই, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গবন্ধুকে কয়েকটি দেশে সফর করতে পাঠিয়েছিলেন। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় তিনি বলেছিলেন, এ দেশের ভবিষ্যতের নেতৃত্বের ভার তাঁকেই নিতে হবে। কেএসপি সরকারের পতনের পরই কেএসপি সর্বত্রই জঙ্গি মনোভাব নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। হামিদুল হক চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে ১৯৫৮ সালের ৩ এপ্রিল এবং পল্টনে জনসভা করে ৪ এপ্রিল। ১৯৫৮ সালের ৫ এপ্রিল পরিষদের সভা বসে। সভায় অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পরিষদ কক্ষের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি শুরু হয়ে যায়। সেই মারামারির জের চলে শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত। ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অন্যান্য দিনের

মতো বিরোধী দল পরিষদ কক্ষে হৈচৈ-মারামরিতে এত বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে যে, আওয়ামী লীগের ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে তারা আঘাত করে মারাত্মকভাবে। সেই আঘাতেই ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী ঢাকা মেডিকেলে ২৬ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। অন্যদিকে জেনারেল ইস্কান্দর মীর্জা পাকিস্তানে মার্শাল ল জারি করেন ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর। জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর তাঁকে তাড়িয়ে শেষে নিজেই পাকিস্তানের সর্বময় ক্ষমতা দখল করে বসেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রথম ধাপেই গ্রেপ্তার হলেন, মুচলেকা দিয়ে অনেক নেতাই মুক্তি পেয়েছিলেন; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মেজাজে ওই ধরনের কিছু কোনোদিনই ছিল না। তিনি মুচলেকা দিলেন না, ফলে তিনি মুক্তি পেলেন ১৯৫৯

সালের ১৭ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের জন্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্য এটা ছিল সবচেয়ে গুরুতর সময়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সে সময় যে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তা অবশ্যই ইতিহাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি হঠাৎ করেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেপ্তার করে আইয়ুব খান সরকার। বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লাসহ বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই ছাত্র-জনতা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিরোধী দলের রাজনীতিকরাও ক্রমেই নড়েচড়ে ওঠেন। ১৯৬২ সালের ১ মার্চ আইয়ুব খান তাঁর পক্ষে দেশে একটি শাসনতন্ত্র রচনা করেন। প্রেসিডেন্টের অপার ক্ষমতা। উভয় ইউনিট থেকে ৪০ হাজার করে মৌলিক গণতন্ত্রীদের নির্বাচিত করে প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ গঠন করা হলো রাতারাতি। ১৯৬২ সালের ২৮ এপ্রিল

জাতীয় পরিষদের এবং ১৯৬২ সালের ৬ মে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন দেওয়া হয়। দেশের সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। কবে, কোথায়, কখন এনডিএফ গঠিত হয়েছে, তা সঠিক বলা যায় না। ১৯৬২ সালের ৬ জুন শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পান, বললেন আইয়ুবের এই সংবিধান গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৬২ সালের ২৪ জুন ৯ জন বিরোধী দলের নেতা এক যুক্ত বিবৃতি দেন, আইয়ুব খানবিরোধী ওই বিবৃতিটি ছাপা হলে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়, রাজনীতির বাতাস বইতে শুরু করে। বিবৃতিতে যাঁরা স্বাক্ষর করেন তাঁরা হলেন- নুরুল আমিন, আতাউর রহমান খান, হামিদুল হক চৌধুরী, আবু হোসেন সরকার, শেখ মুজিবুর রহমান, ইউসুফ আলী চৌধুরী, মাহমুদ আলী, সৈয়দ আজিজুল হক ও মাওলানা পীর মোহসীন উদ্দিন আহমদ। ১৯৬২ সালের ৮ জুলাই পল্টনে ৯ নেতা সামরিক আইন ও আইয়ুবের মৌলিক গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। ১৯৬২ সালের ১৪ জুলাই আইয়ুব দলবিধি গঠন করে, দল পুনরুজ্জীবনের জন্য সরকারের কাছে বিভিন্ন বিবরণ দিয়ে অনুমতি নেওয়ার প্রচলন শুরু করে। ১৯৬২ সালের ১৯ আগস্ট হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়। তখন সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে এনডিএফ গঠিত হয়। পাকিস্তানের উভয় অংশের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সমগ্র পাকিস্তানে জনসভার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের আন্দোলন গড়ে তোলেন। জেল থেকে বের হওয়ার পরপর অপরিসীম পরিশ্রমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি বৈরুতে হোটেলে ইন্তেকাল করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তাঁর ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসায় আওয়ামী লীগের এক বিশেষ সম্মেলন ডাকেন। এতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য, সব জেলা ও মহকুমা শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত হন। এখানেই সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালের ১ মার্চ আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়ে পুনরুজ্জীবন ঘটায়। এতে এনডিএফের নেতারা বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রচণ্ডভাবে ক্ষেপে যান। উল্লেখ্য, একমাত্র আওয়ামী লীগেরই নিবেদিত এবং সংগঠিত কর্মী বাহিনী ছিল অলিগলি-মহল্লায়। আওয়ামী লীগের এক দল নেতা এনডিএফের বাইরে দলের আত্মপ্রকাশের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন। ১৯৬৪ সালের ৫ জুন আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভা বসে। সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ওই সভায় ১১ দফা পেশ করেন। ১১ দফা নিয়ে সভায় বেশ হৈচৈ শুরু হয়। কেউ কেউ এটাকে দুঃসাহসিক বলে অভিহিত করেন। সম্পূর্ণটাই ছিল স্বায়ত্তশাসনের বিষয়। এতে ফেডারেলভিত্তিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পূর্ব পাকিস্তানের মুদ্রা ব্যবস্থা, মুদ্রার আয়-ব্যয় হিসাব পৃথক্‌করণ, পৃথক বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন, নৌবাহিনীর সদরদপ্তর পূর্বাঞ্চলে স্থাপন ইত্যাদি ওই ১১ দফায় ছিল। অনেক আলোচনার পর ১১ দফা গৃহীত হলেও প্রচার এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে কিছুটা অনীহা প্রকাশ পায়। বলা হয়, এতে আওয়ামী লীগের ওপর চরম দমননীতি শুরু হবে। ১৯৬৪ সালের ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন অনুষ্ঠানে গভর্নর মোনেম খাঁ ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন এবং প্যান্ডেল ইত্যাদি ভেঙে ফেলা হয়। মোনেম খাঁ কোনোরকমে পালিয়ে বাঁচেন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মনির এমএ বাংলা, রোল-৭৪, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং আসমত আলী এমএ ইতিহাস, রোল নং-২৫৮- এ দু'জনের এমএ ডিগ্রি বাতিল করে। দু'জনই ১৯৬২ সালে ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ এ সময় ১৯৬৪ সালের ৩ জুনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলের শাখা কমিটি গঠনের সাংগঠনিক কাজ শুরু করে। ১৯৬৪ সালের ১৩ জুলাই আওয়ামী লীগ দল পুনর্গঠনের পর প্রকাশ্য জনসভা করে পল্টনে। সভার সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। রাজবন্দিদের মুক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সরকারি সন্ত্রাস বন্ধ, যুক্ত নির্বাচন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রভৃতি দাবি ছাড়াও জোর দেওয়া হয় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর। ১৯৬৪ সালের ১৪ জুলাই পুলিশ নগর আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। কমপক্ষে উপস্থিত আটজনকে গ্রেপ্তার করে এবং দলিলপত্র সিজ করে। বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ একযোগে কর্মসূচি নিয়েছিল আরবি বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার সরকারি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ তার প্রতিটি জনসভায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের অস্তিত্ব, বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখত, যাতে এ দেশের অন্যান্য বিরোধী দলের অনীহা ছিল। সরকার বাংলাকে উর্দু হরফে লেখার ওই প্রস্তাব রেখেছিল ১৯৬৪ সালের ১৭ মে। আওয়ামী লীগ তার লিফলেট, প্রচারপত্র এবং জনসভায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বসহকারে প্রচার করত। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ লেগে যায়। ১৭ দিন যুদ্ধের পর জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ থামে। যুদ্ধে পাকিস্তানের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। পশ্চিম পাকিস্তানেই যুদ্ধ চলেছে। আইয়ুর খানের ধারণা হয়েছিল, যুদ্ধের ফলে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের ঐক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে। আক্রমণ প্রতিরোধ করার মতো কোনো ব্যবস্থাই পূর্ব পাকিস্তানে ছিল না। ১৯৬৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের বিশেষ অধিবেশনে পূর্ব পাকিস্তানের ওই অসহায় বিশ্নেষণ হয় এবং একই সঙ্গে বলা হয় যে, ওই যুদ্ধের সিংহভাগ ব্যয়ভার পূর্ব পাকিস্তানকেই বহন করতে হবে। ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দে আইয়ুব খান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আইয়ুব খানের মন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। এনডিএফের নুরুল আমিনও চুক্তির বিরোধিতা করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিব এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, আমরা তাসখন্দ চুক্তির বিষয়ে মোটেও উৎসাহিত নই। আমরা চাই, পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। ১৯৬৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসায় শেখ সাহেবের বাসভবনে ওয়ার্কিং কমিটির সভার পর ওই বিবৃতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে আইয়ুব খানের পক্ষে এনডিএফের নেতা আতাউর রহমান পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন তাসখন্দ চুক্তির বিষয়ে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৯৬৬ সালের ১৮ জানুয়ারি যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আইয়ুব খানের মন্ত্রী খান আবদুস সবুর এক বিবৃতিতে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার দাবির নিন্দা জানান। ১৯৬৬ সালের ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান পাল্টা বিবৃতিতে বলেন, জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়াটা অসুবিধা হলে নিশ্চয়ই তাসখন্দ চুক্তিটা অর্থহীন। এ সময়টা শেখ মুজিবের ওপর দমননীতি চলে, সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুদিবসে প্রদত্ত ভাষণের জন্য মামলা চলছিল। তিনি জামিনে ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ২৩ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানিকালে তাঁর জামিন নামঞ্জুর হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গেই হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া হয়। ১৯৬৬ সালের ৩১ জানুয়ারি এনএসএফের সম্মেলনে মোনেম খাঁ বলেন যে, দুস্কৃতকারীরা পাকিস্তান ভাঙতে চায়। তিনি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন। এতে বোঝা গেল, পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোর ওপর সরকার কড়া মনোভাব নিচ্ছে। ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নেজামে ইসলাম প্রধান লাহোরের চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে পাকিস্তানের সব বিরোধী দলের সভা বসে। কিন্তু তার আগে ৫ ফেব্রুয়ারি সরকার ওই বৈঠকের সব খবর প্রকাশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য নির্দেশ জারি করে। বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দাবি পেশ করেন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো কোনো অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে কথা না তোলার জন্য আহ্বান জানায়। আওয়ামী লীগ বৈঠক বর্জন করে। ওই দিনই তিনি লাহোরে সংবাদ সম্মেলন করে ছয় দফা ঘোষণা করেন। ১৯৬৬ সালের ৭ মার্চ পাকিস্তানের সব পত্রপত্রিকায় ছয় দফার খবর ছাপা হয়। ১৯৬৬ সালের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফার ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি এটাকে বাঙালির বাঁচার দাবি বলে আখ্যায়িত করেন সেদিনই। কিন্তু অবাক ব্যাপার ছিল এটাই, তরুণ সমাজ তাঁর প্রত্যাবর্তনের আগেই বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সর্বত্র পোস্টার এবং দেয়াল লিখনে ছেয়ে ফেলেছে ছয় দফার কথা। ছয় দফার প্রথম প্রচার পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয় প্রচার সম্পাদক আবদুল মোমিন কর্তৃক, যা গ্লোব প্রিন্টার্স থেকে মুদ্রিত। পুস্তিকাটি সম্ভবত প্রথম প্রচার করা হয় ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, ছয় দফার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কেউ কেউ দল থেকে সরে যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। ১৯৬৬ সালের ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা অনুমোদন করা হয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ মতিঝিলের হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতি মাওলানা তর্কবাগীশ অনুপস্থিত থাকেন। ওই কাউন্সিলেও ছয় দফা বিপুল সমর্থনে অনুমোদিত হয়। করাচি আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মঞ্জুরুল হক তাঁর ভাষণে সর্বাত্মক সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। ১৯ মার্চ কাউন্সিল অধিবেশনে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দিনই সন্ধ্যা নাগাদ কমিটিও অনুমোদন করেন কাউন্সিলররা। সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। ছয় দফাই পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র রাজনৈতিক বিষয় হয়ে ওঠে। পত্রপত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ছয় দফার প্রথম জনসভাটি হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ। পূর্ব পাকিস্তানে ছয় দফার আন্দোলনই একমাত্র আন্দোলনে পরিগণিত হয়। বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে ছয় দফাকেই মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচনা করে। এত অল্প সময়ের মধ্যে ছয় দফা যে বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে, কেউই কল্পনা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জনসভাতেই বলতেন, ওরা বেশি সময় দেবে না। দ্রুত নিজেদের আত্মত্যাগের জন্য তৈরি হতে হবে। ছয় দফা প্রচারে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ২০ মার্চের পর শেখ মুজিব সময় পেয়েছিলেন মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। ৩৫ দিনে তিনি প্রায় ৩২টি মূল জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন। পল্টনের জনসভার সময় আইনমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো চ্যালেঞ্জ করেছিলেন যে, ছয় দফা পাকিস্তানের জনগণের জন্য যে আত্মঘাতী, তা তিনি প্রমাণ করতে পারেন। শেখ মুজিব তাঁর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ভুট্টো আর এগোননি। ১৯৬৬ সালের ১৯ এপ্রিল খুলনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। পরে যশোর পুলিশ তাঁকে যশোরে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় রাষ্ট্রদ্রোহী ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে। সঙ্গে সঙ্গে জজকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া হয়। ২২ এপ্রিল মুজিব ঢাকা এসডিও কোর্টে হাজির হন। এসডিও তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারের আদেশ দিলে জজকোর্ট থেকে আবার জামিন নেওয়া হয়। ২২ এপ্রিল রাত ১২টার সময় তাঁকে ৩২ নম্বর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেট নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ১৯৬৬ সালের ৪ এপ্রিল সিলেটের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন, সিলেট প্রশাসন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছিল। ২৩ এপ্রিল সিলেট জজকোর্টে তাঁর জামিন হলে জেলগেট থেকে বের হওয়ার আগেই পুলিশ ময়মনসিংহের ভাষণের মামলার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ নিয়ে যায়। সিলেটের মানুষ প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ময়মনসিংহের জজকোর্টে জামিনের আবেদন জানানো হয় ১৯৬৬ সালের ২৫ এপ্রিল। জামিন মঞ্জুর হয়। ১৯৬৬ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ ভিন্ন ভিন্নভাবে সারাদেশে ছয় দফার প্রচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ১৯৬৬ সালের ৭ মে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় তিনি ছয় দফা আন্দোলনের কর্মসূচি নতুন করে তৈরি করে দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে তিনি নারায়ণগঞ্জে বিশাল জনসভা করেন। এটাই ছিল তাঁর ছয় দফার শেষ জনসভা। সম্ভবত তিনি নিজেও তা আগে থেকেই জানতেন। বক্তৃতায় তিনি সবাইকে বৃহত্তর আত্মত্যাগের আহ্বান জানিয়ে তাঁর নিজের আবস্থার কথাও ব্যাখ্যা করেছেন। ওই দিনই গভীর রাতে ৩২ নম্বরের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ দাঁড় করানো হয় ৩২ ধারা মোতাবেক কঠোরতম দেশরক্ষা আইনে। বঙ্গবন্ধুসহ বন্দিদের মুক্তির দাবি এবং ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ১৩ মে পল্টনে জনসভা হয় এবং ২০ মে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং থেকে ৭ জুন হরতালের কর্মসূচি দেওয়া হয়। ৭ জুন হরতাল পালনের সময় তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল বেভারেজের শ্রমিক সিলেটের মনু মিয়া গুলিতে প্রাণ হারান। এতে বিক্ষোভের প্রচণ্ডতা আরও বাড়ে। তেজগাঁওয়ে ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আদাজ অ্যানামেল অ্যালুমিনিয়াম কারখানার নোয়াখালীর শ্রমিক আবুল হোসেন ইপিআরের গুলিতে শহীদ হন। বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যান ছয়জন শ্রমিক। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সন্ধ্যায় কারফিউ জারি করা হয়। দুই শহরে প্রায় এক হাজার গ্রেপ্তার হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা নারায়ণগঞ্জের থানা থেকে বন্দিদের ছাড়িয়ে আনতেও দ্বিধা করে না। ফলে ১৯৬৬ সালের ১৩ জুনের মধ্যে আওয়ামী লীগের তৃতীয় সারির নেতারাও গ্রেপ্তার হন। ১৫ জুন ইত্তেফাকের সম্পাদক মানিক মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ১৬ জুন ইত্তেফাক ও নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারি প্রেসনোটে উল্লেখ করা হলো, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি মিস্টার ওঝার সঙ্গে যোগসাজশে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এ যাবৎ বিভিন্ন বিভাগের ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিহাসে এটাই আগরতলা মামলা নামে পরিচিত। যদিও মামলার শিরোনাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান গং বনাম পাকিস্তান। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা জেলে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে জানানো হয়েছিল যে, তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এটা ছিল গভীর রাতের ঘটনা। জেলগেটেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হলো। উল্লেখ করা যেতে পারে, এবার ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা জেলে ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালের ২৩ জুন সৈয়দ নজরুল ইসলামের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যা লিফলেট আকারে হাজার হাজার কপি সারাদেশে বিলি করা হয়েছিল। ওতে উল্লেখ ছিল, ১৭ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা জেলগেট থেকে ধরে পশ্চিমা আর্মিরা কোথায় নিয়ে গেছে, কাউকে জানানো হয়নি। ১৯৬৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত সবার মুক্তির দাবিতে দেশের প্রায় সব শহর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বহু গ্রেপ্তার হয়। ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এক অর্ডিনেন্সে জানানো হয় যে, পাকিস্তান পেনাল কোডের ১২১ ও ১৩১ ধারায় শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যদের বিচার করা হবে। এ জন্য ঢাকায় বিশেষ একটি আদালত গঠন করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এসএ রহমান ও পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি মুজিবর ও মাকসুদুল হাকিমের সমন্বয়ে গঠিত কুর্মিটোলা সেনানিবাসের বিশেষ আদালতে ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বিচার শুরু হয়। অভিযুক্তদের নাম এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন- শেখ মুজিবুর রহমান, লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, স্টুয়ার্ড মজিবর রহমান, এলএস সুলতান আহমদ, এলএসডিআই নুর মোহাম্মদ, আহমদ ফজলুর রহমান সিএসপি, ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহ, আবুল বাশার মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, প্রাক্তন হাবিলদার দলিল উদ্দিন, ফ্লাইট সার্জেন্ট মোহাম্মদ ফজলুল হক, খন্দকার রুহুল কুদ্দুস সিএসপি, বিভূতিভূষণ ওরফে মানিক চৌধুরী, বিধানকৃষ্ণ সেন, সুবেদার আবদুর রাজ্জাক, সার্জেন্ট জহিরুল হক, ক্লার্ক মজিবর রহমান, প্রাক্তন সার্জেন্ট মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, প্রাক্তন এটি মোহাম্মদ খুরশিদ, খান এম শামসুর রহমান সিএসপি, হাবিলদার একেএম শামসুল হক, হাবিলদার আজিজুল হক, এএসপি মাহফুজুল বারী, সার্জেন্ট শাসমুল হক, মেজর শামসুল আলম, ক্যাপ্টেন আবদুল মোতালেব, ক্যাপ্টেন এম শওকত আলী, ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা, ক্যাপ্টেন এএনএম রহমান, প্রাক্তন সুবেদার এএকে তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী রেজা, ক্যাপ্টেন খুরশিদ উদ্দিন আহমদ ও ফার্স্ট লে. আবদুর রউফ। ১৯৬৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী আগরতলা মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট ফজলুল হক ও সার্জেন্ট জহিরুল হকের ওপর গুলি চালায়। সার্জেন্ট জহিরুল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কেউ কেউ এটা আইয়ুব খানবিরোধী সামরিক চক্রের ষড়যন্ত্র বললেও খবরটি ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রচণ্ড বিস্ম্ফোরণ ঘটে। পল্টনে সার্জেন্ট জহিরুল হকের লাশ নিয়ে আসা হলো। এখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে ছাত্র-জনতা-মিলিটারি প্রতিরোধ করে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে প্রায় বিনা উস্কানিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর শামসুজ্জোহাকে বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশ প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সেনাবাহিনীর পক্ষেও অসম্ভব হয়ে ওঠে। সারাদেশ থেকে মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। আগরতলা মামলার বিচারকের অস্থায়ী বাসভবনসহ আইয়ুব খানের ১০ জন মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ঢাকা সেনানিবাস যে কোনো সময় জনগণ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে, এ ধরনের আশঙ্কার কথাও ক্ষমতাসীন মহল চিন্তা করতে থাকে। ১৮ ফেব্রুয়ারি কঠোর কারফিউ বলবৎ করা হয়। ছাত্র-জনতা শহরের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ ভেঙে রাজপথে নেমে আসে। পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান এক বেতার ভষণে ঘোষণা করলেন, তিনি আর কখনও প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াবেন না। আগরতলা মামলা খারিজ করা হলো এবং তিনি বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বসে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা চান। আনন্দে উল্লসিত জনতার ঢল নামে রাজপথে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ লাখ জনতার অনুমোদনক্রমে তাঁকে বঙ্গবন্ধু অভিধায় ভূষিত করেন। এখানেই বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ছয় দফা বাঙালির মুক্তির সনদ। ছয় দফার ব্যাপারে কোনো আপস নেই; যেখানে যার সঙ্গেই সংলাপ হোক না কেন। ১৯৬৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে গোলটেবিল বৈঠক বসে। আইয়ুব খানের পক্ষ থেকে ১৫ জন, নির্দলীয় ২ জন এবং ১৬ জন রাজনীতিক নেতা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা সফল হয় না, ১০ মার্চ পর্যন্ত আলোচনা মুলতবি রাখা হয়। ১৯৬৯ সালের ১০ মার্চ আবার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়। ছয় দফাই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। বঙ্গবন্ধুকে ছয় দফার একটি দফা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়; কিন্তু তিনি তা নাকচ করেন। ফলে আলোচনা ভেঙে যায়। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করে সব জেনারেল ইয়াহিয়ার হাতে ন্যস্ত করে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান। ১৯৬৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইয়াহিয়া পাকিস্তানের এই ইউনিট বাতিল, সমগ্র পাকিস্তানে বয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের এবং ১৯৭০ সালের ২২ অক্টোবরের মধ্যে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের কথা ঘোষণা করা হয়। ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ্যে রাজনীতি অনুমোদন করে। গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের ছয় দফার পক্ষে একটি দলও সমর্থন দেয়নি। বঙ্গবন্ধু ঘরোয়া রাজনীতির মধ্যেই অনেক জেলায় সাংগঠনিক সফর করেন। অন্যদিকে ১৯৬৯ সালের ১০ মার্চ মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর সঙ্গে তিন দফা চুক্তিতে আবদ্ধ হন। ১৯৭০ সালের ৪-৫ জুন হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু তাঁর ৪০ মিনিটের ভাষণে বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলন আওয়ামী লীগকে একাই করতে হবে। আওয়ামী লীগের কোনো বন্ধু নেই। ছয় দফাকে পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো দল সমর্থন করেনি। ছয় দফা জনগণের মুক্তির সনদ। এর জন্য আমি সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত আছি; আপনারাও যে কোনো পরিস্থিতিরি জন্য প্রস্তুত থাকবেন। ১৯৭০-এর ৩১ মার্চ লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক (এলএফও) আইনি মাধ্যমে ঘোষণা করেন ইয়াহিয়া খান। ১৯৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ছয় দফাকে রেফারেন্ডাম ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ইয়াহিয়া খান হঠাৎ করে ৩ মার্চ সংসদ অধিবেশন পহেলা তারিখে স্থগিত ঘোষণা করলে সরাদেশ দাবানলের মতো আন্দোলনে জ্বলে ওঠে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে একদিকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন, ট্যাপ-খাজনা বন্ধ করে দিতে বললেন, পাশাপাশি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন। বললেন, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ আক্রমণ করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন- শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে শত্রুদের মোকাবিলার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ লোকের আত্মাহুতির বিনিময়ে ২ লাখ মা-বোনের সল্ফ্ভ্রমের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করি। জাতির পিতা পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১০ জানুয়ারি তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায় আসেন। এসে দেখলেন- পুরো দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত, সাড়ে ৩ কোটি লোক গৃহহারা, ১ কোটি লোক বিদেশের মাটিতে আশ্রিত, ৩০ লাখ শহীদ পরিবার, ২ লাখ বীরাঙ্গনা, রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট-রেললাইন সব ধ্বংসপ্রাপ্ত। ব্যাংকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই, খাদ্যের গুদামে খাদ্য নেই, পোর্ট-বিমানবন্দর ধ্বংসপ্রাপ্ত। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবকিছু সচল করে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে, রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে যখন তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিলেন, সেই মুহূর্তে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে যে সামরিকতন্ত্র এই দেশের মানুষের বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ হত্যা করে সংবিধানের চার মূলনীতি ফেলে দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা পুনঃপ্রবর্তন করেছিল। এই অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নব্য পাকিস্তান সৃষ্টির প্রক্রিয়া করছিল। এ সময় দেশে চলছিল দল ভাঙার রাজনীতি, যা থেকে আওয়ামী লীগও রেহাই পায়নি, রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরিত্র হনন, জিয়াউর রহমান ঘোষিত ও ঝযধষষ গধশব চড়ষরঃরপং ফরভভরপঁষঃ ভড়ৎ :যব চড়ষরঃরপরধহং-এর মতো বিরাজনীতিকীকরণের হুঙ্কার। হুন্ডা-গুন্ডা-স্টেনগানের মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থা বিধ্বস্ত ও গণতন্ত্র হত্যা, জেল, জুলুম, গুম, হত্যা, নির্যাতন মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছিল অতিষ্ঠ। তখনকার দেশের বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি পিতৃমাতৃহীন স্নেহের ভাই রাসেলসহ ভাইদের হারিয়ে স্বজনহারা বুকভরা বেদনা নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেন। ৬৫-৭০ মাইল বেগের ঝড়ঝঞ্ঝা, প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়। মনে হচ্ছিল, মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই ছুটে এসেছে। বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগরে ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় তাঁর সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, খুনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার জনগণের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। তিনি জনগণের কাছে বিচার দাবি করেন, যেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে, শোষণমুক্ত সমাজ, শোষণহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সোনার বাংলা কায়েমের মধ্যেই সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি নেতা নই, সাধারণ মেয়ে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আপনাদের নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাব। এই সংগ্রামে জীবন দিতে আমি প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে এসে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সব ষড়যন্ত্র বানচাল করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, চার মূলনীতি সংবিধানে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের এবং যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার অনুষ্ঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে পাপমুক্ত করছেনে। আজ শেখ হাসিনার নির্ভীক, তেজস্বী ও দূরদর্শী নেত্বত্বের এবং সফল রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত ও পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার বাস্তব প্রতিফলন দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাতা ও উন্নয়নের কাণ্ডারি, উন্নত, সমৃদ্ধ, মর্যাদাশীল বাংলাদেশ নির্মাণের রূপকার। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে এবং দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়া যাবে- তাঁর ঘোষিত ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।


আমির হোসেন আমু
সংসদ সদস্য;
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য,
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
টেক্সাসে লরি থেকে ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার ফিলিপাইনে নোবেল জয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসার নিউজ সাইট বন্ধের নির্দেশ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বহুদূর বন্যা : বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে ফের শঙ্কা তবু থামছে না দামের ঘোড়া সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে সমর্থন দেবে তুরস্ক ক্ষোভে ফুঁসছে সারাদেশ শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যা আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে চাচ্ছে সরকার বুস্টার ডোজে গতি নেই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী জাতিসংঘের মহাসাগর সম্মেলনে বাংলাদেশ করোনার সামাজিক সংক্রমণের শঙ্কা পুতিনকে জিততে দেবে না জি-৭ রাশিয়ার হামলায় সেভেরোদনেৎস্কের পর এবার পতনের মুখে লিসিচানস্ক সেন্সরে যাচ্ছে ‘পদ্মার বুকে স্বপ্নের সেতু’ ‘কীর্তিনাশার বুকে অমর কীর্তি’ সিলেটে বন্যার্তদের পাশে বিজিবি সদস্যরা স্বামীকে ছক্কা মারলেন পাকিস্তানের তারকা চরমপন্থা ঠেকাতে বাংলাদেশে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক যেসব কারণে পেপটিক আলসার হয়, চিকিৎসা কলারোয়া পৌর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনঃ সভাপতি ইমরান, সম্পাদক জুলফিকার নির্বাচিত রাণীশংকৈলে​​​​​​​ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত