সিরাজগঞ্জে চলনবিলে মৎস হিমাগার না থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতিতে শুটকি ব্যবসায়ীরা


অথর
সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯:০০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 149 বার
সিরাজগঞ্জে চলনবিলে মৎস হিমাগার না থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতিতে শুটকি ব্যবসায়ীরা

দেশের মৎস ভান্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকায় আহরণকৃত মৎস সংরক্ষনের জন্য মৎস প্রসেসিং হিমাগার না থাকায় প্রতি বছরে কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে মৎসজীবি ওশুটকি চাতাল ব্যবসায়ীরা । সরজমিনে ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত ৯টি উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ বর্ষা মৌসুমে বিলের জলাশয় থেকে মৎস শিকার করে উপজেলার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে । চলনবিল এলাকায় আহরণকৃত মৎস সংরক্ষনের জন্য সরকারী ও বেসরকারীভাবে কোন হিমাগার গড়ে উঠেনি । ফলে চলনবিলের প্রান্তিক মৎসজীাবরা বিল থেকে হাজার হাজার মন মৎস স্থানীয় মৎস আড়ত, হাট বাজারে তাদের মাছ বিক্রি করে থাকেন । বর্ষার পানি নামার সময় বিলের বিভিন্ন স্থানে মৎস ব্যবসাযী শিকারিরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টন দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির টেংরা,,পুটি, খলসে,বোয়াল, শোল, টাকি, কৈ,গজাল,চিংড়ি, বাতাসি, বাইম,গুচি, মাগুও, জিয়াল,বিল পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে থাকেন । মৎস ভান্ডারখ্যাত চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর , চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, গুরুদাসপুর , সিংড়া ও আত্রাই উপজেলার বিস্তির্ণ চলনবিল এলাকায় ৫শতাধিক শুকটি মাছের চাতাল গড়ে উঠেছে । প্রতি বছর বিল থেকে আহরণকৃত মাছ সংরক্ষেনের অভাবে অনেকাংশে বিনষ্ট হয় । চলনবিলের মধ্যে নির্মিত হাটকুমরুল -বনপাড়া মহাসড়কের পার্শ্বে ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে পাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক শুকটির চাতাল। স্থানীয় মৎসজীরা জানান মাছের সংরক্ষণের জন্য মৎস হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে মৎসজীবি ও শুকটি চাতাল ব্যবসায়ীরা । বর্ষা মৌসুমে শুরুতে নিন্মচাপ ও অত্যাধিক বৃষ্টিপাতের কারণে রোদ না পেয়ে আধা শুকানো কোটি টাকার মাছ পচে বিনষ্ট হয়। তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি এলাকার শুকটি চাতালের মালিক মোঃ আব্দুস শুকুর জানান এবছরের গত ৫-৭ দিনে বৃষ্টিতে তার চাতালে লক্ষাধিক টাকা শুকটি মাছ বিনষ্ট হয়েছে। মহিষলুটি মৎস আড়তদার সুজন হোসেন জানান এই মৎস আড়তে ৭১টি আড়তে(কাটা) রয়েছে প্রতিদিন এই আড়ত থেকে ১০-১৫ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় । তিনি আরো জানান দেশের চলনবিলের মৎস সম্পদ রক্ষায় মহিষলুটি বাজারে একটি মৎস হিমাগার হওয়া দরকার । আড়তদার আলম তালুকদার জানান তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি মৎস আড়ত খুব ভোরে শুরু হয়ে সাড়ে ৭টার মধ্যে মাছের বাজার শেষ হয়। চলনবিল মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সংবাদকর্মী আলহাজ আলী রনি জানান চলনবিলে বর্ষা মৌুমে প্রচুর দেশী মাছ ধরে আর এই মৌসুমের লক্ষাধিক টন মাছ হিমাগার থাকলে সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করা সম্ভব হতো। তাড়াশ উপজেলা মৎস অফিসের ফিল্ড এ্যাসিসটেন্ট মোঃ আহসান আলী জানান দেশের দক্ষিণাঞ্চালে সামদ্রিক মাছ সংরক্ষেনের জন্য হিমাগার থাকলে দীর্ঘ দিনেও চলনবিল এলাকায় মৎস হিমাগার গড়ে উঠেনি। আমরা নিমগাছি মৎস প্রকল্পের আওতায় হিমাগার নির্মাণের জন্য প্রকল্প পাঠিয়েছি এবং গত বছর মৎস অধিদপ্তরের ঢাকা হতে সমীক্ষা দল এসেছিলেন। তাড়াশ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মশগুল আজাদ জানান দেশের অন্যতম বিল চলনবিল এলাকার মৎস সম্পদে সংরক্ষণে প্রসেসিং হিমাগার দরকার ।

No Comments

আরও পড়ুন