বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান আগামী ২৯ মার্চ থেকে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। স্ত্রী ও সফর সঙ্গীসহ ২৮ মার্চ রাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভারতের নর্থইস্ট নিউজ সংবাদটি পরিবেশন করেছে।
নর্থইস্ট নিউজ জানায়, বর্তমান সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে।
অপরদিকে সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, যা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে নয়, বরং কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের উত্থানের পর সেনাবাহিনীর ভূমিকাও আলোচনায় আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই সফর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও সামরিক কূটনীতিকে আরও সুসংহত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফরকালে সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, পেন্টাগনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
এই সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী সারাহনাজ কামালিকা জামান এবং তিনজন ব্রিগেডিয়ার—মোহাম্মদ সেরাফউদ্দিন খান, নাজমুল হাসান ও মোহাম্মদ এহসানুল হক—অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি একজন ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তাও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরকালে সেনাপ্রধান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেন। সেই সফরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন, যা দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সহায়ক হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই বিবেচনায় সেনাপ্রধানের এই সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ দিনের এই যুক্তরাষ্ট্র সফর বাংলাদেশের সামরিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইরানের জন্য ৩১৩ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে রাশিয়া টুডের (আরটি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, এটি ইরানের জন্য রাশিয়ার পাঠানো চিকিৎসা সহায়তার দ্বিতীয় চালান। রেলপথে এই সহায়তা ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন আজারবাইজানের শহর আস্তারায় পৌঁছানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রুশ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কাছে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
এদিকে আজারবাইজানের ভেতর দিয়েই এর আগে রাশিয়া আরও একটি মানবিক সহায়তার চালান পাঠিয়েছে। আজারবাইজানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সে সময় সাতটি ট্রাকের একটি বহরে করে ১৪০ টনের বেশি সহায়তা সামগ্রী পরিবহন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে। পুরো কার্যক্রমে আজারবাইজান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সহায়তা পরিবহনে ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
পৃথিবীতে কত ধরনের যে তালিকা তৈরি করা হয়, তার কোনো হিসাব নেই। তেমনি একটি তালিকা হলো ‘হেইটেড কান্ট্রি’। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ সম্প্রতি এ রকম একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
কোনো দেশের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত সেই দেশের বর্তমান সরকারের নীতি এবং প্রচারমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে অনেকখানি। তবে আধুনিক বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষা এবং পরিবেশগত সচেতনতা কোনো দেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। এ বছর বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন জনমত জরিপের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত বা অপছন্দের দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। অপছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে চীন। এর পরই যথাক্রমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। তালিকায় শীর্ষ ৩০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান থাকলেও নেই বাংলাদেশের নাম। এই তালিকাটি মূলত দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ, মানবাধিকার রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে অপছন্দের ৩ দেশ
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোই সাধারণত বেশি সমালোচনার শিকার হয়। তার ছাপ পাওয়া যাবে এ তালিকায় থাকা শীর্ষ তিনটি দেশের নাম দেখলে। দেশগুলো হলো যথাক্রমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
চীন
উইঘুর মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন, হংকং ও তাইওয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক তৎপরতার কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত। এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশদূষণকারী দেশ হিসেবেও চীনের নেতিবাচক চিত্র রয়েছে। ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো চীনের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সামরিক অভিযানের কারণে অনেকেরই রয়েছে দেশটির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বা বিনোদন জগতের কারণে দেশটির একটি ইতিবাচক ‘সফট পাওয়ার’ রয়েছে। কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশ্বজুড়ে একটি বিশাল অংশের মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এটিই মূলত দেশটিকে ‘সবচেয়ে অপছন্দের’ দেশের তালিকায় ওপরের দিকে নিয়ে এসেছে।
রাশিয়া
ইউক্রেন আক্রমণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কারণে রাশিয়া বর্তমানে বৈশ্বিক নেতিবাচক তালিকার ৩ নম্বরে রয়েছে। এ ছাড়া সাইবার হামলা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের অভিযোগও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ইউক্রেনের সঙ্গে লড়াইও দেশটির জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মানবাধিকার ও ভূরাজনৈতিক কারণে সমালোচিত
উত্তর কোরিয়া
বিশ্বের রহস্যময় ও দমনমূলক দেশ উত্তর কোরিয়া। তালিকায় দেশটি আছে ৪ নম্বরে। কিম জং-উনের শাসনে থাকা এ দেশটি তার নাগরিকদের ওপর চরম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে। সেখানে কোনো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম নেই; রেডিও-টেলিভিশনে কেবল সরকারি প্রচার চালানো হয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই বললেই চলে। সরকার মানুষকে পেশা নির্ধারণ করে দেয় এবং অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ নিষিদ্ধ। শ্রম শিবিরে অমানবিক পরিবেশে মানুষদের দাস হিসেবে খাটানোর অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও দেশটি তার আয়ের বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র ও সামরিক খাতে ব্যয় করে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।
ইসরায়েল
ভূখণ্ডগত বিরোধ ও ফিলিস্তিন ইস্যুর কারণ ইসরায়েল মানুষের অপছন্দ দেশের মধ্যে একটি। তালিকায় দেশটি আছে ৫ নম্বরে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি মূলত ফিলিস্তিনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সমালোচিত। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন এবং শরণার্থী ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েল বারবার নিন্দার মুখে পড়েছে। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে টার্গেটেড কিলিং বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা এবং গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
সৌদি আরব
তেলসমৃদ্ধ এ দেশটি তার রক্ষণশীল এবং কঠোর শাসনব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে আলোচিত। তালিকায় দেশটি রয়েছে ১৩ নম্বরে। এখানে রাষ্ট্রের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের হার অনেক বেশি। বিশেষ করে হত্যা, ব্যভিচার বা ধর্মত্যাগের মতো অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নারীরা দেশটিতে পুরুষ অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ড্রাইভিং বা শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা এলেও আইনিভাবে সে দেশের নারীরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার।
পাকিস্তান ও ইরান
সন্ত্রাসবাদ ও পারমাণবিক উদ্বেগের কারণে পাকিস্তান ও ইরান মানুষের অপছন্দের দেশের তালিকায় আছে। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে প্রায়ই সন্ত্রাসবাদের ‘অভয়ারণ্য’ বলা হয়। তালেবান বা আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে দেশটি সমালোচিত। এ ছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ওপর নির্যাতন ও আইনি জবাবদিহির অভাব এখানে প্রকট। কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইরান আন্তর্জাতিকভাবে বিমুখ। এ ছাড়া দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
ইরাক
ইরাক মূলত সাদ্দাম হোসেনের আমলের গণহত্যা ও নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের উত্থানের কারণে নেতিবাচকভাবে পরিচিত। আইএসের পক্ষ থেকে গণহারে বেসামরিক মানুষ হত্যা ও আত্মঘাতী হামলার ঘটনা দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
ঐতিহাসিক কারণে সমালোচিত দেশগুলো
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স
বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক হলেও অতীতে তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে দেশ দুটি সমালোচিত। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকে সম্পদ লুট এবং মানুষের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস এখনো অনেক জাতির মনে ক্ষোভ জাগিয়ে রেখেছে।
জার্মানি ও জাপান
জার্মানির নাৎসি বাহিনীর ভয়াবহতা এবং জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নিষ্ঠুরতার (বিশেষ করে চীনে) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দেশ দুটির নেতিবাচক ইমেজের কারণ। আধুনিক সময়ে দেশ দুটি নিজেদের বদলে ফেললেও ইতিহাসের কালিমাময় অধ্যায়গুলো এখনো আলোচিত হয়। সূত্র : ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ
ইরানের দুটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কিন্তু কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হয়নি বলছে গণমাধ্যমগুলো।
ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইরানের \'খোন্দাব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্সে\' মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। আইআরএনএ মারকাজি প্রদেশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্যমতে, ইয়াজদের আরদাকানে অবস্থিত \'ইয়েলোকেক প্রোডাকশন\' এর স্থাপনায় দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হলেও ওই স্থানের বাইরে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র : বিবিসি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে পুলিশ সদস্য হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি, আর এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৫ আগস্টের আগে পুলিশ নিহতের বিষয়ে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু পুলিশ বলছেন কেন? পুলিশসহ অনেক মানুষই মারা গেছে। আইন অনুযায়ী এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নাই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার ইতিহাসে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।
মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক এবং এর বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামীকাল শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে শিক্ষানবিশ এএসপিদের শিক্ষা সমাপনী পাসিং আউট অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন আইজিপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর নামের স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনে কাটা পড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী, দুজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন নীরব (১২), নার্গিস (৩০), দোলা (৫০), সুলতান (২৮) ও রিফা (২০)। তারা গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট এলাকার দুই পরিবারের সদস্য। তারা সবাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। ঢাকার বনশ্রী পরিবহনের একটি বাস ভাড়া করে তারা মির্জাপুরের পোশাক কারখানায় যাচ্ছিলেন।
নিহত রিফার ভাই ও অপর পোশাকশ্রমিক বায়জিদ বোস্তামী জানান, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে বনশ্রী পরিবহনের একটি বাস রিজার্ভ করে মির্জাপুরের পোশাক কারখানায় যাচ্ছিলেন তারা। যাত্রীবাহী বাসটি জ্বালানি শেষ হয়ে ধলাটেঙ্গর এলাকায় থামে। এ সময় বাসের চালক ও সহকারী তেল সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের নামিয়ে কাছাকাছি পাম্পে চলে যান।
অপেক্ষারত অবস্থায় কয়েকজন যাত্রী পাশের রেললাইনে বসে ছিলেন। এমন সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় পাঁচজন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার খবর পেয়ে যমুনা সেতু পূর্ব থানা-পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান জানান, কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর নামের স্থানে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসে ছিলেন। ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় লাইনে বসে থাকা যাত্রীরা ট্রেনের কোনো শব্দ পাননি। ফলে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে তারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীবোঝাই রোরো ‘কেরামত আলী’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাটুরিয়া ৪ নম্বর ঘাটে ফেরির সাইলেন্সর পাইপের ছিদ্র দিয়ে কার্বন জমে মুহূর্তের মধ্যে আগুন বের হতে থাকে। পরে ফেরি স্টাফ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অল্প সময়ে মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় আগুনের স্ফুলিঙ্গের সাথে কালো ধোঁয়া পাইপ থেকে বের হতে দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরে দ্রুত ফেরিটি পন্টুনে ভিড়িয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের নামানো হয়। তবে ফেরি কর্তৃপক্ষ বলছে, এ রকম সাইলেন্সর পাইপে আগুন লাগার ঘটনা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা মাঝে মাঝেই হয়ে থাকে। কিন্তু আজ ওই ফেরিতে আগুন স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিটি পাটুরিয়া ৪ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রীবোঝাই করে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় কয়েকশ গজ যাওয়ার পরে নিচের সাইলেন্স পাইপের ছিদ্র দিয়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকে। সাথে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এ সময় ফেরিতে থাকা যানবাহন চালকরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। এ সময় ঘাটে ফেরি ভিড়িয়ে যানবাহন নামানোর পাশাপাশি ফেরিতে থাকা হুস পাইপ দিয়ে সাইলেন্স পাইপে পানি দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুবেলুজ্জাম উদ্দিন বলেন, ‘ফেরিটির ইঞ্জিন দুস্টোকের হওয়ায় লুবয়েল মবিল ছিটে সাইলেন্স পাইপে জমে যায়। পরে কার্বন জমে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। একবার এ পাইপে আগুন লাগলে পরে আর কয়েক বছর লাগে না। বেশি আগুন লাগার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ফেরিটিকে ভাসমান কারখানা মধুমতিতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা চেক করে পরে বিস্তারিত জানতে পারব।’
শিবালয় স্টেশনের ফায়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, আগুনের খবর পেয়ে ফেরির স্টাফ আর আমরা মিলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘ফেরিতে আগুন লাগার বিষয়টি সিরিয়াস কিছু না। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আজকে কেন সাইলেন্স পাইপে কার্বন জমে এত বেশি আগুন বের হলো, বিষয়টি আমাদের ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ খতিয়ে দেখবে।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের বাসায় অনুষ্ঠিত এক আলোচিত ‘চা-চক্র’ ঘিরে নতুন করে তৎপর হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রিমান্ডে থাকা সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য মিলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে, ২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’ পর্বে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইয়াজউদ্দিনকে চাপ দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাতেও নতুন করে তথ্য মিলছে। ঘটনার দিন তার বাসায় অনুষ্ঠিত চা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও ছিলেন। সেখানে তৎকালীন তিন বাহিনীর প্রধানসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অংশ নেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং এক-এগারোর পটপরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এখনো দেশে আছেন, তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সামরিক ও বেসামরিক বেশ কয়েকজনের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ ইয়াজউদ্দিনের বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং সেদিন উপস্থিত অন্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন, তদন্তকারীদের মতে তার দেওয়া কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর। বিস্তারিত অনুসন্ধানে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) উদ্যোগ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এক-এগারো সময়কালে পেছন থেকে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অন্যতম হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানো এবং তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এমনকি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেছিলেন।
সম্প্রতি মানব পাচার মামলায় রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। আদালত ওই মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানি লন্ডারিং, মানব পাচার ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।