স্বপ্নপূরণে বেরিয়েছি, খুঁজো না – ডোনেট বাংলাদেশ

স্বপ্নপূরণে বেরিয়েছি, খুঁজো না

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:২০ 21 ভিউ
দুই সপ্তাহ ধরে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণের একজন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসির ছাত্র মোহাম্মদ আস সামি (১৮)। ঘর ছাড়ার আগে বাড়িতে একটি চিঠি রেখে যান তিনি। ওই চিঠি হাতে এসেছে। বাবার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে সামি বলেন, 'বাবা, স্বপ্নপূরণে বেরিয়ে পড়লাম, খুঁজে লাভ নেই। শুধু দোয়া করবেন যেন স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হই। যেন আল্লাহ তায়ালা আমায় কবুল করেন। আপনাদের কবুল করেন। আমাকে খুঁজে লাভ নেই। যে স্বেচ্ছায় হারিয়ে যায় তাকে পাওয়া যায় না।' আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ- উগ্রবাদে জড়িয়ে তাঁরা লাপাত্তা। জঙ্গিবাদের পথে পা বাড়িয়ে তাঁরা 'হিজরত' করেছেন। ১৬ দিন ধরে কোনো খোঁজ না মেলায় সাত পরিবারও দিশেহারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও তাঁদের খুঁজছে। সামির চিঠির ভাষা থেকেও স্পষ্ট- উগ্রবাদী চেতনায় তাঁর মগজ ধোলাই হয়েছে। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, 'বাবা, আপনার সাথে আমার বনিবনা হয় নাই। সব সময় গালাগালি ও মারামারিই চলেছে। কিন্তু আমার কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর রহম করুন। আমি আপনার চাহিদামতো সন্তান হতে পারি নাই। কিন্তু চেষ্টা করেছি, যেন আপনার অভিযোগ বা অসন্তুষ্টির কারণ না হই। সফল হয়েছি কিনা, জানি না। আমায় ক্ষমা করবেন। কোনো অভিযোগ রাখবেন না ইনশাআল্লাহ। আম্মুর সাথে খুব বাজে ব্যবহার করেছি। আপনারা আমায় ক্ষমা করবেন। আপনাদের হক নষ্ট করেছি এক সময়। দয়া করে সন্তান ভেবে কোনো দাবি রাখবেন না। শুধু

দোয়া করবেন, যেন স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। আজীবন ভাইয়ারও হক নষ্ট করেছি।' চিঠিতে আরও লিখেছেন, 'কয়েকজন স্যারের একটু বকেয়া আছে। একটু শোধ করে দিয়েন। বণিক স্যার ৩ হাজার টাকা; ওহি ভাইয়া ৪ হাজার টাকা; হাসান স্যার ৩ হাজার টাকা; দেলোয়ার স্যার ৮ দিন পড়িয়েছেন। উমাম ভাই ৫ দিন পড়িয়েছেন। সুজন স্যার ৬ দিন পড়িয়েছেন। এখানকার কারও টাকা আমি নিয়ে মেরে দেই নাই। ওনাদের এসব বকেয়া।' চিঠিতে বলা হয়, 'আমার মাধ্যমে এক সময় তোমার পক্ষের কিছু আত্মীয়র হক নষ্ট হয়েছিল। কাপড়-চোপড় তো কিনি নাই। ওই টাকাগুলো আর তোমার সঙ্গে কিছু মিলিয়ে পরিশোধ করিও। এর মধ্যে সাকিব ভাইয়া ২ হাজার ২০০ টাকা। বড়

মামা ৭০-৮০ টাকা। বাবু ভাইয়া ১০০০-১১০০ টাকা, নয়ন ভাইয়া ১ হাজার ৬৫০ টাকা। আপাতত এসব মনে আছে। এসব আমার অন্ধকার জীবনের গুনাহ।' ওই চিঠিতে আরও কিছু লাইন তিনি যুক্ত করেন। তা হলো- 'মোরা মুসলিম চিরবীর। মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী।' 'জিহাদ জিহাদ জিহাদ চাই, জিহাদ করে মরতে চাই।' নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান ওরফে শিথিল (১৭), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আস সামি (১৮), কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম (১৮), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল আবদুল্লাহ (১৭), ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত (১৯), একই কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয়

বর্ষের আমিনুল ইসলাম আলামিন (২৩) ও ঢাকা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করা সরতাজ ইসলাম ওরফে নিলয় (২৫)। এই সাত শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় পাঁচটি এবং ঢাকায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হয়েছে। ডায়েরিতে বলা হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট বাসা থেকে বের হয়ে তাঁরা আর ফেরেননি। নিহালের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ২৩ আগস্ট তাঁর ছেলে বাসায় কিছু না জানিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার পরদিন ভোরে চাঁদপুর শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন চাঁদপুর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি জানান, আমার ছেলেসহ তার তিন বন্ধুকে পুলিশ ওই হোটেলে দিয়ে যায়। যেন

তাদের গিয়ে নিয়ে আসি। ম্যানেজারের ফোন থেকে নিলয়ের সঙ্গে কথাও বলেন। নিলয় তাঁকে ওই হোটেলে যেতে নিষেধ করে। বাসার উদ্দেশে তারা ফিরে আসছে বলে জানায়। এর পর আর ফেরেনি। চাঁদপুরের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে তিন তরুণকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন পুলিশের এক সদস্য। তরুণরা কোথা থেকে এসেছে- জানতে চাইলে তাঁরা জানান, বাসা থেকে অভিমান করে চলে এসেছেন। আবার বাসায় ফিরে যাবেন। এর পর ওই পুলিশ সদস্য তাঁদের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান। ওই রেস্টুরেন্টের মালিকের কাছে তাঁদের বুঝিয়ে পরিবারের সদস্যরা এলে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন। খবর পাওয়ার পর ৯৯৯-এ কল করেও তরুণদের পরিবার নিশ্চিত

হয়- চাঁদপুরে তাদের সন্তানরা রয়েছে। পরে সেখান থেকে কৌশলে সবাইকে বোকা বানিয়ে পালিয়ে যান তিন তরুণ। চাঁদপুর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার হেদায়েত উল্লাহ বলেন, অভিভাবকরা এসেছেন- এটা জানিয়ে তিন তরুণ চলে গিয়েছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন এসে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন জানতে পারলাম, তাঁরা অভিভাবকদের কাছে যাননি। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, ঘটনার দিন পুলিশের কাছে নিখোঁজ তরুণদের ব্যাপারে কোনো তথ্য ছিল না। পুলিশ বিশ্বাস করেছিল, তাঁরা সত্যি সত্যি অভিমান করে ঘর ছেড়েছেন।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ওডেসায় সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানল রাশিয়ার ড্রোন হাজারীবাগে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ রাশিয়ার স্কুলে ভয়াবহ হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ বিপিএলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কত, জানাল বিসিবি ‘বড় ভাইদের আশ্বাসে’ অনশন বাতিল করে ক্যাম্পাসে ফিরলেন ইডেনের সেই নেত্রীরা উপস্থাপনায় অপু বিশ্বাসের অভিষেক উন্মুক্ত হলো ‘শেখ হাসিনা- অ্যা ট্রু লিজেন্ড’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র খালেদা জিয়াকে নিয়ে এবার স্প্যানিশ শিল্পীর গান সাংবাদিক রণেশ মৈত্র না ফেরার দেশে সাগর-রুনি হত্যা: ৯২ বারের মতো পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন গুণগতমান সম্পন্ন বীজআখ উৎপাদন ও বিস্তারের কৌশল শীর্ষক ফরিদপুর চিনিকলে দিন ব্যাপি কর্মশালা কেন্দুয়ায় কৃষকলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করোনায় একদিনে ছয়জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭১৮ করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃ‌ত বেড়ে ৩৯ জাইকার ৬০ কোটি ডলার বাজেট সাপোর্টের আশা রাশিয়ায় স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত ৬, আহত ২০ হারুন পেলেন মোটরসাইকেল, বাহার আনারস, দারা চশমা বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন শীর্ষে জনপ্রশাসন, তলানিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ব্লক মার্কেটে ৭৭ কোটি টাকার লেনদেন আমরণ অনশনের হুমকি ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের