“হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেও আবার উঠে হাঁটতে হবে; থেমে গেলে চলবে না”


অথর
সফলতার গল্প ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৪ জানুয়ারি ২০২০, ৫:৪২ অপরাহ্ণ | পঠিত : 358 বার
0
“হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেও আবার উঠে হাঁটতে হবে; থেমে গেলে চলবে না”

“তুমি নিজে না চাইলে তোমাকে কেউ তোমার সাফল্যের পথ থেকে সরাতে পারবে না” এই কথাগুলোকে সত্যি করে আমাদের তরুন সমাজের সামনে তুলে ধরেছেন বর্তমানে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা তাসমিয়া রহমান শুচী । রাজধানী ঢাকার মধ্য বাড্ডার আদর্শ নগরে জন্মগ্রহণ করেন তরুণ উদ্যোক্তা তাসমিয়া রহমান শুচী। ছোটবেলা থেকেই খুবই দুরন্ত আর চঞ্চল তাসমিয়া। তাসমিয়া’র দুরন্ত সুন্দর শৈশব কাটে মামাদের অফুরন্ত স্নেহ আদর ভালবাসায়। খেলাধূলায়ও ছিলেন বেশ পারদর্শী। বাড্ডা আলাতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। অল্প বয়সেই সংসার জীবনে প্রবেশ করায় পড়াশোনা আর বেশী দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি তাসমিয়া’র। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি

তীব্র আগ্রহ থাকায় দীর্ঘ ১২ বছর পর পুনরায় শুরু করেন পড়াশোনা। ভর্তি হন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই হাতের কাজ শেখার প্রতি তীব্র টান ছিল তাসমিয়া’র। মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন সেলাইয়ের কাজ। পরিচিত এক আন্টির কাছ থেকে শিখেছেন ব্লক বাটিকের কাজ। এছাড়াও রন্ধন শিল্পেও বেশ দক্ষ তাসমিয়া। সেই দক্ষতা এবং শেখাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে স্বাবলম্বী জীবন গড়ার বাসনা তাড়িত করতো প্রতিনিয়ত। সেই তাড়না থেকেই কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় আজকের সফল উদ্যোক্তা তাসমিয়া। বাচ্চাদের ফ্রক ডিজাইন দিয়েই শুরু হয় তাসমিয়া’র স্বাবলম্বী জীবনের যাত্রা। যাত্রা শুরু করে তাসমিয়া’র অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “পুঁথি ঘর” এবং “রান্নার সাতপদ”।বাচ্চাদের ফ্রক ডিজাইনদিয়েই

শুরু তাসমিয়ার পথ চলা। তিনি বলেন এতোটা চাহিদা হবে ভাবতেও পারিনি। আমার দিদি ও আপুনির সহায়তায় আমি ফ্যাশন ডিজাইনিং এর একটি সর্ট কোর্সও করি। ধীরে ধীরে অনলাইনে দেশী বিদেশী পোশাক ও জুয়েলারি সেল করা শুরু করি। বেশ ভালো সাড়াও পাই। এরপর শুরু হয় আমার নতুন পথ চলা। একদিন বন্ধুরা আমার হাতের রান্না খেয়ে ক্যাটারিং এর কাজ শুরু করতে বলে। ওদের পরামর্শে শুরুও করি। বর্তমানে সফলতার সাথে ক্যাটারিং এর কাজ করে যাচ্ছি। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাবার সাপ্লাই দিচ্ছি। কেক সাপ্লাই দিচ্ছি। সব কিছুই বেশ ভালো চলছে। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে সমাজের সব নির্যাতিত নারীদের নিয়ে কাজ করা। যারা বিভিন্ন কারণে ঘরেথেকে বের

হতে পারে না। তাদের হাতে কাজ পৌঁছে দেয়া। যেন নিজে কিছু করে নিজের খরচ চালাতে পারে। নিজের শখ পূরণ করতে পারে। মহিলাদের নিয়ে নিজের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই যেখানে একজন মহিলা নির্দ্বিধায় কোন আত্নসম্মানহানীর ভয় ছাড়াই শান্তিতে কাজ করতে পারবে। অন্যায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবে। আমার এই আজকের সাফল্যের পেছনে বেশ কয়েক জন মানুষের কৃতিত্ব রয়েছে একজন আমার দিদি চক্রবর্তী লিপি, আমার বড় বোন হিয়া আপুনি এবং আমার ঘনিষ্ঠ একজন।।ভবিষ্যৎ নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তাসমিয়া বলেন, ব্যবসা করতে এবং একজন সফল উদ্যোক্তা হতে দরকার ধৈর্য। প্রোডাক্ট তৈরির সাথে সাথেই বিক্রি হবে না। অতি মুনাফা লাভের আশা করাযাবে না। অল্প

অল্প করে শুরু করতে হবে। নিজের পরিশ্রমকে পুঁজি করে সামনে যেতে হবে। শুধু লোকসানের হিসাব করে কাজকে না বলা যাবে না। জীবনে সফলতা পেতে হলে কাজ করতে হবে সেটা যে কাজই হোক। কাজে ধৈর্য ধরতে হবে, তবেই সাফল্য আসবে। সাপোর্ট দেওয়ার মানুষ জীবনে কম পাবেন। বরং আপনার মন ভেঙে দেওয়ার, আপনাকে ছোট করার, হিংসা করার, ক্ষতি করার লোকের অভাব নেই। নিজের জীবনের সব পথেই পাবেন। তাই মানুষের কথা বাদ দিয়ে নিজের মনের কথা শুনুন, নিজের জন্য ভাবুন। কখনও কারো কথায় পিছনে ফিরে তাকানো যাবে না। কানে একটা বড় তালা ঝুলিয়ে সামনে হাঁটতে হবে। হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেও আবার উঠে হাঁটতে

হবে। থেমে গেলে চলবে না। এই পথে পেছনে তাকানো একে বারেই বারন। ভবিষ্যতে বুটিক হাউজ ও রেস্টুরেন্ট দেয়ার পরিকল্পনা করছেন তাসমিয়া। বিশ্বব্যাপী দেশীয় পোশাক ও দেশীয় খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তরুণ এই উদ্যোক্তার পরিকল্পনা ও প্রত্যয় পূর্ণ হোক। সার্থক হোক তার পথ চলা। উত্তরোত্তর আরও সফলতা অর্জন করুক তাসমিয়া। এগিয়ে যাক আরও বহুদূর।

No Comments

ADD: 1762020