৪২৫ কোটি টাকা কাটল বিশ্বব্যাংক


অথর
ব্যাংক ও বীমা সংবাদদাতা   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৭ জুলাই ২০২০, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 137 বার
0
৪২৫ কোটি টাকা কাটল বিশ্বব্যাংক

দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সহায়তার জন্য চলমান একটি প্রকল্প থেকে ৪২৫ কোটি টাকা কাটছাঁট করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটিতে ধীর গতির কারণে ৫ কোটি ডলার সমপরিমান এ অর্থ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংস্থাটি। টাকা কেটে দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে। ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিসি)-যত্ন’ প্রকল্পে ঘটেছে এমন ঘটনা। সার্বিকভাবে ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব আগামীকাল উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। শুরু থেকে গত ৫ বছরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩২২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এটির আর্থিক ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ ও ১৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে উপকারভোগী

অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের কাছে ই-পদ্ধতিতে ক্যাশ ট্রান্সফার সন্তোষজনক হওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান মো. শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত ধীরগতির। ফলে এ প্রকল্প থেকে টাকা কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য বাস্তবায়নাধীন তিনটি প্রকল্পের ম্যাচিং ফান্ড হিসেবে দেয়া হয়েছে। তবে এ ৫ কোটি ডলার অনুদান হিসেবেই গণ্য করবে বিশ্বব্যাংক। ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট প্রকল্পটিতে এখনও অনেক অর্থ ছাড় হয়নি। ফলে এটি বাস্তবায়নে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। সূত্র জানায়- রোহিঙ্গাদের আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্য, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ। এর অংশ হিসেবেই

বিশ্বব্যাংক ৫ কোটি ডলার প্রত্যাহার করেছে। তবে প্রতিশ্রুত এ অর্থ কেটে নেয়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং ছয় লাখ সুবিধাভোগীর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যবহৃত হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরিকল্পনা কমিশনের প্রশ্নের উত্তরে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপি) এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা রোববার জানান, রোহিঙ্গাদের সহায়তা জন্য শুরু থেকেই বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এখন এ সহায়তা আরও বেশি প্রয়োজন হওয়ায় ধীরগতির বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ কেটে সেটি ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বব্যাংক। তারই অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত অনুদান আসায় প্রকল্প

থেকে অর্থ কাটছাঁট স্থগিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং মায়েদের সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের প্রেক্ষিতে নগদ অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। সেই সঙ্গে শিশু পুষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ স্থানীয় পর্যায়ে সেফটি নেট প্রোগ্রামে সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও রয়েছে। তিনটি কম্পোনেন্টে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রথম কম্পোনেন্টের আওতায় সুফলভোগীদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চারবার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রেক্ষিতে এক হাজার টাকা দেয়া হয়। দ্বিতীয় কম্পোনেন্টের আওতায় সুফলভোগীদের মনিটরিং করতে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা উন্নয়ন, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের দক্ষতা উন্নয়ন, পোস্টাল ক্যাশ ট্রান্সফারের জন্য ইউনিয়ন পোস্ট অফিসের দক্ষতা বৃদ্ধি

এবং বিদ্যমান উইনিয়ন পরিষদ অফিসে সেফটি নেট সেল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। তৃতীয় কম্পোনেন্টের আওতায় এমআইএস সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুফলভোগীদের মনিটরিং, সুফল ভোগীদের দুই বছর অন্তর মূল্যায়ন এবং খানা জরিপের ভিত্তিতে প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৭টি জেলার ৪৩টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মূল প্রকল্পটি ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু এর মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ শেষ না হওয়ায় এখন আরও ২ বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তের ঋণ থেকে ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা থেকে ব্যয় করার কথা। পরে প্রথম সংশোধনীর সময় কোনো ব্যয় না বাড়লেও দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২ হাজার ৪৪১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এবার তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে ৪৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কমিয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

No Comments

ADD: 1762020


আরও পড়ুন