নওগাঁ -৬ কোন চাঁদাবাজি চলবেনা দোয়া ইফতার মহাফিলে,সংসদ সদস্য রেজু

প্রকাশিতঃ মার্চ ৩, ২০২৬ | ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ র আত্রাই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সম্বনয়ে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ২রা ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় উপজেলার আহসানগন্জ হাইস্কুল মাঠে আহসানগন্জ, ভোঁপাড়া এবং পাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপি র সম্বনয়ে এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ -৬ আসনে সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু, প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে নওগাঁ -৬ রাণীনগর -আত্রাই কে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত রাখতে এ যাত্রায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন,এবং কোন চাঁদা বাজি চলবেনা বলে হুশিয়ারি দেন। ইফতারের প্রাক্কালে দোয়া মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া সহ তার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান বক্তা হিসেব উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সখিদার, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আব্দুল জলিল চকলেট, আব্দুল মান্নান সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুক্কর সিদ্দিক, সঞ্চালনায় কামরুল ইসলাম সাগর। এর আগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু,কে নওগাঁ -৬ উপস্থিত উপজেলা বিএনপি সহ ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা।

১০টি ভারতীয় গরু জব্দ করে।

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৩:৫২ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল ০৬টা ৩০ মিনিট হতে ০৮টা পর্যন্ত ৫৩ বিজিবি এর বিশেষ টহলদল পৃথক ০২টি অভিযান পরিচালনা করে ১০টি ভারতীয় গরু জব্দ করে। অভিযানে ৫৩ বিজিবির অধীনস্থ চরবাগডাংগা বিওপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন সুন্দরপুর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রাম হতে ০৮টি এবং বাখেরআলী বিওপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন চরবাগডাংগা ইউনিয়নের চাচ্চুরচর গ্রাম হতে ০২টি ভারতীয় গরু জব্দ করে। জব্দকৃত ভারতীয় গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য ২২ লক্ষ টাকা। জব্দকৃত গরু চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারী\'২৬ মাসে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার ৩৩টি গরু ও ০২ টি মহিষ সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করে ৫৩ বিজিবি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে।

পপ সংগীতের কিংবদন্তি নিল সেডাকা আর নেই

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বিশ্ব কাঁপানো জনপ্রিয় পপ সংগীতশিল্পী এবং কালজয়ী অসংখ্য গানের স্রষ্টা নিল সেডাকা মারা গেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তকে সুরের জাদুতে মুগ্ধ করে রাখা এই শিল্পী আধুনিক পপ সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিল সেডাকার পরিবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিয় স্বামী, পিতা এবং পিতামহের আকস্মিক প্রয়াণে আমরা বিধ্বস্ত। তিনি ছিলেন রক অ্যান্ড রোলের একজন প্রকৃত কিংবদন্তি এবং লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা। তবে আমাদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, তার এই শূণ্যতা অপূরণীয়।’ তবে এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা সেডাকা বিখ্যাত জুলিয়ার্ড স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি ‘দ্য টোকেনস’ নামে একটি ডু-ওয়াপ গ্রুপ গঠন করেন। কিশোর বয়সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলে গান লিখে প্রথম সাফল্যের দেখা পান তিনি। ১৯৫৮ সালে তার লেখা ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি গেয়েছিলেন কনি ফ্রান্সিস, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নিল সেডাকা একাধারে গায়ক, গীতিকার এবং দক্ষ পিয়ানোবাদক ছিলেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু,’ ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’, ‘ব্যাড ব্লাড’ উল্লেখযোগ্য। ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘ব্রিটিশ ইনভেসন’ (যুক্তরাজ্যের ব্যান্ডগুলোর দাপট)-এর কারণে সেডাকার জনপ্রিয়তা কিছুটা ম্লান হলেও সত্তর দশকে তিনি রাজকীয়ভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে তার লেখা ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ গানটি বিলবোর্ড টপ টেন চার্টে স্থান করে নেয়। এছাড়া তিনি বিশ্বখ্যাত শিল্পী এলটন জনের রেকর্ড লেবেলের হয়েও বেশ কিছু অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। পাঁচবার গ্র্যামি মনোনয়ন পাওয়া এই শিল্পী কেবল পপ গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে পিয়ানো কনসার্টে পারফর্ম করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল মিউজিক বাজানো তার আত্মার প্রশান্তি দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের লেখা গান ও সুর নিয়ে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানোটা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি অনুভূতি। আমি এই পথটিই বেছে নিয়েছি এবং এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’ সংগীত জগতে ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিল সেডাকা কেবল নিজের জন্যই নয়, অন্য অনেক প্রথিতযশা শিল্পীর জন্যও অসংখ্য হিট গান তৈরি করেছেন। আমেরিকান কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এবং গীতিকার নিল সেডাকার প্রয়াণে সংগীত জগতে একটি যুগের অবসান হল। সূত্র: বিবিসি

সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদে অস্থির চট্টগ্রাম

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ভারতে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অপকর্মে অস্থির চট্টগ্রাম। শুধু নগরী নয়, জেলা পুলিশের ৫ থানাও তটস্থ তার অনুসারীদের আতঙ্কে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিল্পপতি-কেউ রেহাই পাচ্ছেন না তার অনুসারীদের হাত থেকে। বিদেশে বসেই টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে চাঁদাবাজি করছে বড় সাজ্জাদ। অথবা মেসেজ দিয়ে ভয়ভীতি এমনকি হত্যার হুমকি-ধমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদ না দিলে হত্যার শিকার হতে হচ্ছে। চাঁদা না দিলে তার অনুসারীরা বাড়িঘরে গিয়েও প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গত শনিবার সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও এমডি সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করে তার অনুসারীরা। ১২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে দ্বিতীয় দফায় ওই বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটায় বড় সাজ্জাদ। এদিকে একের পর এক অপকর্মের পরও সাজ্জাদকে ফেরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না পুলিশ প্রশাসন। তবে সিএমপি বলছে, সাজ্জাদের অনুসারীদের গ্রেফতারে তাদের টিম কাজ করছে। এর আগে সাজ্জাদের অন্যতম প্রধান অনুসারী ছোট সাজ্জাদকে সিএমপি ঢাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বড় সাজ্জাদের বাহিনীর খুন, চাঁদাবাজি, টার্গেট কিলিংয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চট্টগ্রামের মানুষ। তার বাহিনীর অপরাধ কর্মকাণ্ডের লাগাম টানতে না পেরে দিশেহারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে এই বাহিনী সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সকালের নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় অবস্থিত স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় ভারী অস্ত্র দিয়ে মুহুর্মুহু গুলি করার ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর পর থেকে আবারও আলোচনায় আসে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ। পুলিশের তথ্য মতে, চট্টগ্রামে ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের পরিকল্পনায়। এর মধ্যে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ডে করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বড় সাজ্জাদ বা সাজ্জাদ আলীকে। তাকে এ হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও পুলিশের দাবি-বড় সাজ্জাদের পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম নগরীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। দুই যুগ ধরে বিদেশে বসে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ। একসময় শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বড় সাজ্জাদ ‘শিবির ক্যাডার’ হিসাবে পরিচিত। নগরীর পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী, বাকলিয়া, চকবাজার এলাকা থেকে এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তার পরিকল্পনায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। পকর্মের মধ্যে রয়েছে মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, বালুমহাল-ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ভবন নির্মাণে ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে প্রভাব বিস্তার। বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড কমান্ড ছিল ছোট সাজ্জাদ। গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা থেকে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে। এর পর থেকে সে কারাগারে আছে। বর্তমানে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছে রায়হান। রায়হানের বিরুদ্ধে ১৪ মাসে ৯টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর পরও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর নগরের পাঁচলাইশ হামজারবাগ এলাকায় মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এর আগে ভবন মালিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায়ও বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে আসে। এর আগে একই বছরের ১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে চান্দগাঁও মোহরা এলাকায় মোহাম্মদ ইউনুস নামে এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণ করে সাজ্জাদের অনুসারীরা। পুলিশ জানায়, বড় সাজ্জাদের বাহিনীর ২০-২২ জন সন্ত্রাসী চট্টগ্রামে সক্রিয়। একসময় এই বাহিনীর মূল নেতৃত্বে ছিল ১৭ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। সে গত বছর ১৫ মার্চ কারাগারে যাওয়ার পর তার হয়ে বর্তমানে বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে আট খুনসহ ১৫ মামলার আসামি মোহাম্মদ রায়হান। বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের মধ্যে রায়হানসহ পাঁচজন আলোচিত। তারা হলো-মোবারক হোসেন ইমন, খোরশেদ, বোরহান ও হাসান। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ মার্চ নগরের চন্দনপুরা এলাকায় সংঘটিত জোড়া খুনের মামলায় ‘সন্ত্রাসী’ হাসান এখন কারাবন্দি। তবে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানসহ বাকি চারজন অধরা। দেশে বড় সাজ্জাদের দলের নেতৃত্বে থাকা ছোট সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও বেশির ভাগ সদস্য এখনো ধরা পড়েনি। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে তার প্রধান দুই সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন ইমন। সাজ্জাদ আলী খান চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০০০ সালের ১২ জুলাই এইট মার্ডারের ঘটনা ঘটেছিল। এর আগে নিজ এলাকার জনপ্রিয় ওয়ার্ড কমিশনার লিয়াকত আলীকেও প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছিল সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা। বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডারের নেতৃত্ব দিয়েছিল এই সাজ্জাদ। একটি ক্যাম্পাসে দখল প্রতিষ্ঠা করতেই দিন-দুপুরে ব্রাশফায়ার করে আটজনকে হত্যা করেছিল এই সাজ্জাদ। পরে বন্দুকযুদ্ধের পর একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিল সে। জামিনে বের হয়েই পালিয়ে যায় ভারতে। অধরা বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড রায়হান : একাধিক হত্যাকাণ্ডে নাম এলেও এখনো অধরা ভয়ংকর সন্ত্রাসী রায়হান। সে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরের। তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরীতে যেকটি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে সবক’টিতেই নেতৃত্ব দেয় রায়হান। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় একের পর এক হত্যা মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় তার গোপন আস্তানাও রয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার বিকালে সিএমপি সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ বলেন, সিএমপি বরাবরই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর। সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গোলাগুলিসহ অস্থিরতা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে বিদেশ থেকে ফেরাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জেরুজালেমে আঘাত হানল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

দখলদার ইসরাইলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান নতুন করে যেসব মিসাইল ছুড়েছে সেগুলোর একটি জেরুজালেমে সরাসরি আঘাত হেনেছে। আলজাজিরার সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমে হামলার আগে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল। এর কিছুক্ষণ পরই একটি মিসাইল এসে সেখানে আঘাত হানে। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের আরব যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। ফিলিস্তিনিরা পবিত্র এ ভূমির মালিক হলেও বর্তমানে জেরুজালেমের প্রশাসনিক সব ক্ষমতা ইসরাইলিদের হাতে। এই শহরেই রয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। যা ইসলামের প্রথম কিবলা ছিল। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার পর জেরুজালেম হলো বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। সূত্র: আলজাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যগামী স্থগিত ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণে নজরদারি করছে সরকার

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ইরান-ইসরাইল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যগামী স্থগিত ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণে পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা ও যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে সরকার নজরদারি করছে। রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটকে প্রভাবিত করেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কিছু ফ্লাইটও ছিল। সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ থেকে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, গতকাল স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো ইতোমধ্যে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। স্থগিত ফ্লাইটের সব যাত্রীকে সোমবারের মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, বিশেষ করে যেসব যাত্রী বিদেশগামী ফ্লাইটে যেতে পারেননি তাদের সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি বিষয়টি তদারকি করছেন এবং ইফতারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করেছি। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল হওয়ায়, যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ ফ্লাইট সূচি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান মিল্লাত। তিনি বলেন, ফ্লাইটগুলো এমনভাবে পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে যাতে দূরবর্তী এলাকার যাত্রীরাও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট সময় পান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি সংঘাত আর বাড়বে না। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে। তবে অবনতি হলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে হামলায় নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর প্রতিশোধমূলক ইরানের পালটা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে। নিহত সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৪৮) মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। রোববার (১ মার্চ) রাত ৯টায় দেশে থাকা সালেখের স্বজনরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালেখ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করেন। সেখানে তিনি পানির গাড়ি চালাতেন। শনিবার নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পানির গাড়ি চালাচ্ছিলেন সালেখ। ওইদিন সন্ধ্যার সময় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আজমান শহরে আঘাত হানে। এতে সালেখসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সালেখকে মৃত ঘোষণা করেন। সালেখের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সালেখের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম রোববার রাত সাড়ে ৯টায় মোবাইলে জানান, শনিবার থেকেই তারা সালেখের মৃত্যুর খবর শুনছিলেন, তবে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। রোববার দুপুরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা সালেখের ভাইয়েরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। কিভাবে তিনি মারা গেছেন জানতে চাইলে শেলি বেগম বলেন, তারা শুনেছেন ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা স্বজনরা হাসপাতালে লাশ দেখার জন্য যাচ্ছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহজাহান জানান, সালেখের মৃত্যুর খবর তিনি শুনে দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

অবশেষে বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিচ্ছেন মোহন রায়হান

প্রকাশিতঃ মার্চ ২, ২০২৬ | ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক মোহন রায়হান। রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে কবি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি নিজে গ্রহণ না করে কোনো দুস্থ সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ সময় পুরস্কার স্থগিত করা থেকে শুরু করে পুনরায় প্রদানের ঘোষণা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া নানা অনভিপ্রেত ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান অভিযোগ করেন, পুরস্কারের তালিকায় তার নাম ঘোষণার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি ৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতার অজুহাত দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে তার পুরস্কার স্থগিত করা হয়েছিল। কবি বলেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং মুক্তচিন্তার ওপর একটি বড় আঘাত ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি এই পুরস্কারের জন্য কোনো তদবির করেননি, বাংলা একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই তাকে মনোনীত করেছিল। পুরস্কার বর্জন করবেন কিনা— এমন দোলাচলের মধ্যে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন তিনি। কবি জানান, অধিকাংশের মত ছিল— ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও কলমের স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আমি আশ্বস্ত হয়েছি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বিভাজনের চেয়ে ঐক্যকেই আমি বেছে নিয়েছি। কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে অতীতে সৃষ্ট জটিলতার কথা স্মরণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে কবি শামসুর রাহমানকে সম্মান জানিয়েছিলেন, সেই উদারতার ঐতিহ্য বর্তমান সময়েও বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অপমানের চেয়ে মর্যাদা বেছে নেওয়াই আমাদের কাজ। এ সময় পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তা হলো- ১. পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করতে হবে। ২. দলনিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া প্রবর্তন করতে হবে। ৩. পুরস্কারটি যেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করা যায়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, আগামী ২ মার্চ কবির হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।