ঢাকা-১০ এ ভোটের হার ৫.২৮: আ’লীগ প্রার্থী শফিউল জয়ী


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   রাজনীতি
প্রকাশিত :২২ মার্চ ২০২০, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 201 বার
0
ঢাকা-১০ এ ভোটের হার ৫.২৮: আ’লীগ প্রার্থী শফিউল জয়ী

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই শনিবার ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে তিন লাখ ২১ হাজার ২৭৫ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৬ হাজার ৯৬৫ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণের হার ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। ভোট গণনা শেষে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ১৫ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তিনি ১৫ হাজার ৯৫৫টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি পেয়েছেন ৮১৭ ভোট। যদিও ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট

বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগ করেন তিনি। জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান পেয়েছেন ৯৭ ভোট। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের কাজী মুহাম্মদ আবদুর রহিম ৬৩, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী ১৫ ও বাংলাদেশে কংগ্রেসের মো. মিজানুর রহমান ১৮ ভোট পেয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের ঢাকা-১০ আসন শূন্য হয়। রাজধানীর ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, শেরেবাংলা ও লালবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের ৭৭৬টি ভোটকক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে প্রায় সব

কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন ছিল না। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও তা ছিল খুবই নগণ্য। বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও নির্বাচনে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার চিত্র ফুটে ওঠে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থ ছিল। সঙ্গে স্যানিটাইজারসহ টিস্যু পেপারও রাখা হয়। এর পরও ভোট কেন্দ্রগুলো ছিল ভোটারশূন্য। ভোটকক্ষে দেখা যায়নি বিএনপির কোনো এজেন্ট। তবে প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে। রাজধানীর ধানমণ্ডির শুক্রাবাদের নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি ও ভোটদানের হার একেবারেই কম। ভোটকক্ষে পোলিং অফিসাররা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করছেন। নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা কেন্দ্রের সামনে বসে

আড্ডা দিচ্ছেন। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া প্রসঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনেক ভোটার ও এজেন্ট কেন্দ্রে আসেননি। হাতেগোনা ভোটার যারা এসেছেন তারাও ইভিএমে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে ভয় পাচ্ছিলেন। তবে ইভিএমের বোতামে চাপ দেয়ার আগে ভোটারদের স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হয়েছে। এদিকে, প্রথম দফায় ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় দফায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। প্রিসাইডিং অফিসার আহসানুল হক গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে আপডেট করে এসডি কার্ড নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর প্রথমবারেই তার ফিঙ্গার প্রিন্ট কাজ করেছে। এর আগে সকাল ৯টা

৫০ মিনিটে লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন মহিউদ্দিন। তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর ভোটার আইডি কার্ডেও কাজ হয়নি। অন্য আরেকটি মেশিনেও চেষ্টা করে কাজ হয়নি। প্রথম দফায় প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভোট দিতে পারেননি তিনি। প্রথম দফায় ভোট না দিয়ে তিনি ১১টা ৫ মিনিটে ভোট কেন্দ্র থেকে চলে যান। তখন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আহসানুল হক গণমাধ্যকে জানান, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সম্প্রতি উত্তরা থেকে মাইগ্রেট হয়ে ধানমণ্ডিতে এসেছেন। এসডি কার্ডে তার তথ্য আপডেট হয়নি। ছবিযুক্ত হার্ড কপিতে তার নাম আছে। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টে আসছে না। এদিকে, সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমণ্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট

দেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সব কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দিয়েছে। ৩৬টিরও বেশি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় রবির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট মো. সেলিম হোসেনকে আটক করে ভ্যানে তোলে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় দলীয় এজেন্টকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে পুলিশ ভ্যানে উঠে পড়েন ইশরাক হোসেন। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, আপনারা নির্বাচন চলাকালে আমাদের এজেন্টকে অন্যায়ভাবে আটক করতে পারেন না। এজেন্টকে ছেড়ে দেবেন, না হয় আমাকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

সকালের দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্র ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এরপর ওই কেন্দ্র ছেড়ে কাঁঠালবাগান এলাকায় চলে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঢাকা কলেজ ৬ নম্বর বুথের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার শেখ নূর মোহাম্মদ বলেন, দুই কারণে ভোটার উপস্থিতি কম। এর মধ্যে একটি হলো করোনাভীতি। আর অন্য কারণ বলা যাবে না। টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রের ৪ নম্বর বুথেও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আশিষ কুমার বলেন, ভোট কেমন হচ্ছে তাতো দেখতেই পাচ্ছেন। অলস সময় কাটাচ্ছি। তিনি বলেন, এ বুথে ভোটার সংখ্যা ৩৯৮। বেলা ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এখানে ভোট পড়েছে ১১টি। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আবারও নির্বাচনের দাবি রবির : ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন ভোটের দাবি জানিয়েছেন

বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি। ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর বাংলামোটরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, দখল ও কেন্দ্রে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণে মানুষ ভোট বিমুখ হয়েছে। যে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারল না সে নির্বাচন বর্জন করছি। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

No Comments

ADD: 1762020