সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা : বিজ্ঞান


অথর
শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স   ডোনেট বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৮ মে ২০২০, ৩:০৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 146 বার
0
সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা : বিজ্ঞান

প্রথম থেকে চতুর্থ অধ্যায়

নিশ্চয়ই এত দিনে তোমরা বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় থেকে চতুর্থ অধ্যায় পর্যন্ত পড়ে ফেলেছ। আজ তোমাদের জন্য থাকল ওই অধ্যায়গুলোর ওপর কিছু প্রশ্ন ও আলোচনা

সৃজনশীল প্রশ্ন

কক্কাস ব্যাকটেরিয়া দেখতে কেমন হয়?

১. মাহমুদ একদিন তার স্কুল গেটের পাশে খোলা দোকান থেকে চটপটি খেল। পরদিন থেকেই সে পেটের অসুখে ভুগতে শুরু করল। ডাক্তারের কাছে গেলে সে জানতে পারে, সে ব্যাসিলারি আমাশয়ে ভুগছে।

 

ডাক্তার তাকে ওষুধ লিখে দিয়ে বললেন, ‘স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে তোমাকে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে। আর সে অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে। ’

ক) অ্যামিবা কী? জীবদেহের বাইরে ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়

না কেন?

খ) মাহমুদের রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ) ডাক্তার সাহেবের উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

২. সাব্বির তাদের গ্রামের এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেল এবং দেখল সেখানে কোনো নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই। তখন সাব্বির তাদের বিশুদ্ধ পানি পান করার সুফলতা সম্পর্কে অবহিত করল এবং এলাকার অন্যদের সহায়তায় তাদের বাড়িতে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করল।

ক) প্রকৃত পরজীবী কী?

খ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশুদ্ধ পানি পান করার সুফলগুলো নিজের ভাষায় লেখ।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকলে কী কী ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়, ব্যাখ্যা কর।

৩. মহিউদ্দীন আজ ক্লাসে জীবকোষের দুটি অঙ্গাণুর কথা জানল। যার একটিকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়, অন্যটি উচ্চ শ্রেণির

উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায় না। সেটি প্রাণিকোষ বিভাজনে অ্যাস্টার গঠন করে।

ক) সাইটোপ্লাজম কাকে বলে?

খ) মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয় কেন?

গ) মহিউদ্দীনের জানা দ্বিতীয় অঙ্গাণুর গঠন ও কাজ লেখ।

৪. ঐশী সপ্তম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী

সে নিয়মিত স্কুলে যায়। তার ইচ্ছা সে ভালো ফলাফল করবে। পরীক্ষা নিকটবর্তী হওয়ায় তাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে; কিন্তু ইদানীং সে উত্তর মনে রাখতে পারছে না। তাই পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় সে খুব চিন্তিত।

ক) ভাজক টিস্যু কী? সেন্ট্রিওল বলতে কী বোঝায়?

খ) ঐশীর উত্তর স্মরণে না থাকার পেছনে যে কোষটি কাজ করে তার গঠন বর্ণনা কর।

গ) উক্ত কোষের সঙ্গে সাধারণ কোষের তুলনা কর।

৫. রূপান্তরিত কাণ্ড আলোচনা করার

সময় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সীমান্ত বলল, কিছু কাণ্ড আছে সম্পূর্ণ মাটির নিচে থাকে। তার সহপাঠী রাসেদ বলল, আবার কিছু কাণ্ড আছে, যাদের কিছু অংশ মাটির নিচে আর অন্য অংশ মাটির ওপরে থাকে।

ক) আরোহী মূল ও শাখা আকর্ষী বলতে কী বোঝ?

খ) রাসেদের উল্লিখিত কাণ্ডগুলোর গঠন বর্ণনা করো।

গ) সীমান্তের উল্লিখিত কাণ্ডগুলোর গঠন ও কাজ কী করো।

৬. নাসির সাহেব সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে বললেন, কাণ্ড উদ্ভিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। কোনো উদ্ভিদের কাণ্ড নরম, আবার কোনোটির কাণ্ড শক্ত। পাতা, ফুল ও ফল ধারণ করাই কাণ্ডের প্রধান কাজ। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এসব কাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য এর অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটে।

ক)

টিউবার ও রূপান্তরিত কাণ্ড বলতে কী বোঝ?

খ) উদ্দীপকে উল্লিখিত কাণ্ডের পরিবর্তনটি ব্যাখ্যা কর।

গ) মানবজীবনে উদ্ভিদের উক্ত অঙ্গটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

৭. সাদাত অনেক দিন ধরে শরীরে জ্বর অনুভব করছে। তা ছাড়া তার কাশিও রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। সে সাধারণ কাশির ওষুধ খাচ্ছে; কিন্তু কিছুতেই তার কাশি কমছে না। অবশেষে সে তার ভাইয়ের সঙ্গে হাসপাতালে গেল এবং জানতে পারল তার যক্ষ্মা হয়েছে। সে অনেক ভয় পেল; কারণ সে জানত যক্ষ্মা হলে রক্ষা নেই, কিন্তু ডাক্তার তাকে অভয় দিয়ে বললেন, যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই- এ কথার কোনো ভিত্তি নাই।

ক) যক্ষ্মা রোগ কেন হয়?

খ) উল্লিখিত রোগটি যদি তোমার বন্ধু আক্রান্ত হয়, তাহলে কী কী

লক্ষণ দেখা যাবে?

গ) ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার কোনো ভিত্তি নাই’ বিশ্লেষণ করÑ।

কক্কাস কী?

যেসব ব্যাকটেরিয়ার কোষের আকৃতি গোলাকার সেগুলোই কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দল বেঁধে থাকতে পারে; যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।

অণুজীবজগৎ কাকে বলে?

যেসব জীবন খালি চোখে দেখা যায় না এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন তাদের অণুজীব বলে। এসব অণুজীব নিয়ে গঠিত জগতকে অণুজীবজগৎ বলে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি হলো অণুজীবের উদাহরণ। এসব অণুজীবকে আদি জীবও বলা হয়।

ব্যাকটেরিয়ার স্পোর কিভাবে স্থানান্তরিত হয়?

বাতাসে যে ধুলাবালি উড়ে বেড়ায় তাতে ব্যাকটেরিয়ার স্পোর স্থানান্তরিত হতে পারে। এ ছাড়া অপরিষ্কার হাত, জামা-কাপড়, হাঁচি-কাশির মাধ্যমেও স্পোর স্থানান্তরিত হয়।

ফুল রঙিন হয় কেন?

উদ্ভিদের ক্রোমোপ্লাস্টে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন ও

জ্যান্থফিল থাকে। এই ক্যারোটিন লাল বা কমলা এবং জ্যান্থফিল হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী। অর্থাৎ ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থিতির কারণে ফুল রঙিন হয়।

উদ্ভিদকোষে নিউক্লিয়াস একপাশে অবস্থান করে কেন?

সাধারণত উদ্ভিদকোষে বড় কোষগহ্বর থাকে। এ গহ্বরটি কোষের কেন্দ্রে অবস্থান করে। ফলে নিউক্লিয়াসটি এই কোষের এক পাশে অথবা কোষপ্রাচীরের কাছাকাছি অবস্থান করে। অর্থাৎ কোষগহ্বরের আকার ও অবস্থানগত কারণেই উদ্ভিদকোষে নিউক্লিয়াসের এ ধরনের অবস্থান দেখা যায়।

জটিল টিস্যুকে পরিবহন টিস্যু বলা হয় কেন?

জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু নিয়ে জটিল টিস্যু গঠিত। এই টিস্যুগুলো উদ্ভিদে পানি, খনিজ লবণ ও শর্করা পরিবহনের কাজ করে। তাই জটিল টিস্যুকে পরিবহন টিস্যু বলে।

বুলবিলের কাজ কী?

কোনো কোনো আরোহী উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুল শাখায় পরিণত না হয়ে

প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার মাংসল পিণ্ডের আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। পরিণত অবস্থায় মাটিতে পড়লে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। অনেক সময় এদের আমরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি। তাই বুলবিলের প্রধান কাজ হলো খাদ্য সঞ্চয় করা ও প্রজননে সাহায্য করা।

আত্তীকারক মূল নিজের খাদ্য কিভাবে তৈরি করে?

কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে সরু সুতার মতো মূল উৎপন্ন হয়, যারা নিজেদের দেহে ক্লোরোফিল থাকায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে। তাই ক্লোরোফিলের উপস্থিতিই আত্তীকারক মূলের খাদ্য তৈরির প্রধান কারণ।

সালোকসংশ্লেষণ কী?

সালোকসংশ্লেষণ এক ধরনের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদকোষস্থ ক্লোরোপ্লাস্ট সূর্যরশ্মির ফোটন থেকে শোষণকৃত শক্তি কাজে লাগিয়ে

বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং কোষস্থ পানি ও অন্যান্য জৈব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে, উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

শ্বসনের ক্ষেত্রে নিঃশ্বাস কিভাবে ঘটে?

প্রশ্বাসের পরপরই নিঃশ্বাস পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে মধ্যচ্ছদা ও পিঞ্জরাস্থির পেশিগুলো শিথিল ও প্রসারিত হয়। ফলে ফুসফুস আয়তনে ছোট ও সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুথলির ভিতরের বায়ু, কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ফুসফুস থেকে ব্রঙ্কাস ও ট্রাকিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।

মধ্যচ্ছদা কিভাবে শ্বসনে সাহায্য করে?

যে মাংসপেশি বক্ষগহ্বর ও উদর গহ্বরকে পৃথক করে রেখেছে তাকে মধ্যচ্ছদা বলে। এটা দেখতে অনেকটা প্রসারিত ছাতার মতো। মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হলে নিচের দিকে

নামে। তখন বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ে। আবার এটা যখন প্রসারিত হয়, তখন উপরের দিকে ওঠে এবং বক্ষগহ্বর সংকুচিত হয়। মধ্যচ্ছদা সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস কাজ সম্পাদন করে। এভাবে মধ্যচ্ছদা শ্বসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

No Comments

ADD: 1762020