ভ্রমণে কক্সবাজারে চালু হচ্ছে পর্যটকবাহী ছাদখোলা ক্যাভারভ্যান।


অথর
ভ্রমণ নিউজ ডেক্স   ফিচার
প্রকাশিত :২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 235 বার
0
ভ্রমণে কক্সবাজারে চালু হচ্ছে পর্যটকবাহী ছাদখোলা ক্যাভারভ্যান।

নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। বিশ্বের প্রায় সব দেশের মতো আমাদের দেশের সমুদ্র সৈকতগুলোও এই সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত। এদেশের উল্লেখযোগ্য সমুদ্র সৈকতগুলো হলো : কক্সবাজার ও ইনানী, পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা ইত্যাদি। এদের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। কক্সবাজারের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে সমুদ্র। সেই অপার সৌন্দর্যের মাঝ দিয়েই চলে গেছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। প্রায় ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি যেন পুরোটাই এক আশ্চর্য সুন্দরের হাতছানি। এবার সেই সৌন্দর্য উপভোগে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি নতুন পালক। দেশের কোনো পর্যটক স্পটে প্রথমবারের মতো

যুক্ত হতে যাচ্ছে অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যান নামে নতুন বাস। যা চলবে এই মেরিন ড্রাইভের নয়নাভিরাম সড়ক দিয়ে। প্রতিদিন সকাল ৯টায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ছেড়ে যাবে ছোট একটি বাস। পরে রেজুখাল গিয়ে ছাড়বে ক্যারাভ্যান। টেকনাফ জিরোলাইন ঘুরে আবার কক্সবাজার ফিরবে সন্ধ্যায়। আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই বাস চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। ১০ বন্ধুর উদ্যোগে চালু হচ্ছে এই বিশেষ ছাদখোলা দোতলা বাস। ‘বুধবার ইনানীর রেজু খাল এলাকা থেকে বেলা ১১টার দিকে উদ্বোধন করা হবে’ বলে জানান অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভানের ব্যবস্থপনা পরিচালক তানবীর আহমেদ। তানবীর আহমেদ জানান, ‘বর্তমানে বাস একটি। আসন সংখ্যা উপরে

৩৬টি, নিচে ১২টি। প্রতিদিন রেজুখাল ব্রিজ এলাকা থেকে ছাড়বে। ছোট বাসে করে কলাতলী মোড় থেকে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে ওই এলাকায়।’ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হতে প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কক্সবাজার। এটি একটি জেলা শহর। আর এই শহরেই অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। যা কক্সবাজার শহর থেকে বদর মোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ২৫ কিলোমিটার দূরে ইনানী সমুদ্র সৈকত এবং ৮-১০ কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে হিমছড়ি নামক অতি মনোরম স্থান। প্রতিটি স্থানেরই নামের পেছনে একটি ইতিহাস থাকে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, ১৭৯৭ সালে বার্মার (মায়ানমার) আরাকান অঞ্চলে গোলযোগ দেখা দেয়। ফলে সেখান

থেকে বাঙালিদের তাড়িয়ে দেয়া হয়। এই বিতাড়িত ছিন্নমূল বাঙালিরা বর্তমান কক্সবাজার, উখিয়া, গুনডুম প্রভৃতি অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। ঐ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একজন দূত ক্যাপ্টেন কক্স বার্মার রাজ দরবারে কাজ করতেন। তিনি কোম্পানীর নির্দেশে এখানকার শরণার্থীদের তদারকি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য কক্সবাজার ছুটে আসেন। তখন এখানকার সমগ্র এলাকা মশা ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষের বসবাসের অযোগ্য ছিল। ক্যাপ্টেন কক্স এমন পরিবেশে অস্বস্তিবোধ করলেও শরণার্থীদের ফেলে চলে যায়নি। বরং তিনি তাদের জন্য কাজ করতে থাকেন। তখন এই সাগর তীরের নাম ছিল ‘ফালকিং’। অবশেষে ১৮০২ সালে ক্যাপ্টেন কক্স এখানে মারা যান এবং তার নাম অনুসারেই স্থানটির কক্সবাজার নামকরণ করা হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম

বালুকাময় সমুদ্র সৈকত হিসেবে এমনিতেই আলাদা খ্যাতি রয়েছে আমাদের এই কক্সবাজারের। বিধাতা যেন বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছেন বালুর আঁচলে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসে সাগরের উত্তাল গর্জন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অনেকগুলো পয়েন্ট রয়েছে। সেগুলো হলো- লাবনী পয়েন্ট, সী ইন পয়েন্ট, কলাবতী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বালিকা মাদ্রাসা পয়েন্ট এবং ডায়বেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট প্রভৃতি। এদের মধ্যে লাবনী পয়েন্ট কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখান থেকে বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন এবং সাগরের আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ দেখা যায়। বিভিন্ন দেশে পর্যটনের প্রসারের জন্য এই ধরনের বাস সার্ভিস চালু আছে। এই বাসের বিশেষত্ব হচ্ছে ছাদ খোলা। পর্যটকেরা বিনোদনের মাধ্যমে ভ্রমণ

করতে পারে। আর মেরিন ড্রাইভ হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে। এই সড়কটির দু’পাশের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসারের জন্য মূলত এ উদ্যোগ। বলেন ব্যবস্থপনা পরিচালক তানবীর। এই উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘এই বাসে করে কলাতলী থেকে টেকনাফ ভ্রমণের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। বাসে মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণের পাশাপাশি থাকবে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলের স্ন্যাক্স’। ‘বাসের ভেতরে রয়েছে লাইব্রেরি। যেখানে ভ্রমণকারীদের জন্য থাকছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট বইসহ দেশি-বিদেশি লেখকদের বই পড়ার সুযোগ। থাকবে ওয়াইফাই ও ওয়াশরুম সুবিধা’ও থাকবে বলে তিনি জানান। মেরিনড্রাইভ সড়কে পর্যটকদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, মেরিন ড্রাইভ সড়কে বিলাসবহুল বাসসার্ভিস অবশ্যই ইতিবাচক

প্রভাব ফেলবে। আশা করছি, এই উদ্যোগ পর্যটনশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে শুধু মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণে ২ হাজার টাকা ভাড়ার বিষয়টি বেশি বলে মনে করছেন। ভাড়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করারও দাবি জানান তারা। কক্সবাজার শহরেরর কলাতলী মোড় থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এ সড়কজুড়েই যেন এক অসাধারণ সুন্দরের হাতছানি। বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা সড়কটির অন্যপাশে রয়েছে অনেকগুলো পাহাড়। সবুজ পাহাড় আর সমুদ্রের জলরাশি দেখা মেলে এখানে।

No Comments

ADD: 1762020