জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের শিশুসহ চার সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের রামদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-ক্ষিতিশ বিশ্বাস (৬৫), তার স্ত্রী তুলসী বিশ্বাস (৫০), মেয়ে ইতি রানী বিশ্বাস (৩০) এবং নাতনি দেবরাজ বিশ্বাস (১৫)। তারা স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ক্ষিতিশ বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল বিশ্বাস বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষিতিশ বিশ্বাসের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আজিবর মোল্যার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিকল্পিতভাবে ক্ষিতিশ বিশ্বাসের নাতনির ওপর আজিবর মোল্যার লোকজন চড়াও হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আজিবর মোল্যা বলেন, ‘খেলাধুলা নিয়ে বাচ্চাদের মধ্যে একটু হাতাহাতি হয়েছে এবং পরবর্তীতে মহিলাদের মধ্যে চেঁচামেচি হয়েছে। তবে থানায় যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গণহত্যা শব্দটির সাথে মানুষ কম বেশী পরিচিত । শব্দটি জাতিসংঘ সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছে ‘কোন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলকে পরিকল্পিত ভাবে নির্মূল করার জন্য হত্যাকাÐ চালানো।’ এই হত্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষও হতে পারে । যেমন কোন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে শিশু জন্মে বাধা দেয়া বা নবজাতককে হত্যা করা কিংবা কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠিকেই হত্যা করা। গণহত্যা যুদ্ধের সময়ও হতে পারে যেমন বাংলাদেশে একাত্তরের গণহত্যা বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জামার্নিতে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ইহুদিদের উপর যেমনটা চালিয়েছিল । আবার ‘শান্তি’র সময়ও হতে পারে । ১৯৯৪ সালে আফ্রিকার রুয়ান্ডাতে গৃহযুদ্ধের সময় ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে । এই সব ধর্ষণের ফলশ্রæতিতে যেনো কোন শিশুর জন্ম না হয় ধর্ষকরা সে দিকে খেয়াল রেখেছে । কোন শিশু জন্ম নিলে তাকে হত্যা করেছে । ইরাক আর সিরিয়াতে যেনো ইয়াজেদি জনগোষ্ঠীর বিস্তার না ঘটে তার জন্য সে সব দেশে সরকারি ভাবে নানা রকমের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল । মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সাথেও জান্তা গোষ্ঠী এমন ভয়াবহ আচরণ করেছে । সুতরাং গণহত্যা যে শুধু সরাসরি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে শারীরিক ভাবে হত্যা তা বুঝায় না । অন্য ভাবেও হতে পারে । এই সব কথা জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদে উল্লেখ আছে ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেই একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর একটি গণহত্যার পর বাংলাদেশে আর একটি গণহত্যা এই দেশে বর্তমানে চালু আছে তা হয়তো এখন অনেকে বুঝতে পারছেন না । সেই গণহত্যার শিকার মূলত নির্দিষ্ট চারটি গোষ্ঠী। প্রথম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী, দ্বিতীয় আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তি, তৃতীয়ত মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, আর সর্বশেষ দেশের নবজাতক শিশু । ২০২৪ সালের আগস্টের পাঁচ তারিখের তথাকথিত জুলাই অভ‚্যত্থানের (আসলে জঙ্গি অভ‚্যত্থান) পরপর কথিত জুলাই যোদ্ধাদের সরাসরি আক্রমণের স্বীকার হন দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ । পাঁচ তারিখ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে কোন কার্যকর সরকার ছিল না । এই সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় এই আক্রমণ পরিচালনা করার জন্য সৃষ্টি হয় মব বা সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী দল । এই দলে প্রধানত ছিল জামায়াতে ইসলাম ও তাদের অঙ্গ সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মিরা, সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্য আর বিএনপি আর ছাত্র দলের সদস্যরা । পাঁচ দিন পর ফ্রান্স থেকে উড়ে এসে ড. ইউনুস ক্ষমতা দখল করার পর ধারণা করা হয়েছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে । হলো উল্টো । তিনি এই মব সংষ্কৃতিকে বৈধতা দিলেন । তার সভা পারিষদের সদস্যরা জানালেন যা হচ্ছে তা মব বলা যাবে না, তারা হচ্ছে ‘প্রেশার গ্রæপ’ । দেশের বিভিন্ন এলাকায় মব নামক এই সব দূর্বৃত্তরা বেছে বেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘরে হামলা করে তা ধ্বংস করলো, পুরুষদের পিটিয়ে বা গাছের সাথে ঝুলিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারলো । বাড়ীর মেয়েদের ধর্ষণ করলো । বেঁচে থাকা মানুষদের অনেকেই গ্রাম ছাড়া হলো । কেউ কেউ দেশান্তরি । এদের মধ্যে যেমন ছিল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তেমন ছিল শিক্ষক, ডাক্তার বা অন্য পেশার মানুষও । সরকারি চাকুরিতে থাকা অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চাকুরি হারালেন । রাজশাহী’র সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত তিনশত ক্যাডেটকে তাদের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগমূহূর্তে ছাঁঠাই করা হয় । এদের বেশীর ভাগই হয় আওয়ামী পরিবারের সন্তান অথবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু ।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপিড়নের সাথে সাথে দুর্র্বৃত্তরা ঝাঁপিয়ে পরলো আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর । পরিবারের কেউ একজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে শুধু জড়িত থাকার ‘অপরাধে’ সেই পরিবারের সকলে এই দুর্বৃত্তদের শিকারে পরিণত হলো । নূতন একটি শব্দের জন্ম হলো । ‘স্বৈরাচারের দোসর’। এই দোসরের তালিকা হতে বাদ গেলো না বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক চিকিৎসক বা অন্য অনেক পেশার মানুষ । অনেক ক্ষেত্রে তাদের না পেয়ে তাদের পরিবার আক্রমণের শিকার হলো । বাদ গেলো না মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা । তাদের অপরাধ তারা পাকিস্তান ভেঙ্গেছে । এক সময় যে মানুষ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে গর্বিত হতো সে মানুষ আত্মগোপনে গেল । যে সকল পরিবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেত তারা নিজের ভিটে মাটি হতে উচ্ছেদ হয়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হলো ।
সব শেষে ইউনুস সরকারের ভয়ানক অবহেলার কারণে হামের টিকার অভাবে দেশে হামের মহামারির প্রাদূর্ভাব আর তার ফলে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত ও তাদের মৃত্যু । সরকারি হিসাব মতে এই পর্যন্ত প্রায় সাত শতের বেশী শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে । বেসরকারি ভাবে তা হাজারের উপর হতে পারে । বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোতে কিছু রোগ আছে যা অন্য দেশে তেমন দেখা যায় না । এর মধ্যে আছে কলেরা, গুটি বসন্ত, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, টায়ফয়েড, চিকনগুনিয়া, কালাজ্বর ইত্যাদি । এর অধিকাংশই পানিবাহিত । এক সময়ে এই সব রোগে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হতো এবং গ্রামের পর গ্রাম এই মহামারির কারণে উজার হয়ে যেতো । একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে দেশের অনেক এলাকায় গুটি বসন্তে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল । মৃত মানুষের দাফন কাফনের মানুষ পর্যন্ত ছিল না ।
বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমন্বিত কর্মসূচির ফলে হাম সহ এই সব রোগ বাংলাদেশ হতে প্রায় বিদায় নিয়েছিল । এই সফলতা একক কোন সরকারের কৃতিত্ব বলা যাবে না । তবে এই কৃতিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বিগত দিনে শেখ হাসিনা সরকারের সময় । দেশে টিকাদান কর্মসূচিতে তিনি কতটুকু সফল হয়েছিলেন তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ কোভিড প্রাদূর্ভাবের সময় বাংলদেশে পরিকল্পিত টিকাদান কর্মসূচি । বিশ্বের দেশে দেশে যখন এই মহামারির কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেখানে বাংলাদেশে এই মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার পাঁচশ । ভারতে ৫ লক্ষ তেত্রিশ হাজার আর যুক্তরাষ্ট্রে বার লক্ষ । কোভিড নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের সাফল্য ছিল শীর্ষে । এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ ।
এবার আসি দেশে চলমান হাম জনিত রোগের মহামারি বিষয়ে । হাম মূলত শিশুদের রোগ হলেও তা বড়দেরও হতে পারে । সর্বশেষ এই রোগটির দেশব্যাপি প্রাদূর্ভাব দেখা গিয়েছিল ২০০০-২০০৬ সাল মেয়াদে । এই সময় বেগম জিয়ার সরকার ক্ষমতায় । ২০০৭ সাল থেকে রোগটির প্রাদূর্ভাব কমতে থাকে । তখন এক এগারোর সরকার । ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর তিনি এই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেন । তাকে সহায়তা করার জন্য জাতিসংঘ এগিয়ে আসে । গ্যাবি (গেøাবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস এন্ড ইমিউনাইজেশন) এর অর্থায়নে ইউনিসেফ বিশ্বের বিভিন্ন টিকা উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হতে টিকা সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশ সরকারকে হস্তান্তর করে । অর্থায়নে বাংলাদেশও সম্পৃক্ত ছিল । সহয়াতা করে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থ্যা । সরকার সারা দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোর মাধ্যমে তা বিতরণ করে শিশুদেও টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করে । একই সময় সারা দেশে জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচারণা চালায় । কোন কোন অঞ্চলে মাইকিং এর ব্যবস্থা করে । শেখ হাসিনার পনের বছরের শাসনামলে এই কর্মসূচি বিরাট সাফল্য লাভ করে । ২০১৯ সালে এই সাফল্যের জন্য ইউনিসেফ ও গ্যাভি যৌথ ভাবে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তাঁকে এক বিরল সম্মাননায় ভ‚ষিত করে। তাকে দেয়া হয় ‘ভ্যাকসিন হিরো’ খেতাব । প্রাপ্ত তথ্য হতে দেখা যায় ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশে শিশুদের এই গণটিকা দেয়ার কর্মসূচি অব্যাহত ছিল ।
২০২৪ এর পর তথাকথিত জুলাই অভ‚্যত্থানের পর প্যারিস থেকে উড়ে এসে ড. ইউনুস অবৈধ ভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন । তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রæয়ারির ১৭ তারিখ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন । ১২ ফেব্রæয়ারি দেশে আওয়ামী লীগ বিহীন একটি সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে আর ১৭ ফেব্রæয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে একটি ‘নির্বাচিত’ সরকার গঠিত হয় । ইউনুসের শাসনকাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কাল অধ্যায় । নিজের স্বার্থে এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেন নি । তবে সব অপকর্মের অন্যতম ছিল প্রতিষ্ঠিত হামের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়া । সিদ্ধান্ত নিলেন প্রচলিত নিয়মে গ্যাভর মাধ্যমে আর টিকা সংগ্রহ করা হবে না । হবে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে । হয়তো মাথায় ছিল তিনি নিজেই গ্রামীণের নামে একটি সংস্থা খুলে তার মাধ্যমে তা সংগ্রহ করবেন । এটি ছিল একটি সর্বনাশা সিদ্ধান্ত । একই সাথে তিনি এই বিদ্যমান টিকাদান কর্মসূচির সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের বেতন বন্ধ করে দিলেন ।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের স্থায়ী প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস অন্তত পাঁচবার ইউনুসকে চিঠি দিয়ে তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন ‘অনুগ্রহ করে এমন সর্বনাশা সিদ্ধান্ত নেবেন না’। কে শোনে কার কথা । এরই মধ্যে দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে লাগল । তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর এই সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করলো । এখন হয়তো সরকার কিছুটা ভাল অবস্থায় ফিরে গেছে । কিন্তু হাসপাতাল গুলোতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত সিট নেই । দেশে ইউনুসের নানাবিধ অপকর্ম নিয়ে একাধিক ব্যক্তি বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন । আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশের কোন আদালতে ইউনুসের কোন বিচার হবে না । বলতে বাকি রেখেছেন ‘উপরের মহলের অনুমতি নেই’। দেশে মানুষ এতদিনে জেনে গেছে তারেক রহমানের সরকার ইউনুস সরকারের একটি বর্ধিত সংষ্করণ । বুঝতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও আদালতের কাটগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছিল ।
উপরের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটি পরিষ্কার যে জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী ড. ইউনুস বাংলাদেশে তার অবৈধ শাসনকালে দেশে অনেক অপকর্ম করেছেন । দেশে একাধিক গণহত্যার সাথে শরিক হয়েছেন । দেশে প্রচলিত আদালতে হয়তো তার কোন বিচার হবে না তবে ইতিহাস তাকে মূল্যায়ন করবে । ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না ।
সৈয়দ ইফতেখার হোসেন
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক । ১০ জুন, ২০২৬ ।
মাদক আর সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠা নিজের এলাকাকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ নাগরিকরা। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরই নামলো নির্মম বুলেট।
আজ ২৫শে জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলি চালিয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
এই নৃশংস ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে কাঁটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছিল এলাকার কিছু চিহ্নিত কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারি।
এই নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দৃপ্ত শপথে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কিন্তু কর্মসূচি শেষ করে সাধারণ মানুষ যখন বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছাড়ে সন্ত্রাসীরা।
হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে মুহূর্তেই রক্তে রঞ্জিত হন বেশ কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে ‘প্রেম’ নামে এক স্কুলছাত্রের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা গুলি চালিয়েছে তারা এলাকার তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। ওরাই পুরো এলাকার কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে। প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা আর অস্ত্রের মহড়ার প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর এই হামলা হলো। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো কাটাবিল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়েই কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে। তবে হামলার পরপরই সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অপরাধীদের যেকোনো মূল্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মোড়। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি তুলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
আজ ২৫শে জুন, বৃহস্পতিবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে একগুচ্ছ প্রস্তাবনাসহ ৬ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রলীগের এই ৬ দফার মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে শিক্ষার্থীদের আইনি সুরক্ষা ও শিক্ষার অধিকারের কথা, অন্যদিকে রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
বিশেষ করে রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবি তুলে তারা আইনি হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত শামীম মোল্লা, মাসুদ ও তোফাজ্জলসহ সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে এই ঘোষণায়।
৬ দফার মূল প্রতিপাদ্য
রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিল, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তি
শামীম মোল্লা, মাসুদ ও তোফাজ্জলসহ সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার
নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং বলাৎকারের ঘটনায় সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
হামের টিকার অর্থ আত্মসাৎ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং তেল, গ্যাস, সার ও বিদ্যুতের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আনা
ছাত্রলীগ জানিয়েছে, এই ৬ দফা দাবি শুধু কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, বরং এটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও আপামর জনগণের মনের কথারই প্রতিধ্বনি।
মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে রাজনৈতিক সভা পরিচালনা ও নির্বাচনী প্রার্থী ঘোষণা করার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে রংপুরের মিঠাপুকুরে।
উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
জানা গেছে, গত ২৩শে জুন, মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার ও টেবিল বসিয়ে এক দলীয় সভার আয়োজন করেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ওই সভা থেকে আগামী ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য মনোহর বাদশা নামে এক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল।
আজ ২৫শে জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আমির নিজেই।
এই রাজনৈতিক সভায় জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির আব্দুল বাছেত হারুন, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম আজমসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিলে বসে নেতাদের রাজনৈতিক আলোচনার ছবি ফেসবুকে আসতেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দেন।
মাওলানা আজিজুর রহমান নামে একজন আলেম জানান, মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে মোনাফেকগুলা।
মুফতি হাবিবুল্লাহ জালালি নামে আরেক হাক্কানি ওলামা বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কীসের ভন্ডামি, এরা ইসলামের নামে ভন্ডামি শুরু করে দিয়েছে।’
চকপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ ইয়াসির আরাফাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় প্রোগ্রাম করে মসজিদের আদব মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা এলাকাবাসী এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
এই বিষয়ে হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা বা গিবত করা হয়ে থাকে; যা মসজিদের ভেতরে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া, এভাবে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে দলীয় প্রোগ্রাম করার মাধ্যমে যদি মসজিদের সৌন্দর্যহানি হয়ে থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই মসজিদের আদবের চরম লঙ্ঘন।”
পবিত্র উপাসনালয়কে এভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঘটনাটি নিয়ে মিঠাপুকুর জুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছে।
চট্টগ্রাম নগরের লাখ লাখ বাসিন্দা যখন এক ফোঁটা সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করছেন, তখন ‘পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’র জ্ঞান অর্জন করতে চীন সফরে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।
শেখ হাসিনার সরকারের সময় গৃহীত ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকার যে মেগা স্যুয়ারেজ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন, তার মূল কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ কোরিয়ান প্রকল্পের প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা উড়াল দিয়েছেন চীনে!
আরও আশ্চর্যের বিষয়, এই সফরে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো প্রকৌশলীকেই রাখা হয়নি।
ওয়াসার ভেতরের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই ১৪ দিনের সফরকে স্রেফ সরকারি কর্মকর্তাদের ‘বিলাস ভ্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চলতি বছরের ৭ই মে ও সংশোধিত ৯ই মে’র অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ১১ই জুন থেকে ২৪শে জুন পর্যন্ত চীনের ফুজয়ান প্রদেশের ফুজু সিটিতে ‘সেমিনার অন আরবান ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন সিস্টেম টেকনোলোজি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম এবং কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন।
চীন সরকারের সহায়তায় আয়োজিত এই সফরে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা না থাকলেও, ট্রানজিটসহ পুরো সময়টিকে ‘অন ডিউটি’ বা দায়িত্ব পালন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, কোরিয়ান কোম্পানি ‘তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং’ যে প্রকল্পের কাজ করছে, তার গভীর ও অগভীর পাইপলাইন স্থাপন এবং ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে কেন চীন সফরে যেতে হলো? এবং কেনই বা মূল স্যুয়ারেজ প্রকৌশলীদের ডেস্কে বসিয়ে রেখে পানি শোধনাগারের প্রকৌশলীদের পাঠানো হলো?
বর্তমানে হালিশহরের পয়োঃশোধনাগার ও ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ চলমান রয়েছে, যার সামগ্রিক অগ্রগতি মাত্র ৬৯ শতাংশ। এখনো প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি থাকা অবস্থায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন অনুপস্থিতি প্রকল্পের গতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বিষয়ে জানতে কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা যখন চীনের ফুজু সিটিতে স্যানিটেশন প্রযুক্তি দেখছেন, তখন চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীর সরাইপাড়া, হালিশহরসহ বিস্তর এলাকায় চলছে পানির তীব্র সংকট। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে সপ্তাহে দুই-তিন দিন পানি পাওয়া গেলেও এখন অনেক এলাকায় টানা আট দিন ধরে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ।
ওয়াসার নিজস্ব তথ্য মতেই, চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার সুপেয় পানির ঘাটতি রয়েছে। গ্রীষ্মের এই খরতাপে যেখানে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ কোটি লিটার থাকার কথা, সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার।
চট্টগ্রাম ওয়াসার নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানে আলম এই বিতর্কের দায় নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার অনেক আগেই এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফর বাতিল করার আইনি বা প্রশাসনিক সুযোগ আমার হাতে ছিল না।”
নগরবাসীর একাংশের মতে, একদিকে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, অন্যদিকে মেগা প্রকল্পের নামে এমন সমন্বয়হীন বিদেশ ভ্রমণ আদতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে এক ধরনের তামাশা।
চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান ইলিশের আড়ত রানি রাসমনি ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ জেলেরা। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির শিকার ও অতিষ্ঠ মৎস্যজীবীরা গতকাল ২৪শে জুন, বুধবার রাজপথে নেমে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
প্রচলিত মিছিল-সমাবেশের বাইরে গিয়ে জেলেরা তাদের জীবিকার প্রধান অনুষঙ্গ মাছ, বরফ এবং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রধান সড়কে সারিবদ্ধভাবে রেখে এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারী জেলেরা জানান, রানি রাসমনি ইলিশ ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জেলেদের ওপর জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। এই চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার না পাওয়ায়, আজ সকাল থেকে জেলেরা একাট্টা হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তারা আড়ত থেকে তাজা মাছ, বরফ কাটার ব্লক এবং নৌকায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার এনে সড়কে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখেন। এর ফলে ওই এলাকার যানচলাচল কিছুক্ষণের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। জেলেদের এই অভিনব ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ দেখতে সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
আন্দোলনরত জেলেরা জানান, এটি কেবল তাদের ক্ষোভের একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ঘাটে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জেলেদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইলিশ ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে বাজারে মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
বিকেল নাগাদ প্রশাসনের আশ্বাসে জেলেরা সড়ক থেকে মাছ ও বরফ সরিয়ে নিলেও ঘাটে এখনো থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জুলাই-আগস্টের সংঘাতের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত ঘটনার জেরে দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে এক নজিরবিহীন ও ব্যতিক্রমী উপায়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
নিয়মানুযায়ী আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার বিধান থাকলেও, গতকাল ২৪শে জুন, বুধবার সকালে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে একটি সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্সে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালতের পুরোটা সময় তিনি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে শুয়েই কাটিয়ে দেন। আর এজলাসে নিজ মক্কেলের সশরীরে অনুপস্থিতিতেই শুনানি চালিয়ে যান তার আইনজীবী।
প্রসিকিউশন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন আছেন।
সকালে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তাকে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। বিচারকাজ শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ফজলে করিমকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিপক্ষ ফজলে করিমের এই গুরুতর অসুস্থতার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে আদালতকে জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার পথে আসামি বহনকারী একটি প্রিজন ভ্যান মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় ফজলে করিমের ঘাড়ে ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে।
এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কঠোর নিরাপত্তায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের এজলাসে সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে মামলা থেকে তার অব্যাহতির পক্ষে জোরদার যুক্তি তুলে ধরেন ফজলে করিমের প্রধান আইনজীবী।
তবে দীর্ঘ সময় শুনানি চলার পরও গতকাল বিবাদী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়নি। যার ফলে আদালত আগামী রোববার (২৮শে জুন) ফজলে করিমের অব্যাহতির পক্ষে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।