ঘর থেকে পিঁপড়া তাড়ানোর সহজ পাঁচ উপায়

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ঘরের আনাচে-কানাচে হঠাৎ পিঁপড়ার আনাগোনা বেশ বিরক্তিকর। বিশেষ করে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এদের উপদ্রব বেড়ে যায়। মিষ্টিজাতীয় খাবার বা রান্নাঘরে ঢাকনা ছাড়া রাখা খাবারের পাশাপাশি স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র জায়গা-যেমন রান্নাঘরের সিঙ্ক, বাথরুম, আলমারি-এমনকি আলমারিতে রাখা কাপড়ের দিকেও পিঁপড়া আকৃষ্ট হয়। অসাবধানতাবশত পিঁপড়ার কামড় লাগলে তাদের নিঃসৃত ফর্মিক অ্যাসিডের কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও লালচে দাগ হতে পারে। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির একটি বিশেষ ফিচারে ঘর থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে পিঁপড়া তাড়ানোর কয়েকটি সহজ রান্নাঘরভিত্তিক কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পিঁপড়া কেন ঘরে আসে, তা বুঝে রান্নাঘরে থাকা মাত্র পাঁচটি সাধারণ উপাদান সঠিকভাবে ব্যবহার করলে রাসায়নিক ছাড়াই ঘর থেকে পিঁপড়া দূরে রাখা সম্ভব। কেন ঘরে পিঁপড়া আসে পরিচ্ছন্নতার অভাব: ঘরে খাবারের কণা, চিনি বা মিষ্টির দানা কিংবা রান্নার অবশিষ্টাংশ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে পিঁপড়া সহজেই ভিড় করে। খাবারের সন্ধান: রান্নাঘরে ঢাকনা ছাড়া রাখা মিষ্টি খাবারসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পিঁপড়াকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। পানির সন্ধান: খাবারের পাশাপাশি পানির খোঁজেও পিঁপড়া ঘরের আর্দ্র স্থানগুলোতে আসে। যেমন-রান্নাঘরের সিঙ্ক, বাথরুম এবং ফুটো বা লিক হওয়া পানির কল। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ: অতিরিক্ত গরম, ভারী বর্ষণ কিংবা তীব্র শীতের মতো চরম আবহাওয়া থেকে বাঁচতে পিঁপড়া ঘরের ভেতর নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। পিঁপড়া মূলত বিশেষ এক ধরনের গন্ধের পথ বা ‘ফেরোমন ট্রেইল’ অনুসরণ করে দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। রান্নাঘরের তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তাদের এ গন্ধের পথ নষ্ট করে দিলে পিঁপড়া সহজেই দূরে রাখা যায়। পিঁপড়া তাড়ানোর পাঁচ উপায় ১. ভিনেগার স্প্রে ভিনেগার রান্নাঘরের এমন একটি বহুমুখী উপাদান, যা ঘর পরিষ্কার ও পোকামাকড় দূর করার কাজে ব্যবহার করা যায়। একটি স্প্রে বোতলে সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি রান্নাঘরের কাউন্টারটপ, জানালা, দরজার ফ্রেম এবং পিঁপড়ার প্রবেশপথে স্প্রে করুন। ঘর মোছার পানিতে সামান্য ভিনেগার মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। ২. তেজপাতা তেজপাতার তীব্র সুগন্ধ পিঁপড়া সহ্য করতে পারে না। কয়েকটি তেজপাতা হাত দিয়ে হালকাভাবে গুঁড়ো করে পিঁপড়ার চলাচলের রাস্তা বা প্রবেশদ্বারের কাছে রেখে দিন। চিনির পাত্র বা মিষ্টি খাবারের কৌটার আশপাশেও কয়েকটি তেজপাতা রাখা যেতে পারে। ৩. হলুদের গুঁড়া রান্নার পরিচিত উপাদান হলুদের কড়া গন্ধ পিঁপড়া দূরে রাখতে প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ঘরের যেসব দরজা, জানালা বা দেয়ালের ফাটল দিয়ে পিঁপড়া প্রবেশ করে, সেখানে হলুদের গুঁড়া দিয়ে পাতলা রেখা বা সীমানা তৈরি করে দিন। হলুদের গন্ধের এ সীমানা পেরিয়ে পিঁপড়া সাধারণত যেতে চায় না। ৪. লাল মরিচ ও লবণের স্প্রে পিঁপড়া দূর করতে লাল মরিচ ও লবণের স্প্রেও ব্যবহার করা যায়। এক থেকে দুই গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ এবং এক থেকে দুই চামচ লাল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুটা ঘন হলে চুলা থেকে নামিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর ভালোভাবে ছেঁকে একটি স্প্রে বোতলে নিন। ঘরের কোণ, জানালার পাশ এবং দেয়ালের কিনারা বরাবর এটি স্প্রে করুন। ৫. লেবুর রস লেবুর রস পিঁপড়ার চলাচলের গন্ধের সূত্র বা ট্রেইল নষ্ট করে দেয়। ফলে তারা আগের চলাচলের পথ খুঁজে পায় না। তাজা লেবুর রস বের করে ঘরের প্রবেশপথ, জানালা এবং রান্নাঘরের বিভিন্ন উপরিভাগে স্প্রে করুন। এ ছাড়া লেবুর রস ব্যবহারের পর খোসাগুলো ফেলে না দিয়ে দরজার সিল বা জানালার পাশে রাখলেও পিঁপড়া আসা কমতে পারে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

ভোলার বাজারে কমেছে ইলিশের দাম, বেড়েছে সরবরাহ

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ভরা মৌসুমের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে অবশেষে কমেছে ইলিশের দাম। নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে আকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম কমেছে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কিছুটা কমায় ইলিশ কিনতে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেচাকেনাও বাড়ছে। ব্যবসায়ী জলিল ও সাহাবুদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহ ধরে নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে আড়তে মাছের সরবরাহ বাড়ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি মোকামেও যাচ্ছে ইলিশ। ইলিশ বিক্রেতা রহিম ও সিরাজ বলেন, আকারভেদে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। তাই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। তবে ব্যবসায়ীদের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশের সরবরাহ থাকলেও সে অনুযায়ী দাম কমেনি। অনেক ব্যবসায়ী এখনো আগের দামেই ইলিশ বিক্রি করছেন। ক্রেতা মাইনুদ্দিন, মনিরুজ্জামান ও রাসেল বলেন, মাছের দাম আগের মতোই। দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। ভোলার মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকার মতো। আর ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আকারভেদে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সচেতন মহল বলছে, মাছের দাম তুলনামূলক কিছুটা কমলেও তা এখনো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। তাঁদের মতে, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হলে ইলিশসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। ভোক্তারাও কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি মো. ছুলাইমান বলেন, বাজারে মাছসহ নিত্যপণ্যের দামে যে অস্থিরতা রয়েছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের মনিটরিং দাবি করছি। ভোলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোস্তফা সোহেল বলেন, মাছসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। কেউ যদি অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ ৪০৩

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির। নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁয়ে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ দেশের নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ৬১ জন নেপালি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের বরাত দিয়ে দেশটির পর্যটন বোর্ড আরও জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উপদ্রুত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, ভূমিকম্পটি হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে। এর তিন মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, এটা আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এতে তার হৃদয় ভারাক্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি এই দুর্যোগকে ‘আকস্মিক’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। বালেন্দ্র শাহ বলেন, উদ্ধার অভিযান শুরু করতে সরকার কোনো ধরনের বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।

নেপালে আকস্মিক বন্যা, যা বললেন বিশ্বনেতারা

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। একইসঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। বুধবার (২৬ আগস্ট) ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ইউরোপ সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শনাক্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট সেবা কোপার্নিকাস সক্রিয় করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশটির পাশে থাকতে ভারত প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বন্যাকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ উল্লেখ করে অঞ্চলটিতে থাকা কানাডীয় নাগরিকদের জরুরি সতর্কতা পেতে সরকারি সেবায় নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তিনি সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নেপাল ও চীনের তিব্বতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। সেখানে থাকা অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে নেপালের উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা বলেছেন। জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জরুরি সরঞ্জাম ও কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। সূত্র: সিএনএন

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৬ আগস্ট) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। আমরা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছি। এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেরই মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। নিহতদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ নেপালের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার ভয়াবহ এ বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ড্রোন পাঠাল চীন

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী তিব্বতের গিরং এলাকায় ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পর্যবেক্ষণে ড্রোন উড়িয়েছে চীনের বিমানবাহিনী। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার (২৬ আগস্ট) এতথ্য জানিয়েছে। পরে এ বরাতে বিবিসি খবর প্রকাশ করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ পানি ও কাদার স্রোত আঘাত হানার দৃশ্য দেখা গেছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ওই অঞ্চলের সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জরুরি সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণে আরও আকাশপথে নজরদারি এবং জরুরি বিমানযোগে লোকজন ও সরঞ্জাম পরিবহনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার ও আরও ড্রোন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে চীনের পক্ষ থেকেও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। সীমান্তের দুই পাশেই নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। এদিকে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল পুলিশ বলেছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকরা ২৮টি দেশের নাগরিক। এ ছাড়া ১১৩ জন নিখোঁজ পর্যটক নেপালের নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের নিখোঁজ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি

রিয়াদ থেকে আত্রাইয়ের ৭ জনের মরদেহ দেশে আসছে বিকেলে

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরবের রিয়াদের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া নয়জন শ্রমিকের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে দেশে পৌঁছাচ্ছে। শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। প্রিয়জনের নিথর দেহ শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শোকাহত স্বজনেরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৪০) মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক চিঠির বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। শনাক্ত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজন হলেন, উপজেলার উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া ওই দুর্ঘটনায় নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় এই নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় এখনো মেলেনি। ফলে তাঁদের মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা। আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’ আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আনা যায়। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ আসছে। মরদেহ গ্রহণের জন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছাতে পারে। ইউএনও আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হলেই দ্রুত তাঁদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসে উপার্জন করতে গিয়ে এক লহমায় স্বপ্ন ছাই হয়ে যাওয়া পরিবারের পাশে এখন শুধুই শোকের নীরবতা।

‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ নামের আড়ালে কী আছে?

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০২৬ | ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ

ঝকঝকে পাথর। দেখতে হীরার মতো। হাতে পরলে বা কানে দুললে দূর থেকে বোঝার উপায় নেই আসল হীরা, নাকি অন্য কোনো পাথর। ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ নামে বাজারে পরিচিত এমন গয়নার চাহিদাও কম নয়। কানের দুল, নাকফুল, আংটি, নেকলেস থেকে ব্রেসলেট—বিভিন্ন অলংকারে ব্যবহৃত হচ্ছে এই পাথর। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছেও এটি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ কি আসলেই হীরা? সহজ উত্তর—না। বাজারে ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ নামে পরিচিত পাথর মূলত হীরার বিকল্প বা ডায়মন্ড সিমুল্যান্ট। সাধারণত কিউবিক জিরকোনিয়া (সিজেড)–জাতীয় কৃত্রিম পাথর এ কাজে ব্যবহৃত হয়। নামের সঙ্গে ‘আমেরিকান’ শব্দটি থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে পাথরটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশেষ ধরনের হীরা। মোট কথা, হীরার মতো দেখতে হলেই সেটি হীরা নয়। আর ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ নামটিও আসল হীরার পরিচয় নয়। কম দামে হীরার বিকল্প পাথরের গয়না ব্যবহার করায় সমস্যা নেই। সমস্যা তৈরি হচ্ছে তখনই, যখন এই হীরার বিকল্প পাথরকে আসল হীরা বলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কম দামে হীরার মতো দেখতে গয়না কিনতে চাওয়া ক্রেতা যেমন প্রতারিত হতে পারেন, তেমনি বাজারে আসল হীরার ব্যবসা নিয়েও তৈরি হতে পারে বিভ্রান্তি। পুরান ঢাকার জুরাইনের বাসিন্দা সোহেলী আক্তারের অভিজ্ঞতা এমনই বিভ্রান্তিরই এক উদাহরণ। তিনি জানান, প্রায় আট বছর আগে ঢাকার একটি স্বনামধন্য জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে ১৭ হাজার টাকায় একটি নাকফুল কিনেছিলেন তিনি। দোকানের হীরা পরীক্ষার যন্ত্রে পাথরটি পরীক্ষা করে তাকে জানানো হয়েছিল, এটি আসল হীরা। শখের সেই নাকফুল মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহার করেন। কয়েক বছর পর ব্যবহারে নাকফুলের পাথরটি ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শখের বশে কেনা নাকফুলটির এ অবস্থা দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। এরপর যেখান থেকে কিনেছিলাম সেখানে নিয়ে গেলে তারা সেটা পরিবর্তন করে দিতে রাজি হয়নি। তখন শিউর হলাম এটি আসল হীরা নয়। আরেক ক্রেতা আলমগীর হোসেন কয়েক বছর আগে পুরান ঢাকার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে ২৫ হাজার টাকায় স্ত্রীকে একটি হীরার নাকফুল কিনে দিয়েছিলেন। এক বছর ব্যবহারের পর পাথরটির উজ্জ্বলতা কমে যায়। পরে পরিচিত একটি স্বর্ণালংকারের দোকানে নিয়ে গেলে তাকে বলা হয়, সেটি হীরা নয়; কৃত্রিম পাথর বা ‘এডি পাথর’, যা বাজারে ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ নামে পরিচিত। ওই পাথরের দাম বড়জোর ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা হতে পারে। অথচ তিনি সেটির জন্য দিয়েছিলেন ২৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, চাকরিজীবী মানুষ। নির্দিষ্ট আয় দিয়ে চলতে হয়। জুয়েলারি দোকানগুলো যদি এভাবে ঠকায়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? দোকান থেকে ক্রয় রসিদও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পর সেটা আর খুঁজে পাইনি। পরে দোকানে নিয়ে গেলে তারা বলল, এই গয়না তারা বিক্রিই করেনি। এখন দোষটা কার? আসল হীরা, ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড ও ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’র পার্থক্য কোথায়? প্রাকৃতিক হীরা পৃথিবীর গভীরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মধ্যে কার্বন থেকে তৈরি হয়। আর ল্যাবরেটরিতে তৈরি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডও প্রকৃত হীরা—পার্থক্য শুধু উৎপত্তির জায়গায়। এটি প্রাকৃতিকভাবে মাটির নিচে না তৈরি হয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ নামে পরিচিত পাথর হীরা নয়। এটি হীরার বিকল্প পাথর। সাধারণত কিউবিক জিরকোনিয়া বা এ ধরনের সিমুল্যান্ট দিয়ে তৈরি হয়। চোখে দেখে তিনটির পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে। এ কারণেই ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়। ডায়মন্ড ব্যবসায়ীরা বলেন, হীরারও বিভিন্ন মান ও ক্যাটাগরি রয়েছে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে যেমন ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের পার্থক্য রয়েছে, হীরার ক্ষেত্রেও গুণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর দামের বড় পার্থক্য হতে পারে। হীরার মূল্যায়নে সাধারণত ক্যারেট, কাট, রং ও স্বচ্ছতা—এই চারটি বিষয়, অর্থাৎ বহুল পরিচিত ‘ফোর সি’ (4Cs), গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একই ওজনের দুটি হীরার দামও এক নাও হতে পারে। একটি হীরার কাট, রং ও স্বচ্ছতা ভালো হলে তার দাম অন্যটির চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তাই কম দামের হীরা মানেই নকল—এমন ধারণা যেমন ভুল, তেমনি হীরার মতো দেখতে পাথরকে শুধু কম দাম বা বেশি ঝলকের কারণে হীরা ধরে নেওয়াও ভুল। অনলাইনে বেশি ঝুঁকি ঢাকার তাঁতিবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমেরিকান ডায়মন্ড’ বা হীরার বিকল্প পাথর খুব কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব পাথর হাজার হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। তাদের অনেকের দোকান নেই, নিবন্ধিত ঠিকানা নেই, এমনকি নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের তথ্যও থাকে না। চটকদার বিজ্ঞাপন, অবিশ্বাস্য মূল্যছাড় ও ‘হীরার গয়না’ জাতীয় প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব অনলাইন বিক্রেতার বড় অংশকে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে প্রতারণা হলে ক্রেতারাও পরে বিপাকে পড়েন। কম দামে হীরার মতো দেখতে পাথর কিনতে আপত্তি নেই। কিন্তু সেটিকে আসল হীরা হিসেবে বিক্রি করাই প্রতারণা। ঘরোয়া পরীক্ষায় কি আসল হীরা চেনা যায়? আসল হীরা শনাক্ত করার জন্য বাজারে নানা ঘরোয়া পরীক্ষার কথা প্রচলিত রয়েছে। যেমন—ফগ টেস্ট, পানিতে ফেলা, খবরের কাগজের লেখা দেখা বা পাথরের ঝলক পর্যবেক্ষণ। কিন্তু এসব কোনো পরীক্ষাই চূড়ান্ত নয়। হীরার তাপ পরিবাহক বেশি হওয়ায় নিঃশ্বাসের বাষ্প দ্রুত সরে যেতে পারে—এমন ধারণা থেকে ‘ফগ টেস্ট’ প্রচলিত। আবার একই আকারের পাথরের মধ্যে কিউবিক জিরকোনিয়া তুলনামূলক ভারী হতে পারে। খবরের কাগজের লেখা স্পষ্ট দেখা না যাওয়ার বিষয়টিও হীরার প্রতিসরণাঙ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়। তবে পাথরের কাট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলো, পরিবেশের তাপমাত্রা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব পরীক্ষার ফল বদলে যেতে পারে। তাই দামি হীরা কেনার ক্ষেত্রে ঘরোয়া পরীক্ষা নয়, স্বীকৃত জেমোলজিক্যাল ল্যাবরেটরির পরীক্ষাই সবচেয়ে নিরাপদ। বাংলাদেশে হীরা উৎপাদিত হয় না। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর বৈধ হীরা আমদানি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও হীরা আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় শূন্য। অথচ দেশে হীরার বাজারের আকার ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বাজারে এই বিপুল ‘হীরা’ আসছে কোথা থেকে? সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, বাজারে বৈধ আমদানি ছাড়াও চোরাচালানের মাধ্যমে আসা পাথর রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ল্যাবে তৈরি ডায়মন্ড, মোজানাইট, জারকন, কিউবিক জিরকোনিয়া বা এমনকি কাচও হীরার নামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও উৎস নিয়ে আরও কার্যকর সরকারি নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নিবন্ধিত ডায়মন্ড ব্যবসায়ী মাত্র ৩৫০ জন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন ডায়মন্ড ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, নিবন্ধিত কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নকল ডায়মন্ডকে আসল হীরা হিসেবে বিক্রির অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও এ ধরনের অভিযোগের উল্লেখযোগ্য তথ্য নেই বলে তাঁদের দাবি। তবে ভুক্তভোগী ও ক্রেতাদের অভিযোগের বড় অংশই অনলাইন বা অনিবন্ধিত বিক্রেতাদের ঘিরে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দেশে ডায়মন্ড বিক্রি করে এমন প্রতিষ্ঠান আসলে কতটি? তাদের কতটির নিজস্ব বা স্বীকৃত পরীক্ষাগারের সনদ রয়েছে? গত কয়েক বছরে ডায়মন্ড নিয়ে ভোক্তাদের কত অভিযোগ জমা পড়েছে? কতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান হয়েছে? কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে? কতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তরই বাজারের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করতে পারে। ‘সনদ ছাড়া হীরা কিনব না’ নকল হীরার অভিযোগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ক্রেতাদের একটি অংশ এখন সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বলছেন, ভবিষ্যতে সনদ ছাড়া দামি হীরা কিনবেন না। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে, ৫০ সেন্টের বেশি ওজনের হীরার গয়নার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সনদ থাকা উচিত। একই সঙ্গে গয়নায় ১৮ ক্যারেটের কম মানের স্বর্ণ ব্যবহার না করা এবং ক্যাশ মেমোতে পণ্যের গুণগত মান উল্লেখ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ না করলে প্রতারণা বাড়বে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতারণার শিকার হয়েও অনেকে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নেতিবাচক ধারণার কারণে অভিযোগ করেন না। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই যাচাই-বাছাই না করে অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য কিনছেন। তিনি মনে করেন, অভিযোগের সংখ্যা বাড়লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়। তাই প্রতারণার শিকার হলে চুপ না থেকে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। হীরা কিনবেন, আগে দেখুন সনদ আসল প্রাকৃতিক হীরা, ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড এবং ডায়মন্ড সিমুল্যান্ট—তিনটির মধ্যে পার্থক্য না জানলে ক্রেতা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু চোখে দেখে, ঝলক দেখে কিংবা দোকানের যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে উচ্চমূল্যের হীরা কেনা ঠিক নয়। স্বীকৃত জেমোলজিক্যাল ল্যাবরেটরির রিপোর্ট বা সার্টিফিকেট যাচাই করা উচিত। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত GIA বা IGI–এর মতো প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট থাকলে সেখানে পাথরটি প্রাকৃতিক হীরা, ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড নাকি কোনো সিমুল্যান্ট তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, সেটি দেখা জরুরি।