নওগাঁ -৬ জামানত হারালেন ৩ প্রার্থী

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ | ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

শান্তিপুর্ণ ভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৭টায় শুরুহয়ে ভোট গ্রহন চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী নওগাঁ ৬ আসন থেকে জামায়েত ইসলাম খবিরুল ইসলাম প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে সর্বমোট ১১৫ টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৯৭৬২৯ ,ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম , রিটার্নিং কর্মকর্তা র ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ১০৮৮৬৬ ভোট, বে সরকারি ভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে মটর সাইকেল প্রতীক স্ব তন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির পেয়েছেন ১৯৬৩৮ ভোট, হাতি প্রতীক রতন মোল্লা পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট, হাতপাখা ১৮৩৩। নির্বাচন কমিশনের (ইসি)পরিপত্রে বলা আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ার ফলে বাজেয়াপ্ত হবে তাদের জামানত।নওগাঁ-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন, আত্রাই উপজেলায় ৬০টি ভোট কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ৬৮. ১২ ভাগ এবং রানীনগর উপজেলায় ৫৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ৬৬, ৪৩ ভাগ।

নওগাঁ-৬ বিএনপি নেতা কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নেতাকর্মী

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ১১:২৮ অপরাহ্ণ

ভোট যুুদ্ধে বিজয়ের পর বিএনপি নেতা শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নওগাঁ -৬ আত্রাই- রাণীনগর বিএনপি ও অঙ্গ সহোযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। শুক্রবার১৩ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকেই উপজেলা দলীয় কার্যলয়ে শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম কে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এসময় উপজেলা বিএনপি র নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নওগাঁ-৬,আত্রাই-রাণীনগর আসনে পোস্টাল ভোটসহ মোট ভোট,ধানের শীষ-১০৮৮৬৬ভোট, দাঁড়িপাল্লা -৯৭৬২৯ ভোট,মোটরসাইকেল -১৯৬৩৮ভোট,হাতি -৫৫৫,হাতপাখা -১৮৩৩।

ভূমিধস জয়ে ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধার করলেন জিন্নাহ

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) তিন উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। ২০০৮ সালের পর ওই আসনটি ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১৮ বছর পর বিএনপির প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ জয়কে ভূমিধস ও ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবির ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হক ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩১০ ভোট। প্রায় ৭০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিএনপির এ প্রার্থী জিন্নাহ কবির বিজয় লাভ করেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিএনপির পুরাতন প্রার্থী হিসেবে সংখ্যলঘু হিন্দু ভোটাদের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থী হয়ে ওঠেন। ফলে ভোটব্যাংক বলে খ্যাত তাদের একচেটিয়া ভোট পান তিনি। দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীরা কোমর বেঁধে মাঠে ছিলেন। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়তার কারণে একচেটিয়া ভোট পান। জিন্নাহ কবিরের জনপ্রিয়তা একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০১৮ সালে তিনি এ আসনে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন। তার শক্ত প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এরপর থেকে শুরু হয় তার ওপর হামলা-মামলা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ৩১টি মামলায় আসামি করে। এসব জুলুম-অত্যাচারের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সাধারণ ভোটাররা জানান, জিন্নাহ কবিরের জনপ্রিয়তা, তার বিগত দিনের সাহায্য-সহযোগিতা ভোটারদের মন কেড়েছেন। এ ছাড়া নদীভাঙন রোধসহ বিএনপি ঘোষিত ৯টি নাগরিক সুবিধা এর মধ্যে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ডের ব্যাপক প্রচার এসব কারণে তারা এবার ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন।

নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে?

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৪২ অপরাহ্ণ

সারা দেশে ২৯৯ আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা চলে ভোটগ্রহণ। পরে গণনা শুরু হয়। রাতের মধ্যেই ঘোষণা হয়ে যায় নির্বাচনি ফল। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা। শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়? উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে- সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায়, একদিন বা দুদিনের মধ্যে, সেটা কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটি নয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথগ্রহণ হবে। সে ক্ষেত্রে বেসরকারি ফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে আরও কয়েকটি দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে। নির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? শপথ কে পড়াবেন- এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ নিয়মানুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে। তাহলে উপায় কী আছে? এ ক্ষেত্রে আবারো যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’ এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে। এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন। দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে -রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথগ্রহণ করাতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন’। তিনি আরও বলেন, ‘আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথগ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। শপথের পর ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন? শপথের বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলেও আরও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন, অর্থাৎ সরকার গঠন কে করবেন? এখানে এ প্রক্রিয়াটি হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। তিনি অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন। এখানে দলকে আমন্ত্রণ জানানো মানে দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ এবং নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বিষয়টা বর্ণনা করা আছে এভাবে ‌যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন’। মূলত, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই পদগুলোর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেয়ে যাবেন। এরমধ্য দিয়েই আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে গঠিত হয়ে যাবে নতুন সরকার। সংবিধান অনুযায়ী শপথগ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে গণ্য হবে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে’।

ভোটে জিতে হাঁস কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৪১ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের কিছু অংশ) বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১,১৮,৫৪৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০,৪৩৪ ভোট। নির্বাচনে জয় লাভের পর আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি হাঁস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ এবং তার বেড়ে ওঠার গল্প শেয়ার করেন। রুমিন ফারহানা জানান, বিএনপি থেকে বেরিয়ে আসা এবং জয়ের এই পথ তার জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ছিল তার দলের নেতাকর্মীদের যাত্রা। তিনি বলেন, ‘যদি আজকে আমি জয়ী না হতাম, তাহলে আমাকে হয়তো ঢাকায় ফিরে যেতে হতো এবং আমার পেশায় ফিরে যেতে হতো। কিন্তু আমার কর্মীরা, যারা ১৭ বছর ধরে কষ্ট সহ্য করে কাজ করেছে, তারা কখনো হতাশ হয়নি। আজ তারা সবাই খুশি, এবং আমি জানি, তাদের ভালোবাসার ঋণ শোধ করা কঠিন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি চেষ্টা হয়েছিল এবং ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে জালিয়াপাড়া কেন্দ্রের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে খেজুর গাছের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলাম এবং ভোট গুনতে গিয়ে কিছু ফলস ভোট পেয়েছি।’ এছাড়া, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যেহেতু আমি দলীয় প্রার্থী নই, যদি আবার এখানে নির্বাচন করতে হয়, তবে আমাকে কাজ করতে হবে। আমার নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে কাজ ছাড়া আর কোনো অপশন নেই।’ তিনি জানান, হাঁস প্রতীকের পেছনে একটি বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। ছোটবেলায় তার পরিবার অনেক হাঁস, মোরগ, কবুতর পালন করত, যা তার জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার বড় চাকরি করত, তখন বড় বাড়িতে থাকতাম। পরে ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে আসার পর হাঁস-মুরগি পালন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আমার হাঁস-মুরগি রয়েছে, আর অবসর সময় আমি তাদের সাথে কাটাই।’ রুমিন ফারহানা গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদকও ছিলেন। এছাড়া, ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে রুমিন ফারহানা প্রচারণা চালানোর পর বিএনপি সরাইল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ নেতাকে বহিষ্কার করে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কে কত ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৪০ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২টি আসনে লড়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এর মধ্যে সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসন ঢাকা–১৭ ও বগুড়া–৬ আসন থেকে ভোট করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানী জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া বগুড়া-৬ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীকে। তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও দলের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ২৮ হাজার ৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ড. মোশাররফ। ১০৭ টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত বেসরকারী ফলাফলে বিএনপির ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের (ধানের শীষ) প্রাপ্ত ভোট ১,০১,৩৯৪ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মনিরুজ্জামান বাহলুলের প্রাপ্ত ভোট (দাঁড়িপাল্লা) ৭৩,৩৩৯। ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। বিএনপির মির্জা আব্বাস পোস্টাল ব্যালটের ভোটসহ ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পান। অন্যদিকে, আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী পোস্টাল ব্যালটের ভোটসহ পান ৫৪ হাজার ১২৭টি। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম। তিনি ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছেন। ১৬ হাজার ৫৫৩ ভোটে জয়ী হন বিএনপির এ নেতা। নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ৩৬ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামী মো. আমজাদ হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৮ ভোট। চট্টগ্রাম-১১ আসনে ৩৯ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮১ ভোট। স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কক্সবাজার-১ আসনে ৯৪ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে ৪০ হাজার ৪৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৫ ভোট। ভোলা-৩ আসনে ৯৬ হাজার ১১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম ফুলকপি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। দিনাজপুর-৬ (হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ) আসনে ১৫ হাজার ১৬৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৮৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৯ ভোট। স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান নির্বাচন করেননি। জমির উদ্দিন সরকার বয়োঃবৃদ্ধ, রফিকুল ইসলাম শয্যাশায়ী। আর নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কেমন হবে?

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে একটি বড় সাফল্য বলে মনে হচ্ছে। সংশয়বাদীদের প্রতিরোধের মুখে, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। এতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি দল, প্রার্থী ও ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিছু ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর থাকলেও এগুলো সার্বিক ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পরবর্তী সরকার গঠন করবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। আর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সংসদীয় বিরোধী দল হিসেবে নেতৃত্ব দেবে। তারা এবার ইতিহাসে সর্বাধিক আসন অর্জন করেছে। জামায়াতের সহযোগী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে এবং সংসদে কিছু আসন জিতেছে। ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। আনুমানিক ৬০ ভাগ ভোটার ভোটকক্ষে গিয়েছেন। এখন মনোযোগ থাকবে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার ৫ দিন পর তার মা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের নেত্রীর মৃত্যু হয়। তখন থেকে তিনি দলীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে রয়েছেন। এখন তারেক রহমানের প্রথম কাজ হবে মন্ত্রিসভা গঠন। যদি সংসদ প্রার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া কোনো নির্দেশনা দেয়, তবে তিনি সম্ভবত সিনিয়র বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নতুন মুখগুলোর মিশ্রণ তৈরি করবেন, যারা ২০০৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত লন্ডনে নির্বাসনের সময় তার পাশে ছিলেন। রমজান, ঈদ এবং জাতীয় ছুটির জন্য বিএনপির হাতে কিছু সময় থাকবে নিজেদের সংগঠিত করার। একই সঙ্গে নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলোতে আছে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম অনুমোদন, সম্মত সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উদ্দীপ্ত করা। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দিকেও অনেকের নজর থাকবে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সংসদ কখনো প্রকৃতভাবে কার্যকর হয়নি। কারণ, বিরোধী দলগুলো সিস্টেমের মধ্যে থাকার বিষয়টিকে পছন্দ না করে রাস্তায় প্রতিবাদ করত। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সব দল প্রচলিত রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচন প্রচারণার তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি এবং ফলাফল গ্রহণের মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দল দুই পক্ষই অতীতের ধারাবাহিকতা ভাঙার সুযোগ পেতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে, পূর্ববর্তী সরকার দৃশ্য থেকে সরে যাবে। দেখার বাকি থাকবে, কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের তাদের পূর্ববর্তী বা নতুন দায়িত্বে রাখা হয় কি না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রেসিডেন্ট পদে আসতে পারেন- এমন গুজব থাকলেও তিনি সম্ভবত দেশের ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাইক্রোক্রেডিট, সামাজিক ব্যবসা ও ‘তিন শূন্য’ নীতির প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অবদান খুঁটিয়ে দেখা হবে এবং বিএনপি সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভিন্ন পথ নেবে। তবুও নির্বাচনের সাফল্য প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং তার সহকর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক সমাপ্তি নিশ্চিত করবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরাজিত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আনুগত্যশীলরা। তারা এখনো সিস্টেমের বাইরে রয়েছেন। কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক হয়তো নির্বাচনে ভোট বর্জনে শেখ হাসিনার আহ্বান মেনে চলেছেন। তবে ভোটকে বাতিল করতে তারা সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যবেক্ষকরা শান্তিপূর্ণ ভোটের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছে। নতুন সরকারকে মধ্যবর্তী ন্যায্যতা সংক্রান্ত বিষয়ে মোকাবিলা করতে হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে জবাবদিহিতা, সত্য উদঘাটন, নিরাময় এবং (শেষ পর্যন্ত) পুনর্মিলন। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে হাসিনা বা তার মূল সহযোগীদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে না; তারা তার সরকারের সময়কালে সংঘটিত অপরাধের দায়ে বিচারের মুখোমুখি থাকবেন। গত আঠারো মাসে বাংলাদেশকে বিশ্বজুড়ে ‘জেন-জি বিপ্লব’ এবং নোবেল বিজয়ীর প্রচেষ্টার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ২.০’ নির্মাণে যতটা মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, তা প্রায় অভূতপূর্ব। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং ড. ইউনূস সরে যাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে মনোযোগ হয়তো অন্যদিকে যাবে। এটি অনিবার্যভাবে খারাপ নয়, কারণ জাতি গঠনের দায়িত্ব যথাযথভাবে বাংলাদেশের জনগণ এবং নির্বাচিত নেতাদের উপরই পড়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করতে আন্তর্জাতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকবে। (সাবেক মার্কিন কূটনৈতিক জন ড্যানিলোভিচের লেখাটি তার অনলাইন কাউন্টারপয়েন্ট থেকে অনুবাদ করা। তিনি বাংলাদেশে মার্কিন মিশনে ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।)

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়। নানা প্রতিকূলতা ও অসাধারণ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের সুস্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেছে।’ জনগণের এই রায় দেশটির গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার প্রিয় বন্ধু মোহাম্মদ ইউনূসের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তার নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে মালয়েশিয়ার কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি ও শক্তি দিতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।’ একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।