বিটরুটকে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও কম ক্যালোরিযুক্ত সুপারফুড হিসেবে ধরা হয়, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ। সাধারণভাবে এটি সবার জন্যই উপকারী হলেও বিশেষ করে নারীদের জন্য এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব আরও বেশি বলে বিবেচিত হয়।
বিটরুটে থাকা ফোলেট নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে সহায়তা করে এবং গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক গুণ ত্বকের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, ক্লান্তি কমায় এবং ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনতে সাহায্য করে।
নিয়মিত বিটরুট খেলে এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে, ফলে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মাসিকের সময় যখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, তখন এটি উপকারী হতে পারে।
হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বিটরুট উপকারী। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, ফলে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিটরুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বক আরও সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
এছাড়া বিটরুটের রস শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি কমিয়ে শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়। গর্ভাবস্থায়ও এটি উপকারী, কারণ এতে থাকা ফোলেট শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক বিকাশে সহায়তা করে।
তবে বিটরুট খাওয়ার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি খেলে অনেক সময় প্রস্রাব বা মল লালচে হতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকর নয়। কিন্তু যাদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিটরুটের উচ্চ অক্সালেট উপাদান ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডার্ক চকোলেটকে একটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ধরা হয়, যা কোকো ফ্ল্যাভানলে ভরপুর। সীমিত পরিমাণে—দিনে ১ থেকে ২ টুকরো—খেলে এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এটি পিরিয়ডের ব্যথাও কমাতে ভূমিকা রাখে—কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কতটা সত্য?
ডার্ক চকোলেট সরাসরি পিরিয়ডের ব্যথার চিকিৎসা নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি স্বস্তি দিতে পারে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে, যার ফলে জরায়ুর সংকোচন কিছুটা কমতে পারে—যা পিরিয়ডের ব্যথার একটি প্রধান কারণ। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সামান্য পটাশিয়াম রক্তসঞ্চালন উন্নত করতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। তাই অনেক নারী পরিমিত ডার্ক চকোলেট খেলে কিছুটা আরাম অনুভব করেন।
পিরিয়ডের সময় ডার্ক চকোলেটের উপকারিতা
ডার্ক চকোলেট মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও এন্ডোরফিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে মানসিক অবস্থা উন্নত করতে সাহায্য করে। এর ফলে পিরিয়ডের সময় হওয়া মেজাজ খারাপ, বিরক্তি ও মানসিক চাপ কিছুটা কমে। যেহেতু মানসিক চাপ ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই ভালো মেজাজ থাকাও পরোক্ষভাবে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে এটি সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তীব্র পিরিয়ডের ব্যথা অনেক সময় এন্ডোমেট্রিওসিস বা হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। অতিরিক্ত বা বেশি চিনি যুক্ত চকোলেট খেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে।
ক্র্যাম্প কমাতে স্বাস্থ্যকর উপায়
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত উচ্চ কোকোযুক্ত (৭০% বা তার বেশি) ডার্ক চকোলেট বেছে নিতে বলেন, কারণ এতে চিনি কম এবং ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, গরম সেঁক, ভালো ঘুম এবং সুষম খাবার গ্রহণ পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে। তীব্র ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স ৫,৫০০ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা ছোঁয়ার পর আর সামনে এগোতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের কি হতাশ হওয়া উচিত, নাকি দামের পতন আরও মারাত্মক না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করা উচিত—তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে লিখেছেন রয়টার্সের এশিয়া কমোডিটিজ অ্যান্ড এনার্জি কলামিস্ট ক্লাইড রাসেল-
বিগত দুই দশকের মূল্যের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর স্বর্ণের বাজারে সাধারণত বড় পতন আসে, যদিও অর্জিত লাভের সিংহভাগই পরে এক জায়গায় এসে স্থিতিশীল হয়। যেমন—২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্বর্ণ রেকর্ড ২৪৫ শতাংশ লাভ করেছিল।
এর আগের ধারাগুলো দেখলেও একই চিত্র পাওয়া যায়। ২০০৮ সালের অক্টোবরে প্রতি আউন্স ৬৯৭.৪৫ ডলারের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন রেকর্ড ১,৮৮৪.৪০ ডলারে পৌঁছায় স্বর্ণ, যা ছিল ১৭০ শতাংশ বৃদ্ধি। এরপর সেখান থেকে ৩৭ শতাংশ পতন ঘটে ২০১৮ সালের আগস্টে দাম ১,১৯১.৩৫ ডলারে নেমে আসে। আবার সেই স্তর থেকে আউন্সপ্রতি ২০,৭২.৪৯ ডলারের চূড়ায় পৌঁছাতে স্বর্ণ ৭৪ শতাংশ লাফ দেয় (আগস্ট ২০২০), যার পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২২ শতাংশ কমে দাম দাঁড়ায় ১,৬২০.২০ ডলারে।
এখানে লক্ষণীয় যে, দামের বৃদ্ধি যত বড় হয়, পরবর্তী পতনও ততটাই বড় হয়ে থাকে। আরেকটি বিষয় হলো, দামের এই পতন বা সংশোধনের চেয়ে দাম বাড়ার ঘটনাগুলো তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে ঘটে থাকে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বনিম্ন স্তর থেকে স্বর্ণের দাম রকেটের গতিতে ছুটতে শুরু করে এবং চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫,৫৯৪.৮২ ডলারের সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে সেই রেকর্ড গড়ার পর থেকে দাম ২০ শতাংশ নরম বা হ্রাস পেয়ে গত বৃহস্পতিবার আউন্সপ্রতি ৪,৪৭৩.৮৯ ডলারে এসে ঠেকেছে।
অতীতের এই চেনা উত্থান-পতনের ধারা বিবেচনা করলে ধারণা করা যায় যে, স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আবার শুরু হওয়ার আগে আগামী মাসগুলোতে—এমনকি বছরগুলোতেও—দামের আরও বড় পতন দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই হিসাবটি তখনই মিলবে, যখন ধরে নেওয়া হবে যে অতীতে স্বর্ণের বাজারকে চালিত করা উপাদানগুলো আজও একইভাবে বিদ্যমান। অবশ্য আর্থিক বাজারে ‘এবার পরিস্থিতি ভিন্ন’ বলার মধ্যে সব সময়ই একধরনের ঝুঁকি থাকে এবং এমন ভাবনা ভুল প্রমাণিত হওয়ার ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে।
তা সত্ত্বেও ক্লাইড রাসেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বর্ণের এবারের ঐতিহাসিক রেকর্ড মূলত বেশ কয়েকটি তেজি উপাদানের যৌথ প্রভাবে অর্জিত হয়েছিল এবং এটি বেশ অস্বাভাবিক ছিল কারণ সব কটি উপাদান একই সময়ে একই দিকে কাজ করছিল।
এখানে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দৃশ্যমান ছিল—প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার রেকর্ড বৃদ্ধি; দ্বিতীয়ত, শীর্ষ দুই ক্রেতা দেশ চীন ও ভারতের খুচরা বাজারে শক্তিশালী চাহিদা; এবং তৃতীয়ত, ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া একধরনের আতঙ্ক । এই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও প্রতিকূল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় ফিরে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মনে এই ভয় দানা বেঁধেছে যে, তার নীতিগুলো বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে মার্কিন ডলারের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং এর হাত ধরে মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্যের পতন ঘটতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার ধুম যেমন কমেছে, তেমনি চীন ও ভারতের বাজারেও সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ২৪৩.৭ মেট্রিক টন স্বর্ণ কিনেছে, যা ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকের চেয়ে মাত্র ৩ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা প্রতি প্রান্তিকে ২০০ টনের আশেপাশে থমকে রয়েছে, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ সালের শেষদিকের তুলনায় অনেক কম। সেই সময়ে টানা পাঁচ প্রান্তিকে স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ছিল ৩০০ টনেরও বেশি এবং কেবল একবার তা ২০০ টনের নিচে নেমেছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনে গহনার চাহিদা ছিল ৮৫.২ টন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ কম। ভারতের ক্ষেত্রে এই চাহিদা ১৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬.১ টনে। কাউন্সিলের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে গহনার সার্বিক চাহিদা প্রথম প্রান্তিকে ২৫ শতাংশ কমে ২৬০.২ টনে নেমে এসেছে।
স্বর্ণের অতিরিক্ত দামই মূলত সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদায় ব্রেক কষেছে। এর পাশাপাশি ভারত সরকার স্বর্ণ আমদানি কমাতে এবং লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর চাপ কমাতে স্বর্ণ আমদানির ওপর কর বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গোল্ড ইটিএফ (এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড)-এ বিনিয়োগের প্রবাহও কমেছে; বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইটিএফ-এ ৬২ টন স্বর্ণ এসেছে, যা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৭৩ শতাংশ কম।
সার্বিকভাবে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে স্বর্ণের মোট চাহিদা ছিল ১,৩১৫.৬ টন, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা ৯ শতাংশ কমে ১,১৯৫.৯ টনে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাপক চাহিদা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে গত জানুয়ারির রেকর্ড উচ্চতার পর থেকে স্বর্ণের দামের বর্তমান পতনকে তুলনামূলকভাবে বেশ ‘নমনীয়’ এবং ভালো পারফরম্যান্স বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন আসল সমস্যা হলো, বাজারটি এখন আর তার চেনা ও প্রথাগত উপাদানগুলোর ওপর ভিত্তি করে চলছে না, বরং এটি এখন মূলত মার্কিন মুদ্রানীতির পূর্বাভাসের ওপর ভর করে ওঠানামা করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সঙ্গে স্বর্ণের বিপরীতমুখী সম্পর্ক এর অন্যতম বড় উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে যখনই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ে, তখনই স্বর্ণের দাম কমে যায়। বিপরীতভাবে, যখন একটি শান্তি চুক্তি আসন্ন—এমন আশায় তেলের দাম কমে, তখন স্বর্ণের দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
এর মূল কারণ, তেলের দামের ওপর এখন মার্কিন সুদের হারের পূর্বাভাস নির্ভর করছে। তেলের দাম বাড়লে সুদের হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং সুদহার কমার আশা শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে তেলের দাম কমলে সুদের হার কমার আশা জাগে, আর কম সুদের হার সব সময়ই স্বর্ণের মতো অনুত্পাদনশীল বা সুদবিহীন সম্পদের দামকে চাঙ্গা করে।
পরিশেষে বলা যায়, অন্য সব আর্থিক সম্পদের মতোই স্বর্ণের বাজারও এখন পুরোপুরি ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং ভূ-রাজনীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান শুক্রবার জানিয়েছেন, তরুণ ফরোয়ার্ড লেনার্ট কার্ল আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ মিস করতে পারেন। অনুশীলনে চোট পেয়েছেন তিনি।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে শিকাগোতে কথা বলেন নাগেলসমান। এটি বিশ্বকাপের আগে জার্মানির শেষ ম্যাচ। তিনি নিশ্চিত করেন, ১৮ বছর বয়সী কার্ল অনুশীলনে চোট পেয়েছেন। তাই বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে সংশয় আছে।
নাগেলসমান বলেন, ‘সত্যি বলতে, দেখে ভালো মনে হয়নি। সে এখন হাসপাতালে স্ক্যান করাতে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আগে পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে, তাকেও বুঝতে হবে। এর জন্য একটা পরীক্ষা করানো দরকার। তারপর দেখব বদলি খেলোয়াড় ডাকব কি না।’ কার্লের চোটের ধরন সম্পর্কে কিছু জানাননি কোচ।
বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড সবশেষ মৌসুমে শীর্ষ পর্যায়ে অভিষিক্ত হন। তিনি দ্রুতই ভিনসেন্ট কোম্পানির বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।
গত রোববার ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে জার্মানির হয়ে প্রথম ম্যাচ শুরু করেন কার্ল। সেই ম্যাচে একটি গোলেও সহায়তা করেন তিনি।
যখনই তাকে নিয়ে আশা দেখছিল জার্মানি, তখনই পথে এল নতুন কাটা। চোট শঙ্কায় এখন বিশ্বকাপে অনিশ্চিত তিনি।
নাগেলসমান জানান অভিজ্ঞ গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে ফিট থাকবেন না। তবে তিনি আশা করছেন, ১৪ জুন কুরাসাওর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নয়্যার ফিরে আসবেন।
২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী নয়্যারকে মে মাসে অবাক করে দলে ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার প্রায় দুই বছর পর তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।
নয়্যারকে নিয়ে নাগেলসমান বলেন, ‘তার বয়সে ওয়ার্ম-আপ পর্বের দরকার নেই। সে জানে চাপের মধ্যে কীভাবে খেলতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে সেরা ফিটনেসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা আগামীকাল কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। এছাড়া প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে পর্তুগাল।
ফুটবল
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল
বাংলাদেশ - ভারত
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭ টা,
টি স্পোর্টস
প্রীতি ম্যাচ
পর্তুগাল - চিলি
সরাসরি, রাত ১১ টা ৪৫ মি.,
সনি টেন ২
রোমানিয়া - ওয়েলস
সরাসরি, রাত ১১ টা ৪৫ মি.
সনি টেন ১
ক্রিকেট
চণ্ডীগড় টেস্ট, প্রথম দিন
ভারত - আফগানিস্তান
সরাসরি, সকাল ১০ টা
স্টার স্পোর্টস ২
লর্ডস টেস্ট, তৃতীয় দিন
ইংল্যান্ড - নিউজিল্যান্ড
সরাসরি, বিকাল ৪ টা,
সনি টেন ১
টেনিস
ফ্রেঞ্চ ওপেন
নারী এককের ফাইনাল
মায়া ফালিনস্কা - মিরা আন্দ্রিভা
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭ টা
সনি টেন ২, ৩ ও ৪
ইউরোপের মাটিতে ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তপু-হামজাদের দল।
শুক্রবার (৬ জুন) রাতে সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ইতিহাস গড়ার দিনে কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল।
ফিফা র্যাংকিংয়ে সান মারিনোর (২১১) চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের (১৮১) শুরুর একাদশে ছিলেন না শমিত সোম ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই রেখেছিল দাপট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে ১৯ মিনিটেই জালে জড়ায় বল। শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে উড়ন্ত হেডে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।
তবে লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি। ৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জিকোপেত্তি। ৩৭ মিনিটে বড় সুযোগ পেয়েও দলকে এগিয়ে দিতে পারেননি সাদ উদ্দিন।
সমতায় রেখে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ আক্রমণের ধার বাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। তিন পরিবর্তন নিয়ে লাল-সবুজের দল বলও রাখে পায়ে। গোল আসে ম্যাচের শেষদিকে। ৮৬ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হন তপু বর্মন। তার দৃষ্টিনন্দন গোলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২-১ গোলের।
বাকি সময়ে সান মারিনো পারেনি গোল শোধ দিতে। তাতেই ইউরোপের মাটিতে আসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকেরা মেতে ওঠেন ইতিহাস গড়া জয়ের আনন্দে।
‘ওয়ান ফর দ্য মানি, টু ফর দ্য শো’—টেইলর সুইফট যেন থামবার পাত্রী নন। ‘শ্যাম্পেন প্রবলেমস’ খ্যাত এই গায়িকার আনুমানিক মোট সম্পত্তি মাত্র দুই বছর আগে ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ফোর্বসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই অঙ্ক এখন এক লাফে পৌঁছে গেছে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারে।
গত ৩ জুন প্রকাশিত ফোর্বসের ‘আইকনোক্লাস্ট ৫০’ তালিকা অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রথমবার বিলিয়নিয়ারের ক্লাবে পা রাখার পর মাত্র তিন বছরের মাথায় নিজের মোট সম্পত্তি দ্বিগুণ করেছেন এই গ্র্যামিজয়ী তারকা। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলা তার রেকর্ড-ব্রেকিং ‘ইরাস ট্যুর’ এবং পুরোনো অ্যালবামগুলোর রি-রেকর্ডেড সংস্করণ বিক্রির অভাবনীয় সাফল্যই মূলত তার এই আর্থিক সম্পত্তি বৃদ্ধির মূল কারণ।
এছাড়া বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী এই শিল্পী ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে ‘টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’ এবং ‘লাইফ অব আ শোগার্ল’ শিরোনামে দুটি নতুন অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, গত বছর তিনি তার প্রথম ছয়টি অ্যালবামের মালিকানা স্বত্বও (রাইটস) সফলভাবে কিনে নিয়েছেন।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ‘ওপালাইট’ খ্যাত এই গায়িকার বর্তমান মোট সম্পত্তির ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যায়, কনসার্ট ট্যুর ও রয়্যালটি থেকে তার আয় প্রায় ৮০ কোটি ডলার। এছাড়া তার মিউজিক ক্যাটালগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি ডলার এবং আবাসন বা রিয়েল এস্টেট সম্পদ আছে প্রায় ১১ কোটি ডলারের।
২ বিলিয়ন ডলারের এই বিপুল সাম্রাজ্যের মালিক হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীর খেতাবটি নিজের দখলে আরও শক্তভাবে ধরে রাখলেন টেইলর। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে পপ তারকা রিয়ানাকে ছাড়িয়ে তিনি এই মুকুট মাথায় পরেছিলেন।
নারী শিল্পীদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও, সার্বিকভাবে সবচেয়ে ধনী সংগীতশিল্পী অবশ্য তিনি নন। ফোর্বসের হালনাগাদ অনুযায়ী, ২.৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে সেই শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছেন মার্কিন র্যাপার ও ব্যবসায়ী জে-জি।
তবুও টেইলর সুইফটের এই অর্জন ঐতিহাসিক। কারণ ফোর্বস আগেই ঘোষণা করেছিল, টেইলর হলেন ইতিহাসের প্রথম সংগীতশিল্পী যিনি কোনো ধরনের রিটেইল বা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ব্যবসার ওপর নির্ভর না করে মূলত নিজের গান, অ্যালবাম এবং পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিলিয়নিয়ারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
সূত্র: ইনিউজ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। দেশের বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্রে গত দেড়যুগ ধরে যার একচ্ছত্র আধিপত্য। এই সময়টায় রুপালি পর্দায় শাকিব যেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক নাম। তবে অভিনয়জীবনে চূড়ান্ত সফল হলেও অভিনেতার ব্যক্তিজীবন নিয়ে আছে ঢের সমালোচনা।
সম্প্রতি এই চিত্রনায়কের তৃতীয়বারের মতো বাবা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। শাকিব খান ও বুবলীর সংসারে গত মাসের ১১ তারিখ একমাত্র কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সদ্যজাত সন্তানের নাম রাখা হয়েছে শার্লিন খান। গণমাধ্যমকে বুবলী জানিয়েছেন, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার জন্ম হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে দুই বার বিবাহবন্ধনে জড়িয়েছেন শাকিব খান। প্রথমবার ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এবং পরবর্তীতে শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন তিনি। এই দুই নায়িকার ঘরে আছে শাকিবের তিন সন্তান আব্রাহাম খান জয়, শেহজাদ খান বীর এবং শার্লিন খান।
শাকিব খান প্রথম বিয়ে করেন ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল ঢালিউড নায়িকা অপু বিশ্বাসকে। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম হয় তাদের সন্তান আব্রাহাম খান জয়ের। শাকিব-অপু দুজনেই সন্তান জন্মের বিষয়টি সেসময়ে গোপন রাখেন। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর ফাঁস করেন অপু বিশ্বাস। পরের বছর ২০১৮ সালের ১২ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের।
এরপর আরেক চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাকিব। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড জ্যুইশ মেডিকেল হাসপাতালে তাদের প্রথম সন্তান বীর পৃথিবীর আলো দেখে তবে এবারও খবরটি গোপন রাখা হয়। পরে ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর উভয়েই তাদের ফেসবুক পেজে বিয়ের তারিখটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
সবশেষ গত ১১ মে এই দম্পতির ঘর আলো করে প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম হলো।
অবশ্য অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও দুই ছেলের প্রতি বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই ঢালিউড অভিনেতা। জন্মদিনসহ ঈদ এবং নানা বিশেষ দিবসে দুই ছেলের সঙ্গেই শাকিবের সময় কাটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়।
অবসর সময় সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করেন তিনি। দুই সন্তানকে নিয়ে বাবা হিসেবে ভালোবাসার কখনো কমতি থাকে না। সেগুলো ফুটে ওঠে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো ছবি বা ভিডিও চিত্রে। বাংলাদেশের শীর্ষ নায়কের এমন পারিবারিক মুহূর্ত ভক্তদেরও আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে।
এমনকি এর আগে জানা গিয়েছিল, দুই ছেলেকেই পড়াশোনার জন্য রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)-তে ভর্তি করেন বাবা শাকিব খান।
অপুর পর বুবলীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলেও তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা নানা সময়েই সংবাদের শিরোনামে এসেছে। এর মাঝেও সন্তানদের কারণে বরাবরই অপু-বুবলীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এই ঢাকাই তারকা।