রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর হুমায়রা জান্নাত (৪) নামে এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাড়ির পাশের একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এর আগে শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশ, পুকুর এবং জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিহত হুমায়রা জান্নাত হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত স্থানীয়ভাবে ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হুমায়রা। ওই সময় তার সমবয়সী আরও কয়েকজন শিশু সেখানে খেলছিল।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে শিশুটির বাবা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মেয়ের সন্ধান দিতে পারলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির মরদেহ।
হুমায়রার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত দাবি করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটিকে বিষ খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। তার ভাষ্য, মেয়ের মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তিনি বলেন, খেজুরগাছের নিচ থেকে যখন মেয়েকে কোলে তুলে নিই, তখন মনে হচ্ছিল তার পুরো শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুটির শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে কয়েকটি ছোট জখমের চিহ্ন দেখা গেছে।রাজশাহী স্থানীয় খবর
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মরদেহ ফেলে রেখে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানকে লাঞ্ছিত ও মাইকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ সভাস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি অসাবধানতাবশত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সভাস্থলেই দুঃখ প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের নইমুদ্দীনের ছেলে আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ, সুধীসমাজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার বিষয়ে হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন,
“আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। সে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করলেও যুবদলের কোনো পদ বা সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে খোর্দ্দচাম্পা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন,
আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। মুখ ফসকে জয় বাংলা বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করলেও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন বলছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক শীর্ষ বৈঠকে হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের দাবি, শি জিনপিং প্রণালিটির সামরিকীকরণ এবং এর ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের টোল আরোপেরও বিরোধিতা করেছেন।
তবে বৈঠক নিয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত বিবরণে মার্কিন তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্যও দেয়নি।
দুই নেতার এই বৈঠক কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক নির্ধারণকারী আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনা গণমাধ্যম। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও কৃষিপণ্য কেনা সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তির অংশ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা প্রকাশ করা হয়নি।
বাণিজ্যযুদ্ধ চলাকালে আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্কের কারণে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তেল আমদানি করছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই শুল্ক প্রত্যাহার ছাড়া বড় পরিসরে মার্কিন তেল আমদানি পুনরায় শুরু হওয়া কঠিন।
জাহাজ চলাচল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার বিশ্লেষক এমা লি বলেন, বর্তমান শুল্ক বহাল থাকলে মার্কিন তেল অন্যান্য উৎসের তুলনায় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকবে না।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল আমদানি দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছিল। যা ছিল চীনের মোট আমদানির প্রায় ৪ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে সেই পরিমাণ কমে দৈনিক ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে।
ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে আসা বিদেশি দর্শকদের জন্য আরোপিত সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড শর্ত স্থগিত করেছে বলে বুধবার নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক অনেক বিদেশি সমর্থকের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হলো। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন।
গত বছর চালু হওয়া এই বন্ড নীতির আওতায় এমন দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের হার বেশি অথবা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ছিল। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন কঠোর নীতির অংশ ছিল।
মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই বন্ড শর্ত প্রযোজ্য ছিল। এর মধ্যে আলজেরিয়া, কাবো ভার্দে, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সচিব মোরা নামদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সেরা ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। যারা বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন এবং ফিফা পাস সিস্টেমে যুক্ত হয়েছেন, তাদের জন্য আমরা ভিসা বন্ড শর্ত মওকুফ করছি।
তিনি জানান, ফিফা পাস ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুবিধাও দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাধারণ কঠোর অভিবাসন নীতির তুলনায় একটি ব্যতিক্রমী শিথিলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক দর্শকদের একটি অংশের ভ্রমণ ব্যয় ও জটিলতা কমবে।
এর আগে বিশ্বকাপের খেলোয়াড়, কোচ ও কিছু কর্মকর্তা বন্ড শর্ত থেকে অব্যাহতি পেলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য তা বহাল ছিল। অভিবাসন কঠোর নীতির কারণে প্রশাসন সমালোচনার মুখেও পড়েছে। সমালোচকদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের ঐক্যের চেতনার সঙ্গে এসব নীতি সাংঘর্ষিক।
উদাহরণ হিসেবে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরান ও হাইতি থেকে আগত দর্শনার্থীদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা এর বাইরে থাকবেন।
এছাড়া বিদেশি ভ্রমণকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তাদের মোতায়েন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এসব কারণে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠন যৌথভাবে \'ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি\' প্রকাশ করে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল শিল্পের প্রধান সংগঠনও জানিয়েছে, ভিসা জটিলতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রত্যাশিত হোটেল বুকিংও কম হয়েছে।
বন্ড নীতির আওতায় থাকা দেশগুলোর ভিসা আবেদনকারীদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার জমা রাখতে হতো। ভিসার শর্ত মেনে চললে বা আবেদন বাতিল হলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক বিশ্বকাপ দর্শক এই নীতির আওতায় পড়েছিলেন। তবে টিকিট বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছিল।
জানা গেছে, ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বন্ড শর্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, গর্ভপাতের ওষুধ ডাকযোগে সরবরাহ আপাতত চালু থাকবে। আদালত নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে, যা কার্যকর হলে মিফেপ্রিস্টোন (mifepristone) নামের গর্ভপাতের ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হতো।
সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তের ফলে মামলাটি চলাকালীন সময়ে ডাকযোগে গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। তবে রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস পৃথকভাবে ভিন্নমত পোষণ করেন।
এর আগে ১ মে নিউ অরলিন্সভিত্তিক রক্ষণশীল ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায় দিয়েছিল, নারীদের মিফেপ্রিস্টোন পেতে হলে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে যেতে হবে। ওই রায় কার্যকর হলে সারা দেশে গর্ভপাতের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে পড়ত।
বিচারপতি আলিটো তার ভিন্নমতে লিখেছেন, “এই মামলায় আদালতের কারণ ব্যাখ্যাহীন স্থগিতাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক গর্ভপাত অধিকার বাতিল সংক্রান্ত আমাদের সিদ্ধান্তকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঝুঁকি রয়েছে।”
অন্যদিকে বিচারপতি থমাস ১৮৭৩ সালের কমস্টক আইন-এর উল্লেখ করে বলেন, ফেডারেল আইন অনুযায়ী ডাকযোগে মিফেপ্রিস্টোন পাঠানো ইতোমধ্যেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
থমাস লিখেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে লাভ হারানোর অজুহাতে আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার অধিকার আবেদনকারীদের নেই। এমন কোনো আদেশ, যা অপরাধ সংঘটনকে কঠিন করে তোলে, তা থেকে তারা আইনি অর্থে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন না।
এই মামলাটি এখন আবার ফিফথ সার্কিট কোর্টে ফিরে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারে।
মিফেপ্রিস্টোন উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠান ড্যাঙ্কো ও জেনবায়োপ্রো সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। তাদের দাবি, ফিফথ সার্কিটের সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন এবং এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।
জেনবায়োপ্রোর প্রধান নির্বাহী ইভান মাসিংগিল বলেন, “আজকের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত আমেরিকানদের মিফেপ্রিস্টোনে প্রবেশাধিকার অপরিবর্তিত থাকছে। আমরা প্রয়োজনীয় ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এই ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখবো।”
মামলাটির সূত্রপাত হয় যখন লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। লুইজিয়ানার আপত্তি ছিল ২০২৩ সালের সেই নিয়মের বিরুদ্ধে, যা টেলিহেলথ, ফার্মেসি এবং ডাকযোগে মিফেপ্রিস্টোন সরবরাহের অনুমতি দেয়।
রাজ্যটির দাবি, এফডিএ-এর শিথিল নীতিমালা তাদের প্রায় সম্পূর্ণ গর্ভপাত নিষিদ্ধ আইনের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করছে এবং এটি রাজ্যের সার্বভৌম ক্ষমতার লঙ্ঘন। এছাড়া এফডিএ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা তথ্য ছাড়াই সরাসরি ওষুধ বিতরণের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করে লুইজিয়ানা।
লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল এক বিবৃতিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসা নৈতিকতা ও তদারকির সাধারণ বোধসম্পন্ন এই ব্যবস্থাকে আটকে দিয়েছে, যা বিস্ময়কর।
মিফেপ্রিস্টোন নিয়ে এই আইনি লড়াইকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় গর্ভপাতবিষয়ক বিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় চার বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রো বনাম ওয়েড রায় বাতিল করে সাংবিধানিক গর্ভপাত অধিকার প্রত্যাহার করেছিল।
বর্তমানে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভধারণ সমাপ্তির সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি। ডাকযোগে ওষুধ সরবরাহ এবং ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর শিল্ড আইন অনেক নারীর জন্য গর্ভপাতের সুযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যদিও রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতে গর্ভপাত কঠোরভাবে সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে এফডিএ জানিয়েছে, তারা এখনও মিফেপ্রিস্টোনের নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। তবে সেই পর্যালোচনা কবে শেষ হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিজেদের উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক স্থল-উৎক্ষেপণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’-এর সফল প্রশিক্ষণ উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী রকেট ফোর্স কমান্ডের তত্ত্বাবধানে এ পরীক্ষা চালানো হয়। মূলত সেনাদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন কারিগরি উপ-প্রক্রিয়া যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণ। এ ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা আগের চেয়ে আরও উন্নত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যাধুনিক এভিওনিক্স এবং সর্বাধুনিক নেভিগেশনাল প্রযুক্তিতে সজ্জিত এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অনেক দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
ফাতাহ-৪-এর এ সফল পরীক্ষায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা। তারা ‘ফাতাহ’ সিরিজের এ ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে যুক্ত থাকা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরলস পরিশ্রম ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী রকেট ফোর্স কমান্ড তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফাতাহ-২’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। গত ২৮ এপ্রিলের সেই পরীক্ষার সময় স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারও এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের নিজস্ব জাহাজ-বিধ্বংসী আকাশ-উৎক্ষেপণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে। আইএসপিআর তখন জানিয়েছিল, ‘তৈমুর’ ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এর মিশন সম্পন্ন করেছে, যা সমুদ্রসীমায় অনেক দূর থেকে শত্রুপক্ষকে শনাক্ত ও প্রতিহত করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্তবর্তী জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়া এলাকায় মাটিতে পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুজন হলেন উপজেলার দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ পাড়া এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাঁদের চার বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার। ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তাঁরা। এর পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বামী আমজাদ শেখ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়ার কালিতলা গ্রামে স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরের পাড় থেকে দুর্গন্ধ আসায় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক এগিয়ে যান। তাঁরা পুকুরপাড়ের মাটিতে পুঁতে রাখা মানুষের একটি পা বের হওয়া অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশকে জানালে থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) রাশিদুল ইসলাম পুলিশের একটি দল নিয়ে বিকেল চারটার দিকে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মাটি খুঁড়ে প্রথমে মেয়ে এবং পরে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খবির হোসেন বলেন, উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়া এলাকার ওপাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের জনৈক হাকিম উল্লাহর। পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় দুর্গন্ধ পেয়ে উৎস খুঁজতে গিয়ে কৃষকেরা লাশ দেখতে পান। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে প্রথমে শিশুটির ও পরে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে এসেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সীমানাটি ফরিদপুরের মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়ে রাজবাড়ী ও ফরিদপুর থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসছেন। তাঁরা আসার পর লাশ কোন থানা নেবে, সিদ্ধান্ত হবে।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কেনাকাটা সেরে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রুপা (২০) নামের এক মাদরাসা শিক্ষিকা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাটুরিয়া সন্ধ্যায় বড় ব্রিজের ঢালে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রুপা আক্তার সাটুরিয়া উপজেলার চামুটিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় হান্দুলিয়া ক্যাডেট মাদরাসার শিক্ষিকা। তার স্বামী সৌদিপ্রবাসী। তাদের দেড় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া বাজার থেকে কেনাকাটা করে ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন।
সাটুরিয়া বড় ব্রিজের ঢাল দিয়ে নামার সময় অসাবধানতাবশত তার গলার ওড়নাটি ভ্যানগাড়ির চাকায় জড়িয়ে যায়। এতে তিনি ভ্যান থেকে ছিটকে পড়েন এবং গলায় ফাঁস লেগে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।