আয়কর রিটার্ন না দিলে হাজির হবেন ইন্সপেক্টর

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

পূরণ হচ্ছে না আয়কর রিটার্ন জমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না অনেক ই-টিআইএনধারী। আয়-ব্যয়ের হিসাব এভাবে যারা গোপন করছেন, তাদের ব্যাপারে এবার কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ই-টিআইএন বা ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকার পরও যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন না, তাদের কাছে ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ যাবে। এরপরও জমা না দিলে বাসায় হাজির হবেন ট্যাক্স ইন্সপেক্টর (কর পরিদর্শক)। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে এক কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী আছেন। সেখান থেকে হয়তো ৫০ লাখের মতো রিটার্ন পড়বে। যারা রিটার্ন দেননি, ইটিআইএন ডাটাবেজ এবং ই-রিটার্ন ডাটাবেজ আমাকে স্বংয়ক্রিয়ভাবে তালিকা তৈরি করে দেবে কারা রিটার্ন দেননি, অর্থাৎ ‘নন-ফাইলার’। স্বংয়ক্রিয়ভিত্তিতে এই নন-ফাইলারদের তালিকা থেকে তাদের কাছে নোটিশ যাবে। এরপরও যদি রিটার্ন না দেন তাহলে ইন্সপেক্টর যাবেন। তিনি তার আয়-ব্যয় হিসাব করে দেখবেন। আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার জন্য ম্যানুয়াল বাছাই পদ্ধতি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন ‘রিস্ক বেসড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন’ পদ্ধতি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ এর জন্য প্রথম পর্যায়ে আমরা ১৫ হাজারের মতো দৈবচয়নে বাছাই করেছিলাম। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি বাছাই হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ম্যানুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন নেই, এটি পুরোপুরি সিস্টেম জেনারেটেড। ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, ভ্যাট বা মূসকের নিরীক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে তিনি বলেন, মূসকের ক্ষেত্রেও আমরা ২০টি মানদণ্ড দিয়ে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করেছি। বৃহৎ করদাতাদের জন্য যৌথ নিরীক্ষা শুরু করেছি, যেখানে মূসক এবং আয়কর দল একসঙ্গে নিরীক্ষা করবে। আমাদের দেশে খুচরা পর্যায়ে মূসকের আওতা খুবই ছোট। বর্তমানে মূসক নিবন্ধনের সংখ্যা আট লাখেরও কম, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আইনে কিছু পরিবর্তন এনে মূসক নিবন্ধন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি। যেসব ব্যবসায়ী নতুন মূসকে আসবে, তাদের জীবন সহজ করার জন্য এনবিআর কাজ করছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তাদের হয়তো প্রতি মাসে রিটার্নই জমা করতে হবে না। বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূসক দিলেই হবে। তারা মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূসক দিতে পারবেন। কেউ তাদের কাছে খাতাপত্র বা কম্পিউটার নিয়ে আসবেন না। কর ফাঁকি, মূসক ফাঁকি ও বন্ডের অপব্যবহার রোধ করতে আমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা প্রতিটি উৎপাদন ইউনিটকে অনুসরণ ও শনাক্তকরণ করতে চাই। কিউআর কোড এবং এআর কোড তৈরি করে স্ট্যাম্পের মতো লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে তামাক দিয়ে শুরু করলেও পরে পানির বোতল, ড্রিঙ্কস, সাবান, শ্যাম্পু এমনকি চিপসের প্যাকেটেও এটি চালু হবে।

সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন হলো বর্তমান সরকার। গণ-অভ্যুত্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে-এ রাষ্ট্রের মালিক এ দেশেরই জনগণ। এ কারণে জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এ রাষ্ট্রের মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসাবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কিনা অথবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কিনা-এ মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে আমরা একটা বার্তা দিতে চাই। দেশ ও জনগণের কাছে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেসব কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়। বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। তারেক রহমান বলেন, আমি আশা করি-আপনারা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এগুলোকেই আমরা প্রধান বিবেচ্য হিসাবে গ্রহণ করতে চাই। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও নিজেদের প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হিসাবে গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সব সরকারি সেবা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে বিয়ামের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্যে সরকার যে কোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন তারেক রহমান : প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করতেই পাশের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। তিনি নিজেও হাত নেড়ে তাদের সাড়া দেন। এরপর বিয়াম মিলনায়তনের অনুষ্ঠান পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ওই স্কুলে ছুটে যান। ঘুরে দেখেন তিনটি শ্রেণিকক্ষ। সেখানে কিছুক্ষণ শিশুদের সঙ্গে খুনসুটিতে মাতেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরাও মেতে ওঠে আনন্দে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা হাত মেলায়। কেউ আবার অটোগ্রাফও নেয়। আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে প্রথমে যান প্রধানমন্ত্রী। ক্লাসরুমে ঢুকেই তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শিশুরা তার সামনে তাদের আঁকা বিভিন্ন ড্রয়িং তুলে ধরে। বড় হয়ে নিজেরা কে কী হতে চায়, সেই অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে শিশুরা। পরে স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্কুলে তিনি প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেন। উচ্ছেদ হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : রাজধানীর সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-উচ্ছেদ হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন। স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক : স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৃথক বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সন্ধ্যার পর দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ডাকেন। তিনি অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অবস্থান জানতে চান। একই সঙ্গে সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকরী করতে করণীয় বিষয়ে মতামত নেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব কমিয়ে আনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন তারেক রহমান। এছাড়া জনগণের যৌক্তিক দাবির পক্ষে রাজপথে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ শীর্ষ ৪ নেতা অংশ নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাছির বৈঠকে অংশ নেন। উভয় বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সংসদ-সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাসংক্রান্ত ধারা বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে বিল পাশ হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনিউরেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার ১৯৭৩ সংশোধন বিল পাশ হয়। এদিন জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের নিয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সংসদ-সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিলটি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পাশের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি সংসদে পাশ হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটির সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। বিল পাশের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের ৩(গ) ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলাছিল, একজন সদস্য তার পুরো মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে, উন্নয়ন সারচার্জ এবং আমদানি পারমিট ফি ব্যতীত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিবরণ ও শর্ত অনুযায়ী একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আরেকটি নতুন গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপনের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসাবে বলেন, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ-সদস্যদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে তেমনি এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সাথে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সাথে সাম্য প্রতিষ্ঠাকল্পে উক্ত সুবিধা বাতিল করার জন্য ওই ধারা বাতিল করতে বিলটি আনা হলো। প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে সরকারি দল ও বিরোধী দল বলেছিল তারা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। ভোটের পরে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রথম সংসদীয় দলের বৈঠকে এ শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্লটও নেবে না বলে ভোটের আগে জানানো হয়। বিশেষ কমিটি গঠন : বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংসদ। গত বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে এই গঠনের বিষয়ে একমত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিনই সরকারি দল ও বিরোধী দল ৫ জন করে ১০ সদস্যের নাম প্রস্তাব করে। রোববার সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি সংসদে পাশ হয়। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন। কমিটিতে সদস্য হিসাবে আছেন, জ্বালানীমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সরকারি দলের সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, বিরোধী দলের সদস্যরা হলেন সাইফুল আলম, নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান। কমিটির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ।

কাস্টমস কর্মকর্তার লাশের পাশে স্ত্রীর বিলাপ, ‘আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হলো’

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লার আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোক ও ক্ষোভে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পৈশাচিক এ হত্যার কারণ এখনো অজানা থাকায় পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি নগরীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন—কেন তাকে হত্যা করা হলো? নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বারবার একই প্রশ্ন করছেন, আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হলো? তার তো কোনো শত্রু ছিল না। স্বামীর লাশের সামনে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। পাশে থাকা স্বজনরাও তাকে সান্ত্বনা দিতে ব্যর্থ হন। এতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা নগর উদ্যানের পাশে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে মরদেহ নেওয়া হলে সহকর্মীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় সহকর্মীকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করতেন বুলেট বৈরাগী।সহকর্মী ও স্থানীয়দের কাছে তিনি শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্ত্রী উর্মি হীরা জানান, তার স্বামী চট্টগ্রামে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলেন। নিয়মিত সপ্তাহ শেষে কুমিল্লায় ফিরতেন। ঘটনার দিন তিনি চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাই ঘুরে রাত ১১টার দিকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি আরও জানান, রাতের দিকে একাধিকবার ফোনে কথা হলেও পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপরই পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগীর লাশ পাওয়া যায়। লাশের মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের ধারণা, তিনি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী। বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর একমাত্র সন্তান। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। বিবিরবাজার থেকেই তিনি ১ এপ্রিল চট্টগ্রামে ৪৪তম মৌলিক প্রশিক্ষণে যান। চাকরির কারণে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। বুলেটের মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, আমার স্বামী কৃষক ছিলেন। অনেক কষ্টে ছেলেটাকে বড় করেছি, ভালো মানুষ বানিয়েছি। শুক্রবার দিনগত রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কথা হয় বুলেটের সঙ্গে। তখন সে বলল, বাসে আছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিরব। এর কিছুক্ষণ পর কল দিলে আর রিসিভ হয়নি। এরই মধ্যে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। একের পর এক কল দিতে থাকি। সর্বশেষ ভোর পৌনে ৪টার দিকে কলটি রিসিভ করে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ঘুমাচ্ছি, আরেকটু পরে আসছি। তখনই বুঝেছি, আমার ছেলের সঙ্গে খারাপ কিছু হয়েছে। কারণ এটা আমার ছেলের ভাষা না। ওই সময়ই মনে হচ্ছিল, রাত ২টা ১০ মিনিটে তাহলে কি আমি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলেছি? অনেক খোঁজাখুঁজির পর শনিবার দুপুরে শুনি, আমার সোনার ছেলেটার লাশ রাস্তার পাশে পাওয়া গেছে। সন্তানের জন্মদিন পালন করা হলো না ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল বুলেট বৈরাগী ও উর্মি হীরার বিয়ে হয়। চলতি সপ্তাহেই ছিল তাদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল ২৭ এপ্রিল। পরিবার জানায়, সন্তানের জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের জন্যই তিনি শেষবারের মতো কুমিল্লার পথে রওনা দিয়েছিলেন। তদন্তে পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কাস্টমস অফিসে নেওয়া হলে সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহ পাঠানো হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এদিকে হত্যার কারণ এখনো উদঘাটিত না হওয়ায় পুরো ঘটনায় শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বজ্রপাতের ঘটনায় সারা দেশে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, নাটোরের সিংড়ায় ১ জন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১ ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সব ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছে। গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া, সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাংগা ও ফুলছড়িতে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে পৃথক বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ, তার চাচাতো ভাই শিশু রাফি, সাদুল্লাপুর উপজেলার আলী আকবর। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল জানান, রোববার দুপুরে দক্ষিণ ধোপাডাংডার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুজা চৌধুরীর বাড়ির বারান্দায় খেলা করছিল সুজা চৌধুরীর শিশু পুত্র ফুয়াদ ও মুজাহিদের শিশুসন্তান রাফি। দুপুরে বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বারান্দায় অবস্থানরত ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি গুরুতর আহত হয়। পরিবারের লোকজন দুজনকে নিয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধোপাডাংগায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়ায় জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান নামের এক যুবক। তাকে গাইবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সাঘাটা উপজেলায় নম্বর আলী ও ফুলছড়ি উপজেলায় অজ্ঞাত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষক ও এক যুবক মারা গেছেন। রোববার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একই দিন বিকাল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচাঁন এলাকায় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত হাসান শেখ ওই এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে ধান কাটছিলেন হাসান। এ সময় হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে হাসান শেখের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ও সৈয়দপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকালে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় পৃথক দুটি স্থানে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সৈয়দপুর ইউনিয়নের গৃহবধূ সেলিনা আক্তার দুপুরে মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াস আলী বিকালে নিজের ফসলি জমি দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে তিনি প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। পীরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও দুইজন। জামালপুরের মেলান্দহ থানার ওসি উবায়দুর রহমান জানান, রোববার বিকালে মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামের রাজিব হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাড়ির উঠানে রান্নার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একই এলাকার হারুনের স্ত্রী শেফালী বেগম। জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, জামালপুর সদরের চর যথার্থপুরে হাবিবুর রহমানের পুত্র হাসমত আলী হাসু নামে এক কৃষক ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন একই এলাকার নুর আলীর পুত্র কৃষক আনোয়ার হোসেন। আহত শেফালী বেগমকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সদর উপজেলার নুর আলীর পুত্র কৃষক আনোয়ার হোসেনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে। সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: সিংড়ার চলনবিলে ধান কাটতে এসে বজ্রপাতে সম্রাট (২৬) নামের এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একই গ্রামের আলম হোসেন (৩৫) ও আফজাল হোসেনর (৪০) নামের আরও দুই ধান কাটা শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে একই সময়ে উপজেলা কৈগ্রাম মাঠে ধান আনতে গিয়ে ফিরোজ হোসেন (২৫) নামের এক কৃষক আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল এর ছেলে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে দু’দিন আগে ধান কাটার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২২ জন ধান কাটা শ্রমিক আসেন। ঠেঙ্গাপাকুরিয়া মাঠে ধান কাটতে গিয়ে আকাশে কালো মেঘ দেখে কাজের বিরতি দিয়ে তাদের নির্ধারিত টিনের ছাপড়া ঘরে উঠেন শ্রমিকরা। হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাত ঘটলে টিনের ছাপড়াসহ আশপাশের দুটি গাছ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় শ্রমিক সম্রাটসহ তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাটকে মৃত ঘোষণা করেন। সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে একজন শ্রমিক নিহত ও পৃথক স্থানে আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েছি। বগুড়া ব্যুরো: বগুড়ার গাবতলীতে বৃষ্টির মধ্যে ধান গাছে পলিথিন দেওয়ার সময় বজ্রাঘাতে সুমন মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোনারায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল জানান, মৃত সুমন মিয়া উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। রোববার বেলা ২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় সুমন জমিতে থাকা ধান রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার জন্য বাড়ির কাছে মাঠে যান। তখন হঠাৎ বজ্রপাত হলে সুমন অচেতন হয়ে পড়ে যান। মৃতের ভাই ও সোনারায় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রঞ্জু মিয়া জানান, আহত ভাই সুমনকে উদ্ধার করে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, সুমন লেখাপড়া বাদ দিয়ে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। পাশাপাশি জমি ও সংসার দেখাশোনা করতেন। এছাড়া পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার-হয়রানি না করার নির্দেশ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (২৬ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আইভী আগে থেকেই আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর তাকে আবারও নতুন দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এভাবে বারবার নতুন মামলায় তাকে জড়ানো কেন অবৈধ হবে না, আদালত তা জানতে চেয়েছেন। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান, আইভী আগে থেকেই হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন, কিন্তু এর মধ্যেই তাকে নতুন দুটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ (গ্রেফতার দেখানো) করা হয়। এই শ্যোন অ্যারেস্ট করার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতে রিট করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের বিরুদ্ধে করা ওই হত্যা মামলায় আইভী ছিলেন ১২ নম্বর আসামি। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের আজকের এই আদেশের ফলে তাকে নিয়ে বারবার নতুন মামলার আতঙ্ক আপাতত কাটল বলে মনে করা হচ্ছে।

আরাগচির পাকিস্তান সফর নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল ইরানি মিডিয়া

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পুনরায় পাকিস্তান সফর নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আরাগচির এই ইসলামাবাদ সফরের সঙ্গে পরমাণু আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত চলমান যুদ্ধ বন্ধের একটি কার্যকর রূপরেখা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই তিনি আবার পাকিস্তানে ফিরেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাগচির আলোচনা ইতিবাচক মোড় নেয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই তার এই দ্বিতীয় দফা সফর। তাসনিম নিউজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমান আলোচনাগুলো কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখানে পরমাণু সংক্রান্ত কোনো বিষয় নেই। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। আরাগচি ওমান সফরের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করার পরপরই ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করে দিয়েছিলেন। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এই দাবি বা পরমাণু সংশ্লিষ্ট আলোচনার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে বর্তমান সফরটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরামর্শ হিসেবেই তুলে ধরছে। আরাগচির এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ আঞ্চলিক রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।

শান্তি চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুক তেহরান: ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

ইরান যদি চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে চায়, তবে তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজ-এর ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানকে আলোচনার এই প্রস্তাব দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা সরাসরি আমাদের ফোন করতে পারে। আপনারা জানেন, ফোনে কথা বলার সুযোগ আছে এবং আমাদের অত্যন্ত নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, আলোচনার পথ সব সময় খোলা আছে এবং ইরান চাইলে যেকোনো সময় যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে এবং এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য যখন সামনে এলো, ঠিক তখনই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের রূপরেখা নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ করছেন। ট্রাম্পের এই আলোচনার প্রস্তাব এবং একই সঙ্গে জয়ের দাবি—উভয় বিষয়ই বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।