আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। নতুন বছরে প্রবেশের পরও রুপার ঊর্ধ্বমুখী যাত্রা থামেনি। খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং গতি-নির্ভর কেনাকাটার পাশাপাশি বাস্তব বাজারে দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকট দাম বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার স্পট বাজারে রুপার দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ১০১ ডলারে দাঁড়ায়। গহনা, ইলেকট্রনিক পণ্য ও সৌর প্যানেল তৈরিতে ব্যবহৃত এই মূল্যবান শিল্পধাতুটি বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রুপার দাম বেড়েছিল প্রায় ১৪৭ শতাংশ। এরপর ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দাম আরও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে স্বর্ণের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রুপার এই দ্রুত উত্থান নিয়ে সতর্ক করছেন কারিগরি বিশ্লেষকরা। অতীতের মূল্যচিত্র বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ প্রবণতা অনুমান করা বিশ্লেষকদের মতে, এত দ্রুত দামের উল্লম্ফন রুপাকে বড় ধরনের সংশোধনের মুখে ফেলতে পারে।
এদিকে একই দিনে স্বর্ণের দামও নতুন রেকর্ড গড়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৮৮ ডলারে পৌঁছায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
সাকিব আল হাসানের ভক্তদের জন্য দারুণ সুখবর। সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে আবারও জাতীয় দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বিশেষ করে যেসব ভেন্যুতে খেলার মতো ফিট, সেখানে নির্বাচকরা সাকিবকে দলভুক্ত করবেন। দেশে বা দেশের বাইরে যে কোনো ভেন্যুতে আগামী সিরিজ থেকেই তাকে দলে ডাকতে পারবেন নির্বাচকরা।
পুরোপুরি ফিট থাকলে বাংলাদেশের পরবর্তী হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে বাংলাদেশ দলে খেলতে পারবেন সাকিব আল হাসান। সেইসঙ্গে তাকে আবারো কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাবও করেছে বিসিবি।
তার মামলা ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জরুরি সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাকিব আল হাসানকে তার অ্যাভেইবিলিটি ফিটনেস স্বাপেক্ষ সিলেকশনের ক্ষেত্রে বিবেচিত করবে ক্রিকেট বোর্ড।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশতিয়াক সাদেক। আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘আমি আসলে পদত্যাগ করেছি, কারণ আমার মনে হচ্ছে আমি গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মতো এত বড় দায়িত্বে থেকেও ঠিক মতো সময় দিতে পারছি না। এটার জন্য আমি নিজের কাছে নিজেই অনুতপ্ত।’
পরবর্তীতে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তিনি এই বিভাগকে এগিয়ে নেবেন বলেও বিশ্বাস করেন ইশতিয়াক সাদেক, ‘আমি বিশ্বাস করি আমার জায়গায় যে আসবে সে যথেষ্ট সময় দিয়ে এই বিভাগকে এগিয়ে নেবে।’
বোর্ডের সঙ্গে কোনো সমস্যা কিংবা কোনো পরিচালকের সঙ্গে সমস্যা হলো কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই না, বোর্ডের কারোর সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই, সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। আমি নিজের জায়গা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।’
জানা গেছে, বোর্ডের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে আরও দু-তিন পরিচালক পদত্যাগ করতে পারেন।
কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবিদায় জানালেন বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক থেকে মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শোকার্ত হৃদয়ে চিরবিদায় জানান তিনি।
পরে এদিন রাত ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জানাজা শেষে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
এর আগে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজবাড়িতে মারা যান তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশুসন্তান।
স্বজনদের দাবি, নয় মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী।
জানা গেছে, হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় সাদ্দামের স্ত্রী ও তার শিশুসন্তানের মরদেহ।
স্বজনদের আবেদনের পর প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না মিললেও, মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ ছয়জন নিকট আত্মীয়সহ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেয়। এ সময় মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন। কারাবন্দি অবস্থায় সাদ্দাম কোনো কোনো সময় স্ত্রীকে চিরকুট পাঠাতেন এবং দ্রুত তাকে মুক্ত করার কথা বলতেন। এসব বিষয় স্বর্ণালীর ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।
স্বজনেরা বলেন, স্বর্ণালী তার স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বামীর মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। তারা দাবি করেন, হতাশার কারণে স্বর্ণালী প্রথমে তার ৯ মাসের শিশুকে বালতিতে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এরপর থেকেই তিনি এই কারাগারে রয়েছেন। সব নিয়ম মেনে সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়। মরদেহ দেখানোর পর আবার সাদ্দামকে কারাগারে তার নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
বরিশালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভার তারিখ আবারও পেছাল। আগামী ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) তার বরিশালে আগমনের কথা থাকলেও শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে তা পেছানো হয়েছে। তবে কবে তিনি বরিশাল সফর করবেন, সে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তারেক রহমানের ২৬ জানুয়ারি বরিশালে আগমনের কথা ছিল। তবে দু’দিন আগে সেই তারিখ পরিবর্তন করে ২৭ তারিখ সফরের কথা ছিল। কিন্তু শনিবার সেই তারিখও পেছানো হয়েছে।
বিলকিস বলেন, তারেক রহমানের বিমানযোগে বরিশালে আসার কথা। আবার বিকল্প পথে বরিশাল ত্যাগ করবেন। সবকিছু মিলিয়ে শিডিউলের কারণে তার বরিশাল সফর পেছানো হয়েছে। তবে তিনি বরিশালে আসবেন না সেটা নয়, তিনি বরিশাল সফর করবেন এবং কবে করবেন সেটা পরে জানানো হবে বলে আমাদের কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সবশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল সফর করবেন। তার এই সফর ঘিরে বরিশাল অঞ্চলের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করেন নেতারা।
১০ দলীয় ঐক্য নির্বাচন করছে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়বার জন্য, নিজের দলকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য নয়— বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে এ নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এ সময় মামুনুল হক বলেন, আজ ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক বাঁক-বদলের মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ পুরোনো দুর্বৃত্তপনার রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দিয়ে নতুন বন্দোবস্ত গড়বার লক্ষ্যে জনতার ঐক্য গড়ে তুলেছে। আজকের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশে আর পুরোনো রাজনীতির ব্যবস্থা চলবে না। বাংলাদেশে আর সেই ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ফিরে আসবে না ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমি দেখছি প্রতি সেক্টরে আমার দেশের মানুষ হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। কৃষক শ্রমিক, রিকশাওয়ালা থেকে বিদেশের বাড়িতে রেমিটেন্স যোদ্ধারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করে ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে, ১০ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা, ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিশ্রম করে। স্বপ্ন একটাই— তারা বিদেশে থেকে রেমিটেন্স পাঠায়, পরিবার একটু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে। বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অথচ বিগত ৫৪ বছর আমরা দেখেছি আমাদের লোকদের এই কষ্টার্জিত সম্পদ শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনের চেয়ারে বসে জনগণের সম্পদ দিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়নের বদলে নিজেদের ভাগ্য গড়বার লক্ষ্যে বিদেশে বেগম পাড়া গড়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, অনেক জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ এ পর্যায়ে এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের মানুষের সেই রক্ত রাঙা স্বাধীনতার সুফল তাদের ঘরে তুলতে পারেনি এ দেশের শাসকগোষ্ঠীর কারণে। শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি, চুরি ও লুটপাটের কারণে। কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করতে পারে নাই। আমাদেরকে শুধু আমাদেরকে উন্নয়নের গালগল্প শোনানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গোল, এ দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের কাছে থেকে আমরা হতাশ হলাম। ঈদের পরে আন্দোলন হবে। ঈদও আর আসলো না, এ দেশের মানুষ সর্ববৃহৎ দলের কাছ থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আর কোনো লড়াকু আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলো না। শেষ পর্যন্ত শিক্ষাঙ্গণ থেকে আমাদের ছাত্র-জনতা বেরিয়ে এলো, স্কুল থেকে আমার সন্তানেরা বেরিয়ে এলো, কলেজ থেকে আমাদের ভাইয়েরা বেরিয়ে এলো, আলীয়া ও কওমি মাদ্রাসা থেকে আমাদের সোনার ছেলেরা রাজপথে বেরিয়ে এলো। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় দাবানলে পরিণত হলো। ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ দেশের মাটিকে পূত-পবিত্র করলো। বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলো। তখনতো কেউ প্রশ্ন করে নাই, এত বড়ো আন্দোলন হচ্ছে এর প্রধান নেতা কে।
তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোট কোনো এক নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। কোনো একটি দলের স্বার্থ বা ১০টি দলের ভাগ্য গড়বার জন্য নয়। ১০ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়বার জন্য। ১০ দলীয় ঐক্য নির্বাচন করছে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়বার জন্য, নিজের দলকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য নয়। তাই আমরা বলতে চাই— আমাদের ১০ দলের যেখানে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, সে কোনো একক দলের প্রার্থী নয়। এমনকি সে শুধু ১০ দলের প্রার্থীও নয়। সে নিপীড়িত বাংলার জনগণের, আপামর জনগণের মনোনীত প্রার্থী।
এরপর এক পর্যায়ে তিনি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে ন্যায়ের প্রতীক অভিহিত করে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে অপার সম্ভাবনাময় মুখ ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র উল্লেখ করেন এবং ১২ ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোটের প্রার্থীদের বিজয় করতে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি বাউফল উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, এই পাবলিক মাঠে কথা দিয়ে যাচ্ছি— ক্ষমতায় গেলে বাউফলের নাগরিক হিসেবে বাউফলের বগা সেতুসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। আপনারা যদি সুযোগ দেন, যদি সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেন আমি আপনাদেরকে কথা দিয়ে যাচ্ছি, ৬০ দিনে মাদকমুক্ত বাউফল ও ৯০ দিনে দুর্নীতিমুক্ত বাউফল উপহার দেব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মুহা. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই বাউফল পৌর সদরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার-ফেস্টুনসহ জামায়াত ও জোট সমর্থিত নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে এবং হাজার হাজার জনসমাগমে বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ পাবলিক মাঠ ও তার আশপাশ কানায় কানায় ভরে যায়।
এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিাণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এই দেশের ভূমিপুত্ররাই এই দেশ শাসন করবে। কোনো প্রবাসী দিয়ে এই শাসন করতে পারবে না। যাদের এই দেশের মাটি, পানি ও মানুষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই সেই প্রবাসী-বিদেশিদেরকে এই দেশের নীতি নির্ধারণে জায়গা দেওয়া হবে না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে বেলা ২টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকের সমার্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখছি হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে, কেন্দ্র দখলের পায়তার চলছে। এই তরুণ প্রজন্ম কী বসে থাকবে? আমরা, এই তরুণ প্রজন্ম হাসিনাকে ভয় পায়নি। দুই পয়সার দাম দেয়নি। কেউ যদি মনে করে অপার সম্ভাবনার এই তরুণ প্রজন্মকে আবার কামান, পুলিশ ও মিলিটারি দিয়ে গুলি করে পেট্রল দিয়ে দমন করা হবে তাহলে তারা ইতিহাসের ভুল প্রান্তে অবস্থান করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে উপস্থিত জনতাকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজর নামাজ পড়তে বলেন তিনি।
হাসনাত বলেন, আপনাদেরকে যারা ভয় দেখাতে আসে মনে রাখবেন, তারা আসলে নিজেরাই ভয় পেয়ে গেছে। আমরা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেব। কেউ যদি আমাদেরকে ভোট দিতে নাও চায়, সে যেন নিরাপদে তার ভোট সে নিজেই দিতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করব।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী বলেন, আবারও নতুন করে ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড দেখানো হচ্ছে। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা বাউফলবাসীকে কার্ড দেখাচ্ছেন আপনারা তাদেরকে লাল কার্ড দেখাবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মুহা. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই বাউফল পৌর সদরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার-ফ্যাস্টুনসহ জামায়াত ও জোট সমর্থিত নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে এবং হাজার হাজার জনসমাগমে বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাত পাবলিক মাঠ ও তার আশপাশ কানায় কানায় ভরে যায়।
ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও মিসেস মানু ভার্মার আমন্ত্রণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন অংশ নেন।
এ সময় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে স্বাগত জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।