মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত এক মাসে মোট ৯৭২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিমান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের প্রভাবে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ বা সীমিত করে দেয়। ফলে এসব রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনস বাধ্য হয়ে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিল করে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংকটের শুরুর দিকে বাতিলের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৩৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর ১০ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ২৭৫টি, ২০ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ২২৬টি এবং ৩০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭২টিতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আকাশসীমা ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ওপরই নির্ভর করছে ফ্লাইট পরিচালনার পূর্ণ স্বাভাবিকতা।
এদিকে, ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক মিজানুর রহমান মিজান (২০) আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী সীমান্তের ওপাশ থেকে ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে ধরে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় অসংখ্য বিএসএফ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। এতে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার বসতবাড়ির নারীরা বাড়িঘর ছেড়ে শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।
আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে।
অন্যদিকে সহদেব বর্মণ ভারতের কোচবিহারের কুচলিবাড়ী থানার ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে।
বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ভারতের কোচবিহার রাজ্যের কুচলিবাড়ী থানার ফুলকাডাবরী গ্রামের ডাঙিরটারী সীমান্তের বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার অপর দিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকা। এই পিলারের ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখার দুই দিকের নিজেদের জমি চাষাবাদ করেন উভয় দেশের কৃষকেরা। আজ সকালে নিজেদের ভুট্টাখেতে পরিচর্যার পাশাপাশি ঘাস আনতে যান কৃষক মিজান। এ সময় ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতি ক্যাম্পের টহল দলের একজন সদস্য মিজানকে ডেকে একটি ভুট্টার মোচা দেখতে চান। মিজান ভুট্টার মোচাটি দেওয়ার সময় পাশে থাকা অপর একজন বিএসএফ সদস্য তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে মিজানের ডান কাঁধে গুলি লাগে। অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া মিজান হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাখেত হয়ে আসার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে রংপুরে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পাশাপাশি এলাকার বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার জমি চাষাবাদ করতে থাকা ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে ধরে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পরপরই শূন্যরেখার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অসংখ্য বিএসএফের সদস্য অস্ত্র হাতে অবস্থান নেন। এতে সীমান্তে আতঙ্ক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১-এর (তিস্তা-২) ধবলসুতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বাদশা মিয়া বিএসএফের ওই ক্যাম্পের কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উভয় ক্যাম্পের কমান্ডার ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেন। সুবেদার বাদশা মিয়া এ ব্যাপারে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। ভারতীয় নাগরিক সহদেব বর্তমানে ধবলসুতি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। বিজিবি জানিয়েছে, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বিএসএফ-বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজিবির ৬১-এর (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিমের সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
বিজিবির ৬১-এর (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত বলতে পারব।’
দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ সময় খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো—এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোলড স্ট্রিলস লিমিটেড, সোনালি ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের অগ্রগতি যাচাই, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন অনুযায়ী খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ এবং তফসিলি নীতিমালা হালনাগাদকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
শরীরের আভ্যন্তরীণ নানারকম কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়ামের গুরুত্বের কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু আধুনিক রূপচর্চার জগতেও যে ম্যাগনেসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম তা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ফেরানো থেকে শুরু করে শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ম্যাগনেসিয়ামের বহুমুখী গুণাগুণ রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা একজিমা বা ব্রণের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ম্যাগনেসিয়াম হতে পারে একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকরী সমাধান। আজকের আয়োজনে থাকছে ত্বকের যত্নে ম্যাগনেসিয়ামের উপকারিতা ও ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জরুরি কিছু তথ্য।
ত্বকের জন্য ম্যাগনেসিয়ামের উপকারিতা
ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত করে
গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড সমৃদ্ধ লোনা পানিতে গোসল করলে শুষ্ক ত্বকের সুরক্ষা স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ উন্নত হয়। এটি ত্বককে বাইরের ধুলোবালি ও জীবাণু থেকে রক্ষা করে এবং কোষের প্রদাহ রোধ করে। ঘরে বসে স্পা-এর মতো আরাম পেতে বাথ সল্ট হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম ব্যবহার করতে পারেন, যা শরীরের মাংসপেশিকে শিথিল করে প্রশান্তি দেয়।
আর্দ্রতা ধরে রেখে অকাল বার্ধক্য রোধ করে
ম্যাগনেসিয়াম ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি ত্বকের খসখসে ও লালচেভাব কমিয়ে দেয়। নিয়মিত ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিরাম বা লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা দূর হয়, ফলে ত্বক অনেক বেশি সতেজ দেখায়।
ব্রণ ও তৈলাক্তভাব নিয়ন্ত্রণ
ত্বকে ম্যাগনেসিয়াম অয়েল ব্যবহার করলে এটি চর্বি ও তেলের কণাগুলো ভেঙে দিয়ে অতিরিক্ত সিবাম নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। এটি কেবল ব্রণের তীব্রতা কমায় না, বরং একজিমা বা রোজাসিয়ার মতো প্রদাহজনিত চর্মরোগের অস্বস্তি উপশমেও এক বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্টগুলোতে ম্যাগনেসিয়াম একটি প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়ার মাধ্যমে একটি মৃদু ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর ফলে শরীরের অপ্রীতিকর দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ত্বক দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
ম্যাগনেসিয়ামের সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি–
খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় বাদাম, বীজ, হোল গ্রেইন, শিম, সবুজ শাকসবজি এবং দই রাখুন। প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
ম্যাগনেসিয়াম অয়েল: হাতের তালুতে ১-৩ পাম্প ম্যাগনেসিয়াম অয়েল নিয়ে প্রতিদিন ত্বকে মালিশ করতে পারেন। এটি স্প্রে আকারে বাজারে পাওয়া যায়।
ময়েশ্চারাইজার: ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড যুক্ত নন-টক্সিক ময়েশ্চারাইজার দিনে অন্তত তিনবার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে কিছু সতর্কতা মেনে চলুন-
প্যাচ টেস্ট: মুখে ব্যবহারের আগে হাতের কবজিতে লাগিয়ে দেখে নিন কোনো অ্যালার্জি হচ্ছে কি না।
পরিমাণ: দিনে ৩৫০ মিলিগ্রামের বেশি ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে র্যাশ হতে পারে। যদি ম্যাগনেসিয়াম অয়েল ব্যবহারের সময় সামান্য জ্বালা করে, তবে বুঝবেন শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি আছে অথবা আপনি একবারে অনেকটা ব্যবহার করে ফেলেছেন। সেক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে ব্যবহার শুরু করুন।
কাদের জন্য নিষেধ
ডায়াবেটিস, অন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া যাঁরা বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তার ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এটি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম কেবল একটি খনিজ উপাদান নয়, এটি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ। সঠিক নিয়ম মেনে এবং পরিমাণমতো ব্যবহার করলে এটি আপনার ত্বককে আরও নমনীয়, উজ্জ্বল ও সতেজ করবে। তবে যেকোনো শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য
ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা লিবিয়া—বিগত তিন দশকে পেন্টাগন যেখানেই বিমান হামলা চালিয়েছে, প্রতিপক্ষ ছিল সামরিকভাবে দুর্বল। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত আমেরিকার সেই দীর্ঘদিনের ‘অজেয়’ আকাশশক্তির মিথ বা রূপকথাকে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতাও সব সময় যুদ্ধের ময়দানে জয় নিশ্চিত করতে পারে না।
পশ্চিম ইরানে আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ভূপাতিত হওয়া এই যুদ্ধের একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। যুদ্ধের স্কেল অনুযায়ী একটি বিমান হারানো বড় কোনো ক্ষতি মনে না হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রথম কোনো শত্রুদেশের আকাশসীমায় মার্কিন পাইলটচালিত যুদ্ধবিমান সরাসরি তাদের গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত হলো। যদিও পরবর্তীতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু এই একটি ঘটনাই ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তবে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই দিনে পারস্য উপসাগরের কাছে কুয়েতে ইরানের গোলার আঘাতে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমানও ধ্বংস হয়েছে। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, স্টেলথ প্রযুক্তিহীন এবং নিচ দিয়ে ওড়া যুদ্ধবিমানগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন আমেরিকার আরও বেশ কিছু ‘উড়ন্ত বস্তু’ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি পরিবহন বিমানও ছিল। ওই অভিযানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার দাবিও করেছে তেহরান। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে উদ্ধার তৎপরতাও এখন কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশটির অবকাঠামোতে নিয়মিত সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ‘দুর্বল করা’ আর ‘পুরোপুরি ধ্বংস করা’ এক কথা নয়। ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আইএডিএস) বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও টিকে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখিয়েছে। উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার সক্ষমতা এখনো তাদের রয়েছে, যা মার্কিন রণকৌশলকে ধীর করে দিচ্ছে এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইসফাহান ও বুশেহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আমেরিকার বেশ কিছু এমকিউ-৯ রিপার (অন্তত ১২ টি) ড্রোন ভূপাতিত করেছিল ইরান। ড্রোন হারানো রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল হলেও, এর আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি উপেক্ষা করার মতো নয়। এর ফলে গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, একটি চালকযুক্ত বিমান হারানো মানেই হলো উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ জনমত ও পাইলট বন্দী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
আমেরিকার সামরিক ডকট্রিন বা মূলনীতির ভিত্তি হলো আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য। কিন্তু বর্তমান সংঘাত দেখাচ্ছে যে, আধিপত্য মানেই ‘অজেয়’ হওয়া নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ইরান সংঘাতও দেখিয়ে দিচ্ছে, সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই হলো জানমালের ক্ষয়ক্ষতি। আকাশ এখন আর কেবল আমেরিকার একার নয়; এটি এখন গতিশীল এবং ক্ষমাহীন এক রণক্ষেত্র।
এই পরিস্থিতিতে পেন্টাগন এখন স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করার প্রযুক্তিতে আরও জোর দেবে। ‘লোয়াল উইংম্যান’ বা এআই চালিত ড্রোনের ব্যবহারও বাড়বে। তবে কেবল আকাশশক্তি দিয়ে যুদ্ধ জয় সম্ভব নয়; এর সঙ্গে সাইবার অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য এবং কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয় জরুরি।
সবশেষে, ৩ এপ্রিলের এই ক্ষয়ক্ষতি আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ না করলেও তাদের ‘অনায়াস আধিপত্যের’ অহমিকা ভেঙে দিয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ যে কতটা অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ, ইরানের পাহাড়গুলো আজ সেই সত্যই বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এনডিটিভি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত
সুদ হার কমানো এবং একক গ্রাহক ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সেই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের ঋণ সহায়তা বাড়াতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে ধাপে ধাপে ইডিএফ তহবিল বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
আজ সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর।
মো. আলমগীর বলেন, ‘ইডিএফ তহবিলে আগে ৭ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা বর্তমানে কমে ২ দশমিক ৩ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ সন্তোষজনক থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিবেচনায় ডলার বাজারে চাপ এড়াতে আমরা তহবিল ৫ বিলিয়নে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছি। গভর্নর তা ধীরে ধীরে বাড়ানোর কথা বলেছেন।’
রপ্তারিকারকদের ঋণ সুবিধা দিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ইডিএফ গঠন করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ এ তহবিলের আকার ছিল ৩৫০ কোটি বা সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। কোভিড মহামারির শুরুর পর প্রথম দফায় সরকারের নির্দেশে ইডিএফের আকার ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এরপর কয়েক দফায় বাড়ানোর পর এর আকার এক সময় ৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। বর্তমানে এ তহবিলে প্রায় ২৩০ কোটি বা ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আছে বলে জানা গেছে।
মো. আলমগীর বলেন, ‘গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সুদহার কমানো ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার থাকা ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের যেন স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টিও লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।’
সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা একক গ্রাহক ঋণসীমা ১৫ শতাংশ থেকে আরও ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক যেন তার পরিশোধিত মূলধনের এক চতুর্থাংশ অর্থের পরিমাণ একজন গ্রাহককে ঋণ দিতে পারে সেই দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
যদিও আর্থিক খাতে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ঋণসীমা বাড়ালে ঋণ পুঞ্জীভূত হবে। এমনকি একজন গ্রাহক খেলাপি হলে ব্যাংক বড় চাপে পড়বে, যা বিগত সরকারের সময় ঘটেছে। আর সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে ব্যাংকিং খেলাপি ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
বৈঠকে এফবিসিসিআই নেতারা ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে রাখা এবং খেলাপি ঋণের নিয়ম শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন। যদিও ২০২০ সালে এপ্রিলে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা পরে আইএমএফের চাপে বাজারভিত্তিক করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দেশের অর্থনীতিতে অনাদায়ি বা খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এফবিসিসিআই আজ লিখিতভাবে পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়ে পড়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
এফবিসিসিআই বলছে, খেলাপি ঋণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের অন্তরায় তৈরি করছে। তাই অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমিয়ে আনা জরুরি। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পক্ষে নয়। তবে ব্যবসায়িক ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়েছেন, তাঁদের জন্য পুনর্বাসনমূলক নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করে এফবিসিসিআই। এতে করে এসব উদ্যোক্তা পুনরায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যান, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করলে সামগ্রিকভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে।
এদিকে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা জোরদারের দাবি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুদ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।
বৈঠকে এফবিসিসিআই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা; বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করা; ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখা; আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে সহায়তা; ঋণ পুনঃতফসিল করা; সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্যাকেজ; বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি; সরকারি ঋণ কমিয়ে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন বাড়ানো; প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা ও সহজ ঋণ সুবিধা; এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা সহায়তায় জামানতবিহীন ঋণ ও ব্যাংকে হেল্প ডেস্ক চালু; গ্রিন ফাইনান্সিং; সৌরশক্তি ব্যবহারে স্বল্পসুদে ঋণ; শিল্প খাতের ব্যাংকিং সমস্যার দ্রুত সমাধানে বিশেষ কমিটি গঠন প্রভৃতি।
দ্রুতগতির বল কিংবা বাউন্সারের সঙ্গে ব্যাটারদের মানিয়ে নিতে বোলিং মেশিনের ব্যবহার বাংলাদেশে হয়ে আসছে অনেক দিন ধরেই। এবার বাংলাদেশে এল স্পিন বোলিং মেশিন। ১৬ লাখ টাকা দামের এই মেশিন আজ দেখা গেছে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং ক্যাম্পে।
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে স্পিন বোলিংয়ের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। কারণ, সেসব দেশে ক্রিকেটাররা পেসবান্ধব উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত। স্পিন সহায়ক কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন তাঁরা। আর উপমহাদেশের বেশির ভাগ উইকেটেই স্পিন বান্ধব। এ ধরনের উইকেটে অনুশীলনে ঝালিয়ে নিতে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে স্পিনবান্ধব উইকেট। আজ সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘প্রায় ১০০০০ পাউন্ড এর দাম। তবে ভ্যাট- ট্যাক্সের হিসাবটা জানা নেই আমার।’
বিসিবি যে স্পিন বোলিং মেশিন নিয়ে এল, সেটার নাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কী কী কাজে এটা ব্যবহার করা যাবে—এই প্রশ্নের উত্তরে নাফীস বলেন, ‘এটা দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং স্ট্রেইট বলটা করা যায়। ডানহাতি বোলারের ক্ষেত্রে যদি এটা অফ স্পিন হয়, তাহলে বাঁহাতি বোলারের ক্ষেত্রে এটা চায়নাম্যান হবে। সব ধরণের স্পিনই খেলা যায়। পাশাপাশি সোজা বল, যে বলটা আর্মার বল, সেই বলটাও খেলা যায়। তিন ধরনের বল খেলা যায়। লেংথ বদলানো যায়।’
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকার কাগজে-কলমে সদিচ্ছার কথা বললেও বাস্তবে কিছু সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশ নিয়ে ‘খেলা’ চলছে।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত কতিপয় অধ্যাদেশ বাতিল ও পরিবর্তন বিষয়ে টিআইবির অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাদেশগুলো কেন আইনে পরিণত হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রতিরোধটা ভেতর থেকেই আসছে। ভেতরে দুটো আঙ্গিক আছে। একটা হচ্ছে রাজনীতি, আরেকটা আমলাতন্ত্র। কাজেই আমি বলব না, সরকারের সদিচ্ছা নাই। সরকার প্রকাশ্যে সদিচ্ছার কথা বলেছেন, কাগজে বলেছেন, দলিলে বলেছেন। সরকারপ্রধান কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যেটা আশা জাগানিয়া। কিন্তু একই সঙ্গে যে দৃষ্টান্তগুলো হয়েছে, অধ্যাদেশ নিয়ে যে খেলাটা হচ্ছে, ‘খেলা’ শব্দটাই বলব, সেই প্রতিরোধটা আসছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে। ”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকেও এ প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার খর্বের মতো প্রস্তাব ও যুক্তিগুলো আমলাতান্ত্রিক বলয় থেকেই এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘যে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ারকে খর্ব করার জন্য যে দাবিগুলো তুলে ধরা হচ্ছে, সেগুলো কোথা থেকে আসছে? সেগুলো আমলাতন্ত্র থেকে আসছে। পোশাকে-অপোশাকে আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্র আগের মতোই মূল নির্ণায়ক বাংলাদেশে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ থাকলেও বাস্তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমলাতন্ত্রের প্রভাবই বেশি। মন্ত্রী পরিষদ আছে, জাতীয় সংসদ আছে। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদ কী সিদ্ধান্ত নেয় বা জাতীয় সংসদ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমলাতন্ত্র। ভালো হলে তার কৃতিত্ব হয়তো আমলাতন্ত্র নেবে, রাজনৈতিক দল নেবে, কর্তৃপক্ষ নেবে। কিন্তু নেতিবাচক হলে তার দায়ও তো নিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশ দুর্বলতামুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করা হয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন ২০২৫ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-এসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু অধ্যাদেশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বলতা রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশ তার উদাহরণ।
এ সময় টিআইবি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং গুম প্রতিরোধে প্রণীত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি জানায় সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান ও উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।