নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বরাবরই স্পষ্টবাদী নীনা গুপ্তা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেউ অযাচিত প্রশ্ন করলে তা নিয়েও মুখ খুলতে পিছপা হন না অভিনেত্রী। বিয়ে, ওজন এবং শরীর নিয়ে নানা ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখে কিভাবে পরিস্থিতি সামলান, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। স্পষ্ট জবাব দেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে নীনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেউ যদি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘কবে বিয়ে করছেন?’, তা হলে তিনি কিভাবে জবাব দেন। বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করলেই নীনা স্পষ্ট বলেন, ‘তোমার বাবার টাকায় খাই না। তোমার কী সমস্যা? তুমি বিয়ে করেছ?’
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন প্রশ্নের কোনো প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন নীনা। শুধু বিয়ে নয়, নিজের ওজন নিয়েও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নীনাকে। এমনকি তাকে দেখে কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার জল্পনাও করেছিলেন। একটি পোশাকের কারণে কিভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।
নীনা জানান, সে দিন তিনি শাড়ি পরেছিলেন। কোমরের কাছে শাড়িটি ঠিক করতে গিয়ে জায়গাটি একটু ভারি দেখাচ্ছিল। তার পরেই শুরু হয় নানা মন্তব্য। নীনার কথায়, ‘আমার বয়স ৬০, তা হলে কি আমি অন্তঃসত্ত্বা?’
এমন জল্পনায় বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন নীনা। পরিস্থিতি সামলাতে নিজের সহযোগী দলকে তিনি বলে দিয়েছিলেন, সবাইকে জানিয়ে দিতে যে তিনি সত্যিই অন্তঃসত্ত্বা। তার মতে, তাতে অন্তত মানুষজন তাকে বিরক্ত করা বন্ধ করবেন। শরীর নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়া অন্যদেরও নীনার পরামর্শ, কেউ যদি তাদের ওজন বা চেহারা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তা হলে মজা করে বলে দেওয়া যেতে পারে যে তার অন্তঃসত্ত্বা। অনুরাগীদের মন্তব্য, নীনার এই মন্তব্যের মধ্যে যেমন রসিকতা রয়েছে, তেমনই রয়েছে শরীর নিয়ে অন্যের অযাচিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও।
ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই গেটগুলো খোলা হয়েছে।
গত তিন দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় দুই মিটার বেড়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।
এতে নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৮ দশমিক ৫ মিটার পৌঁছালেই বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।
রাজশাহীতে পদ্মার পানি বাড়ার ফলে এরই মধ্যে মাঝচর, আষাড়িয়াদহ, খিদিপুরসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের বসতি, কৃষিজমি ও নদীনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।
পদ্মার পানি এভাবে বাড়তে থাকলে রাজশাহী শহর ও জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, নদী পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন, পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় নদীর চর ও নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।
Advertisement
তিনি বলেন, পদ্মা নদীর পানি বন্যা বিপৎসীমার কাছাকাছি উচ্চতায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এতে চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ১০ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কায় গঙ্গার পানির উচ্চতা ২৩ দশমিক ৭৫ মিটারে পৌঁছেছে। সেখানে স্থানীয় বিপৎসীমা ২২ দশমিক ২৫ মিটার। অর্থাৎ পানির উচ্চতা বিপৎসীমার প্রায় দেড় মিটার ওপরে রয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খোলা রয়েছে। ব্যারাজ দিয়ে মোট পানিপ্রবাহ প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি ফিডার খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ফারাক্কা দিয়ে বাড়তি পানির প্রবাহ একই মাত্রায় বাংলাদেশে প্রবেশ করায় পদ্মা নদীতেও দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করেছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আরও চরাঞ্চল ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর চর এবং নিচু নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
একাধিক হামলার ঘটনার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। হরমুজ প্রণালি ইরানের হাতে বন্ধ হওয়ার পর এটিই ছিল দেশটির একমাত্র বিকল্প তেল রপ্তানির পথ।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, একাধিক হামলার ঘটনার পর পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে এই সতর্কতামূলক স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দেশটির তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সৌদি তেলকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দরগুলোর দিকে পরিবহনের সুযোগ দেয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হলে এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে পাইপলাইনটিতে হামলা চালানো হলে বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি রিয়াদ।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিদের দ্রুতগতির সামরিক অভিযানের মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই অভিযানে হুথিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘বৃক্ষ বন্দনা’ অবলম্বে ‘ধরা তরু কাব্য-নেচার্স টেল’ নামে একটি বিশেষ নৃত্যনাট্যের অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার ছায়ানট মিলনায়তনে এই বিশেষ নৃত্যনাট্য পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে সরকার বহুমুখী উপায়ে সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারত ও বাংলাদেশের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন, যা মূলত অভিন্ন ঐতিহ্য, সাহিত্য এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই পরিবেশনা আমাদের ধরিত্রী মাতাকে শ্রদ্ধা ও রক্ষা করার যৌথ দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।
‘ধরা তরু কাব্য’ নৃত্যনাট্যে বাংলার ছয়টি ঋতুর (বসন্তের ফুল, গ্রীষ্মের উত্তাপ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের প্রাচুর্য এবং শীতের স্তব্ধতা) নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনকে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করে তুরঙ্গমী রেপার্টরি ড্যান্স থিয়েটার, যার শৈল্পিক নির্দেশনায় ছিলেন পূজা সেনগুপ্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএস এবং ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তির অধীনে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন দক্ষ ভরতনাট্যম শিল্পী হিসেবে তিনি তার ব্যতিক্রমী শৈল্পিক প্রকাশ এবং নৃত্য শিক্ষার অভিনব পদ্ধতির জন্য পরিচিত।
এই সৃষ্টিশীল আয়োজনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ছাড়াও সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রবীন্দ্রসঙ্গীতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী এবং ঢাকার বিপুল সংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরির নামকরা মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লোড’ ব্যবহার করে মারাত্মক সব অপরাধমূলক কাজ করার চেষ্টা চলছিল।
ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কৌশল শেখা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার হামলা ও গোপনে তথ্য চুরির মতো বেশ কিছু বিপজ্জনক চেষ্টা তারা ধরে ফেলেছে এবং আটকে দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ইয়েমেনে কোনো মানুষ প্রকৌশলী ছাড়াই শুধু এআই-এর বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড রকেটের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।
অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকাংশ চেষ্টা আটকে দিলেও, হ্যাকাররা পুরো কাজটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে এআইকে নির্দেশ দিচ্ছিল, যাতে আসল উদ্দেশ্য ধরা না পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত এই অপচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও বিশ্বজুড়ে নজরদারি ও সাইবার হামলায় ক্লোডের অপব্যবহার হচ্ছিল। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একদল হ্যাকার ইউরোপ ও ইউক্রেনের সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ড্রোন প্রস্তুতকারকদের তথ্য চুরি করতে এই এআই ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, চীনের একটি গোষ্ঠীও ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি নেটওয়ার্কে হানা দেওয়ার কাজে এআইকে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। এমনকি সিরিয়ায় থাকা উইঘুর জনগোষ্ঠীর ওপর গোপনে নজরদারি চালাতে এবং তাদের নিজেদের জালে ফাঁকাতে একটি চীনা গোষ্ঠী ক্লোড ব্যবহার করে তাদের স্থানীয় ভাষায় ভুয়া বার্তা তৈরি করে পাঠাচ্ছিল।
সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন নিরাপত্তার ঝুঁকিসহ নানা কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এআই যেভাবে এগোচ্ছে তা মানবতার জন্য চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এই ঘটনার পর এআই প্রযুক্তির ওপর কড়া সরকারি নিয়মকানুন আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র জোর দাবি উঠছে। একইসঙ্গে এআই-এর এমন অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পর এবার নতুন করে তদন্তের মুখে পড়েছেন দেশটির দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, যোগাযোগ এবং ইংল্যান্ড সফরের সময় ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লাহোরের জোহর টাউনে সংস্থাটির কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন রিজওয়ান ও ইমাম। তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড সিরিজের আগে ও পরে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছেন তদন্তকারীরা।
কোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে অর্থের উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সঙ্গে দুই ক্রিকেটারের আর্থিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের তথ্য বাইরে কীভাবে ফাঁস হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তকারীরা দুই ক্রিকেটারের কাছে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ এবং ইংল্যান্ড সফরে অনুশীলন ও ম্যাচ ঘিরে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন রিজওয়ান ও ইমাম।
তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিও অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে ইংল্যান্ড সফরে পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। চার ইনিংসে রিজওয়ান করেন মাত্র ৬১ রান। আর লর্ডস টেস্টে কাফের চোটের কারণে ইমাম কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি। বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এও খেলতে পারছেন না দুজন।
হামের ভয়াবহ চিত্র (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত):
মৃত্যু: ১,০০৮ জন (১০২টি ল্যাব-নিশ্চিত এবং ৯০৬টি সন্দেহভাজন)
আক্রান্ত: ১,৬৮,৩১০ জন সন্দেহভাজন (মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি ১,৪৮,১২০ জন)
ডেঙ্গুর ভয়াবহ চিত্র (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত):*
মৃত্যু: ১৩৯ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪ জন; ৮ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ৯ জন মারা যান)
আক্রান্ত: ৪৮,৬১০ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১,৪৮০ জন; ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে মোট ভর্তি ৮,০৮৪ জন)
রোগের প্রকোপ প্রাকৃতিক হতে পারে, কিন্তু সেই রোগের কারণে দেশজুড়ে মৃত্যুমিছিল তৈরি হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়—তা প্রশাসনিক অযোগ্যতা, চরম উদাসীনতা এবং নিদারুণ গাফিলতির সরাসরি ফসল। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে হাম ও ডেঙ্গুর যে যুগপৎ সংহারী রূপ সামনে এসেছে, তা স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও অন্তঃসারশূন্যতাকে উলঙ্গ করে দিয়েছে। হাসপাতালের মেঝেতে যখন মুমূর্ষু শিশু কাতরায়, আর শয্যা না পেয়ে চিকিৎসার অভাবে নাগরিক মারা যায়, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়—জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র আজ চরমভাবে ব্যর্থ।
প্রতিরোধযোগ্য রোগে হাজার মৃত্যুর মিছিল-টিকাদান শৃঙ্খলার ধসঃ
যে হাম বিংশ শতাব্দীতেই টিকাদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নাগাদ সেই প্রতিরোধযোগ্য রোগে ১,৬৮,৩১০ জন আক্রান্ত হওয়া এবং ১,০০০ ছাড়িয়ে মোট ১,০০৮ জন শিশুর প্রাণহানি কোনো সাধারণ ব্যর্থতা নয়—এটি প্রশাসনিক অবহেলার এক চরম দৃষ্টান্ত।
টিকার মান নিয়ে প্রশ্ন ও কাগুজে সাফল্য:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬% বেশি টিকাদানের কাগুজে সাফল্য দেখালেও বাস্তবে শিশুমৃত্যুর গ্রাফ কমেনি। বিশেষজ্ঞরা বারবার রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডি (Serosurvey) ও ‘কোল্ড চেইন’ (Cold Chain)-এর মান যাচাইয়ের পরামর্শ দিলেও সরকার তাতে কান দেয়নি।
দায়িত্বহীনতা ও সদিচ্ছার অভাব:
টিকার গুণগত মান পরীক্ষা না করে কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভুয়া পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করা সরকারের চরম নীতিগত দেউলিয়াত্বকে স্পষ্ট করে। ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়ার পরও এ ধরনের দায়সারা মনোভাব প্রতিদিন নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণ কেড়েই চলেছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা- ফটোশুট আর কৃত্রিম ধোঁয়ার মহোৎসবঃ
আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২০,৫৩৬ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮,০৮ ৪ জনে, আক্রান্ত মোট ৪৮,৬১০ পার করেছে এবং মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৩৯ জন। ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই রেকর্ড ৯ জন মারা যান।
দায়বদ্ধতার অভাব:
প্রতিবেশী বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যখন আধুনিক প্রযুক্তির ভেক্টর-কন্ট্রোল ব্যবহার করে ডেঙ্গু পরাস্ত করছে, তখন বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ কেবল ফটোশুট আর ফগার মেশিনের কৃত্রিম ধোঁয়ায় সীমাবদ্ধ।
কোটি কোটি টাকার মশক নিধন বাজেট কোথায় উবে গেল, লার্ভিসাইডের নামে কী ছিটানো হলো—তার কোনো হিসাব নেই। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন।
ধারণক্ষমতার বাইরে হাসপাতাল ও মানবিক সংকট-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেউলিয়াত্বঃ
হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকার চিত্রই বলে দেয়, যেকোনো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার ন্যূনতম প্রস্তুতিও স্বাস্থ্য প্রশাসনের ছিল না। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে বেড-অকুপেন্সি সর্বোচ্চ ১০০% থাকা উচিত, সেখানে জেলা হাসপাতালগুলোতে গড় বেড-অকুপেন্সি দাঁড়িয়েছে ১৭৮% এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে ১৬৪%।
একদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা মেঝেতে কাতরাচ্ছেন, অন্যদিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখা ১৬৮ বছরের পুরনো হরিজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো সামলাতে ব্যর্থ সরকার এখন প্রান্তিক সেবা প্রদানকারীদের ওপরই অমানবিক নিপীড়ন চালাচ্ছে।
নির্মিত অবকাঠামো চালাতে বর্তমান সরকারের চরম ব্যর্থতাঃ
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যেটুকু আধুনিক পরিকাঠামো ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দৃশ্যমান, তার বড় অংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে তোলা। হাজার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, নতুন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর যে সুবিশাল ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল—পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা ইউনূস সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার তা সচল রাখতে ও কাজে লাগাতে পুরোপুরি অপদার্থ প্রমাণ হয়েছে।
অবকাঠামো আছে, তদারকি নেইঃ
আওয়ামী সরকারের তৈরি করে যাওয়া সুসজ্জিত ভবন ও হাসপাতালগুলো আজ স্রেফ তদারকি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে। তদারকির অভাব ও আমলাতান্ত্রিক অলসতার কারণে আধুনিক পরিকাঠামো আজ স্থবির।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা:
পূর্ববর্তী সরকারের যুগান্তকারী ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলোকে রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে সচল না রেখে অকার্যকর রাখা হয়েছে। সরকারের এই নোংরা রাজনৈতিক খেয়ালখুশির চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ রোগীকে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য খাতে সফলতা-অর্জনের অমলিন ইতিহাসঃ
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় দূরদর্শী ও টেকসই ভিত রচনা করেছিল—
কমিউনিটি ক্লিনিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা জাতিসংঘে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে অনন্য স্বীকৃতি লাভ করে।
টিকাদান ও রোগ নির্মূল:
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) সফল বাস্তবায়নে পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ গঠন, ধনুষ্টংকার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ৮০% কোটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জিত হয়েছিল।
অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন:
সারাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, উপজেলা লেভেলে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিয়ে সার্বিক চিকিৎসা অবকাঠামোর আমূল উন্নয়ন করা হয়েছিল।
সংকট তৈরি করে তার পেছনে ছোটা-এটাই কি সরকারের নীতি?:
বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল দর্শন দাঁড়িয়েছে—
‘রোগ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা রাখব না, মানুষ মারা গেলে দায়সারা বিবৃতি দেব’।
১. সময়মতো মানসম্মত ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার এবং সেটির সঠিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের ন্যূনতম দায়িত্বটুকু পালন করা হয়নি।
২. মশার প্রজনন রুখতে মৌসুম শুরুর আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
৩. তৈরি অবকাঠামো ও বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা হাতে পাওয়ার পরও তা পরিচালনা করতে না পারা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর তীব্র প্রশাসনিক অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
জনগণের করের টাকায় চলা সরকারের প্রধান সাংবিধানিক অঙ্গীকার নাগরিকের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। ব্যর্থতার পর মহামারির দায় ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের’ ওপর চাপিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ। তৈরি অবকাঠামো সচল না রেখে নাগরিকদের এই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার চূড়ান্ত দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
রৌদ্র রুদ্র, (রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক)
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রকে নিয়মিত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ১১ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে পুলিশ।
অভিযুক্ত আল আমিন মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্টি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় তিন বছর আগে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
ছাত্রের পায়ুপথে রক্তপাত ও উপুর্যপরি ধর্ষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতকে তিনি তাবিজ এবং জীনের প্রভাব বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ওই শিশুকে নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সে মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থায় থাকত।
পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন শিক্ষক আল আমিন। এতে তার পেটে ব্যথা এবং পায়ুপথে রক্তপাতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
ছাত্রটি তার মাকে ফোন করে কান্নাকাটি করে জানায়, ‘মাগো আমারে নিয়া যাও, আমি আর হাফেজ হইতে চাই না। এখানে অনেক কষ্ট দিতাছে।’
মারধরের ভয়ে ধর্ষণের কথা না বলায় শিশুটির মা ধরে নেন তার সন্তান অসুস্থ। খবর পেয়ে তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়িতে থাকার সময় একদিন সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি তিনি শিশুটির মাকে জানান। তবে প্রচন্ড মারধরের ভয়ে তখনও ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি শিশুটি।
পরে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদ্রাসায় রেখে যান তার মা।
পরিবার জানায়, ওই ১১ দিনের মধ্যে ৮ দিনই তাকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে নির্যাতনের বিষয়টি সইতে না পেরে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে মা তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
১০ই সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবার জানায়, পরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ধর্ষণের বিষয়টি জানান এবং তার স্বজনদের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এরপর শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে নিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর নানা বলেন, এত ছোট একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটিও অভিযোগ করে, গত তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সে মাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল বলেও জানায়।
ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ সাক্ষী, তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’
পায়ুপথে রক্তপাত ও ক্ষতের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘কেউ ওরে তাবিজ করছে হয়ত। তাবিজের কারণে অথবা জীনের প্রভাবে এমন হয়ে থাকতে পারে।’
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন তার গলা চেপে ধরেছিলেন, সে কারণেই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।