দুই যুগ পর প্রাণ ফিরেছে পাবলিক লাইব্রেরির

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৯, ২০২৫ | ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

দুই যুগ পর প্রাণ ফিরছে পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক লাইব্রেরির। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি ও আন্দোলনের মুখে গত সোমবার দুপুরে বাউফল পৌর সদরের পাবলিক লাইব্রেরির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মিডিয়াকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম লাইব্রেরির নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব ও উদাসীনতায় দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় কার্যক্রম বন্ধ ছিল উপজেলার একমাত্র পাবলিক পাঠাগারটি। সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির দিনে ছাদ চুঁইয়ে পানি ও পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে দেয়ালের। ভেতরে জমে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভেঙে যায়। ইঁদুর ও তেলাপোকায় নষ্ট করে ফেলে পাঠ্যবই, গল্প, উপন্যাসসহ প্রায় দেড়-দুই হাজার বিভিন্ন ধরনের বই। ভবনের বারান্দা দখলে নিয়ে লেপ-তোশক ও ফার্নিচার তৈরির কাজ করতেন ব্যবসায়ীরা। নিষ্প্রাণ হওয়ায় অন্ধকার নামলেই ভবনের পাশে সুনসান নীরবতা নেমে আসে। মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী মলমূত্র ত্যাগের জায়গায় পরিণত হয়। পৌর সদরের বাসিন্দা আবু জাফর আহম্মেদ বলেন, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পরে পৌর সদরের পাবলিক মাঠ লাগোয়া বাউফল পাবলিক লাইব্রেরিটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, পত্রিকাপাঠকসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে এলাকার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ লাইব্রেরির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। পরিচালনা পর্ষদের অবহেলায় ২০০০ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় লাইব্রেরিটি। উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর বিভিন্ন সময় এটির কার্যক্রম শুরুর দাবি উঠলে তাও কার্যকর হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে ফের লাইব্রেরিটি চালুর দাবি ওঠে। তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তরুণরা মিলে পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কারপূর্বক চালুকরণ দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটি নামে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। ছবিসহ লেখালেখি প্রকাশিত হয় পত্রপত্রিকায়। লাইব্রেরিটি চালুর দাবিতে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। সর্বশেষ বছর তিনেক আগে লাইব্রেরির নতুন ভবন নির্মিত হলেও অজ্ঞাত কারণে তা খুলে দেওয়া হচ্ছিল না। লাইব্রেরিটি খুলে দিতে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হচ্ছে। এটা আনন্দের সংবাদ। বাউফল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মানছুরা আক্তার জানায়, শুনেছি সকাল-বিকেল শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ বয়োবৃদ্ধরা ওই লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে আসতেন। লাইব্রেরিটি নিষ্প্রাণ থাকায় সবাই পত্রপত্রিকা ও বই পড়া থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন শিক্ষার্থী থেকে বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন জ্ঞানচর্চা করতে পারবেন। বর্তমানে হাতের নাগালে মাদকের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ বিপথে যাচ্ছে। সুযোগ-সুবিধা থাকলে শিক্ষার্থী ও তরুণরা অবসরে লাইব্রেরিতে ফিরবে। ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মু. ওয়াহিদুজ্জামান সুপন বলেন, পাবলিক লাইব্রেরিটি একসময় ছাত্র-শিক্ষক, বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতিদিনের মিলন মেলা ছিল। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পত্রিকা ও বইপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ সময় মাদকের ছোবল থেকে তরুণদের বাঁচাতে লাইব্রেরিটি চালুর দাবি স্থানীয় তরুণদেরই প্রাণের দাবি ছিল। এখন থেকে এখানে জ্ঞান চর্চায় ভালো সময় কাটাতে পারবে তারা।