শীত মৌসুমে চোখের রোগবালাই: ঝুঁকি ও লক্ষণ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৮, ২০২৬ | ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

শীতকাল এলেই ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি চোখের বিভিন্ন রোগও বেড়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, ধুলাবালির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জির কারণে এ সময় চোখের অস্বস্তি ও সংক্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সমস্যা অবহেলা করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। শীতকালে চোখের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো চোখের পানিস্বল্পতা বা ড্রাই আই। এ সময় বাতাস শুষ্ক থাকায় চোখের পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। ফলে চোখে খচখচ ভাব, জ্বালা, লালচে ভাব ও দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারে এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চোখের অ্যালার্জিও শীতকালে ব্যাপকভাবে দেখা যায়। কৃত্রিম সুতা বা পশমের কাপড়, ধুলাবালি, ইটভাটার ধোঁয়া এবং ফুলের পরাগরেণু চোখে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এতে চোখ চুলকানো, লাল হওয়া ও পানি পড়ার সমস্যা হয়। এ ছাড়া শীতকালে পানির স্তর কমে যাওয়ায় খাল-বিল বা পুকুরের দূষিত পানিতে গোসল করলে চোখে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শীত মৌসুমে ভাইরাসজনিত চোখ ওঠা হতে পারে। এতে চোখ লাল হয়ে যায়, প্রচুর পানি পড়ে, পিচুটি জমে এবং ব্যথা অনুভূত হয়। কখনও কখনও জ্বরও থাকতে পারে। আবার সর্দি-কাশি বা নাক বন্ধের কারণে চোখ থেকে অতিরিক্ত পানি পড়ার সমস্যাও দেখা দেয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ইউভি রশ্মি চোখের কর্নিয়া ও রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। তাই এ সময় চোখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে হালকা রঙের চশমা ব্যবহার, পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শে কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহার উপকারী। লেখক : কনসালট্যান্ট, যশোর চক্ষু ক্লিনিক, যশোর